বিশেষ খবর

ঢাকা ক্লাবের ডায়নামিক ও যুগশ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট খায়রুল মজিদ মাহমুদ এর সাক্ষাৎকার

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রিয় মানুষের মুখোমুখি
img

গর্ব করতে পারে বাংলাদেশ। গর্ব করার মতো আমাদের অনেক কিছু আছে। রাজনীতির অনাকাক্সিক্ষত ও অনিশ্চিত অভিযাত্রা, আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির বহুক্ষেত্রে অনগ্রসরতার দুঃসহ উপস্থিতি সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব অর্থনীতির চরম মন্দার মধ্যে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে জানান দিতে পারে তার গৌরবোজ্জ্বল অস্তিত্বের কথা। হাজারো নেতিবাচক ঘটনা দৃষ্টান্ত আর অযাচিত অর্জনের বেড়াজালে আবদ্ধ থেকেও আমাদের ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্রের লড়াই, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, কৃষ্টি তথা আমাদের মূল্যবোধকে নিয়ে গর্ব করতে পারি। বাংলাদেশের আছে নিজস্ব কিছু অর্জন; আছে একেবারেই কিছু স্বাতন্ত্র্য; আর আছে গর্ব করার মতো কিছু দীপ্তিমান মানুষ -যাঁরা কর্ম আর ব্যক্তিত্বের দীপ্তিময় বিশালতায় নিজকে নিয়ে গেছেন আকাশচুম্বী উচ্চতায়। তেমনি এক আলোকিত মানুষ খায়রুল মজিদ মাহমুদ। যিনি বর্তমানে উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় অভিজাত ক্লাব ঢাকা ক্লাব লিঃ এর ২য় মেয়াদের প্রেসিডেন্ট।
আত্মপ্রত্যয়ী বিজনেস ম্যাগনেট ও ক্লাব ব্যক্তিত্ব খায়রুল মজিদ মাহমুদ এর জন্ম ১৯৬০ সালের ১৫ জানুয়ারি বৃহত্তর ঢাকার নরসিংদীর অভিজাত মুসলিম পরিবারে। তাঁর পিতা বিশিষ্ট আইনজীবী মরহুম অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ ছিলেন ঢাকা বার এর প্রেসিডেন্ট। তাঁর পিতামহ মৌলভী শুকুর মাহমুদ ছিলেন ব্রিটিশ আমলে অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট।
ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র খায়রুল মজিদ মাহমুদ পুরান ঢাকায় সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল থেকে এসএসসি, জগন্নাথ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংলিশ ডিপার্টমেন্টে। এরপর তিনি উচ্চ শিক্ষার্থে যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে তিনি সাউথ ডাকোটার স্পেয়ারফিস এর Black Hills State University থেকে Associate of Science in General Education এবং Bachelor of Science in Business Administration ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি আমেরিকার University of Nevada Reno থেকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
পড়াশুনা শেষে তিনি আমেরিকাতেই পেশাজীবন শুরু করেন। তিনি ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত Career College of Northern Nevada’i Financial Aid এর পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত এ কলেজের ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন। দেশে ফিরে তিনি আবাসন খাতের উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান Living Stone Real Estate & Housing Ltd. এর অংশীদার এবং পরিচালক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ৭০টির বেশি আবাসিক ও কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স তৈরিতে সক্ষম হন। উদ্যমী ব্যক্তিত্ব খায়রুল মজিদ মাহমুদ ক্লারিয়ন ইন্টারন্যাশনাল এর চেয়ারম্যান। একই সাথে তিনি আবাসন শিল্পখাতের বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানCaldwell Development Ltd. এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর, টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরের অবকাঠামো খাতের ঊৎরপংংড়হ চখঈ এর কনসালটেন্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। আজ যে দেশের আন্তর্জাতিক মানের Machine Readable Passport and Machine Readable Visa (MRP & MRV) চালু হয়েছে সেক্ষেত্রে রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। দেশের রেলওয়েকে সময়োপযোগী ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ব্যাপক। তিনি বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কম্পানি RITES এরও এজেন্ট।
ব্যবসা-বাণিজ্যের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব খায়রুল মজিদ মাহমুদ দুই টার্ম ধরে ঢাকা ক্লাব লিমিটেড এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন ডিসিসিআই এর সাবেক পরিচালক, রিহ্যাব এর সদস্য, আমেরিকারFinancial Aid Administrators Association, USA এর সদস্য। বিদেশে পড়াকালীনও তিনি সংগঠক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। তিনি ১৯৮৪ সালে Black Hills State University, USA Student Government এর নির্বাচিত সিনেটর, ১৯৮২ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত ইউনিভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন এর প্রেসিডেন্ট এর দায়িত্ব পালন করেন। খেলাধুলার সাথেও তিনি ছোটবেলা থেকে জড়িত। তিনি ১৯৮৪ সালে Black Hills State University’র টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। তিনি ১৯৮৫ সালে আন্তঃকলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। খায়রুল মজিদ মাহমুদ এর বড় ভাই নুরুল মজিদ মাহমুদ (হুমায়ুন) বর্তমানে সংসদ সদস্য এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
খায়রুল মজিদ মাহমুদ ১৯৮৬ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁরা ১ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জনক-জননী। পুত্র এহসানুল মজিদ মাহমুদ আমেরিকার Lehich University থেকে Economics এবং Finance এ ডিগ্রি অর্জন করেন। কন্যা সায়ারা মাহমুদ আমেরিকার Pennsylvenia State University তে পড়াশোনা করছেন।
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক বাংলাদেশ এর যে স্বপ্ন মানুষকে আশান্বিত করছে এবং তার বাস্তবায়নে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সচেতন নাগরিক সমাজ যে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করছে এই ধারা তৈরিতে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে খায়রুল মজিদ মাহমুদ আত্মনিবেদিত। তিনি বিশ্বাস করেন ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা শুধু স্বপ্নই থাকবে না, এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে উঠে আসার সুযোগ পাবে এবং এর জন্যে খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।
ব্যবসা অঙ্গনের একজন দক্ষ ও দূরদর্শী মেধাবী উদ্যোক্তা খায়রুল মজিদ মাহমুদ দেশের উন্নতি, অর্থনৈতিক স্বয়ং সম্পূর্ণতা, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূরীকরণের উপায় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করেন। তিনি মনে করেন, নিবিড় গণতন্ত্র চর্চা, সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ, সহনশীলতা, পারস্পরিক সমঝোতা ও শ্রদ্ধাবোধ আগামী প্রজন্মকে একটি সুন্দর দেশ গড়ার লক্ষ্যে যোগ্য নেতৃত্বের অধিকারী করে তুলবে।
সম্প্রতি ক্যাম্পাস পত্রিকার প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন আহমেদ একান্ত আলাপচারিতায় মিলিত হলে খায়রুল মজিদ মাহমুদ যা বলেন, তা পাঠকদের জন্যে উপস্থাপন করা হলো।

শৈশব ও কৈশোরের দুরন্তপনার দিনগুলো কেমন কেটেছে; সেসময়ের এমন কোনো ঘটনা আছে কী, যা আপনার স্মৃতিতে আজও দোলা দেয় এমন প্রশ্নে খায়রুল মজিদ মাহমুদ বলেন, পুরান ঢাকার নারিন্দাতে আমার জন্ম। তখন ঢাকা শহরে লোকসংখ্যা তেমন ছিল না। আমরা মনের আনন্দে একা একাই স্কুলে যেতাম, আবার ফিরেও আসতাম; বাবা-মাকে কখনো এ নিয়ে চিন্তা করতে দেখতাম না। ওয়ারীর সেন্ট গ্রেগারিজ স্কুলে আমি পড়ালেখা করেছি। খুব নামকরা স্কুল; যেখানে নোবেল বিজয়ী ড. অমর্ত্য সেন, ড. কামাল হোসেন, বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজুদ্দিন আহমেদসহ আরও অনেক জ্ঞানীগুণী, সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি, সফল ব্যবসায়ীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অধ্যয়ন করেছেন।
তিনি বলেন কৈশোরে দুষ্টুমি বাদ দিইনি, এজন্য প্রায়ই স্কুলে শাস্তি ভোগ করতে হয়েছে। স্যারদের কাছে দুষ্টুমি ধরা পড়লে আর রক্ষা ছিল না। ছুটির পর ১ ঘন্টা ডিটেনশন ক্লাস করতে হতো। আর এ ক্লাস নিতেন আলী স্যার। আলী স্যার ছিলেন খুব কড়া; কোনো কোনো সময় তিনি একঘন্টা টুলের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখতেন; অথবা হাতের লেখা সুন্দর করার কসরত করাতেন ঘন্টাব্যাপী। আমাকে প্রায়ই ডিটেনশন ক্লাসে থাকতে হতো। সহপাঠীসহ অন্যান্য ছেলেরা বাইরে খেলাধুলা করছে, হৈ-হুল্লোর করছে; আর আমি ক্লাসের ভেতর বন্দি হয়ে হাতের লেখা সুন্দর করছি! বিষয়টি যে কতটা কষ্টের ছিল, তা বুঝিয়ে বলতে পারব না। তবে এখন বুঝতে পারি, শাস্তিটা কত অভিনব ছিল। হাতে বা গায়ে বেত পড়ত না, পড়ালেখা করিয়ে শাস্তি দেয়া হতো।
বিদেশে পড়াশোনাকালীন স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে খায়রুল মজিদ মাহমুদ বলেন আমেরিকায় পড়ালেখা করার সময় ডিবেটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম, আমাদের টিম গ্রুপে রানার্স আপ হয়েছিল। বিদেশের মাটিতে এমন সাফল্যের কথা স্মরণ করে এখনও আনন্দ পাই। বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা ও শিক্ষামান সম্পর্কে খায়রুল মজিদ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষিতের হার বাড়লেও শিক্ষা মানের তেমন উন্নতি হয়নি। শিক্ষার্থীরা যেন জ্ঞানার্জনের চেয়ে সার্টিফিকেট সংগ্রহে ব্যস্ত। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান মানোন্নত শিক্ষাদান করলেও অনেকের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দিন দিন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়বে বৈ কমবে না। আপনারা যখন ছাত্র ছিলেন, তখনকার শিক্ষার পরিবেশ আর বর্তমান সময়ের শিক্ষার পরিবেশের মধ্যে কী ধরনের পার্থক্য লক্ষ্য করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে চৌকস ছাত্র-সংগঠক খায়রুল মজিদ বলেন, আমাদের সময় শিক্ষার পরিবেশ এবং ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্ক ছিল মধুর। আমরা শিক্ষকদের অভিভাবক বলে মনে করতাম। তাঁরা আমাদেরকে স্নেহের দৃষ্টিতে দেখতেন। আমেরিকায় গিয়ে দেখি শিক্ষকরা শুধু অভিভাবকই নয়, বন্ধুও বটে! সে দেশের শিক্ষকরা যেকোনো ব্যাপারে এগিয়ে আসেন, ছাত্রদের পাশে দাঁড়ান।
তিনি আরও বলেন, আন্ডার গ্রাজুয়েটের আগে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বাংলাদেশের এডুকেশন অনেক ভালো। এখন শিক্ষার্থীরা মোবাইল, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট ব্যবহার করার ফলে সারা বিশ্বই তাদের নেটওয়ার্কের আওতায় এসে গেছে। এতে বিশ্বের তথ্য ভান্ডার তাদের সামনে এখন উন্মোচিত। কিন্তু আমাদের যুগে এসব কিছুই ছিল না। আমেরিকায় গিয়ে আমরা সেদেশের ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে বন্ধুত্ব করেছি, এখন আমাদের সন্তানরা দেশে বসে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদেশের ছাত্র-তরুণদের সাথে কথা বলছে, খোশগল্প করছে, মতামত ব্যক্ত করছে, এমনকি বন্ধুত্ব করছে।
দেশে শিক্ষার হার বাড়ছে। ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে পাসের হার এবং ভালো রেজাল্টের সংখ্যাধিক্য। অনেকেই বলছেন, শিক্ষার হার বাড়লেও মান বাড়েনি, আপনার অভিমত কী এমন জিজ্ঞাসায় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব খায়রুল মজিদ মাহমুদ বলেন, এটা ঠিক যে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষার মান সেভাবে বৃদ্ধি পায়নি; বরং কমেছে। এর প্রধান কারণ সবার লক্ষ্য যেন হয়ে উঠেছে সার্টিফিকেট লাভ, শিক্ষা নয়। চাকরি পেতে ইচ্ছুক অনেক ভালো রেজাল্টধারী ছাত্রের ইন্টারভিউ নিতে গিয়ে দেখেছি তারা কতো মেধাহীন। কষ্ট পেয়েছি। আমি মনে করি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার ব্যাপারে সরকারের সতর্ক দৃষ্টি দেয়া উচিত। শিক্ষার মান সমুন্নত না রাখা গেলে ভবিষ্যত প্রজন্ম ধ্বংসের মুখোমুখি হয়ে পড়বে। আপনি একজন দেশখ্যাত উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। একই সাথে উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং প্রেসটিজিয়াস ক্লাব ঢাকা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট। ১৯১১ সালে কী উদ্দেশ্য নিয়ে এই ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জানতে চাইলে সমাজসেবী ব্যক্তিত্ব খায়রুল মজিদ মাহমুদ বলেন মানুষের পারসেপশন যে, ঢাকা ক্লাব শুধু একটা ক্লাবই না; এটা সোস্যাল ক্লাব। ইঁঃ ও কহড়ি ঃযরং রং ধ রহংঃরঃঁঃরড়হ ড়ভ ইধহমষধফবংয. অন্যান্য অনেক ক্লাবে শুধুমাত্র ক্লাবিং ফ্যাসিলিটি থাকে, কিন্তু এ ক্লাব তার ব্যতিক্রম। ঢাকা ক্লাব লিমিটেড এর স্থানটি ঢাকা মহানগরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। এটি বলতে গেলে ঢাকা সিটির ড্রইংরুম। ঢাকা ক্লাব ব্রিটিশ আমলে একটি সামাজিক বন্ধন সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। তখনকার পূর্ব বাংলায় বরিশাল ক্লাব, খুলনা ক্লাবসহ ২/৩ টি ক্লাব ছিল। সেসময় স্যার ল্যান্ডস লর্ড সোসাইটির এলিট পিপলসদের নিয়ে এই ক্লাব করেন। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, সেমিনার, স্পোর্টস-কালচারকে প্রমোট করার লক্ষ্য নিয়ে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
ঢাকা ক্লাবের বয়স বর্তমানে ১০৩ বছর; এই ক্লাবের যাঁরা প্রেসিডেন্ট হয়েছেন এবং হচ্ছেন এঁরা সবাই এ্যামিনেন্ট পার্সোনালিটি অব দি কান্ট্রি, এমনকি ঢাকার নবাব পরিবারের সদস্যরাও এ ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এভাবেই এটি আর শুধুমাত্র ক্লাব হিসেবে থাকেনি, ইট ইজ এ সিটিং প্লেস অব ইন্টেলেকচুয়ালমস বুরোক্রেটস, বিজনেস পিপল, রাইটার্স, প্রফেসরস, জাস্টিস অর্থাৎ সিভিল সোসাইটির একটি সামাজিক অঙ্গন হিসেবে রূপলাভ করেছে।
ঢাকা ক্লাবের সাথে সম্পৃক্ত থাকা নাগরিক জীবনের জন্যে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ বলে আপনি মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে কর্মযোগী ব্যক্তিত্ব খায়রুল মজিদ মাহমুদ বলেন, আপনি যদি ভালো করে তাকান তাহলে দেখবেন, ঢাকা শহরে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে বসে কারো সাথে আপনি মনের ভাব আদান-প্রদান করবেন। ফাইভ স্টার হোটেল ছাড়া আমাদের শহরের অবস্থা এমন হয়ে গেছে যে, কোথাও আপনি সিকিউরড ভদ্রোচিত পরিবেশের প্লেস পাবেন না। এখানে যাঁরা সদস্য হন, তাঁরা জীবনে সম্মানজনক একটা অবস্থানে উঠে এসেছেন ফিন্যান্সিয়ালি এবং সাংস্কৃতিক-সামাজিক দিক থেকে। এ পর্যায়ে একজন মানুষ তার সোস্যাল ভ্যালুজ বাড়াতে আগ্রহী হন। অনেকেই মনে করেন, ঢাকা ক্লাবের মেম্বার হওয়া একটা প্রেস্টিজিয়াস ব্যাপার। কারণ আমরা যাকে মেম্বার করি তাঁর ব্যাপারে বেশ খোঁজখবর নিয়ে থাকি। যে কেউ আবেদন করলেই ঢাকা ক্লাবের মেম্বার হতে পারেন না। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যাকগ্রাউন্ড, তিনি কী ধরনের মানুষ -এসব বিষয় জানতে তাঁর ইন্টারভিউ নেয়া হয়। এর জন্যে আমাদের একটি শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। যারা বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করে ঢাকা ক্লাবের সদস্য মনোনয়ন দেন। অন্যান্য ক্লাবের সাথে ঢাকা ক্লাবের ব্যতিক্রম সম্পর্কে জিজ্ঞাসার জবাবে খায়রুল মজিদ মাহমুদ বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ ধরনের অভিজাত এক্সক্লুসিভ ক্লাব আছে -যা শুধুমাত্র মেম্বারদের জন্যে; সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কিন্তু ঢাকা ক্লাব ব্যতিক্রম। এখানে সরকারি ডেলিগেট হিসেবে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিকরা আসেন; ভারতের জ্যোতি বসু, নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনও এখানে এসেছিলেন। তাছাড়া বাংলাদেশের বড় বড় অনেক অনুষ্ঠানও এই ঢাকা ক্লাবেই হয়। আমাদের এখানে লাঞ্চ, ডিনার এর ব্যবস্থা তো আছেই; এছাড়াও সেমিনার, ওয়ার্কশপ করার মতোও পর্যাপ্ত স্থান রয়েছে।
ঢাকা ক্লাব সিএসআর এর মাধ্যমে সামাজিক অঙ্গনে কী কী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এমন প্রশ্নের জবাবে খায়রুল মজিদ বলেন, সামাজিক ক্ষেত্রেও এই ক্লাবের অবদান অনেক। এখানে আমাদের এমপ্লয়ীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে চারশ’। তাদের বিভিন্ন সমস্যা, শীতের সময় শীতবস্ত্র, অসচ্ছল কর্মকর্তা-কর্মচারীর মেধাবী সন্তানদের পড়াশুনায় সহায়তা, দুস্থদের জন্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা; শহর ক্লিনিং করার ব্যবস্থা ইত্যাদি করা হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে ঢাকা ক্লাব থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইকুইপমেন্ট বিশেষ করে বারডেম হাসপাতালে ৩টি ডায়লোসিস মেশিন দেয়া হয়েছে। রানাপ্লাজা ট্রাজেডি, নেপালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই ঢাকা ক্লাব অবদান রেখে চলেছে।
আপনাদের সদস্যদের অনেকেই ঢাকা ক্লাবকে সেকেন্ড হোম হিসেবে মনে করেন, এর কারণ জানতে চাইলে দক্ষ প্রশাসক খায়রুল মজিদ বলেন অবশ্যই এটা একটা কমফোর্টেবল প্লেস, যেখানে অবসর জীবনে প্রায় সবাই সময় কাটাতে আসেন। আর সেকেন্ড হোম বলা হয় যে, ওনারা এই ক্লাবের সাথে ইমোশনালী অ্যাটাচড হয়ে যান যে, বাড়ির পরে ওনারা বেশিরভাগ সময় ক্লাবে কাটান। শুধু আড্ডাই নয়, ক্লাবের বিভিন্ন প্রোগ্রামের সাথেও তারা জড়িয়ে থাকেন। এ জন্যই অনেক সদস্য ক্লাবকে সেকেন্ড হোম বলে মনে করে। উই রেসপেক্ট দ্য এনভায়রনমেন্ট, উই রেসপেক্ট দ্য অ্যাটমোসফেয়ার অব ক্লাব। সত্যি বলতে কী বাড়ির মতোই আন্তরিক পরিবেশ এখানে বিদ্যমান। তাছাড়া প্রত্যেকেই প্রত্যেকের আত্মার আত্মীয় হয়ে ওঠেন এখানে। এখানে সবাই মিলে একটা পরিবার।
ঢাকা ক্লাবের পক্ষ থেকে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নতুন কোনো উদ্যোগ গ্রহণের চিন্তাভাবনা করছেন কী এমন জিজ্ঞাসায় দক্ষ সংগঠক খায়রুল মজিদ বলেন, আমরা গত বছর ঢাকা ক্লাবে এই রিজিওনের সার্ক কান্ট্রিসমূহের মধ্যে একটা বার্ষিক স্পোর্টস ক্যার্নিভ্যালের আয়োজন করেছিলাম। সেখানে মালয়েশিয়া, ইন্ডিয়া, নেপাল, ভুটান এসব দেশের ক্লাবগুলো অংশ নিয়েছিল। যেমন ভারতের কলকাতা ক্লাব, জিমখানা ক্লাব, কোর্ট ক্লাব এসেছিল। গত বছর ঢাকা ক্লাব থেকে আমরা প্রেসিডেন্ট কাপ ন্যাশনাল টেনিস টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিলাম। এটা বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্ট ছিল। যেখানে দেশের ২০টি জেলার ৩০৮ জন খেলোয়াড় অংশ নিয়েছিল। আমাদের গলফ টুর্নামেন্ট হয়, সুইমিং কম্পিটিশন হয়। ঢাকা ক্লাবের ঐতিহ্যবাহী বিলিয়ার্ড রুম রয়েছে। আমরা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কৃতী ব্যক্তিত্বদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে থাকি। কবিতা পাঠের আসরও করা হয়।
আপনি একজন উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন বলবেন কি এমন প্রশ্নে বিজনেস-ম্যাগনেট খায়রুল মজিদ মাহমুদ বলেন, অ্যাকচুয়ালি বাংলাদেশের ইকোনমি এখন ভেরি স্ট্রং। উই হ্যাভ এ ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান, উই অলসো হ্যাভ এ ভিশন টুয়েন্টি থার্টি। আমি ঢাকা চেম্বারের পরিচালক ছিলাম। বিজনেস কম্যুনিটির সাথে আমার সব সময়েই যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ গত সাত বছরে যতোদূর এগিয়ে এসেছে, বিগত ৪০ বছরের মধ্যে এতো উন্নতি হয়নি। আমাদের জিডিপির গ্রোথ ৬.৩ শতাংশ। আমাদের প্রায় সব খাতেই উন্নতি সাধিত হয়েছে। পাওয়ার সেক্টরে এই ৭ বছরে ৩ হাজার মেগাওয়াট থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিজনেস কম্যুনিটি কিন্তু বেশ আশান্বিত। দেশে বর্তমানে বিনিয়োগ বান্ধব সরকার বিদ্যমান থাকায় বিভিন্ন দেশ এদেশে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আসছে। জাপান কিছুদিন আগে ৬ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে, ইন্ডিয়া ১ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে। এগুলো আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্যে খুবই প্রয়োজনীয়। আমাদের শিক্ষা খাত, স্বাস্থ্য খাত, হাউজিং সেক্টর সমস্ত দিকেই উন্নত হয়েছে। শিশুমৃত্যুর হার কমেছে, গড় আয়ু অনেক বেড়েছে। অবকাঠামো খাতেও উন্নতি হয়েছে। কম্যুনিকেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার, টেলিকমিউনিকেশন, রেলওয়ে এ সমস্ত জায়গায় বেশ উন্নতি হয়েছে।
বর্তমানে আবাসন খাতে বিরাট রকমের মন্দাভাব লক্ষণীয় -এর মূল কারণ জানতে চাইলে আবাসন শিল্পের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব খায়রুল মজিদ মাহমুদ বলেন, মানুষের বায়িং পাওয়ারের চেয়ে অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা জমির দাম অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই এ খাতে কিছুটা বিপর্যয় দেখা যাচ্ছে। ফলে আমার মতো অনেকেই আবাসন ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে। আমাদের লিভিং স্টোন ডেভেলপার কোম্পানি প্রায় ৭০টি প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করলেও এখন মাত্র ৮/১০টি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছি। ঢাকাকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে রিয়েল এস্টেট খাতের ভূমিকাকে খাটো করে দেখার কোনো উপায় নেই, তাই এ খাতের উন্নয়নে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কী এমন প্রশ্নের জবাবে কল্যাণকামী ডেভেলপার খায়রুল মজিদ বলেন, হাউজিংয়ের জন্যে ব্যাংকিং সাপোর্ট দরকার, কিন্তু আমাদের দেশে ব্যাংকগুলো এ খাতে খুব সহযোগিতা করে না। এছাড়া বিল্ডিং তৈরিতে যেসব কাঁচামাল প্রয়োজন যেমন- রড, সিমেন্ট, সিরামিক, ইট, বালি, কাঠ ইত্যাদি প্রতিটি জিনিসের দামই বেশ চড়া। বেড়ে গেছে লেবারসহ অন্যান্য নির্মাণ ব্যয়। তার ওপর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজিতো আছেই। ফলে ফ্ল্যাট বা প্লটের দাম ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে বহুপূর্বেই। গুলশান বনানী এলাকায় ৪/৫ কোটি টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট ক’জন কিনতে পারবেন? এখানকার ফ্ল্যাটের যাঁরা মালিক তাঁদের মা-বাবা এক সময় ১৪/১৫ হাজার টাকা দিয়ে এই প্লট কিনেছিলেন। এখন এর প্রতি স্কয়ার ফিট ফ্ল্যাটের মূল্য ১৪/১৫ হাজার টাকা। এটি আশ্চার্যের ব্যাপার। অবশ্য আমরা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরাই এর মূল্য এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। এর জন্যে আমরাই দায়ী। আমরা যখন শুরু করি, তখন কোম্পানি ছিল ৭০/৮০; এখন ১০০০ এর বেশি কোম্পানি। আর সেজন্য প্লট মালিকরাও দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমে যায়।
অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীই মনে করেন ব্যাংক ঋণের সুদ হার অত্যধিক। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সফল ব্যবসায়ী খায়রুল মজিদ মাহমুদ বলেন এটি বাস্তব সত্যি যে, এদেশে ব্যাংক ঋণের সুদের হার অত্যধিক। ফলে উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীদের ব্যাপক সমস্যা ও জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। পৃথিবীর খুব কম দেশেই ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ হার বিদ্যমান। আমি মনে করি ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজেটে নামিয়ে আনা উচিত। সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তরিক হলেই এটি সম্ভব। তা করা হলে, ব্যাংক ঋণখেলাপির সংখ্যা অনেক কমে যাবে।
বলা হয়, বাংলাদেশ অমিত সম্ভাবনার দেশ। কিন্তু এখানে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব সংঘাত ও সহিংস রাজনীতির কারণে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে পরামর্শ ব্যক্ত করে খায়রুল মজিদ মাহমুদ বলেন, দেশের গণতন্ত্রের জন্যে অবশ্যই একটি শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন। তবে বিরোধী দলের ভূমিকা হতে হবে গঠনমূলক ও সৃজনশীল, অন্যদিকে সরকারেরও প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এদেশে মূল সমস্যা হচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিরোধীদল সরকারকে কাজ করতে দেয় না, বিভিন্ন আন্দোলনের নামে জ্বালাও পোড়াওসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে থাকে। অন্যদিকে সরকারও বিরোধী দলকে নির্যাতন নিপীড়নের মাধ্যমে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। এতে আমাদের উন্নয়ন যেমন বাধাগ্রস্ত হয় তেমনি জনজীবনেও নেমে আসে নানা দুর্ভোগ। গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র থেকে, চর্চা থেকে সবাই দূরে সরে আসে। এই প্রবণতা বদলাতে হবে, প্রকৃত গণতান্ত্রিক কালচার চালু করতে হবে। জনগণ যাতে তাদের মতামত নির্বিঘেœ পেশ করতে পারে সে ধরনের নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। পরমতসহিষ্ণুতাসহ একের প্রতি অপরের আস্থা স্থাপন করতে হবে। গণতন্ত্রের রীতিনীতিকে মানতে হবে।
প্রত্যেক দলকেই জনগণের জন্যে তারা কী করবে সেই বিষয়গুলো তুলে ধরতে হবে, তাদের ফাইভ ইয়ারস প্ল্যান জানাতে হবে। দেখাতে হবে তারা জনগণের জন্যে আরো ভালো কাজ করবে। এখনতো বিদেশিরা এদেশের ক্ষমতায় নেই বা আসে না। তাহলে এখন একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কেন যুদ্ধের মতো আচরণ করবে। যে কোনো সমস্যাতেই পরস্পর আলোচনা করার মানসিকতা থাকতে হবে। সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। এ দেশতো সবারই, সবাই উন্নত জীবন আশা করে। সরকারের জবাবদিহিসহ সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে মতামত জানতে চাইলে খায়রুল মজিদ মাহমুদ বলেন, নির্বাচিত সরকারকে জনগণের কাছে অবশ্যই জবাবদিহি থাকতে হবে। আর এটা তো গণতন্ত্রের বিউটি। সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসন সব কিছুতেই জবাবদিহি থাকতে হবে। দেশে আইন ও বিচারের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে গণতন্ত্রের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে যায়। এ জন্যই শাসন ব্যবস্থায় প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। দেশে দুর্নীতির পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এ থেকে পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে এক জিজ্ঞাসার জবাবে সৎ ও নির্ভিক ব্যক্তিত্ব খায়রুল মজিদ মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি বন্ধে প্রয়োজন জনসচেতনতা এবং জনপ্রতিরোধ। মানুষ অর্থবিত্তের জন্যে দুর্নীতি করে। তাদের ধারণা টাকা থাকলেই অন্যরা সম্মান করবে, নিজেরা ভোগবিলাসের জীবনযাপন করতে পারবে। অথচ দুর্নীতিবাজদেরকে ঘৃণা করলে অর্থ-সম্পদের মোহ কিংবা দুর্নীতি কমে যাবে। বর্তমান সমাজে কে কীভাবে টাকা আয় করছে তা না দেখে দেখা হয় তার অর্থবিত্তকে। তাকে বিভিন্ন জায়গায় প্রধান অতিথি করা হয়, সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য পদক দেয়া হয়। এসব না করে যদি তাকে উপেক্ষা ও ঘৃণার চোখে দেখা হয়, তবে দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জনে আগ্রহ কমে যাবে। এখনতো অনেক দুর্নীতিবাজ বড় সমাজসেবক, রাজনীতিতেও অনেকে নাম লিখিয়েছেন। অনেকে এমপি হয়েছেন, ভবিষ্যতেও টাকার জোরে অনেকে হবেন। জনসচেতনতার পাশাপাশি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা প্রয়োজন। দুর্নীতি দমন কমিশন দুদককে আরো গতিশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বর্তমানে দুদককে রাজনীতিবিদ, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই ভয় পায়। আর এই ভয় পাওয়াতেও কিন্তু দুর্নীতির পরিমাণ কমে আসছে, ব্যবসায়ীরাও ভয় পান।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে খায়রুল মজিদ মাহমুদ বলেন, আমি খুবই আশাবাদী মানুষ। বর্তমান সরকার আমাদের এই আশার জায়গাটা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ২৪ বিলিয়ন ডলার। এদেশের গার্মেন্টস শিল্প, জনশক্তিখাত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভাবমূর্তি রক্ষাসহ অর্থনৈতিক খাতকে সমৃদ্ধ করছে। বিজনেস কমিউনিটির প্রতিনিধি হিসেবে আমি আশাবাদী যে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যেই মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে, যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকে। আমাদের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়ি ও অপরাজনৈতিক কর্মকান্ড, বিশেষ করে জ্বালাও-পোড়াও, পেট্রোলবোমার অপরাজনীতি যদি না থাকে, তবে আরো আগেই আমরা কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব ইনশাআল্লাহ।
নিজের জীবনদর্শন সম্পর্কে পরিচ্ছন্ন জীবনের অধিকারী সমাজসেবী ব্যক্তিত্ব খায়রুল মজিদ মাহমুদ বলেন আমি নিজেকে বাংলাদেশের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে গণ্য করি। সবসময় চিন্তা করি দেশের জন্য কিছু করতে হবে। আমেরিকাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলাম, তবু ফিরে আসার মূল কারণ হলো দেশের জন্য কিছু করার চেষ্টা করা। আমেরিকায় যে জ্ঞান, যোগ্যতা, দক্ষতা অর্জন করেছি তা যদি আমাদের শিক্ষায়, বাণিজ্যে, অর্থনীতিতে, ইনফ্রাস্ট্রাকচারে কাজে লাগাতে পারি তাহলে দেশ উন্নত হবে, দেশের মানুষের কল্যাণ হবে। সে চিন্তা মাথায় রেখেই কাজ করে যাচ্ছি, সফল হয়েছি কিনা জানি না; তবে এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছি।
শিক্ষা ও যুব উন্নয়নে নিবেদিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা সম্পর্কে আশাবাদী ব্যক্তিত্ব খায়রুল মজিদ মাহমুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস একটি উন্নতমানের পত্রিকা। আমি এ পত্রিকা অফিসে গিয়েছি, ক্যাম্পাস আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছি। আমি সেখানে গিয়ে উপলব্ধি করেছি যে, এখনও আমাদের দেশে কিছু সমাজ ও দেশদরদী গুণীলোক আছেন যারা দেশের যুবসমাজকে নিয়ে, দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি নিয়ে ভাবেন; কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন। তিনি বলেন, ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠান আর্থিক দিক থেকে দুর্বল হলেও তাদের কর্মস্পৃহা, দূরদর্শিতা, লক্ষ্যাভিসারী চিন্তা-চেতনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে -যা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। আমি তাদের সংস্পর্শে থাকতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ