বিশেষ খবর

সৃষ্টির সেবায় ও মানবতার জয়গানে উৎসর্গীকৃতদের সম্মাননা, আরভী ফাউন্ডেশনের হিরো অ্যাওয়ার্ড ২০২০

ক্যাম্পাস ডেস্ক বিশেষ প্রতিবেদন
img

করোনা মহাদূর্যোগের মধ্যেও দুঃস্থ অসহায় মানুষ, পরিবেশ ও বিপন্ন প্রাণীদের সেবায় যারা সাহসী ভূমিকা রেখেছেন, সেইসব কল্যাণকামী ব্যক্তি ও সংগঠনকে `হিরো অ্যাওয়ার্ড ২০২০` দিয়ে সম্মানিত করেছেন মানবসেবার আরেক পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান আরভী ফাউন্ডেশন। দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর বহুমুখী উদ্দেশ্যে আরভী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান, ডিজিটাল শিক্ষার স্বপ্নদ্রষ্টা লায়ন এম কে বাশার ও ভাইস-চেয়ারম্যান লায়ন খন্দকার সেলিমা রওশনের সুযোগ্য সিংহকন্যা লিও বুশরা আরাবী।

এমন জীবন হবে
করিতে গঠন,
মরণে হাসিবে তুমি
কাঁদিবে ভুবন।

নিজের জন্য হাজার বছর বেঁচে থাকার মধ্যে সার্থকতা নেই। জীবনে সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায় মানবকল্যাণে একটি দিন উজাড় করার মধ্যিদিয়ে। যারা মানবতার কল্যাণে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে, তারা তাদের কর্মের দ্বারা পৃথিবীকে আরো সুন্দর করে তোলে। মহৎ মানুষ নিজের জীবন তিলে তিলে ক্ষয় করে দেশ ও জাতির কল্যাণার্থে। জীবনের মূল্যবান সময়ে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখে শুধু মানবকল্যাণে; সৎ চিন্তা, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সৃষ্টির কল্যাণসাধন করে তারা মানবজাতিকে জয় করতে পারে। আর এরকম জয়ী কিছু মানুষকে বিজয়মাল্যে বরণ করতে ক্যামব্রিয়ান অডিটোরিয়ামে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় `হিরো অ্যাওয়ার্ড ২০২০` অর্পণ অনুষ্ঠান।
এ ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছোটবেলা থেকেই মানবকল্যাণ, সমাজসেবা ও শিক্ষা বিস্তারে আত্মোৎসর্গীকৃত ছাত্র-যুবকদের অনুকরণীয় রোলমডেল ড. এম হেলাল। তিনি ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) এর মহাসচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদকসহ বহু সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করছেন। ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের পরিচালক ও চট্টগ্রাম ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল মাহবুব হাসান লিংকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ৩১৫এ৩ লিও ক্লাবস চেয়ারপার্সন লায়ন নবীন চন্দ্র রায়, পুলিশ ব্ল­াড ব্যাংকের ইনচার্জ একেএম সিদ্দিকুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আরভী ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর এবং বিজয় ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ফেরদৌস হাসান।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ক্যামব্রিয়ানের কৃতি শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ইমার সুদক্ষ সঞ্চালনায় হিরো অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ২০ সংগঠন ও ব্যক্তিকে সনদ এবং সম্মাননা ক্রেস্ট অর্পণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ। যেসব ব্যক্তি ও সংগঠন করোনাকালীন সময়ে মানবতার সেবায় উজ্জীবিত হয়ে কাজ করার জন্য আরভী ফাউন্ডেশনের হিরো অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন তারা হলেন- ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ, মেডিসিন ক্লাব, নগর ফুল, আমরা যুবরা পরিবর্তন চাই, এরাইজ হেলথ ফর চিল্ড্রেন, স্বপ্নীল চট্টলা, চলো স্বপ্ন ছুঁই, স্বপ্নদ্রষ্টা, ইউনাইটেড একশন ফাউন্ডেশন, সেভ দ্য সোসাইটি, ময়ূরপঙ্খী ফাউন্ডেশন, নন্দিতা সুরক্ষা, অনুপ্রয়াস, ইকো নেটওয়ার্ক, জেনেসিস ফাউন্ডেশন, শ্রী, গন্তব্য, ইয়ুথ ফাউন্ডেশন এবং ফুড ফর স্ট্রিট অ্যানিমেল।
অ্যাওয়ার্ড ও পুরস্কার অর্পণের আগে প্রধান অতিথি ড. এম হেলালসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। সে বক্তৃতামালা প্রায় হুবহু এখানে তুলে ধরা হলো।

আরভী ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর ও বিজয় ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ফেরদৌস হাসান

ফেরদৌস হাসান বলেন, আসল হিরো তারাই, যারা সমাজের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করে। যে সমাজে ভালো মানুষের কদর নেই, সে সমাজে ভালো মানুষ জন্মায় না। যারা সমাজের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করে, আমরা আরভী ফাউন্ডেশন তাদের জন্য কাজ করি। আমরা প্রায় সাড়ে তিনশো ব্যক্তি ও সংগঠন থেকে বাছাই করে সেরা ২০টি সেবাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে আরভী ফাউন্ডেশনের হিরো অ্যাওয়ার্ড ২০২০ প্রদান করছি। আগামীতে এই অ্যাওয়ার্ড আমরা আন্তর্জাতিকভাবে প্রদান করবো বলে পরিকল্পনা করেছি। আপনারা আজ মানবসেবায় নিজেদের উৎসর্গ করে এক একজন হিরো এবং লিডারে পরিণত হয়েছেন। লিডার কখনো জন্মায় না, লিডার সময়ের প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়। যেমন- এই করোনা মোকাবিলা করতে আপনারা লিডার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। আরভী ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে, আপনাদের দিয়েই এসমাজের ও দেশের পরিবর্তন হবে। আপনারা চাইলে এদেশ ও সমাজকে পরিবর্তন করতে পারবেন, এ বিশ্বাস আমাদের আছে।

আরভী ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর রেদওয়ানুল আরেফিন অর্ণব

রেদওয়ানুল আরেফিন অর্ণব বলেন, করোনা মহামারী আমাদের একটি `নিউ নরমাল` পরিস্থিতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। ভার্চুয়াল জগত যে কতো গুরুত্বপূর্ণ, তা আমরা এই `নিউ নরমাল` পরিস্থিতিতে বুঝতে পারছি। আগে আমরা ফিজিক্যাল কাজের গুরুত্ব দিতাম, এই ভার্চুয়াল জগতের প্রতি আমাদের ততো গুরুত্ব ছিলো না; কিন্তু এখন আমরা ভার্চুয়াল কাজের গুরুত্ব বুঝতে পারছি। আর এটা `নিউ নরমাল` পরিস্থিতির কারণেই সম্ভব হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ভলান্টিয়ারদের জন্য একটা সফটওয়ার ডেভেলপ করেছি, যাতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা সুনিশ্চিত করা সম্ভব হয়। এই সফটওয়ার দিয়ে কে কোথায় কতটুকু কাজ করলো, তার প্রোফাইল কি ইত্যাদি সবকিছুই বের করা সম্ভব হবে। ফলে আমাদের কাজে গতিশীলতা আসবে। আমরা আগামীতে আন্তর্জাতিক পরিসরে যখন কাজ করবো, তখন এই সফটওয়ার খুব কাজে আসবে। আপনারা প্রয়োজনীয় এই সফটওয়ারটি ব্যবহার করে কাজে গতিশীলতা আনতে পারবেন। আজকে আরভী ফাউন্ডেশনের এই হিরো অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে আপনাদেরকে আমি স্বাগত জানাই। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানবতার সেবায় আপনাদের সবাইকে নিয়ে আরভী ফাউন্ডেশনের অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হবে।

ফুড ফর স্ট্রিট এনিমেলের ফাউন্ডার চেয়ারপার্সন অর্পিতা খান মহুয়া

আরভী ফাউন্ডেশনের অ্যাওয়ার্ড গ্রহণে নিজ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অর্পিতা মহুয়া খান বলেন, সাধারণত বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে থাকা কুকুরগুলো আশেপাশের এলাকা থেকে পাওয়া খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে। বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান, হোটেল ও বাসাবাড়িতে বেঁচে যাওয়া বা উচ্ছিষ্টই কুকুর-বিড়ালগুলোকে খাদ্য যোগায়। কিন্তু করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে খুব বিপাকেই পড়েছিলো এসব অসহায় প্রাণীগুলো। বিভিন্ন হোটেলসহ খাবারের দোকান বন্ধ থাকায় বাইরে খাবার পাচ্ছিলো না প্রাণীগুলো। অন্যদিকে বাসাবাড়ি থেকেও উচ্ছিষ্ট বা বেঁচে যাওয়া খাবারও করোনার কারণে পাচ্ছিলো না কুকুর-বিড়ালগুলো। এমন পরিস্থিতিতে এসব প্রাণীর তখন খাদ্য সংকটের চরম দুঃসময়! রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তাদের খুব অসহায় নিস্তেজ অবস্থা আমার চোখে ধরা পড়ে। এক সময়ের চঞ্চল এ প্রাণীগুলো তখন ক্ষুধার্ত হয়ে অসহায় অবস্থায় সড়কে পড়ে আছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা মানুষেরাও যেমন বাঁচার চেষ্টা করেছি, তেমনি আমি ভেবেছি এই প্রাণীগুলোকেও আমাদের বাঁচাতে হবে। কারণ, এগুলো এ পরিবেশেরই অংশ এবং বাস্তুসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। এসব প্রাণীর সাহায্যার্থে কোনো সরকারি সংস্থা এগিয়ে না এলেও অনেক এলাকাতেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকে এগিয়ে এসেছেন। অনেকেই আবার সাংগঠনিকভাবেও কাজ করেছেন এসব প্রাণীর জন্য। আর এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। কিছুদিন যাবত আমি আমার এলাকায় ছিন্নমূল কুকুর বিড়ালগুলোর মধ্যে খাবার বিতরণের চেষ্টা করছি। খিচুড়ী, বিস্কুট বা রুটি দিচ্ছি। তার কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দিয়েছি। মিডিয়ার আকর্ষণ বা ফেসবুক সেলেব্রিটি হওয়ার জন্য না, বরং অন্যদেরও উৎসাহিত করার জন্য। আমি নিজে ওদের জন্য যা পারি করছি। অন্যরাও যেন এগিয়ে আসে, এ বার্তা দিয়েছি। আমি মানুষকে বুঝিয়েছি, যতটুকু পারেন এদের খাবার দিন। কারণ মানুষ নিজের খাবার নিজে বানিয়ে বা চেয়ে খেতে পারে। কিন্তু অবলা প্রাণীগুলো এসবের কিছুই পারে না; এমনকি চাইতেও পারে না। তাই সবার উচিত এদের সাহায্যে এগিয়ে আসা। তখন ফেসবুক কাজে লাগিয়ে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সবার সহযোগিতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কুকুর-বিড়ালদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছি আমাদের সংগঠন `ফুড ফর স্ট্রিট অ্যানিমেলস` এর মাধ্যমে। আজ সেই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপ ও আরভী ফাউন্ডেশনের এই হিরো অ্যাওয়ার্ড লাভ করে আমি আনন্দিত, সম্মানিত ও গৌরবান্বিত।

ট্রান্সজেন্ডার রাইটস একটিভিস্ট, শ্রী এর ফাউন্ডার চেয়ারপার্সন তাসনুভা আনান শিশির

তাসনুভা আনান শিশির বলেন, আমি ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে কাজ করায় করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীরকে সাহায্য-সহযোগিতা করার তাগিদ অনুভব করছিলাম। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দরিদ্র অসহায় মানুষদের কাছে যেকোনো মূল্য খাবার পৌঁছানোর চিন্তা করেছি। তাই বন্ধুদের সমন্বয়ে এই সীড ফান্ডিং করেছি। যারা সেই ঘোর দুঃসময়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, তাদের জানাই আজ অপরিসীম কৃতজ্ঞতা। আমি সমাজের অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর পাশে দ্রুত এসে দাঁড়িয়েছি; কারণ, আমি নিজেও একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। আমাদের অসহায়ত্বটা আমি জানি। আমি বুঝি, আমাদের কমিউনিটির মানুষের জন্য সহায়তাটা বিশেষ দরকার। সেই প্রয়োজন মেটাতেই পরিকল্পনা গ্রহণের পর আমার পাশে এসে দাঁড়ান ট্রান্সজেন্ডার রাইটস একটিভিস্ট বন্ধু হোচিমিন ইসলাম। দুই বন্ধু মিলে করোনাকালীন সময়ে দুঃস্থ-অসহায়দের সহায়তা করার জন্য শুরু করেছি সীড ফান্ডিং। আমি আর ট্রান্সজেন্ডার রাইটস একটিভিস্ট বন্ধু হোচিমিন ইসলাম মিলে কাজ শুরু করি `সীড ফান্ডিং` সংগঠনের মাধ্যমে। আমাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উন্নয়ন সংস্থা, উন্নয়ন কর্মী, নাট্যকর্মীসহ অনেক ছোট বড় সংস্থা। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় আমরা সেই সুদূর উত্তরাঞ্চলের দারিদ্র্যপীড়িত কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার দুঃস্থ অসহায় আর্ত-মানুষদের ঘরে ঘরে খাবার ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। মানুষের মুখে হাসি দেখে তখন আমাদের মন ভরে গিয়েছে। আর আজকের ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের সার্বিক সহযোগিতায় আরভী ফাউন্ডেশনের এই `হিরো অ্যাওয়ার্ড-২০২০` লাভ করে আমি আনন্দিত, উদ্বেলিত ও অভিভূত। আমি ট্রান্সজেন্ডার রাইটস, শ্রী এবং সীড ফান্ডিংয়ের পক্ষ থেকে ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপ, বিজয় ও আরভী ফাউন্ডেশনের সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

পুলিশ ব্ল­াড ব্যাংকের ইনচার্জ একেএম সিদ্দিকুল ইসলাম

একেএম সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ব্লাড ব্যাংক আজকে একটি আস্থা ও ভরসার জায়গায় পরিণত হয়েছে মানুষের কাছে। শুরুতে কিন্তু আমাদের কাজটা এতো সহজ ছিলো না। আমাদের হাবিবুর রহমান স্যার যখন উদ্যোগ নিয়ে পুলিশ ব্লাড ব্যাংকের কাজ শুরু করেন, তখন স্যারের সাথে শুধু আমি ছিলাম। স্যার সন্দিহান ছিলেন যে, এই কাজ আমি পারবো কিনা। কেননা আমি তো ডাক্তার নই, এমনকি আমি সায়েন্সেরও ছাত্রও ছিলাম না। আমি সন্ধানী, রেড ক্রিসেন্ট ইত্যাদিতে ঘুরে ঘুরে ব্লাড সংরক্ষণের বিষয়গুলো জেনে নিয়ে কাজ শুরু করি। আল্ল­াহর রহমতে আমি কোথাও ঠেকিনি। আমার মনে ছিল, ভালো কাজ করার অদম্য সাহস ও মনোবল। আর এই মনোবলের জোরেই আজ আমি বিগত ১০ বছর ধরে পুলিশ ব্লাড ব্যাংকের পেছনে লেগে আছি। যার ফলে আজ আমি গর্ব নিয়ে বলতে পারি, আমাদের এখন ৫০ হাজারেরও বেশি নিয়মিত রক্তদাতা। লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ আমাদের পুলিশ ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত দিচ্ছে এবং নিচ্ছে। জীবন রক্ষা হচ্ছে মানুষের। অথচ আমরা শুরুতে শুধু পুলিশ সদস্যদের জরুরি রক্তদানের জন্য এই পুলিশ ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু করি। আজ আমরা এই করোনাকালীন সময়ে প্ল­াজমা সংগ্রহের জন্য কাজ করছি। এই প্ল­াজমা সংগ্রহের বিষয়েও সাধারণ মানুষের মনে নানারকম ভয়ভীতি কাজ করে। অনেকে প্ল­াজমা দিতে ভয় পান। প্ল­াজমা নিতে হয় যারা একসময় করোনায় আক্রান্ত হয়ে পরবর্তীতে সুস্থ হয়েছেন, এমন মানুষদের। তাও আবার করোনা থেকে সেরে ওঠার ১৫/২০ দিন পর শরীর থেকে প্ল­াজমা নিতে হয়। অনেকেই প্ল­াজমা দিতে চান না। অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে আমাদের প্লাজমা নিতে হয়। কাজটা আসলে কঠিন। তবে কঠিনেরে ভয় পেলে চলবে না, ভয়কে জয় করতে হবে। তাই আপনারা যারা এই করোনাকালীন সময়ে আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত থেকে আরাভি ফাউন্ডেশনের হিরো অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন, তাদের সবাইকে আমি পুলিশ ব্লাড ব্যাংক এবং আমার পক্ষ হতে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আপনাদের কর্মতৎপরতায় ও কর্মকুশলতায় আর্ত-মানবতার জয়গান রচিত হোক।

বিশিষ্ট শিল্পপতি ও লিও ক্লাবস চেয়ারপার্সন লায়ন নবীন চন্দ্র রায়

লায়ন নবীন চন্দ্র রায় বলেন, কিছুদিন আগে বিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ের চেয়ারম্যান বলেছেন, চলুন আমরা স্ত্রী এবং সন্তান ছাড়া পুরো পৃথিবীকেই বদলে দিই। আমি মনে প্রাণে কথাটি বিশ্বাস করি। কেননা, স্ত্রী এবং সন্তানকে বদলানো খুবই মুশকিল। কিন্তু পুরো পৃথিবীকেই বদলানো সহজ। কারণ, আমি যদি আমার পরিচয় আপনাদের দিই, তাহলে আপনারা সত্যি সত্যি খুব চমকে যাবেন। আমি প্রথম জীবনে মাত্র দুই হাজার টাকা বেতনের হোটেলবয় ছিলাম। এখন আমি মাসে এককোটি টাকা বেতন দিই। গার্মেন্টস রপ্তানি প্রতিষ্ঠানসহ আমি বর্তমানে বৃহৎ চারটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। সাতশো`রও বেশি স্টাফ আমার প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। আমরা লায়নরা সেবাধর্মে বিশ্বাস করি। সেবাই আমাদের ধর্ম। আমরা দুঃস্থ অসহায় আর্ত-মানবতার সেবায় কাজ করি। লায়নরা চক্ষুসেবাকে সবচেয়ে বড় সেবা বলে মনে করে। আমি একজন লায়ন হিসেবে মনে করি, চক্ষুসেবা বড়ো সেবা, সবচেয়ে বড়ো সেবা। সেকারণে আমি আমার এলাকায় এই করোনাকালে ৫০০ দুঃস্থ অসহায় আর্তমানুষকে চক্ষুসেবা দিয়েছি, চশমা প্রদান করেছি। সেখানে দেখলাম, মানুষ কত অসহায়। চোখের ডাক্তার দেখাতে পারেনা সামান্য কিছু টাকার অভাবে। তার চোখের কী সমস্যা, তাও সে জানেনা, বলতে পারে না। আমরা যখন তাকে চোখের ডাক্তার দেখাচ্ছি, তখন সে সামনে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। সে মনে করছে, সে ঠিক আছে। এভাবে আমরা শত শত চক্ষু রোগীর চিকিৎসাসেবা দিয়েছি। আমি মনে করি, যেহেতু সেবাই আমাদের ধর্ম, আর আপনারাও মানুষের সেবা করেন; কাজেই আমাকে যদি আপনাদের কোনো কাজে লাগে, কোনো সাহায্য-সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, তাহলে নির্দ্বিধায় আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। আমি অবশ্যই আমার সাধ্যমতো সহযোগিতা করবো।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের পরিচালক ও ক্যামব্রিয়ান কলেজ চট্টগ্রাম শাখার প্রিন্সিপাল মাহবুব হাসান লিংকন

মাহবুব হাসান লিংকন বলেন, আজকে যারা করোনাকালীন আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছেন, তারা বয়সে নবীন, কিন্তু মনে তাদের অদম্য সাহস ও মনোবল। তাদের নিজস্ব কোনো আয় নেই, কিন্তু আছে প্রচন্ড ইচ্ছেশক্তি। আর এই ইচ্ছেশক্তিই তাদের পথ চলার পাথেয় ও অনুপ্রেরণা। তারাই ভবিষ্যতে এদেশের হাল ধরবেন। আজ তাদের এই সোসাইটির প্রতি যে কনট্রিবিউশন, এটা একটা বিশাল ব্যাপার। সেবা বিভিন্নভাবে হতে পারে। প্লে­ন থেকে যদি আমরা লক্ষ লক্ষ টাকা ছড়িয়ে দিই, সেটা কিন্তু সেবা কিংবা দান কোনোটাই হবে না। কেননা, সেটা কারো হাতে দেয়া হয়নি। সেবা কিংবা দানের জন্য গ্রহণকারীর প্রয়োজন আছে। টাকা রাস্তায় ফেলে গেলে সেটা সেবা কিংবা দান হয় না। দান করার, আর্তমানবতার সেবা করার জন্য আপনাদের মহৎ এই মানসিকতা অবশ্যই অভিনন্দনযোগ্য। যে সময়টাতে আপনারা কাজ করেছেন, সেটা ছিল করোনার এক কঠিন সময়। আপনারা জীবনের মায়া তুচ্ছ করে ঐ কঠিন সময়ে কাজ করেছেন। আপনারা কোনো প্রতিদান বা পুরস্কারের আশায় কোনো কিছু করেন নি। যা কিছু করেছেন অন্তরের তাগিদেই মানবতার সেবায় করেছেন। আবারও করোনার ঢেউ আসছে, দ্বিতীয় ঢেউ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনারা করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায়ও আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসবেন। আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের একটা বিষয় হচ্ছে, যে আরভী ফাউন্ডেশনের সম্মাননা আজ আপনারা পাচ্ছেন, এই আরভী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আমাদের ক্যামব্রিয়ানেরই শিক্ষার্থী, ডিজিটাল শিক্ষা পদ্ধতির স্বপ্নদ্রষ্টা ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন এম কে বাশার ও ভাইস চেয়ারম্যান লায়ন খন্দকার সেলিমা রওশনের গর্বিত সিংহকন্যা লিও বুশরা আরাবী। যিনি এখন ইউকে`তে পড়াশোনা করছেন। আপনাদের মতো সেও স্টুডেন্ট। পড়াশোনারত অবস্থায় আপনারা যেমন সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে, সোস্যাল কনট্রিবিউশন নিয়ে কাজ করছেন, তারও স্বপ্ন সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট ও কনট্রিবিউশন নিয়ে কাজ করা। তার একজন শিক্ষক হিসেবে আমি খুব গর্ববোধ করি। লিও বুশরা আরাবী এবং তার প্রতিষ্ঠিত এই আরভী ফাউন্ডেশনের স্বপ্নময় উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হোক, লিও বুশরা আরাবী তার পিতা ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন এম কে বাশার ও মাতা লায়ন খন্দকার সেলিমা রওশনকে অতিক্রম করে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে আরোহন করুক, মহান সৃষ্টিকর্তা আল্ল­াহর দরবারে এই প্রার্থনাই করি। সেইসাথে আপনারা যারা আজকে এই সম্মাননা গ্রহণ করছেন, আপনাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আপনাদের সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে যদি কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই সহযোগিতা দিতে ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপ সদাপ্রস্তুত। যদি আপনারা কোনো প্রোগ্রাম ঢাকায় করতে চান, তাহলে ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের এই অডিটোরিয়ামের দরজা আপনাদের জন্য সবসময়ই খোলা। আমি আপনাদের এবং আরভী ফাউন্ডেশনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।

প্রধান অতিথি ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের মহাসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. এম হেলাল বলেন- এই অডিটোরিয়ামে উপস্থিত আপনারা প্রত্যেকেই এক একজন সমৃদ্ধ ধনী মানুষ। আপনাদের মতো ধনী আর কেউ আছে বলে আমি মনে করি না। করোনা মহাদূর্যোগে মানুষের সেবা দিয়ে আরভী ফাউন্ডেশনের হিরো এওয়ার্ড লাভ করে আপনারা এখন থেকে এমন করে ভাববেন যেন আপনার ভুবনে আপনিই রাজা; নিজেকে কখনোই ছোট করে ভাববেন না। আপনারা সবাই উন্নততর বিশেষ মানুষ, সবাই হিরো; যারা এওয়ার্ড দিচ্ছেন, সেই ফাউন্ডেশনের সবাই এই হিরোদের সংগঠক তথা হিরো-লিডার। সবমিলিয়ে এখন থেকে মানুষের সেবায় তথা দেশ ও জাতির কল্যাণার্থে আমাদের সবার দায়িত্ব আরো বেড়ে গেলো।
নিজের সমাজসেবার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. হেলাল বলেন, সমাজসেবার ক্ষেত্রে আমি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহে তথা তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করেছি। ১৯৮৮ সালে ভয়াবহ বন্যা হয়। তখন আমাদের অফিস মতিঝিলে মডার্ন ম্যানসনের ১৫ তলায় ছিল। সেবারের ভয়াবহ বন্যায় আমাদের অফিসের নিচে নামলেই নৌকা; অর্থাৎ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায়ও নৌকা চলেছে। সেই বন্যায় আমরা রিলিফ ক্যাম্পেইনের উদ্যোগ নিলাম। রিলিফের জন্য দু`চারজনকে ফোন করার পরে তারা বললেন- আমরা খাবার কিনে দিচ্ছি, আমরা গার্মেন্টস-গুদাম খুলে দিচ্ছি, তোমরা কত ট্রাক কাপড় নিতে চাও, নিয়ে যাও; বন্যার্ত মানুষদের বিতরণ করে দাও। আমরা তখন মানুষের কাছ থেকে ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করে বন্যার্ত মানুষদের মাঝে বিতরণ করেছি। শুধু গেঞ্জি ও প্যান্ট পরে রাতদিন ২৪ ঘন্টা বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ করেছি। তবে ঐ বন্যার পর মতিঝিল থেকে আমাদের অফিস সরিয়ে এনেছি। বর্তমানে আমাদের অফিস বাংলাদেশ সচিবালয় ও জাতীয় প্রেসক্লাবের পার্শ্বে। আমাদের এ স্থায়ী অফিসে একটা লাইব্রেরি ও একটা সুপরিসর অডিটোরিয়াম আছে, নাম ক্যাম্পাস অডিটোরিয়াম। আমি আপনাদের এই সমাজসেবীদেরকে সেই অডিটোরিয়াম নিবেদন করে রাখছি; আপনারা ইচ্ছে করলে এইসব মানবকল্যাণকর সোস্যাল ওয়ার্কের জন্য আমাদের অডিটোরিয়াম ব্যবহার করতে পারেন।
`৮৮ এর ঐ বন্যাসহ বিভিন্ন বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস ইত্যাকার দূর্যোগে আমরা ত্রাণ সংগ্রহ ও বিতরণে দিবারাত্রী কঠোর পরিশ্রম করেছি। এমনকি আঁধার রাতে হ্যারিকেন জ্বালিয়ে সাপের কামড়ের ভয়কে তুচ্ছ করে বিপুল জলরাশির মধ্যিদিয়ে নৌকাযোগে প্রত্যন্ত অঞ্চলে দূর-দূরান্তে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আটকে থাকা মানুষ খুঁজে তাদেরকে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি এবং তাদের প্রার্থীত সহযোগিতাদান করেছি। এভাবে পটুয়াখালী, বরগুনা, কুয়াকাটা, ভোলা, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর দুর্গত অঞ্চলে আমরা বহুবার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়েছি। এইসব মানবিক কার্যক্রমে আছে অপার আনন্দ। এরূপ আনন্দ কিন্তু টাকায় হয় না, ভোগে হয় না; আনন্দ হয় ত্যাগে, আনন্দ হয় আর্ত-মানবতার সেবায় আত্মনিবেদনে। এরূপ পরিতৃপ্তি পাওয়া যায় দুর্দশাগ্রস্ত অসহায় আর্ত-মানুষদের সহায়তা দিয়ে, নিরন্ন বুভুক্ষু মানুষকে খাবার দিয়ে সহযোগিতা করে কিংবা এই কোভিডের মহামারিকালে অসহায় মানুষদের সহায়তা দিয়ে। তখন নিজের মধ্যে এক অনির্বচনীয় আনন্দ তৈরি হয়। যেই অর্জন নিয়ে, যেই সৌভাগ্যবান হয়ে আজ আপনারা এখানে এসেছেন।
ড. হেলাল বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সারাদেশের ৬৪ জেলা তন্নতন্ন করে ঘুরে বেড়িয়েছি। এমন কোনো জেলা নেই যেখানে ৮/১০ বার যাইনি। সারা দেশের প্রায় সব উপজেলায় অনেকবার ঘুরে বেড়িয়েছি। সব জেলা-উপজেলা ঘুরে ঘুরে আমাদের দেশের বিরাজিত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি। এরপর সেসব সমস্যা কীভাবে অন্য দেশগুলো সমাধান করে তারা সুউন্নত দেশরূপে স্বীকৃতি পেয়েছে, সেসব দেশ বিশেষত মেইনল্যান্ড ইউরোপের দেশগুলো বার বার ঘুরে এসে তারপর লিখেছি `বাংলাদেশ ও বিশ্ব অধ্যয়ন` শীর্ষক ৩০০ পৃষ্ঠার বই। এছাড়াও আমার লেখা আরো ২২টি বই আছে। যার মধ্যে আছে `উন্নত জাতির আধুনিক বাংলাদেশ ও অত্যাধুনিক বিশ্বের রূপরেখা`। সুদীর্ঘ গবেষণার পর আমি তৈরি করেছি বাংলাদেশ উন্নয়নের মডেল; যার নাম `বাংলাদেশের সকল সমস্যার স্থায়ী সমাধান মডেল` ইংরেজিতেও অনুবাদ করে বিদেশি দূতাবাসে দিয়েছি Total solution of all the problems of Bangladesh. আমাদের দেশের স্কুলিং ব্যবস্থায় অনেক ত্রুটি বিদ্যমান। উত্তরার শিশু-বাচ্চাকে মতিঝিল গিয়ে স্কুলে পড়তে হয়, আবার মিরপুরের বাচ্চাকে উত্তরার স্কুলে কিংবা গুলশানের বাচ্চাকে মগবাজারের স্কুলে যেতে হয়। এতে বহু সমস্যা হয়, যেমন- দুর্বিষহ যানজট, সময়-শ্রম ও অর্থের অপচয়, শ্রেণিবৈষম্য, ড্রপআউট ইত্যাদি। এসব সমস্যার সমাধানকল্পে আমি `এলাকাভিত্তিক স্কুলিং` মডেল তৈরি করে নিজ খরচে বই মুদ্রণ করে মাননীয় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সকল মন্ত্রী-এমপি-সচিব এবং স্টেকহোল্ডারদের নিকট পৌঁছিয়েছি।
পেট্রোল খরচ করে বাচ্চারা দূরের স্কুলে যায়; অথচ সেই পেট্রোল বিদেশ থেকে আসে অনেক বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে। শিশু-শিক্ষার্থীরা ধূলিবালির মধ্যিদিয়ে, ঝূকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে দূর-দূরান্তের স্কুলে গিয়ে বহুজাতীয় বৈষম্যপূর্ণ সিলেবাসে পড়াশোনা করে সমাজে শ্রেণি-বৈষম্য তৈরি করে ফেলছে। এভাবে অনেক জটিল সমস্যার বদ্ধমূল হয়ে গেছে আমাদের প্রাইমারি এডুকেশনে। যদি শিক্ষার ফাউন্ডেশনই দুর্বল থাকে, তাহলে উচ্চশিক্ষা হবে কীভাবে? জাতি এগুবে কী করে?
ড. হেলাল বলেন- আমরা আজকে যে এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, এই ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপ ডিজিটাল শিক্ষার স্বপ্নদ্রষ্টা মহান লায়ন এম কে বাশারের ব্যতিক্রমী সৃজনশীল চিন্তা ও অবদানের ঐতিহ্যে ভাস্বর। লায়ন এম কে বাশার একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। আমাদের সমাজে এরকম প্রতিভাদীপ্ত উদ্যোগী গুণীমানুষ অত্যন্ত বিরল। আজকে ক্যামব্রিয়ান যে কাজগুলো করছে, লায়ন এম কে বাশার যে উদ্যোগগুলো নিয়েছেন, সে উদ্যোগের দর্শন সত্যিই বিস্ময়কর! তিনি প্রকৃতই সুমহান ব্রতে জাতিকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে আমরা আপনারা একে অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতা নিয়ে কাজ করেই এখানে এসেছি, অ্যাওয়ার্ড নেয়ার জন্য কিন্তু আমরা কেউ কাজ করি নাই। করোনা দূর্যোগে এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিলো- আজকে যারা অ্যাওয়ার্ড দিচ্ছে, তারা নিজেরাও জানত না যে, তারা এ অ্যাওয়ার্ড দিতে পারবে। এরূপ অবস্থায় আজকে আপনারা যারা এখানে এসেছেন, তারা প্রত্যেকে হিরো। তাই আজকে আপনাদের মাঝে এখানে এসে আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছি।
তিনি বলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল লিও ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলাম আমি। সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রায়ই ছিনতাই হতো, সেফটি-সিকিউরিটির খুব সমস্যা ছিল। প্রায় রাতেই ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মানুষ আহত-রক্তাক্ত হতো, স্পটডেড হওয়ার ঘটনাও আছে। এমনকি কাছাকাছি সময়ে মেডিকেলের পাশে, জগন্নাথ হলের সামনে ভোর রাতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের যুগ্মসচিব নিকুঞ্জ বিহারী নাথ। আমার নিজের হাতঘড়ি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে, যদিও আবার সেই ঘড়ি ফেরতও দিয়ে গেছে। শুধু ছিনতাইকৃত ঘড়িই নয়, আমার টাকা ছিনতাই করে আবার ফেরত দিয়ে গেছে। তাই ঐ সময়ে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আমরা নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা দেয়ার জন্য আমরা ছাত্র বিগ্রেড গঠন করলাম। বিভিন্ন টিমে সারারাত নিরাপত্তা ডিউটি করতাম। এমনকি সাধারণ ছাত্ররা তখন আমাদের সাথে যোগ দিয়েছিল। তারা লিও ছিল না, কিন্তু তারা আমাদের কাজকে পছন্দ করেছিল।
এভাবে সমাজসেবায়, মানুষের সেবায় কাজ করার আনন্দ সঞ্চয়ন ও সৃজনশীলতা অর্জনের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করে ড. হেলাল বলেন- আপনি যখন অন্যকে সাহায্য করবেন, তখন আপনার সব সমস্যা কেটে যাবে। নিজের মধ্যে সাহায্য করার মানসিকতা তৈরি করবেন, আপনার সমস্যাও অটোমেটিক দূর হয়ে যাবে। মানুষকে সাহায্যদান করে এখানে আসার পর আজকেই কতগুলো আশ্বাস পেয়েছেন। ক্যামব্রিয়ান কলেজের প্রিন্সিপাল মাহবুব হাসান লিংকন সাহেব আপনাদেরকে সাহায্যদানের কথা বলেছেন। পুলিশকে আমরা অনেক সময় নেগেটিভ এটিচিউডে দেখি। কিন্তু আজকে পুলিশ ব্ল­াড ব্যাংকের ইনচার্জ সিদ্দিকুল ইসলাম সাহেব আপনাদের সহযোগিতা করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। লিও ক্লাবের চেয়ারপার্সন লায়ন নবীন চন্দ্র রায় একজন উদার হৃদয়ের মহৎপ্রাণ মানুষ। তিনিও বলেছেন, আপনাদের সহযোগিতা করবেন। আমি নিশ্চিত যে, আপনারাও একজন আরেকজনকে সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত আছেন। তাই এই অডিটোরিয়ামে আজকে যারা উপস্থিত আছেন, তাদের সবার মধ্যে একটি কমন মানসিকতা কাজ করে, একটি উন্নত মানসিকতা কাজ করে যে, সবাই সুপেরিয়র হিউম্যান বিং।
সুপেরিয়র হিউম্যান বিং হতে `মন` এবং `হুঁশ` থাকতে হবে। `মন` এবং `হুঁশ` তথা মান+হুঁশ ছাড়া সত্যিকারের মানুষ হওয়া যায় না। যখন আপনার মনের ভেতর থেকে সাহায্য করার মানসিকতা তৈরি হয় এবং অন্যদেরকে সাহায্য করেন, তখন আপনাদের মনের মধ্যে অটোমেটিক্যালি একটা আনন্দ তৈরি হয়। এটা সায়েন্সের কথা। একটা উদাহরণ দিয়ে বলি। মনে করুন, আমাদের সবার কাছে একটা করে রেডিও আছে। যখন আগারগাঁও রেডিও স্টেশন অন হয়, তখন আমাদের রেডিও যদি আমরা অন না করি, তাহলে কি রেডিও বাজবে? বাজবে না। অথচ আগারগাঁও স্টেশনে কিন্তু রেডিও বেজে যাচ্ছেই। ঠিক তেমনি আপনি যখন অন্যকে সাহায্য করছেন এবং সাহায্য করার কল্যাণ চিন্তা করছেন, তখন অন্যের সাহায্য হোক বা না হোক, আপনার কল্যাণ-চিন্তার আলোয় আপনার মঙ্গল, আপনার সাহায্য কিন্তু ঠিকই হয়ে যায়। কীভাবে এটা হয়? অন্যকে সাহায্য করলে আপনার ব্রেনে যে নিউরন তৈরি হয়, সেই নিউরনে আনন্দের অনুভূতি, সৃজনশীলতা ও ব্যক্তি-সক্ষমতা বেড়ে যায়। ড. হেলাল বলেন- ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে, লাইফ ইজ নাথিং, বাট সলিউশন অফ প্রবলেমস। আমাদের জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে প্রবলেম থাকে। আমরা প্রতিক্ষণ নানা ধরনের প্রবলেম ফেস করছি। প্রবলেম সলিউশনের ক্ষেত্রে আরেকজনকে সাহায্য করার জন্য আনন্দ তৈরির ফলে ব্রেনের নিউরনের মধ্যে যে সৃজনশীলতা তৈরি হয়, সেটা দিয়ে প্রবলেম সলভ করা সহজ হয়ে যায়। প্রার্থনা এবং মেডিটেশন দিয়ে অনেক প্রবলেম সলভ করা যায়।
বিপদে পড়লে পজিটিভ রেফারেন্সগুলোকে সামনে এনে প্রার্থনা করতে হয়। তাহলে প্রার্থনা খুব কার্যকরী হয়। ঐ প্রার্থনায় এভাবে দাবি করার মতো নিজকে যোগ্য করে রাখতে হবে- প্রভু, আমি এই এই ভালো কাজ করেছি, করোনা মহাদূর্যোগে মানুষকে এই এই সাহায্য করেছি। এভাবে আপনার ভালো কাজগুলোর রেফারেন্সে যদি সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন, তাহলে আপনার ভালো হবেই হবে। আর পৃথিবী থেকে নিয়ে গেলেও আল্ল­াহ আপনাকে জান্নাতবাসী করবেন ইনশাআল্লাহ। তাই আমরা সবসময় ভালো কাজ করব। এওয়ার্ড পাই বা না পাই, ভালো কাজ আমরা সবসময় করতেই থাকব। আপনারা যখন আরভী ফাউন্ডেশনের হিরো অ্যাওয়ার্ড নিতে এসেছেন, তখন কনফার্ম করে যাবেন যে- আপনাদের এই মানবসেবার কাজ অব্যাহত রাখবেন। কোনোভাবেই এখান থেকে বিচ্যুত হবেন না। ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপ, বিজয় এবং আরভী ফাউন্ডেশন যেসব মানবকল্যাণ ও শিক্ষা-সেবাধর্মী কাজ করছে এবং আজকে যে হিরো অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে, সেজন্য আপনারা তাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মানবতার সেবায় আরো ব্যাপকভাবে কাজ করে যাবেন।
ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপ, বিজয় এবং আরভী ফাউন্ডেশন আজ মানবিকতার সহযোগিতায় কত বেশি প্রোজ্জ্বল, আমরাও তাদের মতো প্রোজ্জ্বল হবো। আজকে আরভী ফাউন্ডেশন হিরো অ্যাওয়ার্ড দিয়ে যেভাবে দায়িত্ব ইম্পোজ করে আমাদের সবাইকে সম্মানিত করেছে, আমরা তার মর্যাদা রাখব। আমরা আরও বেশি কাজ করব মানবতার সেবায়। তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রত্যেকের ব্রেনের `অরা` লেভেল আছে। আমাদের মাথার চারিদিকে সেই `অরা` লেভেল কাজ করে। আগে মোবাইলে অ্যান্টেনা থাকত, এখন কিন্তু সেটা হিডেন থাকে। আমাদের মাথার চারিদিকেও সেরকম `অরা` লেভেলের হিডেন এন্টেনা আছে। আমরা সবাই সবার জন্য সেই `অরা` লেভেল থেকে উইশ করে যাবো। সবাই সবাইকে সমন্বিতভাবে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাবো। আমরা সবাই মিলে যখন একযোগে কাজ করব, তখন সকলের সম্মিলিত আলোয় সারাদেশ উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। আমরা সবাই যখন সমন্বিত প্রদীপ জ্বালাবো সমাজে, সমাজ তখন দ্রুত আলোকিত হবে। আমাদের কারুর একার পক্ষে সমাজকে আলোকিত করা সম্ভব নয়, আমরা যত পাওয়ারফুলই হই না কেন। ড. হেলাল বলেন- আমি অবাক হয়ে যাই, লায়ন এম কে বাশার সাহেব সবসময় কালো পোশাক পরেন দেখে। বিস্ময়কর মানুষ এই লায়ন এম কে বাশার! তিনি ঘোষণা করেছেন যে, যতদিন বাংলাদেশ নিরক্ষরমুক্ত না হবে, ততদিন আমি কালো পোশাক পরিধান করব এবং ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের সকলেই কালো পোশাক পরিধান করবে। লায়ন বাশারের এই ঘোষণা একটি দৃপ্ত ঘোষণা, সুদূরপ্রসারী মহৎ ঘোষণা। লায়ন বাশারের মতো মহৎপ্রাণ মহান মানুষ এদেশে আর কয়জন আছে! আমরা এ অডিটোরিয়ামের সবাই যদি লায়ন বাশারের মতো মহৎ হৃদয়ের উদারপ্রাণ মানুষ হতে পারি, আমরা যদি এখান থেকে অন্তত দশজন লায়ন বাশার হতে পারি, তাহলে আমাদের কল্যাণ-কর্মের আলোয় সারাদেশে আরো শতশত লায়ন বাশার তৈরি হবে, আর সারাদেশে যদি এরকম শতশত লায়ন বাশার তৈরি হয়, তাহলে বাংলাদেশ সুউন্নত না হয়ে পারে না। ঐরূপ শতশত লায়ন বাশারের কল্যাণমূলক কাজের মধ্যিদিয়ে বাংলাদেশ সুউন্নত হবেই হবে। এই অডিটোরিয়াম, এই উদ্যোগ আজ প্রমাণ করে দিয়েছে ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন বাশারের উদ্যোগ কত মহৎ ও সুদূরপ্রসারী। লায়ন বাশারদের মতো মানুষদের হাত ধরেই এদেশ একদিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ।
ড. হেলাল বলেন, আমরা সকলেই এক একটি আলোর বাতি। আমাদের একার আলো হয়তো সীমিত হতে পারে, কিন্তু আমাদের সকলের সম্মিলিত আলো অনেক অনেক বেশি। তাই সকলের সম্মিলিত আলো দিয়েই মানবতার সেবা বিস্তৃত করতে হবে। তবেই বৃহত্তর মানবতার কল্যাণ সাধন করা সম্ভব হবে। লায়ন বাশারতো চান যে, আজকে এই মুহূর্তেই বাংলাদেশ পুরোপুরি নিরক্ষরমুক্ত হয়ে যাক। আর সেই জেদেই তিনি আজও কালো পোশাক পরিধান করে যাচ্ছেন এবং ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের সকলকে কালো পোশাক পরিধান করাচ্ছেন। তারপরও দেশ কেন নিরক্ষরমুক্ত হচ্ছে না? কারণ হচ্ছে আমরা সকলে একত্রিত নই, বাংলাদেশকে পুরোপুরি নিরক্ষরমুক্ত করতে হলে আমাদের সবাইকে একত্রিত হতে হবে। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে বাংলাদেশকে পুরোপুরি নিরক্ষরমুক্ত করা সম্ভব। টহরঃবফ বি ৎরংব, উরারফবফ বি ভধষষ. তাই আসুন, আমরা সকলে সম্মিলিত হই এবং পুরোপুরি নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলি। নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদেরকে অবশ্যই সম্মিলিতভাবে সুসংগঠিত হতে হবে এবং লায়ন বাশার এর চিন্তা ও দর্শনকে বাস্তবায়ন করতে হবে। মনে রাখবেন, সাহায্য করার জন্য বিত্তের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন হয় চিত্তের। বিত্তের চেয়ে চিত্তের ক্ষমতা ও শক্তি অনেক বড়। বিত্তের চেয়ে চিত্তের গুরুত্বের বিষয়ে ছোটবেলায় দেখা আমার এলাকার একটি ছেলের কথা বলব; যার কোনো বিত্ত ছিল না, কিন্তু তার চিত্ত ছিল ফসলের মাঠের মতো উদার আর চিন্তা ছিল আকাশের মতো বিশাল। যদিও সে নিজেই ছিল খুবই দুঃস্থ-অসহায়, তবুও সর্বদাই সে মানুষকে সাহায্য করায় লেগে থাকতো। এমনকি প্রত্যেক জুম্মার দিনে নামাজের শুরুতে বয়স্ক মুরুব্বিদেরকে জায়নামাজ বিছিয়ে দিত, নামাজের শেষে সে নিজের জামার কোঁচড়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে সেই টাকা মসজিদ ফান্ডে এবং মসজিদে থাকা এতিমদের ফান্ডে আমাদের সামনেই জমা দিয়ে দিত। তার এসব কার্যক্রম প্রমাণ করে যে- মানুষকে সাহায্য করার ইচ্ছা থাকলে যেকোনোভাবেই সাহায্য করা যায় এবং অর্থবিত্তের সক্ষমতা ছাড়াও করা যায়।
আজকে যারা আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি, আমাদের বিত্ত না থাকলেও চিত্ত এবং সুউন্নত মানবিক মূল্যবোধ ও চেতনা যে আছে, একথা সুনিশ্চিতভাবে সত্য। আপনারা শতশত প্রতিষ্ঠানের সাথে কম্পিটিশনের মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে এখানে আরাভি ফাউন্ডেশনের `হিরো এওয়ার্ড` নিতে এসেছেন। অর্থাৎ আপনাদের সাহায্য করার মানসিকতা অনেক অনেক পরীক্ষিত এবং নিরীক্ষিত। তাই আগামীতেও আপনারা অনেক বেশি সাহস রাখবেন চিন্তায় ও মননে এবং আরো বেশি প্রসারিত করবেন আপন চিত্তকে। মানবতার সেবায় নিজেকে আরো বেশি বেশি করে উৎসর্গ করবেন। তাহলেই আরাভি ফাউন্ডেশনের এই হিরো এওয়ার্ড দেয়ার সার্থকতা হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হল ছাত্রসংসদে নির্বাচিত হবার পর আমি সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে `দিনবদলের পালা` নামে একটা পত্রিকা বের করলাম। সেইরূপ দিনবদলের কথা আজকে এখানে কয়েকজন বলেছেন। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে এখনই দিনবদল করা সম্ভব। একটি সুউন্নত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। কেননা, আমাদের আছে জনশক্তি, ২০ কোটি মানুষের ২০ কোটি ব্রেন, ৪০ কোটি হাত। আমাদের দেশের মানুষ অনেক সক্ষম ও শক্তিশালী। এজন্যই কোভিড আমাদের বেশি কাবু করতে পারেনি, আমাদের হতাহতের সংখ্যা খুবই কম পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায়। তাছাড়া যারা আরেকজনকে সাহায্য করে না, তাদের কোভিড হয় বেশি; আর যারা অন্যকে সাহায্য করে, তাদের কোভিড হয় কম। আপনারা আমার চেয়ে নিশ্চয়ই ভালো জানেন যে, কোভিড থেকে বাঁচতে উন্নত বিশ্বের ধনী বিত্তবান মানুষ বাসাবাড়ি ছেড়ে পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। তারা কোভিডের হাত থেকে বাঁচতে পারেনি। কেন তাদের কোভিড হয়েছে, সেটা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে।
আমার ঘনিষ্ট এক আত্মীয়ার করোনা হয়েছিল। ঐ অসহায় অবস্থায় যখন তিনি তার মেয়েকে বললেন- আমার বুকে খুব কষ্ট হচ্ছে, তুই আমাকে বুকে জড়িয়ে ধর। তখন মেয়ে আইসিইউ`র বেডে উঠে মাকে জড়িয়ে ধরে সারারাত রোগীর শরীরে হাত বুলিয়েছে। সকালবেলা মা ইন্তেকাল করেন। সবাই এসে মেয়েকে ধমকাচ্ছিলো এই বলে যে- তুমি তাকে জড়িয়ে ধরেছ, এখনতো তোমারও করোনা হবে। তখন মেয়ে বলেছে, আমার করোনা হলে হবে। আমার মা মৃত্যুর পূর্বে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরতে বলেছেন, তাই আমি বুকে জড়িয়ে ধরেছি। ঐ মেয়ের বুকের বারান্দা এতই বিশাল যে, তার মা`র কবর না হওয়া পর্যন্ত সে সেখানে ছিল। তারপর বাসায় ফিরে এসে তার স্বামী-সন্তানদের বলেছে, তোমরা আমার কাছে এসো না, আমি আলাদা থাকবো। ১৪ দিন তার কোনোরূপ অসুস্থতার কোনো লক্ষণই ছিল না। সেজন্য আপনাদের আমি বলব, আপনারা কখনো ভয় পাবেন না। সবসময় মনে রাখবেন- বনের বাঘে খায় না, মনের বাঘে খায়।
আমরা সবাই ধৈর্য্য ও সাহস নিয়ে কাজ করব, কনফিডেন্স নিয়ে চলবো, মানুষকে সাহায্য করতেই থাকবো। তাহলে আল্ল­াহর কাছে আমরা বলতে পারবো যে- আমরা মানুষকে সাহায্য করি, আমরা মানবতার কাজ করি, আমাদেরকে আপনি সাহায্য করুন। আর করোনা আক্রান্তে আল্লাহ না করুক আপনি যদি মারাও যান, তাহলেও আপনি ইনশাআল্লাহ জান্নাতবাসী হবেন। মানবতার কল্যাণে আমরা সবাই সবাইকে সহযোগিতা করব -এই আশাবাদ ব্যক্ত করে নিরক্ষরমুক্ত, সুউন্নত, মানবিক ও প্রাণবিক স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার সত্য-সুন্দর-মঙ্গল পথে উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি। শুভ হোক সকল মঙ্গল প্রয়াস।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ