বিশেষ খবর

ডর্প এর জায়াপতি সম্মাননায় ভূষিত অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন এবং ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ড. হেলাল

ক্যাম্পাস ডেস্ক শিক্ষা সংবাদ
img

অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও বিআইডিএস’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ও ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) এর মহাসচিব ড. এম হেলালকে ৩ ডিসেম্বর জায়াপতি সংবর্ধনা জ্ঞাপন করে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুয়র (উঙজচ)। শিক্ষা-উন্নয়ন, সমাজসেবা, গবেষণা, সমাজপ্রগতি ও জাতিজাগরণে অনন্য অবদানের জন্য এ দু’ব্যক্তিত্বকে ‘সাংবাদিক-সাংস্কৃতিক গবেষক’ ক্যাটাগরিতে ডর্প এ সম্মাননা জ্ঞাপন করে।
ডর্প এর ৩০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে ‘জায়াপতি সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় যৌথ অবদানের জন্য সাত জায়াপতিকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জায়াপতিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য কবি কাজী রোজী এবং নূরজাহান বেগম মুক্তা এমপি।
জায়াপতি সম্মাননা বিজয়ী অন্যান্যরা হচ্ছেন- ‘ভোগে নয়- ত্যাগেই আনন্দ’ -এ ডাঃ তাজকেরা খানম ও ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া, ‘ভাঙা-গড়ার বন্ধন’ -এ অধ্যক্ষ জামসেদা জাং চৌধুরী ও অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ, ‘শহর-গ্রাম সেতুবন্ধন’ -এ নারগিস মাহতাব ও মাহতাব উদ্দিন নান্নু, ‘মাতৃত্বকালীন ভাতার প্রথম মা’ হিসেবে (২০০৫ কালিয়াকৈর) ফিরোজা ও মজনু মিয়া, ‘স্বপ্ন মা একের ভেতর সতের’ -এ (২০০৯-১০ কালীগঞ্জ) অর্পিতা রানী সরকার ও দেব রঞ্জন সরকার এবং ‘স্বপ্ন মা একের ভেতর সতের’-এ (২০১৪-১৫ টুঙ্গিপাড়া) রাবেয়া বেগম ও জাহিদুল ইসলাম। ডর্প প্রতিষ্ঠাতা এবং গুচি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এএইচএম নোমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত আবুল কাশেম, ডর্প’র চেয়ারম্যান মোঃ আজহার আলী তালুকদার, গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান, রামগতি পৌরসভার মেয়র এম মেজবাহ উদ্দিন, কবি রোকেয়া ইসলাম, গবেষক সাওয়াল খান, গণমাধ্যম কর্মী ও কবি তাহমিনা শিল্পী, শিল্পী হাসান মাহমুদ প্রমুখ।
প্রধান অতিথি এইচ টি ইমাম বিজয় দিবসের পটভূমির দীর্ঘ ধারাবাহিকতা এনে মুক্তির পথ ও পাথেয় হিসেবে ‘কানেকটিং দ্য ডিসকানেকটস’-এর এই বৈচিত্র্যময় অনন্য অনুষ্ঠানকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক গভীরতম শক্তি বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
তিনি আরো বলেন, জায়াপতি সম্মাননাপ্রাপ্ত ড. নাজনীন এবং ড. এম হেলাল এমন জায়াপতি -যারা অর্থনৈতিক শিক্ষা ও চিন্তার বিকাশ এবং সমাজসংস্কার, সমাজচিন্তা, ব্যতিক্রমী গবেষণা, মানবকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে রেখে চলেছেন অনন্য অবদান।
উল্লেখ্য, উন্নয়ন-অর্থনীতিবিদ ও গবেষক হিসেবে ড. নাজনীন আহমেদ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। অসাধারণ মেধাবী ছাত্রী হিসেবেও তিনি সমধিক পরিচিত। এসএসসি ও এইচএসসি’র মতো পাবলিক পরীক্ষায় তিনি কখনও ২য় হননি। শিক্ষাবোর্ডের মেধাতালিকায় ছেলে এবং মেয়েদের মধ্যে তিনি সর্বদা ১ম হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে ১ম শ্রেণিতে অনার্স ও মাস্টার্সের পর কমনওয়েলথ স্কলারশিপে যুক্তরাজ্য থেকে এমএস এবং নেদারল্যান্ডস থেকে পিএইচডি অর্জনেও রেখেছেন অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর। অর্থনীতির গবেষণার বাইরেও সমাজ উন্নয়ন ও শিক্ষামূলক তাঁর বিভিন্ন কার্যক্রম যুবসমাজকে আলোড়িত করছে।
অন্যদিকে স্পষ্টভাষী-নির্ভীক সাংবাদিক ও নিবেদিতপ্রাণ সমাজ সংগঠক ড. এম হেলাল ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও আলোকিত জাতি গড়ার বহুমুখী কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে পরিচালনা করছেন ক্যাম্পাস সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা। নীতি-নৈতিকতার চর্চা, অবহেলিত ও সাধারণ মানুষের অধিকার, ছাত্র-যুবকদের প্রতিভা বিকাশ ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি এবং তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও মানবিক গুণাবলির উন্মেষে দিবানিশি কাজ করে চলেছেন। আশি’র দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নির্বাচিত নেতা ড. হেলাল তাঁর পঠিত একাউন্টিং সংশ্লিষ্ট লোভনীয় চাকরিতে সম্পৃক্ত না হয়ে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন জাতি জাগরণ ও দেশ পুনর্গঠনের দুঃসাধ্য কাজ; গণমানুষের জন্য কাজ করাকে জীবনের ব্রত মনে করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই জুনিয়র ও সিনিয়র মিলিটারী সায়েন্স কোর্স সম্পন্নের পাশাপাশি ১৮টি সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। মানুষের সৃজনশীল ক্ষমতা ও চিন্তাশক্তির ওপর গবেষণার জন্য ড. হেলাল কানাডার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি লাভ করেন। তাঁর প্রণীত মডেল ‘জাতীয় বহু সমস্যার একক সমাধানঃ এলাকাভিত্তিক স্কুলিং’ এবং ‘জাতীয় সকল সমস্যার স্থায়ী সমাধান’ ছাত্র-তরুণ ও গবেষকদের নিকট হয়েছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত ও প্রশংসিত। তারই ফলশ্রুতিতে বর্তমান শিক্ষানুরাগী সরকার ঘোষণা দিয়েছে এলাকাভিত্তিক স্কুলিং সংক্রান্ত নতুন ভর্তি নীতিমালা। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৫টি, যা পাঠক মহলে বিশেষভাবে দৃষ্টি কেড়েছে সৃজনশীল লেখনীর গুণে।
পত্রিকা প্রকাশনায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, সম্পাদনাকর্মে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সাংবাদিকতায় অনবদ্য ভূমিকার স্বীকৃতিতে ১৯৯০ সালে তিনি সরকারের এক্রেডিটেশন কার্ড লাভ করেন। অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রাপ্তরা স্ব-স্ব পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা, রাজনীতি, সমাজনীতি, সাংবাদিকতা, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদান, পরিবার গঠন, সমাজ সংস্কার ইত্যাকার কর্মকান্ডে বিশাল অবদান রেখে চলেছেন। তাঁদের কর্মকান্ড সমাজে আলোক-বর্তিকা স্বরূপ, যা দেশবাসীকে প্রভাবান্বিত করে।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজসেবী ও সমাজ সংস্কারক ডর্প এর প্রতিষ্ঠাতা সিইও এএইচএম নোমান উপকূলীয় অঞ্চল এবং দেশের বিভিন্ন পশ্চাৎপদ এলাকার নারী-শিশুদের উন্নয়নে বিশাল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছেন। গুণী স্বামী-স্ত্রীর অসামান্য অবদানকে সচেতন জনগণের কাছে কর্মোদ্দীপক ও স্মৃতিবহ করে রাখার জন্য ‘জায়াপতি সম্মাননা’ প্রবর্তন করে ডর্প। বিভিন্ন বক্তা এই ব্যতিক্রমী কর্মকান্ডের জন্য তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ