বিশেষ খবর

মতবিনিময় সভায় বক্তারা ॥ শিক্ষাক্ষেত্রের সাম্প্রদায়িকতা ক্রমেই রাষ্ট্রের নানা স্তরে ঢুকবে

ক্যাম্পাস ডেস্ক শিক্ষা সংবাদ

শিক্ষাক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতা যেভাবে ঢুকে পড়েছে ঠিক সেভাবেই রাষ্ট্রেও ক্রমে ক্রমে ঢুকে পড়বে। পাঠ্যসূচিতে এই পরিবর্তন সমাজের মানসিকতা পরিবর্তনে ভয়াবহ ভূমিকা রাখছে। কারণ শিক্ষা ক্ষেত্রেই যদি সাম্প্রদায়িকতা থাকে তাহলে সেই সাম্প্রদায়িকতা পুরো সামাজের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে। রাষ্ট্র পরিচালনায় নারী অধিকার রক্ষা এবং পাঠ্যসূচি পরিবর্তনের যে কৌশলগুলো করা হচ্ছে তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন বলে এক মতবিনিময় সভায় মন্তব্য করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়েশা খানম।
৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে সম্প্রতি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সুফিয়া কামাল ভবনের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে ‘অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, মানবিক, নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষানীতি ও পাঠ্যসূচি চাই- শীর্ষক মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠানে একথা বলেন আয়েশা খানম। মতবিনিময় সভায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসিম আক্তার হোসাইন এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তৌফিকুল হক।
সভায় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, আমাদের রাজনীতিতে পারস্পরিক সাফল্য আমরা কতটুকু অর্জন করতে পারি সেটাই দেখার বিষয়। কিভাবে হেফাজতের কৌশল সফল হয়েছে। কাজী নজরুল ইসলামের, জসীমউদ্দীনের, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা বাদ দিয়ে একটি নিয়েছে। আবার কারোটা একবারেই বাদ দিয়েছে। হেফাজতের দাবি মানলে সরকারকে আমাদের দাবি মানতে হবে। এবং দরকার হলে নাগরিক পর্যায়ে একটি শিক্ষা কমিশন থাকতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, বাংলাদেশে প্রাথমিক মাধ্যমিক পর্যায়ে আড়াই কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়ায় একজন শিক্ষার্থী নিজেকে গড়ে তোলে। বর্তমানে আমরা যে ভয়াবহ সঙ্কটের মুখোমুখি হচ্ছি তা এই পাঠ্যপুস্তক দেখে বোঝা যায়। কারিকুলাম প্রণয়নের একটি প্রক্রিয়া আছে। সামাজিক ভিত্তিহীন একটি গোষ্ঠী এই প্রক্রিয়ায় দাবি দিয়েছে এবং তা মানা হচ্ছে। যা গোটা দেশটিকে আবারও একটি ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু তারপরও আমরা আশাবাদী কারণ শিক্ষার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক একটি আলোচনা আমরা তৈরি করতে পেরেছি। আমাদের সকলের প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই দুর্যোগময় পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে পারব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তৌফিকুল হক বলেন, পাঠ্যপুস্তকে আমরা যে ধরনের বিষয়গুলো লক্ষ্য করছি এগুলো এক ধরনের বিপর্যয়। বর্তমানে যে শক্তি ক্ষমতায় আছে, আমরা নিরাপদ বোধ করি। কিন্তু সেই জায়গাটি অনেকটাই শিথিল হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ