বিশেষ খবর

এক দিনের প্রধানমন্ত্রী

ক্যাম্পাস ডেস্ক ব্যতিক্রমী সংবাদ
img

এই ধরনের ঘটনা সাধারণত স্বপ্ন, সিনেমা, নাটক অথবা সাহিত্যে দেখা যায়। বিষয়টি হলো কোনো দেশের এক দিনের রাজা অথবা প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসা। চেয়ারে বসামাত্রই দেশটির নানা অনিয়ম-অনাচার দূর করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কাজ করা। কিন্তু এবারের ঘটনাটি পুরোপুরি সত্য। তাও আবার যেনতেন দেশ নয়, কানাডার মতো একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসা! ভারতীয় বংশোদ্ভূত পিজে লাখানপাল নামে এক তরুণ কানাডার এক দিনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী দফতরে সে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর জন্য রাখা একটি চেয়ারে বসে কেটেছে তার সারাটা দিন। দেখেছে সব কাজকর্ম। তবে এর পেছনের ঘটনাটি একটু অন্যরকম।
১৯ বছর বয়সী লাখানপালের আদি বাড়ি ভারতের পাঞ্জাবে। এক ধরনের জটিল ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়ছিল ছেলেটি। ক্রমেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে আসছিল তার। এরপর লাখানপালের সামনে সুযোগ আসে ‘মেক আ উইশ’ নামের এক কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার। এই কর্মসূচীর উদ্দেশ্য মরণব্যাধিতে আক্রান্ত কোনো তরুণের শেষ ইচ্ছা পূরণে কাজ করা। আয়োজকদেরও চেষ্টা থাকে আক্রান্তের শেষ ইচ্ছা পূরণে সবকিছু করার। এরপর ছেলেটির কাছে জানতে চাওয়া হয় তার শেষ ইচ্ছার কথা। এসময় আয়োজকদের উদ্দেশ্যে লাখানপালের ঝটপট উত্তর- আমি কানাডার প্রধানমন্ত্রী হতে চাই। এ কথা শুনে আয়োজকদের চোখ কপালে ওঠার যোগাড়। এভাবে আস্তে আস্তে ছেলেটির এই ইচ্ছার কথা পৌঁছে যায় খোদ প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর কানে।
প্রধানমন্ত্রী এই ছেলেটির ইচ্ছা পূরণে এগিয়ে আসেন। সুযোগ করে দেন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার। এভাবেই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পৌঁছানোর পর ছেলেটিকে সম্ভাষণ জানাতে এগিয়ে আসেন ট্রুডো। শুধু কি তাই? ট্রুডো বলেন, তুমি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে চাও, তাই না? তোমার সময় কিন্তু শুরু। এরপর লাখানপালের সঙ্গে দেখা করতে আসেন কানাডার গভর্নর জেনারেল ডেভিড জনসন। ছেলেটির সঙ্গে দেখা করার পর তিনি টুইটও করেন। তাতে লেখেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী পিজের সঙ্গে দেখা করে আমি খুশি হয়েছি। তিনিই আমাদের জাতির পরবর্তী নেতা।
শুধু কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নয়, পুরো ৫ দিন রাজকীয়ভাবে পুরো পরিবারসহ অটোয়া সফর করে পিজে। এর মধ্যে ছিল কানাডার পার্লামেন্ট ভবন পরিদর্শন, সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ, একটি শপথ অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রীর মতো পূর্ণ মর্যাদার নিরাপত্তা পাওয়া।
১৯৮৮ সালে ভারতের পাঞ্জাবের শহর মান্দি আহমেদগড় থেকে কানাডায় আসেন তার বাবা। বাবা সুরিন্দার লাখানপালের রয়েছে একটি অটোমেকানিকের দোকান। ৩ বছর আগে ক্যান্সার ধরা পড়ে পিজের। এর পর বিমর্ষ হয়ে পড়ে পুরো পরিবার। তবে পিজে এক দিনের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় দীর্ঘদিন পর হাসি ফোটে পরিবারের মুখে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ