বিশেষ খবর



Upcoming Event

কোভিড-১৯ এর শিক্ষাঃ ভিসামুক্ত অত্যাধুনিক বিশ্ব

ক্যাম্পাস ডেস্ক বিশেষ নিবন্ধ

আমাদের সব্বার এই পৃথিবীকে-
কেউ কেউ নিজ ইচ্ছেমতো, নিয়েছি ভাগ করে
ধর্মের নামে, দেশের নামে, ভাষার নামে।
আর সরিয়েছি দূরে মানুষ থেকে মানুষদেরকে।


মানুষ মারার, পৃথিবী ভাঙার, জাতি বিভেদের কতইনা আয়োজন আমাদের। অথচ এগুলোর মূল্য যে কত কম, এগুলো যে কতটাই অপ্রয়োজনীয় তা কোভিড-১৯ ভাইরাস এসে আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে।

আমরা মানব জাতি প্রত্যেকে একে অপরের সাথে দারুণভাবে সম্পৃক্ত। জগতের সব কিছুই একটি অনুবন্ধনে আবদ্ধ। সকল সীমারেখা কিংবা বাধাবন্ধন বিভিন্ন মানুষের সৃষ্ট, যার যার নিজের স্বার্থে, নিজের সুবিধায়। তাই বিভিন্ন জাতির কিংবা বিভিন্ন দেশের এই ভেদাভেদ কিংবা সীমান্ত রেখাগুলো যে কত মেকী অথবা মিথ্যা, তা কোভিড-১৯ ভাইরাস আমাদের বুঝিয়েছে।

আমরা সকলে খুব ভালো করেই দেখছি, অনুধাবন করছি যে- সীমান্তর পর সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে ভিসা, পাসপোর্ট কোনো কিছুই লাগছে না করোনা ভাইরাসের। দেশ হতে দেশ ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস কোনো ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়াই! কোনো স্যাংশন-জাংশন ছাড়াই যেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের সেই উদাত্ত আহ্বানে উত্তাল সাড়া দিয়েছে করোনা ভাইরাস-

দেশ হতে দেশ দেশান্তরে
ছুটছি আমি কেমন করে..


এক মুদ্রা, এক পাসপোর্ট এবং এক পরিচয়ে সর্বাধুনিক বিশ্ব-সভ্যতা গড়ে তোলার মাধ্যমে চলমান বিশ্ব-অশান্তি ও বিভেদের অবসানকল্পে আমার মনে অত্যাধুনিক বিশ্ব ও ভালোবাসার বিশ্ব সম্পর্কে ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল বহু পূর্বেই; যা আমার রচিত বই উন্নত জাতির আধুনিক বাংলাদেশ এবং অত্যাধুনিক বিশ্বের রূপরেখা -এ বিশদ ব্যাখ্যা করেছি। এখানে কেবল এটুকুই বলব, আমার বিশ্বাস- যুদ্ধের শেষ হয় শান্তিতে, দুঃখের শেষ সুখে, ভাঙার পরই নির্মাণ বা গড়ার পালা। বিচ্ছেদ দিয়ে কোনো ঘটনার শেষ হয় না, শেষ হলেও তা সর্বশেষ নয়; সর্বশেষ হয় মিলনে।

যে ভূমিকম্প প্রকৃতির এক ধরনের প্রতিশোধ হিসেবে আবির্ভূত হয়, সে ভূমিকম্পের ধ্বংসলীলার পর সবকিছু যে শেষ হয়ে যায়, তা কিন্তু নয়। ভূমিকম্পের মাধ্যমে পুরনো শহর-নগর ভেঙে গুড়িয়ে প্রকৃতি আবার হাতছানি দেয় নতুনের; আধুনিক ও মজবুত নতুন শহর গড়ে তোলার। সেরূপ বর্তমান বিশ্বে বিরাজমান করোনা ভাইরাস মহামারীর পরের পর্ব হচ্ছে ‘ভালোবাসার বিশ্ব’ বা ‘অত্যাধুনিক বিশ্ব’ পর্ব। তবে কারো কারো কাছে আমার এ ধারণা রূপকথা বলেও মনে হতে পারে।

মানুষ আকাশে উড়ে পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে যে ছুটে বেড়ায়, তা দু’শত বছর পূর্বে মৃত কোনো ব্যক্তির আত্মার কাছে এখন বললে সে আত্মা কোনোক্রমেই তা বিশ্বাস করবে না। আকাশ-সংস্কৃতির আধুনিকতার কোনো কিছুই তার বোধে আসবে না। ৫০/৬০ বছর পূর্বের প্রেতাত্মার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করলে ঐ প্রেতাত্মা এখনো বলবে- মানুষ পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে একে অপরের সাথে বিনাতারে তাৎক্ষণিক যে কথা বলছে, মেসেজ পাঠাচ্ছে, একে অপরকে দেখছে, তা অসম্ভব! স্রষ্টা এরূপভাবেই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন যে- সমুদ্রের তলদেশ বা পাতাল সম্পর্কে ধারণা দেননি পর্বতকে; আবার পাতালকেও অনুভূতি দেননি পর্বতের উচ্চতা বোঝার। তাই বাস্তবে আকাশ-পাতাল ও পর্বত একই ভুবনে অবস্থান করেও একে অন্যের তফাৎ সম্পর্কে সম্যক উপলব্ধি করতে পারে না, যেমনি পারে না নৈরাশ্যবাদীরা আশাবাদীদের সম্পর্কে ধারণা করতে। বেশিরভাগ মানুষই নিজ চিন্তার সীমাবদ্ধতার কাছে বা চিন্তার কারাগারে বন্দি থেকে যায় এবং এ নিয়ে তাদের আক্ষেপও থাকে না। সে সীমাবদ্ধ চিন্তার কারাগার থেকে তারা বেরিয়ে আসতেই চায় না, পারেও না। যেমন পারে না নেশাখোররা আফিম বা হেরোইনের নেশা থেকে বেরিয়ে আসতে। কারাদেয়াল ভেঙে যায় বা আফিমের নেশা কেটে যায় তখন, যখন কেউ এদেরকে এমন কিছু দেয় যা দু’চোখে দেখে, দু’হাতে ছুঁয়ে বা দু’কানে শুনে ঐ বস্তুর অস্তিত্ব বুঝতে পারে।

করোনা ভাইরাস মহামারীর শেষ কী দিয়ে হবে, তা দার্শনিক বা বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব দিয়ে হয়ত বলা যায়; কিন্তু কী ঘটনা প্রবাহের মাধ্যমে বা কী প্রক্রিয়ায় আধুনিকতার শেষ এবং অত্যাধুনিকতার পত্তন ঘটবে, তা সহজ ও সুনির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। যেরূপ ঘটনা ও প্রক্রিয়া আমার যুক্তিতে ও অন্তর্দৃষ্টিতে এখন ধরা পড়ছে, সেরূপভাবে ঘটনা না ঘটে অন্যরূপেও ঘটতে পারে। তবে যেরূপেই ঘটুক না কেন, লক্ষ্য হবে মহামিলন ও ভালোবাসার বিশ্ব।

কারণ পৃথিবীর সকল দেশের সকল আণবিকের চেয়ে একজন মানুষের মানবিকের মূল্য মহাগুণ বেশি; আণবিককে তাই বেঁধে ফেলতে হবে মানবিকতার জালে। মানবিকতা দিয়েই জয় করতে হবে নিজকে-পরিবার-সমাজ তথা বিশ্বকে। এভাবেই সম্ভব সকল সমস্যার সমাধান।

বর্তমান প্রচলিত ভিসা-পদ্ধতি এক ধরনের কালাকানুন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অনুকরণে এক পাসপোর্ট, এক মুদ্রা ও এক ভাষায় সর্বাধুনিক বিশ্ব-সভ্যতা গড়ে তুললেই বিশ্ব-অশান্তি ও বিভেদের অবসান অনেকাংশেই সম্ভব। যেহেতু নিজের সিদ্ধান্তে মানুষের জন্মস্থান নির্ধারিত হয় না, তাই সে শুধু কোনো বিশেষ স্থান বা দেশের নাগরিক নয় -সমগ্র বিশ্বেরই নাগরিক। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই তার চলাফেরার অধিকার রয়েছে। এ অধিকার ভোগে বাধাদান তার মৌলিক অধিকার ক্ষুণেœর শামিল। মানুষকে ভিসা প্রদানে হয়রানি আসলে প্রকৃতিরই বিরুদ্ধাচরণ। কারণ মানুষ জন্মলাভ করে বিশ্বে। তাই সে বিশ্বের মানুষ; কোনো দেশ বা দেশের নির্ধারিত স্থানে তার জন্মস্থান বেঁধে দেয়া এবং পৃথিবীর অন্যস্থানে যেতে তাকে বাধা দেয়া প্রকৃতিবিরুদ্ধ বলে আমি মনে করি। প্রকৃতির বিচার কিন্তু সর্বদাই ন্যায়বিচার। বিচার করতে প্র্রকৃতি ভুল করে না। তাই প্রকৃতির প্রতিশোধ বড়ই নির্মম। আর এ সত্যটি আমাদের দারুণভাবে পুনরায় বুঝিয়ে দিয়েছে করোনা ভাইরাস।

আর তাই দেশ-কাল-পাত্রের সকল সংকীর্ণতা ভুলে আমাদেরকেও আন্তর্জাতিক হতে হবে; ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থ ত্যাগ করে মানবতাবাদী ও অন্যের অধিকারের প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে। তবেই সমাজ, দেশ ও বিশ্বে শান্তি-সমৃদ্ধি আসবে। ক্ষুদ্রত্বের গন্ডি থেকে বেরিয়ে আন্তর্জাতিক হতে না পারলে মানবতার জয়গান কোনোকালেই ধ্বনিবেনা এ বিশ্বচরাচরে। তাই আসুন, নিজ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যার যার অবস্থান থেকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন হই। পাশাপাশি বিশ্ব পরিবেশ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা সবাই এক ও অভিন্ন মানব জাতি প্রকৃতির এ দর্শনে ও বিচারে প্রাণিত ও শানিত হয়ে ভিসামুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় ক্যাম্পাস’র এ আন্দোলনে শরীক হই।


বিশ্ববিদ্যালয় কম্পাস পত্রিকার সংখ্যা সমূহ

আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img