বিশেষ খবর

বাংলায় আগ্রহ নেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর

ক্যাম্পাস ডেস্ক শিক্ষা সংবাদ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। যেখান থেকে প্রতিনিয়ত দেশের অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী অর্জন করছেন উচ্চ শিক্ষা। তবে শুনতে অবাক হলেও দেশের ৯১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র আটটিতে চালু আছে বাংলা বিভাগ। সময় টিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যের নামে এটা মাতৃভাষা বাংলাকে সুস্পষ্টভাবে অবজ্ঞা করার শামিল। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ চালু করতে প্রয়োজনে আইন করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
১৯৫২ সালে যে ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিলেন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বাররা; দুঃখজনক হলেও সত্য সেই বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অধ্যয়নের ব্যবস্থা নেই দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ উন্নত বিশ্বের সব নামকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ব স্ব ভাষার সাহিত্য বিষয়ে পড়ালেখার সুযোগ আছে অন্যান্য সব বিষয়ের মতোই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী না পাওয়ার খোঁড়া যুক্তি দিলেও, এ বিভাগে ছাত্র-ছাত্রীর কোনো সঙ্কট হয় না বলে জানিয়েছে গুটি কয়েক বাংলা বিভাগ চালু থাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদিক বলেন, কিছুদিন আমাদের ভর্তুকি দিয়ে চালাতে হয়েছে। এখন আমাদের এই বিভাগে আট শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। এই সেমিস্টারেও শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়েছে। আমি মনে করি, এটা যথেষ্ট। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু বাণিজ্যিক চিন্তা থাকে না। জাতীয় একটা উদ্দেশ্য থাকা উচিত।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম রিজওয়ান খান বলেন, বাংলা সাহিত্যে যদি আমরা ছাত্র না পাই, তাহলে তো বিভাগ খুলে আমাদের লাভ নেই। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবগুলো নিজস্ব অর্থায়নে চলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুনাফা লাভই মূল লক্ষ্য হওয়ায় উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান বাংলাকে অবহেলা করছে। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, একজন ইন্ডাস্ট্রি করতে পারতো কেউ ব্যবসা করতে পারতো। সেই জায়গায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় করে টাকা-পয়সা আয় করা কম কঠিন। বলা যেতে পারে সহজ।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ চালু করতে সরকার বার বার তাগিদ দিলেও এ বিষয়ে কাউকে বাধ্য করা দরকার নেই বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান।
তিনি বলেন, বাধ্যতামূলক করার কিছু নেই। নিজের তাগিদেই করতে হবে। যেহেতু সরকারি কোনো ভর্তুকি নেই। অনেক জায়গায় দেখা যায় ছেলে-মেয়েরা টাকা দিয়ে বাংলা পড়তে আসে না। বিশ্ববিদ্যালয় হলো যেখানে বিশ্বের বিদ্যা পাওয়া যাবে সেটা বাংলা হতে পারে ইংরেজি হতে পারে। আর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, নিজস্ব ভাষা জগতের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষা। সেই ভাষা যদি না পড়ানো হয় তাহলে তো আমাদের ছেলে-মেয়েদের বঞ্চিত করা হবে। এ জন্য আমরা চাপ দিচ্ছি, বোঝানোর চেষ্টা করছি। প্রয়োজন হলে আমরা আইন করবো।
কর্তৃপক্ষের দেশের প্রতি এবং দেশের ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলেই কেবল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলা বিভাগ চালু করা সম্ভব বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ