বিশেষ খবর

ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল যেখানে স্বপ্ন বলে কিছু নেই, সবকিছুই বাস্তব

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রচ্ছদ প্রতিবেদন
img

ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ২/১ রিং রোড, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ এই ঠিকানায় অবস্থিত।
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজটি স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যশিক্ষার ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিবন্ধিত এবং বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কর্তৃক স্বীকৃত।
স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে ডাক্তার এবং আনুষঙ্গিক পেশাজীবীগণ হলেন এর মেরুদন্ড। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতি ৩,১২৫ জন লোকের জন্য রয়েছে মাত্র একজন ডাক্তার। এজন্য মেডিকেলে ভর্তির জন্য যে ক’টি আসন রয়েছে তাতে মেধাবী প্রার্থীদের ক্ষুদ্রাংশই কেবল ভর্তি হতে পারে, বিপুল সংখ্যক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়নের স্বপ্ন ত্যাগ করে ভগ্ন হৃদয়ে ফিরে যেতে হয়। তাদের ডাক্তার হওয়া এবং আর্ত মানবতার সেবার স্বপ্ন অংকুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে সচ্ছল পরিবারের সন্তানরা পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ গ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের ফলে জাতীয় অর্থনীতির ক্ষয় হয় নিয়মিত।
এক্ষেত্রে সময়ের দাবি মেটাতে, ভর্তি-বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের ডাক্তার হবার স্বপ্ন পূরণের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা হিসেবে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কয়েকজন দানশীল উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীর মানস-সন্তান হলো ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
লক্ষ্য
১। ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের লক্ষ্য হলো-প্রধানত রোগীর যতœ ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা;
২। চিকিৎসা সেবায় শিক্ষার্থীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সৎ, বিশ্বাসযোগ্য চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলা;
৩। রোগীর সাথে এ্যাটেনডেন্ট এবং তাদের কলিগদের সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং বজায় রাখা;
৪। সাধারণ রোগ এবং স্বাস্থ্যসমস্যা মোকাবেলার সামর্থ্য অর্জন করা, কমিউনিটি বিশেষত: পল্লী অঞ্চলের মানুষের সেবার মানসিকতা অর্জন করা;
৫। ধারাবাহিক পেশাগত চর্চার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা ধরে রাখা;
এটি শুধু ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নয়, সমগ্র জাতির লক্ষ্য।
উদ্দেশ্য
১। এমবিবিএস কোর্স সমাপনান্তে নতুন ডাক্তাররা চিকিৎসার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাতে তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে;
২। পেশাগত দক্ষতা অর্জন করে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করতে পারে;
৩। পেশাগত উৎকর্ষের লক্ষ্য ব্যবহারে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে শেখে।
কলেজে যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে
সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রযুক্তি সম্বলিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কলেজ। এখানে একাডেমিক সুযোগ-সুবিধা, লাইব্রেরি, হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরি সুযোগ রয়েছে।
কলেজে যেসব বিষয়ে পড়ানো হয়
এনাটমি, ফিজিওলজি, বায়োক্যামেস্ট্রি, কমিউনিটি মেডিসিন, ফরেনসিক মেডিসিন, ফার্মাকোলজি এন্ড থেরাপিউটিক্্স, প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, মেডিসিন এন্ড এলাইড সাবজেক্টস, সার্জারি, ইএনটি, অফথালমোলজি, অর্থপেডিক, শিশু বিভাগ ও শিশু সার্জারী, রেডিওলজি, গাইনোকোলজি এন্ড অবস্টেট্রিক্স। হাসপাতালে ওঈট, ঘওঈট এবং ডায়লাইসিস চালু রয়েছে।
ঢাকা সেন্ট্রাল মেডিকেলের সাফল্যের রহস্য হলো সর্বক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধতা ও ঐকমত্য। এ নতুন কলেজের সাফল্যের পেছনে রয়েছে এর একাডেমিক কাউন্সিল এবং প্রশাসনের দূরদর্শী চিন্তার সফল প্রয়োগ। একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের ওপর প্রযোজ্য।প্রশাসনের ক্ষেত্রে প্রিন্সিপাল হলেন নির্বাহী প্রধান। তিনি হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট, শিক্ষা কর্মসূচি এবং শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার ব্যাপারে সচেতন থাকেন।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোঃ মোতাজ্জেরুল ইসলাম বলেন- নবপ্রতিষ্ঠিত এ কলেজটি এরই মধ্যে যে সুখ্যাতি অর্জন করেছে, তা উল্লেখ করতে গর্ববোধ করি

চেয়ারম্যান জনাব মোঃ মোতাজ্জেরুল ইসলাম এবং প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডাঃ আজিজুল ইসলামের গতিশীল নেতৃত্বে ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ সাফল্যের সাথে সৃজনের পথে এগিয়ে চলেছে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জনাব মোঃ মোতাজ্জেরুল ইসলাম বলেন, আমি ব্যবসায়ী মানুষ; নানান ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করে, আল্লাহ্র রহমত ও আপনাদের দোয়ায়, আমার সহকর্মীদের একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করায় আজ একটি অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছি। এ অবস্থানে এসে আমি লক্ষ্য করেছি আমাদের দেশে উচ্চবিত্ত মানুষ টাকা খরচ করে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করছে। অতিনিম্নবিত্ত মানুষ সরকারি হাসপাতালগুলোতে সীমিত সামর্থ্যরে মধ্যে সেবা গ্রহণ করছে। কিন্তু নিম্ন মধ্যবিত্ত ও তার থেকে নিম্ন আয়ের মানুষেরা যেমন অর্থাভাবে উচ্চমূল্যের হাসপাতালের সেবা গ্রহণ করতে পারছে না। একই ভাবে চিকিৎসার ক্ষেত্রে হাসপাতাল এবং রোগীদের মধ্যে কোনো একটি স্থানে আস্থার অভাব প্রতীয়মান। এ বিষয় বিবেচনায় রেখে আমি একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছি। যেখানে স্বল্পমূল্যে আস্থার সাথে রোগীরা চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারে। একই সাথে মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থায় গরিব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা যেন একটি সুষ্ঠু পরিবেশে উন্নত চিকিৎসা-শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। এই বিবেচনায় মানুষের জন্য, সমাজের জন্য এবং দেশের জন্য কিছু করার মানসিকতা নিয়ে আমার এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ। একদিন হয়তো আমরা কেউ থাকব না। কিন্তু আমাদের এই প্রতিষ্ঠান দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে, এই প্রত্যাশা নিয়েই আমার এই যাত্রা শুরু। মনে সাহস নিয়ে সীমিত সামার্থ্যরে মধ্যে আমি কাজে নেমে পড়েছি। যার ফলশ্রুতিতে ৫ বছরের মাথায় আজকে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ সহনীয় খরচে জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে; কম খরচে দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীকে দক্ষ ডাক্তার হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে; কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে; যেমনÑ এ কলেজ ও হাসপাতালে ২০০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, কর্মকর্তার সাথে রয়েছেন আয়া, ওয়ার্ডবয় মিলিয়ে প্রায় ৬৫০ জন লোক। অর্থাৎ এখানে মেধাবী দক্ষ জনবলের পাশাপাশি বেশকিছু দরিদ্র লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে এ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করিনি। কিন্তু শুধু দাতব্য কর্মকান্ড দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান বেশি দূর আগাতে পারে না। এর আয় থেকে ব্যয় মেটাতে পারলেই আমি নিজেকে সফল মনে করব। প্রতিনিয়ত উন্নতির জন্য যে অর্থায়ন প্রয়োজন, সে ব্যাপারে আমার সর্বাত্মক চেষ্টা রয়েছে।
কলেজে শিক্ষক নিয়োগ সম্পর্কে মোতাজ্জেরুল ইসলাম বলেনÑ আমাদের এ কলেজে কোনো পার্টটাইম শিক্ষক নেই, সবাই স্থায়ী। সরকারি মেডিকেল কলেজের অবসরপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে এবং বিভিন্ন নামকরা মেডিকেল কলেজের মেধাবী ও ভাল রেজাল্টধারী উচ্চশিক্ষা প্রাপ্ত চিকিৎসকদের মধ্য থেকে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, নিজের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ, তরুণ উদ্যমী জনবল নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের সময় মেধা ও অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শিক্ষকমন্ডলীকে তাদের চাওয়া-পাওয়ার সমন্বয় সাধন করে, আমি অত্যন্ত আস্থার সাথে বলতে চাই আমার এখানে যোগদানকারী সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা যারা শুরু থেকে আছেন, প্রত্যেকেই আজও কর্মরত। যা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সু-ব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত বহন করে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কলেজ সরকারি নীতিমালা সঠিকভাবে অনুসরণ করে থাকে। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ ল্যাব রয়েছে। এমনকি সরকারের নীতিমালার বাইরেও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন রয়েছে -এমন আধুনিক যন্ত্রপাতি আমাদের ল্যাবে রয়েছে। হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জনাব মোঃ মোতাজ্জেরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে ৫০০ বেডের হাসপাতাল রয়েছে। যার ১০% বেড ফ্রি, যেখানে দরিদ্র রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিতে পারে। অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় এ হাসপাতালে বেড ও কেবিন ভাড়া অনেক কম। এ সুযোগটা মধ্যবিত্ত পরিবার ও কর্মজীবী মানুষকে এ হাসপাতালের প্রতি আকৃষ্ট করে। আউটডোরে ২০ টাকা মূল্যে রোগী দেখা হয়। ২০০ টাকা মূল্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া যায়। বছরের বিভিন্ন সময়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এর আয়োজন করা হয়, যার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পায়।
নবপ্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে যে সুখ্যাতি অর্জন করেছে তা উল্লেখ করতে গর্ববোধ করি। এ কলেজ চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় যে কৃতিত্ব দেখিয়েছে, তাতে আমরা আশাবাদী হয়েছি। দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষা ২০১৫ সালের জুলাই মাসে সাফল্যের সাথে সম্পন্ন হয়েছে। ছাত্র/ছাত্রীদের এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে আমাদের অভিজ্ঞ, নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক মন্ডলীর অবদান ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, শিক্ষার মান ও সুন্দর পরিবেশ বহনকারী ক্লাসরুম যা শিক্ষার ক্রমোন্নতির সহায়ক শক্তি। মেডিকেল শিক্ষাকে শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ অপরিহার্য। ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (ডিসিআইএমসিএইচ) এ এই পরিবেশ গড়ে তুলতে পেরেছে বলে শিক্ষার্থীদের এই চমকপ্রদ সাফল্য।
ডিসিআইএমসিএইচ প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে রোগী ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষাদান পদ্ধতিকে শিক্ষা গ্রহণের চমৎকার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলেছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও নিবেদিত উদ্যোগ থাকার ফলে এ কলেজটি অতি অল্প সময়ের মধ্যে নির্ভরশীল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভে সমর্থ হয়েছে।
মোতাজ্জেরুল ইসলাম আরও বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল আত্মবিশ্বাসের সাথে মেডিকেল শিক্ষা এবং রোগী ব্যবস্থাপনার দিক থেকে একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলেছে। আমাদের এই সাফল্যের পেছনে আমাদের শক্তিশালী দূরদৃষ্টিসম্পন্ন গভর্নিং বডির দিকনির্দেশনায় কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছে। আমাদের এই প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের প্রতিনিধি হিসাবে ২ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিনের ডিন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবক প্রতিনিধিবৃন্দ। আমরা আমাদের পথ চলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাই, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার অফিস ও রেজিস্ট্রার অফিস এবং কলেজ পরিদর্শক অফিসের নিকট থেকে। পাশাপাশি আমরা সময় উপযোগী দিক নির্দেশনা পাই বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল এবং প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশন থেকে। এই সমস্ত দায়িত্বশীল স্থানের উপযুক্ত পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করায় আজ ডিসিআইএমসিএইচ সেন্টার অব এক্সিলেঞ্চ হিসেবে গড়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও প্রতিশ্রুতিশীল ডাক্তার গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে, আমাদের শুভাকাঙ্খীদেরকে আমরা এই আশ্বাস প্রদান করতে পারি। যারা কিনা ভবিষ্যতে দেশ এবং জাতির জন্য বয়ে আনবে অনেক সম্মাননা, চিকিৎসা ক্ষেত্রে তারা থাকবে নেতৃত্বের ভূমিকায়।
দেশে প্রতি ৩,১২৫ জন মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য রয়েছেন মাত্র ১ জন ডাক্তার। দেশে ডাক্তারের রয়েছে বিপুল চাহিদা; সে চাহিদা পূরণ করতে সরকারি মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সরকারের সহযোগিতা পেলে চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে মূল্যবান অবদান রাখতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।
কলেজ হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানতে চাইলে জনাব মোঃ মোতাজ্জেরুল ইসলাম বলেন- এই হাসপাতালে অত্যাধুনিক শিক্ষা প্রদানে সহায়ক যেসব অবকাঠামো প্রয়োজন, তা এ কলেজে রয়েছে। কলেজের লেকচার হল সুসজ্জিত এবং কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং সবধরনের আধুনিক অডিও ভিজ্যুয়াল সুবিধা যেমন-মাল্টিমিডিয়া, স্মার্ট ইন্টারেকটিভ বোর্ড এবং সমৃদ্ধ সাউন্ডসিস্টেম। কলেজের সব টিউটোরিয়াল রুম প্রশস্ত এবং সুসজ্জিত। বিভিন্ন বিভাগের চাহিদার উপর ভিত্তি করে ল্যাবরেটরি, মিউজিয়াম এবং প্রাকটিক্যাল ক্লাসরুমগুলো পর্যাপ্ত শিক্ষণ ও শিক্ষা-উপকরণ সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা হয়েছে। লাইব্রেরিতে ডিজিটাল সেকশন রয়েছে; যেখানে কম্পিউটার, স্ক্যানার, প্রিন্টার, ২৪ ঘন্টা ইন্টারনেট ও ফটোকপিয়ার সুবিধা রয়েছে। এখান থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধা খুব সহজে লাভ করতে পারে।
বর্তমান শিক্ষাবর্ষ থেকে আমাদের কলেজে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে দেশে আসবে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।
এ হাসপাতালকে ঘিরে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে কল্যাণকামী মানবদরদী ব্যক্তিত্ব জনাব মোঃ মোতাজ্জেরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ক্যান্সার এবং কিডনী রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এটি নি¤œমধ্যবিত্ত মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ক্যান্সার এবং কিডনী রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে বহু পরিবার নি:স্ব হয়ে গেছে। তাই আমি মোহাম্মদপুরের বসিলা রোডে ক্যান্সার, কিডনী এবং এজমা রোগের চিকিৎসার লক্ষ্যে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগ নিয়েছি। এখান থেকে দরিদ্র রোগীরা সহনীয় খরচে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা পাবেন। পাশাপাশি এই হাসপাতাল থেকে পাস করা ডাক্তারদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ