বিশেষ খবর

সরকারি হচ্ছে ২২ কলেজ

ক্যাম্পাস ডেস্ক শিক্ষা সংবাদ
img

সরকারীকরণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে আরো ২২টি এমপিওভুক্ত বেসরকারি কলেজ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব কলেজ পরিদর্শন করে ১৫টি তথ্যসহ প্রতিবেদন দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দেশে বর্তমানে সরকারি কলেজ রয়েছে ৩০৬টি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নতুন নির্দেশনার আগে থেকেই আরো প্রায় ৬৪টি কলেজ সরকারি করার জন্য যাচাই-বাছাই চলছে। এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলো আরো ২২টি কলেজ।
মাউশি’র উপপরিচালক (কলেজ-২) মোঃ মেজবাহউদ্দিন সরকার বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে, আমরা পরিদর্শন করে সেগুলো সংগ্রহ করব। তবে সরকারীকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। এই ২২টির বাইরেও আগের আরো কিছু কলেজ পরিদর্শন করা হয়েছে। আমরা কলেজভিত্তিক সেই তথ্যগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাই। মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠায়। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত হয়।’
সরকারীকরণের লক্ষ্যে নতুন যে ২২টি কলেজের তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে সেগুলো হলো রাজাপুর ডিগ্রি কলেজ, ঝালকাঠি; তফাজ্জল হোসেন (মানিক মিয়া) ডিগ্রি কলেজ, কাঁঠালিয়া, ঝালকাঠি; বারহাট্টা কলেজ, নেত্রকোনা; বটিয়াঘাটা (ডিগ্রি) মহাবিদ্যালয়, খুলনা; শরণখোলা ডিগ্রি কলেজ, বাগেরহাট; খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজ, মোল্লাহাট, বাগেরহাট; গোপালপুর কলেজ, টাঙ্গাইল; রৌমারী ডিগ্রি কলেজ, কুড়িগ্রাম; বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান কলেজ, মহম্মদপুর, মাগুরা; পার্বতীপুর ডিগ্রি কলেজ, দিনাজপুর; সুবিদখালী ডিগ্রি কলেজ, মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী; জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, সুনামগঞ্জ; মানিকারচর বঙ্গবন্ধু কলেজ, মেঘনা, কুমিল্লা; বঙ্গবন্ধু কলেজ, সরিষাবাড়ী, জামালপুর; আলাওল ডিগ্রি কলেজ, বাঁশখালী সদর, চট্টগ্রাম; জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ; জোড়পুকুরিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাংনী, মেহেরপুর; আলমডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ, চুয়াডাঙ্গা; ধামইরহাট এম এম ডিগ্রি কলেজ, নওগাঁ; বড়লেখা ডিগ্রি কলেজ, মৌলভীবাজার; বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজ, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং কচুয়া ডিগ্রি কলেজ, বাগেরহাট। ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ সাজ্জাদুল হাসানের সই করা একটি চিঠি পাঠানো হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এতে বলা হয়, ২১টি কলেজ সরকারিকরণের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ সদস্য, উপমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রীগণ প্রধানমন্ত্রী সমীপে উপানুষ্ঠানিক পত্র দাখিল করেছেন। তাই প্রস্তাবিত মহাবিদ্যালয়গুলোর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সদয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এর বাইরে আরো একটি কলেজ সরকারিকরণের জন্যও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব কাউসার নাসরীনের সই করা এক পত্রে অতি সত্বর কলেজগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে মাউশিকে। প্রতি কলেজের জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জমির পরিমাণ, অবকাঠামোর আয়তন, খেলার মাঠের জমির পরিমাণ, ব্যাংক স্থিতি, নিকটবর্তী সরকারি স্কুল-কলেজের দূরত্ব, গত পাঁচ বছরের ফলাফল, জাতীয়করণ হলে বার্ষিক আর্থিক সংশ্লেষসহ ১৫টি তথ্য চাওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকার প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে সরকারি কলেজ দেখতে চায়, যাতে অন্তত ওই কলেজকে মডেল ধরে উপজেলার বাকি কলেজগুলো চলতে পারে। এ ছাড়া যেকোনো সহযোগিতা যেন সরকারি কলেজ থেকে অন্য কলেজগুলো পেতে পারে। তবে দেশে এখন ৪৮৯টি উপজেলা থাকলেও সরকারি কলেজ রয়েছে ৩০৬টি। সরকারের পক্ষে নতুন করে কলেজ স্থাপন করা সম্ভব নয়। অনেক পুরনো কলেজ রয়েছে, যাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদান রয়েছে। সেগুলোকে সম্মান করা উচিত। সব কিছু মাথায় নিয়ে কলেজ সরকারি করা হয়। যেসব এলাকা দুর্গম এবং সরকারি কলেজ নেই, সেসব এলাকাকেই মূলত সরকারিকরণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার  দেয়া হয়।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ