বিশেষ খবর

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি কমানোর চিন্তা

ক্যাম্পাস ডেস্ক শিক্ষা সংবাদ
img

শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই হরতাল-অবরোধের মুখে পড়ে বিপর্যস্ত হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্লাস ঠিকমতো হতে পারেনি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দুটি পাবলিক পরীক্ষা। এসএসসি’র কারণেও বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস হতে পারছে না। ওই সব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে।
আগামী ১ এপ্রিল থেকে আবার শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা। চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। সব মিলিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরের প্রথম ছয় মাসই এবার লেখাপড়া বিঘিœত হতে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে ও পড়ালেখার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চলতি বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটি কমানোর চিন্তাভাবনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য রাজধানীর নামিদামি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দেশের বেশ কিছু পুরনো জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক উইং থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
যেসব ছুটি কমানো হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে গ্রীষ্মকালীন ছুটি, রমজানের ছুটি এবং দুই ঈদের ছুটি। এর মধ্যে গ্রীষ্মকালীন ছুটি পুরোপুরি বাতিল করা হতে পারে।
তিন মাস ধরে দেশব্যাপী চলমান রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে তছনছ হয়ে পড়েছে শিক্ষা খাত। এর ফলে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাস-পরীক্ষা নিতে পারছে না দেশের স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাগুলো। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষা খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ছুটি কমানো কিংবা বাতিলের বিষয়ে এখন নতুন পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মাধ্যমিক) এ কে এম জাকির হোসেন ভূঁইঞা  বলেন, চলতি বছরের তিন মাস পার হতে চলেছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা পুরোপুরি চালু হয়নি। মন্ত্রণালয় মনে করছে, তিন মাসের ধাক্কা সামাল দিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ থাকা বড় বড় ছুটি কাটছাঁট করা প্রয়োজন। এ জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতামত চাওয়া হয়েছে।
যুগ্ম সচিবের মতে, শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী ১৪ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘গ্রীষ্মকালীন ছুটি’ শুরু হওয়ার কথা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ক্ষতি পোষাতে এই ছুটি বাতিল করা হতে পারে। একইভাবে ১৮ জুন থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত রমজান ও ঈদুল ফিতরের জন্য বন্ধ থাকার কথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। প্রয়োজনে এ ছুটিও কমিয়ে আনা হতে পারে।
এ কে এম জাকির হোসেন ভূঁইঞা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি কমানো কিংবা বাতিলের বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয় থেকে জানতে চাওয়ার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা এখন ছুটি কমানো কিংবা বাতিলের বিষয়ে তাদের মতামত মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে শুরু করেছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, শুধু ছুটি কমানো কিংবা বাতিলই নয়, ক্ষতি পোষাতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- শ্রেণিকক্ষে সময় বাড়িয়ে যতদূর সম্ভব সিলেবাস শেষ করা, প্রতিটি স্কুলে বিশেষ ক্লাস নেয়া, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে ক্লাস নেয়া, বাড়িতে বসে শিক্ষার্থীরা যাতে সিলেবাস শেষ করতে পারে, সে জন্য অভিভাবকদের তাগিদ দেওয়া, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ‘হোমওয়ার্ক’ দেয়া ইত্যাদি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ক্লাসের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে শুক্র ও শনিবার ক্লাস নেয়ার কথা থাকলেও চলমান এসএসসি পরীক্ষা শুক্র ও শনিবার অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ দুই দিনও বাস্তবে ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের প্রায় সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ