বিশেষ খবর

ডুয়েট এর উন্নয়নে, ছাত্র-সমাজের কল্যাণে কিছু করতে পারলে সেটি হবে সভাপতি নির্বাচিত হবার যথার্থতা -প্রকৌশলী ফখরুল হায়দর চৌধুরী

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রতিক্রিয়া
img

আপনি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) এলামনাই এসোসিয়েশন কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০১৫-২০১৭ এর সভাপতি হয়েছেন, এতে আপনার অনুভূতি কী এমন প্রশ্নের জবাবে প্রকৌশলী ফখরুল হায়দর চৌধুরী বলেন, আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার পক্ষ থেকে আমার অনুভূতি জানতে চেয়েছেন -এজন্য পত্রিকার সম্মানীয় সম্পাদক এবং পত্রিকা-সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। প্রকৌশলী ফখরুল বলেন, ডুয়েট আমার ছাত্র-জীবনের স্মৃতিবিজড়িত বিদ্যাপীঠ; যেখানে ৫ বছরের শিক্ষাজীবনের স্বর্ণালী দিনগুলো কেটেছে হাসিখুশি, আনন্দ-বেদনা ও জীবন গড়ার স্বপ্নপূরণের সংগ্রামের মধ্যদিয়ে।
তিনি আরও বলেন, গাজীপুরে অবস্থিত ডুয়েট ক্যাম্পাসে আমরা ১ম ব্যাচ হিসেবে পদার্পণ করি ক্যাম্পাসে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে অবদান রাখতে সক্ষম হই। শুরুতে সেখানকার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি তেমন উন্নত ছিল না; এলাকাটা ছিল ডাকাত ও দুষ্কৃতকারীদের বিচরণক্ষেত্র। ডাকাতদের অত্যাচারে স্থানীয় জনগণ ছিল অতিষ্ঠ। আমরা সাধারণ ছাত্ররা জনগণের সহায়তায় ডাকাতদের আটক করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেই। স্থানীয় রাজনীতিবিদ, সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতায় এলাকায় সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে আসার দীর্ঘ ২৭ বছর পরও আমার প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুহৃদ-সতীর্থদের সমর্থনে ডুয়েট এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় গর্ববোধ করছি।
শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমাদের এ প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে। পরে ডিআইটি, ঢাকা এবং সর্বশেষ এটি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) এ উন্নীত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কোনো ঘটনার কথা মনে আছে কী এমন প্রশ্নে প্রকৌশলী ফখরুল বলেন, ছাত্র-রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম। এ প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রথম কমিটি (আহ্বায়ক কমিটি) আমার সভাপতিত্বে ৪ জানুয়ারি ১৯৮৬ সালে গঠিত হয়। ঐ সময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ছাত্র-সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ হতে পারছিল না বলে বিভিন্ন কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে ছাত্ররা সাহস পাচ্ছিল না। আনন্দের বিষয়, সেসময় আমরা উদাহরণ স্থাপন করতে পেরেছিলাম। প্রসঙ্গক্রমে প্রকৌশলী ফখরুল জানান, তিনি ডুয়েট ছাত্রলীগ এলামনাই এসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি।
তিনি বলেন, আমি এ এসোসিয়েশনগুলোর সাথে সর্বদা সক্রিয় আছি। এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রমোদ ভ্রমণ, শিক্ষাসফর, বনভোজন প্রভৃতি বিনোদনমূলক কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করব। যাদেরকে নিয়ে এলামনাই কমিটি গঠিত হয়েছে, তারা সবাই প্রকৌশল পেশায় সুপ্রতিষ্ঠিত। সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও তাদের আন্তরিক সহযোগিতা সম্পর্কে আমি আশাবাদী।
ডুয়েট’র নতুন প্রজন্মের ছাত্রদের সাথে আপনাদের যোগাযোগ কেমন এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, এসোসিয়েশনের মাধ্যমে আমরা যোগাযোগ করে থাকি। তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে/আলোচনায় আমরা অংশগ্রহণ করি, মতামত ব্যক্ত করি। ছাত্রদের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে ছাত্রনেতারা আমাদের সাথে আলোচনা করেন, পরামর্শ নেন। ডুয়েট প্রশাসনের সাথে আপনাদের সম্পর্ক কেমন এমন প্রশ্নের জবাবে ডুয়েট এলামনাই সভাপতি বলেন, ডুয়েট প্রশাসনের সাথে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান শিক্ষার মানোন্নয়নের ব্যাপারে কিংবা যেকোনো সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের সাথে আমরা যোগাযোগ রক্ষা করি। ডুয়েট’র অবকাঠামো উন্নয়নের জন্যে ক্যাম্পাসের সম্প্রসারণ জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং গণ্যমান্য প্রভাবশালীদের নিয়ে আমরা সম্প্রসারণ আন্দোলন পরিচালনা করছি। ইতোমধ্যে আংশিক সফলতা এসেছে; আশা করি, আমরা সফল হব।
সম্প্রতি ডুয়েট’র জন্য সরকার কিছু জমি বরাদ্দ করেছেন; আমরা আশা করি, আরও কিছু জমি বরাদ্দ হলে ডুয়েট’র অবকাঠামো উন্নয়ন দ্রুত সম্পন্ন হবে, শিক্ষা কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে। ডুয়েট’র ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ প্রদান প্রসঙ্গে প্রকৌশলী ফখরুল বলেন, তাদেরকে মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন দেশের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। দেশোন্নয়নে, বিশেষ করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার বিশাল কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণ করে সহায়ক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে। প্রশাসনের সাথে সহযোগিতার প্রশ্নে ফখরুল বলেন আমরা ছাত্রদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করি, সমাধানের পথ খুঁজি। ডুয়েট’র উন্নয়নে, ছাত্র-সমাজের কল্যাণে যদি কিছু করতে পারি সেটি হবে গভীর পরিতৃপ্তির বিষয়।
সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি সম্পর্কে জিজ্ঞাসার জবাবে সংগঠক ব্যক্তিত্ব প্রকৌশলী ফখরুল বলেন, একটি ট্রাস্ট-ফান্ড গঠন করে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদানসহ বিভিন্ন কল্যাণমুখী উদ্যোগ আমাদের রয়েছে। এ ব্যাপারে গরিব-মেধাবী-ছাত্র-ছাত্রীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
নিজ জন্মস্থান লক্ষ্মীপুরের উন্নয়ন-অগ্রগতি নিয়ে তাঁর চিন্তা-চেতনা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে এলাকাপ্রেমী ও শেকড় সন্ধানী ব্যক্তিত্ব এবং লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতি ঢাকা এর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ফখরুল বলেন, আমার জন্মস্থান লক্ষ্মীপুর বাংলাদেশে অত্যুজ্জ্বল আলোকিত নাম; অপরিমেয় সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চল। সাধারণ সম্পাদক পদে আমার গত মেয়াদে দক্ষিণ বারিধারা আবাসিক এলাকায় সমিতির নিজস্ব জমিতে একটি ৬ষ্ঠ তলা ভবন নির্মিত হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে লক্ষ্মীপুরের আশা জাগানিয়া বিভিন্ন ফসল, শিল্প-সম্ভাবনা, বাণিজ্য সম্প্রসারণের অপার সুযোগ সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপুর হতে পারে উন্নয়নের মডেল। আশা করি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তানরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসবেন; লক্ষ্মীপুরকে সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করার আন্দোলনে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করবেন।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ