বিশেষ খবর

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হোক বা সরকারি হোক, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা -ইউজিসি চেয়ারম্যান

ক্যাম্পাস ডেস্ক শিক্ষা সংবাদ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গি তৎপরতা মনিটরিংয়ের জন্য তিন সসদ্যের একটি কমিটি করা হয়েছে বলেও জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জঙ্গি সম্পৃক্ততা নিয়ে জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণায় কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান।
তিনি বলেন, দরকার হলে কমিটির সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হবে। নর্থ-সাউথের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো। শুধু নর্থ-সাউথ না, যেকোনো নর্থ হোক আর সাউথ হোক, বেসরকারি হোক আর সরকারি হোক জঙ্গিবাদ ইজ জঙ্গিবাদ, জঙ্গিবাদ যেখানে থাকুক সরকার এবং দেশের জনগণের জন্য ক্ষতিকর। আমরা চাই না, বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গিবাদের চর্চা হোক।
নর্থ সাইথ ইউনিভার্সিটিতে জঙ্গিবাদসহ অনিয়মের আগের ঘটনার ফলোআপ হিসেবে চলতি মাসে ইউজিসি’র তদন্ত কমিটি গিয়েছিল জানিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, তাদের কাছে কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। তারা তাৎক্ষণিকভাবে দিতে পারেনি। কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়ার জন্য এক মাস সময় চেয়েছে। জঙ্গিবাদ নিয়ে ওই কমিটি অবশ্যই প্রশ্ন করেছে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, নর্থ-সাউথের ভিসি ঠিক বলেননি। তার ডিফেন্সে তিনি বলতেই পারেন।
ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ভাঙার বিষয়ে বলেন, এ ব্যাপারে কোনো ম্যান্ডেড ইউজিসি’র নাই। এটা কেবল সরকার ভাঙতে পারে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে কোনো কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে না। আইনের ব্যত্যয় ঘটলে অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেওয়া ইউজিসি’র কর্তব্য। কোনো সরকারি- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ জঙ্গি বা সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত থাকলে তাদের বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদের নয়।
গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩ জন জঙ্গি আছে। তার মধ্যে সরকারি চারটিতে ১৮ জন এবং বেসরকারি ৫টিতে ১৫ জন। হিজবুত তাহরিরের প্রধান দুই ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বলেও জানান চেয়ারম্যান। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির স্বচ্ছতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে বলেও জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, জঙ্গিবাদের তথ্য বের করার মেকানিজম নেই। কোনো সেল বা বিশেষায়িত বিশেষজ্ঞ ইউজিসিতে নেই। আইনে এটা আমাদের কাজও না। ইউজিসি আইন ঢেলে সাজানোর জন্য বহুদিন ধরে চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন যেহেতু জঙ্গিবাদ একটা সমস্যা, এটি নিয়ে আর লুকোচুরির ব্যাপার নাই। আর্থিক ও একাডেমিক বিষয়ের পাশাপাশি এ ধরনের (জঙ্গিবাদ) বিষয়ের জন্য একটি সেল গঠন করতে পারি- সেটা চিন্তা করতে হবে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ২০১০ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পরিবর্তনের জন্য কমিটি করেছে। কমিটিতে ইউজিসি চেয়ারম্যানও রয়েছেন। আমরা কিছু সুপারিশ করেছি। তার মধ্যে একটা সুপারিশ হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক আইন অনুযায়ী অন্য ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদে যে রকম একজন পর্যবেক্ষক দিতে পারে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ