বিশেষ খবর

ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ব্যতিক্রমধর্মী ওয়ার্কশপ

ক্যাম্পাস ডেস্ক ক্যাম্পাস’র অনুষ্ঠান
img

বনবাদাড় আর গুহাজীবন থেকে বেরিয়ে এসে প্রাচীনকালেই মানুষ গড়ে তুলেছে নগর সভ্যতা, যা মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে পরবর্তী যুগের মানুষরা আবিষ্কার করে চলেছে। গৃহাঙ্গন বা আপন আঙ্গিনা মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। সভ্যতার সব স্তরে গৃহবাসকে মানুষ দিয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। কবি বলেছেন
বহুদিন মনে ছিল আশা
ধরণির এক কোণে রহিব আপন মনে
ধন নয়, মান নয়, এতটুকু বাসা;
মনে ছিল আশা।

তবে যুগের বিবর্তনে ইট-কাঠ-পাথরের তৈরি প্রচলিত গৃহ অনেক ক্ষেত্রেই পরিবেশকে করছে বিপর্যস্ত; আবার ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধ্বংস ও বিপর্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। তাই ভূমিকম্পে টেকসই পরিবেশবান্ধব গৃহায়ন প্রযুক্তি নিয়ে চলছে নানা গবেষণা।
জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং আলোকিত জাতি গঠনে নিবেদিত প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা মাল্টিডায়মেনশনাল নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ মার্চ ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমধর্মী এক ওয়ার্কশপ। ওয়ার্কশপের বিষয় ছিল ভূমিকম্প সম্পর্কে সচেতনতা ঃ টেকসই পরিবেশবান্ধব গৃহায়ন।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং সিএসডিসি’র মহাসচিব এম হেলালের সঞ্চালনায় উক্ত সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন ব্রিটিশ স্থপতি ইলিওনা আউটর‌্যাম খালিলী; এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট (এইচবিআরআই) এর পরিচালক স্থপতি মোঃ আবু সাদেক; বিশ্ব পারিবারিক ভালোবাসা আন্দোলনের অগ্রসেনানী তাজকেরা খায়ের; ক্যাম্পাস’র অনারারী রিসার্চ ডিরেক্টর, প্রতিশ্রুতিশীল অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ; বোরাক রিয়েল এস্টেটের পরিচালক মোঃ এনামুল হক; লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ স্থপতি নিউ আর্থ-ইউকে এর পরিচালক আকতানিন খায়ের তানিন।
ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারী আলোচকদের আলোচনার অংশবিশেষ নিম্নে তুলে ধরা হলো।

ব্রিটিশ আর্কিটেক্ট ইলিওনা আউটর‌্যাম খালিলী
স্থপতি ইলিওনা খালিলী একবিংশ শতাব্দীর Eco-Village Design সম্পর্কে ধারণা দেন। তিনি বলেন এ শতাব্দীতে বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে বৈশ্বিক সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, লক্ষ লক্ষ মানুষের গৃহহারা অবস্থা, ভূমিকম্প, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঝড়ঝঞ্ঝা, অগ্নিদহন ইত্যাদি। এজন্য স্থপতিগণ নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে এগিয়ে এসেছেন। তিনি আরও বলেন Sustainability begins with a person. আমরা সিরামিক হাউজ নির্মাণ করেছি, যা Sustainabte wealth হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। স্থপতি ইলিওনা বলেন, স্যান্ডব্যাগ ও বারব্ড ওয়্যার দিয়ে যে Dome-shaped গৃহ নির্মিত হয়, তা টেকসই প্রযুক্তি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ফার্সি কবি রুমির কবিতার মর্মকথা তুলে ধরে বলেন Earth turns gold in the hand of wise. এ পদ্ধতিতে নির্মিত প্রতিটি বাড়িই একটি প্রাকৃতিক স্নিগ্ধ পরিবেশ সৃষ্টি করে। স্থপতি ইলিওনা খালিলী বলেন, চীনে এ পদ্ধতিতে নির্মিত গৃহ নিয়ে গড়ে উঠেছে হাক্কা কালচার। ৪০টি পরিবারকে সিঙ্গেল ইউনিটে একত্রিত করা হয়। এর চারিদিকে সুউচ্চ দেয়াল নির্মিত হয়।
ইলিওনা খালিলী বলেন বিশ্বখ্যাত স্থপতি, আমার স্বামী মরহুম নাবেদ খালিলীর শিক্ষা হলো People can start building their house in their own way’. তিনি বলেন, Natural disasters are human made, but blamed on Nature. তাঁর লক্ষ্য হলো A sustainable solution on human shelter. স্থপতি নাবেদ খালিলীর কথা, ‘Every man and woman is a doctor and a builder to heal and shelter themselves’. আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।
স্থপতি ইলিওনা বলেন, নতুন প্রযুক্তির গৃহায়নে মাধ্যাকর্ষণের সাথে ন্যাচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর Harmony গড়ে তোলা হয়। Reality  এবং ইমাজিনেশনের মধ্যে সামঞ্জস্যের দিকে লক্ষ্য রাখা হয়। আমরা বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির দিকে বিশেষ লক্ষ্য দিয়ে থাকি। বাংলাদেশ ও ভারতে ভবনের ছাদ নির্মাণের ক্ষেত্রে আমরা স্থানীয় ট্রাডিশনের গুরুত্ব দিই।
স্বপ্নচারী স্থপতি ইলিওনা বলেন আপনারা যে মাটি দিয়েই বাড়ি বানান না, তাতে আপনাদের রুচি থাকবে, ডিজাইন যে রকম হোক না কেন। মহাকবি রুমি বলেছেন, Home is where hearts is’
বালির বস্তা, তারকাটা এবং মাটি দিয়ে বাড়ি নির্মাণের বিভিন্ন কৌশল এবং এর স্থায়িত্ব সম্পর্কে ইলিওনা খালিলী ধারণা দেন।

সৃজনশীল স্থপতি মোঃ আবু সাদেক
বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (HBRI) এর সুযোগ্য পরিচালক এবং প্রতিভাবান স্থপতি মোঃ আবু সাদেক বলেন আমাদের গবেষণার মাধ্যমে যেসব বাড়ি নির্মিত হচ্ছে, কোনো বড় ধরনের ভূমিকম্পের ফলে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, ক্ষতি হবে না বসবাসকারীদের। এভাবে সচেতনতা অবলম্বন করে মানবজাতির পক্ষে মানবসভ্যতার বড় শত্রু ভূমিকম্পের মোকাবেলা করা সম্ভব। তিনি বলেন আমরা প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে এক ধরনের হাউজিং করেছি, যেখানে বছরের ছয় মাসই এগুলো পানিবেষ্টিত থাকে। এসব এলাকায় লো-কস্ট, ইকো-ফ্রেন্ডলী হাউজিং তৈরি করা হয়েছে। এ প্রযুক্তি অন্যদেরও জানা প্রয়োজন।
ইঞ্জিনিয়ার আবু সাদেক বলেন আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ইলিওনা খালিলীর স্বামী আর্কিট্যাক্ট নাবেদ খালিলী একজন বিশ্বখ্যাত স্থপতি, যিনি গরিব মানুষের হাউজিং নিয়ে অনেক গবেষণা করেছেন; যে গবেষণা থেকে বিশ্ব, বিশেষ করে অনুন্নত বিশ্বের মানুষ অনেক উপকৃত হয়েছে। নাবেদ খালিলী আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলেও তাঁর আবিষ্কৃত গৃহনির্মাণ টেকনিক স্থপতি ইলিওনার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রচার পাচ্ছে।
তিনি বলেন সিমেন্ট ও এলুমিনিয়াম পাউডার মিশ্রিত কনক্রিট ব্রিক পরিবেশ দুষণ করছে, নষ্ট করছে কৃষিজমি। আমরা কত নির্বোধ; আমাদের জন্মভূমির মাটি পুড়িয়ে ইট বানিয়ে বিদেশে রপ্তানি করছি। এভাবে চললে ২০৪১ সালে মানুষের খাদ্য যোগাড় করা কঠিন হবে। কাজেই বিষয়টা হাইলি এলার্মিং! বিদেশি অতিথিদের লক্ষ্য করে তিনি বলেন, আপনারা একটি মহান উদ্দেশ্যের এ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করবেন। কৃষিজমি নষ্ট করে যেন বাড়ি বানানো না হয়, ফসলি জমি নষ্ট করে কেউ যেন বসবাসের চিন্তা না করে এ চেতনাই আপনারা জাগিয়ে যাবেন।
ইঞ্জিনিয়ার আবু সাদেক তাঁর সংস্থার কার্যক্রম সংক্ষেপে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট গৃহায়ন ও ভবন নির্মাণ নিয়ে গবেষণা করে। আমরা কম খরচে গৃহনির্মাণ করে গণমানুষের চাহিদা পূরণ করে চলেছি। আমরা গ্রামে ৪তলা ভবন নির্মাণ করব, যাতে অল্প জমিতে বেশি মানুষ থাকতে পারে। বগুড়ায় আমাদের একটা প্রজেক্ট কমপ্লিট হয়েছে। পুরো গ্রামের মানুষকে এই ভবনগুলোতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এতে কৃষিজমি রক্ষা পাবে, বসবাসের কাজে এতদিন ব্যবহৃত কৃষিজমি পুনরুদ্ধার হবে। আমরা সুন্দরবনের গোলপাতা রক্ষার ব্যবস্থা করেছি। এইচবিআরআই এর উদ্যোগে উপকূলীয় এলাকায় ৬ তলা ভবন নির্মিত হবে। বাড়িগুলো এমনভাবে নির্মিত হবে যেন নদী ভাঙন শুরু হলে এগুলোকে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়। পদ্মার ওপারে শরীয়তপুরে ভাসমান স্কুল নির্মিত হবে, বন্যার সময় শিক্ষার্থীর পড়ালেখা যাতে ব্যাহত না হয়। জলোচ্ছ্বাসের সময় এসব ভবন টিকে থাকবে।

অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ
ক্যাম্পাস’র অনারারী রিসার্চ ডিরেক্টর, অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন স্থপতি ইলিওনা খালিলীর গৃহায়ন প্রযুক্তি বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় কিংবা চরাঞ্চলে স্বল্পব্যয়ে টেকসই গৃহ নির্মাণে মানুষকে উৎসাহিত করবে, বাংলাদেশের মানুষ এতে উপকৃত হবে।  কারণ এসব অঞ্চলে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় প্রতিবছরই দরিদ্র মানুষকে গৃহ নির্মাণ বা মেরামতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। গ্রামাঞ্চলে স্বল্পখরচে টেকসই গৃহ নির্মাণের মাধ্যমে পরিকল্পিত গৃহায়ন সম্ভব হবে বলে আজকের আয়োজক প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাস পরিবার আশাবাদী। ইলিওনা খালিলীর নেতৃত্বে তাঁর প্রযুক্তি-সহযোগীরা বাংলাদেশের মানুষের মনে টেকসই পরিবেশ-বান্ধব গৃহায়নের স্বপ্ন জাগিয়ে তুলছেন। কল্যাণকর এই কর্মসূচির জন্য তাঁদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক জনাব এম হেলাল তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণায় বাংলাদেশের সকল সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ইউনিয়নভিত্তিক উন্নয়নের অত্যাধুনিক মডেল প্রণয়ন এবং বই আকারে প্রকাশ করে তা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীবর্গের কার্যালয়সহ সকল স্টেকহোল্ডারদেরকে পাঠিয়েছেন। আমরা আশা করব, এ মডেল বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে অত্যাধুনিক করে গড়ে তোলার উদ্যোগ অচিরেই গ্রহণ করা হবে।

এনামুল হক
বোরাক রিয়েল এস্টেটের পরিচালক এনামুল হক বলেন, স্থপতি ইলিওনা খালিলী গৃহায়নে যে প্রযুক্তির কথা বলেছেন, টেকসই গৃহায়নে আমাদের জন্যও তা সহায়ক হবে। তিনি এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বল্পখরচে টেকসই গৃহায়ন প্রযুক্তির ব্যবহার করে নিম্নবিত্তের জন্য গৃহ নির্মাণে রিয়েল এস্টেট সেক্টর সক্ষম হবে বলে বিশ্বাস।
আকতানিন খায়ের তানিন
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণী নিউ আর্থ-ইউকে এর পরিচালক আকতানিন খায়ের প্রধান অতিথির পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আর্কিটেক্ট ইলিওনা আউটর‌্যাম খালিলী মাটি  নিয়ে কাজ করেন। তিনি একজন মাটির মানুষ। আমাদের দেশে এসেছেন মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য। ব্রিটেন-আমেরিকায় বাড়ি নির্মাণে স্যান্ড ব্যাগ ব্যবহার করা হয়, আমরা ব্যবহার করি মাটির ব্যাগ। আমাদের সাথে রয়েছে কয়েকজন তরুণকর্মী। আমরা এ নতুন প্রযুক্তিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়ে যাই। এ প্রযুক্তির প্রাণ আর্কিটেক্ট ইলিওনা খালিলী আজ এখানে উপস্থিত। তাঁর স্বামী নাবেদ খালিলীর সাথে পরিচয়ের সুবাদে ইলিওনার জীবনধারাই পাল্টে যায়।
ইলিওনা আউটর‌্যাম খালিলী বাংলাদেশ, বাংলাভাষা এবং বাঙালিদের ভালোবাসেন। তিনি নিজ থেকে আমাদের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে এসেছেন। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুল গীতি, লালনের গান তাঁর প্রিয়। লালনের গান ‘বাড়ির পাশে আরশীনগর’ গানটি তাঁর খুব প্রিয়, গুন গুন করে গেয়ে থাকেন।

এম হেলাল
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক এম হেলাল বলেন, আজকের বিশেষ সেমিনারে ইরানীয়ান-আমেরিকান স্থপতি ইলিওনা খালিলী এবং বাংলাদেশি প্রকৌশলী HBRI এর পরিচালক এম আবু সাদেক মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করে দর্শক ও শ্রোতাদের উজ্জীবিত করেছেন। তাঁরা আমাদের সামনে নতুন আবাসনের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। অবশ্য সেটি শুধু স্বপ্ন নয়, এর বাস্তবরূপ দিচ্ছেন স্থপতিগণ। আমরা গৃহায়নের নতুন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করে তুলব।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাস মাল্টি ডায়মেনশনাল কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে চলেছে। আজকের বিশেষ সেমিনার আমাদেরকে সমৃদ্ধ করবে। ক্যাম্পাস’র গবেষণায় বাংলাদেশের সকল সমস্যার সমাধানে ইউনিয়নভিত্তিক উন্নয়নের অত্যাধুনিক মডেল উপস্থাপন করা হয়েছে; যার সাথে Earthbag Shelter পলিসি বিবেচনায় নিয়ে টেকসই, পরিবেশ-বান্ধব গৃহায়নের উদ্যোগ নিতে পারেন সরকার।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ