বিশেষ খবর

ঝুঁকি নিয়ে স্কুলযাত্রা

ক্যাম্পাস ডেস্ক ব্যতিক্রমী সংবাদ

নদীর দুই পার সংযুক্ত করে লাগানো আছে লম্বা তার। তাতে দোলনা বেঁধে চড়ার মতো করে ঝুলে আছে শিশু শিক্ষার্থীরা। কেউ বা কাঠের ঝুড়ি বানিয়ে তাতে চড়ে বসেছে। কোনো ধরনের বিনোদন কিংবা মহড়ার দৃশ্য এটি নয়।
পর্যটনের জন্য আকর্ষণীয় দেশ নেপালের প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি নদী পার হওয়ায় এমনই ঝুঁকি নিতে হয়। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এ যাত্রা বেশ কঠিন। তাই বলা হচ্ছে, নেপালের শিশুরাই সবচেয়ে বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যায়। সেখানে দীর্ঘ নদী পার হওয়ার জন্য শুধু একটি তারই (কেবল) ভরসা। ছোট্ট ওই তার বেয়েই এক পার থেকে অন্য পারে যায় শিক্ষার্থীরা। কাজের উদ্দেশ্যে, কেনাকাটা কিংবা বেড়াতে যাওয়ার জন্য সেখানকার মানুষও ওই তার ব্যবহার করে।
দেশটির বেনীঘাট জেলায় ত্রিশুলি নদী পার হওয়ার জন্য রয়েছে এমন অনেক তার। ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এসব তারই তাদের জীবনযাত্রা সচল রেখেছে। তবু সবসময় এক ধরনের ভয় তাদের তাড়া করে। কেননা নদী পার হওয়ার সময় কোনো কারণে পড়ে গেলে নিশ্চিত মৃত্যু। ২০১০ সালে এমনই দুর্ঘটনায় পাঁচজন প্রাণ হারান। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় পড়ে গিয়ে অনেকেই গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। সেখানকার ধায়িং গ্রামের কিছু ছাত্রছাত্রী গলায় ফাঁস দেয়ার মতো ঝুলে নদী পারাপার হয়, যা সবচেয়ে বিপজ্জনক। কেউ কেউ এক ধরনের ঝুড়ি বা বাক্স বানিয়ে নিয়েছেন। ঝুলন্ত ওই ঝুড়িতেও ঝুঁকির আশঙ্কা কম নয়। তারের মাধ্যমে নদী পারাপার (স্থানীয়দের ভাষায় টুইন) কয়েক প্রজন্ম ধরেই চলে আসছে। সেখানকার উঁচু-নিচু পার্বত্য এলাকা, বিক্ষিপ্ত বসতির কারণেও ব্রিজ এবং সড়ক নির্মাণ বেশ ব্যয়বহুল ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।
গ্রামবাসীর আশা, শিগগির এমন ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের সমাপ্তি ঘটবে। কেননা দেশটির নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এ ব্যাপারে দুই বছরমেয়াদি একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দুই বছরের মধ্যে তারের বদলে সেখানে তৈরি হবে ৩৬৬টি ঝুলন্ত সেতু।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ