বিশেষ খবর

ক্যাম্পাস পরিচালিত ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স ফর লিডারশিপ এর ২১তম ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ফাউন্ডার

ক্যাম্পাস ডেস্ক ক্যাম্পাস’র অনুষ্ঠান

গত ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় ক্যাম্পাস পরিচালিত ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স ফর লিডারশিপ এর ২১তম ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বর্ণিল গুণাবলির কর্মযোগী, ছাত্রবৎসল শিক্ষাবিদ, ডায়নামিক শিক্ষাদ্যোক্তা, গবেষক-গ্রন্থকার, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত, দেশের অন্যতম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর ফাউন্ডার ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) এর মহাসচিব ড. এম হেলাল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সরকারের নিম্নতম মজুরী বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা জজ আলী হায়দার; সরকারের যুগ্মসচিব জাকির হোসেন; সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিশ্বব্যাংক বিষয়ক কনসালটেন্ট এবং ওয়ার্ল্ডওয়াইড ফ্যামিলি লাভ মুভমেন্টের চেয়ারপার্সন তাজকেরা খায়ের; ক্যাম্পাস’র ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স এর রিসোর্স পারসন এডভোকেট মোঃ গোলাম কিবরিয়া; কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোস্তফা প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথিকে পুষ্পমাল্যে বরণ করা হয় এবং উপহার হিসেবে অর্পণ করা হয় ক্যাম্পাস’র জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, আত্মোন্নয়ন ও জাতিজাগরণমূলক বিভিন্ন বইয়ের সেট, ক্যাম্পাস’র নিজেস্ব গবেষণায় প্রকাশিত ২টি মডেল, বিভিন্ন সিডির সেট ও স্যুভেনির। প্রধান অতিথিকে ক্যাম্পাস’র সম্মাননা ক্রেস্ট অর্পণ করেন সিএসডিসি’র মহাসচিব ড. এম হেলাল। ভালো কাজে পুরস্কার এবং মন্দ কাজে তিরস্কার ক্যাম্পাস’র চিরায়ত রীতি ও আদর্শের আলোকে দু’সদস্যকে দু’টি বিশেষ পুরস্কার দেয়া হয়। ক্যাম্পাস’র বই-বিক্রি সফ্টওয়্যার এর গঠনমূলক সমালোচনা এবং ক্রিয়েটিভ আইডিয়া দেয়ার জন্য ক্যাম্পাস’র ওয়েব ডেভেলপার রিমেল বড়–য়া এবং লিটারেচার এডিটিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য ক্যাম্পাস’র সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামানকে পুরস্কৃত করা হয়। ইংলিশ কোর্সে অংশগ্রহণকারীরা যেন স্মার্ট এন্ড গ্লোবাল ইয়থ জেনারেশনরূপে গড়ে উঠতে পারে, সে কামনায় প্রধান অতিথির হাতে আশা-জাগানিয়া মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। এরপর এ কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় এবং উদ্বোধন শেষে শুরু হয় বক্তৃতাপর্ব। ক্যাম্পাস নিরলস কাজ করে যাচ্ছে মানব উন্নয়নে, মানুষের চিন্তা ও মননের পরিবর্তনে। এজন্য ক্যাম্পাসকে সহযোগিতা করা আমাদের সবারই কর্তব্য -প্রফেসর ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, ব্যতিক্রমী শিক্ষাদ্যোক্তা, সদাহাস্যময় ও প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক বলেন আলোচকগণ আমার সম্পর্কে বলেছেন, আমি সদা হাস্যময় এটি সত্য কথা। হাসি দিয়ে শুধু দুঃখ-হতাশাই দূর করা যায় না, হাসি দিয়ে বিশ্বও জয় করা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন ঐতিহ্যবাহী সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে আমি আর গোলাম সামদানী ফকির, বর্তমানে গ্রীন ইউনিভার্সিটির ভিসি পাশাপাশি থাকতাম। আমাদের দু’বন্ধুর মধ্যে প্রচুর আলাপ হতো, হাসাহাসি হতো। সেই হাসির ধারাটি এখনো বজায় রেখেছি। প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে ড. সাদেক বলেন ণড়ঁ যধাব ঃড় নবধৎ ধ নবষরবভ রহ ুড়ঁৎ সরহফ. স্বপ্ন ছাড়া মানুষ বড় হতে পারে না। ঘুমের মধ্যে মানুষ যে স্বপ্ন দেখে, সেটি আসল স্বপ্ন নয়; যে স্বপ্ন মানুষকে জাগিয়ে রাখে কর্মের পথে, সৃষ্টিশীলতার পথে -সেটিই প্রকৃত স্বপ্ন। টার্গেট নির্ধারণ না করলে কোনো কাজই সম্পন্ন হবে না; অগোছালোভাবে গড়ে উঠবে জীবন। নির্ধারণ করতে হবে আমরা কী চাই। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে স্কুলজীবনে ক্লাসে অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে প্রশ্ন করা হয়েছিল তোমরা জীবনে কে কী হতে চাও? অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীরা কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ শিক্ষক, কেউ রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, আইনজীবী হবার আশা ব্যক্ত করেছেন। ওবামাই একমাত্র ব্যতিক্রমী উত্তর দেন। তিনি বলেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে চাই। কৃষ্ণবর্ণের অধিকারী এ লোকটিই জীবনে দু’দুবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। তোমাদেরকেও লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে এবং সে লক্ষ্য অর্জনে নিবিষ্ট থাকতে হবে, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। দেশ ও জাতির উন্নয়নে তোমাদেরকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ড. সাদেক বলেন ক্যাম্পাস ছাত্র-তরুণদের ইংরেজি ভাষা শেখাচ্ছে, তাদেরকে স্মার্ট করে গড়ে তুলছে। আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ক্যাম্পাস প্রাগ্রসর চিন্তার পরিচয় দিয়েছে। ক্যাম্পাস’র অন্যান্য কর্মসূচি সমাজকে এগিয়ে নেয়ার পথে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। ক্যাম্পাস নিরলস কাজ করে যাচ্ছে মানব উন্নয়নে, মানুষের চিন্তা ও মননের পরিবর্তনে। এজন্য ক্যাম্পাসকে সহযোগিতা করা আমাদের সবারই কর্তব্য। আমি ক্যাম্পাস’র আজীবন পৃষ্ঠপোষক সদস্য হয়ে তাদের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হতে চাই। আলী হায়দার সরকারের মজুরী বোর্ডের চেয়ারম্যান জেলা জজ আলী হায়দার বলেন ক্যাম্পাস’র নতুন করে পরিচয়ের প্রয়োজন নেই, ক্যাম্পাস এখন বিশ্বপরিসরে পরিচিতিলাভ করেছে। ক্যাম্পাস’র কর্ণধার ড. এম হেলাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্র-যুব উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ উন্নয়নের যে ভিশন ও মিশন গ্রহণ করেছেন, তা থেকে একচুলও বিচ্যুত হননি। দৃঢ় মনোবলের অধিকারী ড. হেলালের পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাস এখন আলোকিত মানুষ গড়ার কারখানায় পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাস এ যারাই আসেন, তারা আলোকিত হয়ে যান। তিনি বলেন ছাত্র-যুব উন্নয়নে ক্যাম্পাস’র কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করতে কোনো বিদেশি সাহায্য গ্রহণ করে না। দেশের দানশীল-সমাজসেবী ব্যক্তিত্বগণের সহযোগিতায় ক্যাম্পাস তার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে। আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ক্যাম্পাস’র কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন বলে বিশ্বাস। তাজকেরা খায়ের বিশ্ব পারিবারিক ভালোবাসা আন্দোলনের চেয়ারপার্সন তাজকেরা খায়ের বলেন, ক্যাম্পাস যে নীতিতে বিশ্বাস করে, তা হলো নিজে হাসব, অন্যকেও হাসিখুশি রাখার কাজ করব। কেননা হাসি দিয়ে বিশ্ব জয় করা যায়, রোগ-শোক থেকে দূরে থাকা যায়। তিনি বলেন ক্যাম্পাস সমাজের নাড়ির স্পন্দন বুঝতে পেরেছে। সেজন্য যুগের চাহিদা মেটাতে ক্যাম্পাস চালু করেছে ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স ফর লিডারশিপ। এতে অংশগ্রহণ করে ছাত্র-যুবকরা নিজেদেরকে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারছে। এজন্য ক্যাম্পাসকে ধন্যবাদ। এডভোকেট মোঃ গোলাম কিবরিয়া ক্যাম্পাস’র ফ্রি ইংলিশ কোর্সের রিসোর্স পার্সন এডভোকেট মোঃ গোলাম কিবরিয়া বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে সুপরিচিত ও সম্মানিত নাম। তিনি আমাদের প্রশিক্ষণার্থীদের উৎসাহিত ও উদ্দীপিত করতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন, এজন্য তাঁকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি বলেন ক্যাম্পাস বরেণ্য ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায়, যাতে ছাত্র-তরুণরা তাঁদের বক্তব্য শুনে অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত হয়। প্রধান অতিথি শুধু কৃতী শিক্ষাবিদ ও সুদক্ষ শিক্ষাদ্যোক্তাই নন তিনি সাহিত্যিক, গ্রন্থকার, গবেষকও বটে। তাঁর মনটাও শিশুসুলভ, সারল্য ও হাসিখুশিতে উদ্ভাসিত। এডভোকেট কিবরিয়া বলেন, ক্যাম্পাস’র ইংলিশ কোর্সের দায়িত্ব নেয়ার আগে আমি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ইংলিশ কোর্স চালু করেছিলাম। কিন্তু কোথাও স্থায়ী হতে পারিনি। সেসব প্রতিষ্ঠানে দু’একটি কোর্স যেতে না যেতেই উদ্যোক্তাদের মধ্যে বাণিজ্যিক মনোভাব দেখা দিত। আর এসব দেখে আমার পক্ষেও সেখানে থাকা সম্ভব হতো না। কিন্তু ক্যাম্পাস এ এসে আমি আমার চিন্তার মিল খুঁজে পেয়েছি। এখানে বাণিজ্যিক মনোভাবে কোনো কাজ পরিচালিত হয় না। ক্যাম্পাস’র সকল কর্মসূচি ফ্রি এবং জনসেবামূলক। ক্যাম্পাস’র কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-যুবকরা যে মনমানসিকতারই থাকুক না কেন, ক্যাম্পাস’র শিক্ষা ও পরিবেশে তাদের মনমানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটায়। এখান থেকে আলোকিত মানুষ হয়ে বের হয়ে যায় তারা। ড. এম হেলাল সিএসডিসি’র মহাসচিব ড. এম হেলাল বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শুধু একজন শিক্ষাবিদই নন, তিনি সহজ-সরল, শিশুসুলভ মনমানসিকতার মানুষ; তিনি প্রোএকটিভ ও পজিটিভ এটিচিউডের মানুষ; সদা প্রফুল্ল, সদা হাসিখুশি থাকেন। তাঁর হাসিমাখা মুখের সাফল্যকথা উপস্থিত ছাত্র-তরুণদের উজ্জীবিত করবে, তারা দুঃখ-কষ্টকে জয় করার মানসিক শক্তি ও কর্মস্পৃহা লাভ করবে বলে বিশ্বাস। ড. হেলাল বলেন ক্যাম্পাস’র প্রতি প্রধান অতিথির বরাবরই আন্তরিক দরদ ও সহানুভূতির কথা আমরা ভুলিনি। ক্যাম্পাস’র এই স্থায়ী অফিস প্রতিষ্ঠাকালীন অন্যান্য দাতাদের সাথে বোর্ডে তাঁর নামও উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। আমি আশা করি প্রধান অতিথি অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও ক্যাম্পাস কার্যক্রমে তাঁর উদার সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করে রাখবেন।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ