বিশেষ খবর

স্বাস্থ্যহানি ও আয়ুক্ষয়ের অন্যান্য কারণ ও প্রতিকার -৩১

ক্যাম্পাস ডেস্ক বিশেষ নিবন্ধ

॥ পূর্ব প্রকাশিতের পর -৩১ ॥
অধ্যায় ৭
॥পর্ব ১॥
প্রেম-ভালোবাসা-বিয়ে প্রেম-ভালোবাসায় পড়ে স্বাস্থ্যহানি ও আয়ুক্ষয়
প্রেম এক স্বর্গীয় সুখ, জীবনের আনন্দ, মহাজাগতিক অনুভবের মহানন্দ যা মানুষের আজন্ম লালিত বা প্রত্যাশিত পরাক্রমশালী এক আত্মশক্তি। মানসিক সুখ ও ঐশ্বর্যের প্রত্যাশায় প্রেম-ভালোবাসার জন্য ব্যাকুল হয়ে ঘোরে মানব হৃদয়। তাইতো নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব সবাই প্রেমের কাঙাল। এ কেবলই আমার কলমের লেখা নয়, শিল্পী কণ্ঠেরও আকুতি ‘আমি চিরকাল, প্রেমেরও কাঙাল...’। প্রেমের অদম্য ও মহাচৌম্বকীয় আকর্ষণে পড়ে সিংহাসন ত্যাগ করেছেন রাজা-বাদশা; রাজবাড়ি ছেড়েছেন বহু রাজপুত্র ও রাজকন্যা। লাইলী-মজনু, শিরি-ফরহাদ, রোমিও-জুলিয়েটসহ বহু ঐতিহাসিক ও অমর প্রেম-উপাখ্যান আমাদের সবারই জানা। কিন্তু আমরা কি কখনো হিসাব করে দেখেছি প্রেমে পড়ে অথবা প্রেম পিয়াসী হয়ে শতকরা কতজন সফল-সুখী-সুস্থ আর কতজন ব্যর্থ-অসুখী-অসুস্থ জীবন কাটায়? কতজন স্বস্তিময় জীবন পায় আর কত জীবন আত্মহননের পথ বেছে নেয়? এমনকি প্রেম-ভালোবাসা চলা অবস্থায়ও কতটুকুন সময়ের জন্য আমরা আশাবাদী, ইধষধহপবফ ও সুস্থ সময় কাটাই; আর কত দীর্ঘসময় ধরে হতাশা, অস্থিরতা, ওসনধষধহপবফ ও অসুস্থ সময় কাটাই। মোদ্দাকথায়, প্রেমানন্দের মাহেন্দ্রক্ষণ ক্ষণস্থায়ী; এ যেন ঘোর বরষায় মেঘের সাথে সূর্যের লুকোচুরি। অন্যদিকে প্রেমে আকুতি, অস্থিরতা, হতাশা ও ব্যর্থতার জ্বালা-যন্ত্রণা যেন কাটেই না। তাইতো প্রেমিক-প্রেমিকা কানে কানে, গানে গানে সারাক্ষণ বলে যায় যেটুকু সময় তুমি থাকো কাছে,
মনে হয় এ দেহে প্রাণ আছে।
বাকিটা সময় যেন মরণ আমার,
হৃদয় জুড়ে নামে অথৈ আঁধার।
মানব-মানবীর পরস্পরের অস্তিত্বে মিশে যাবার এ আকুতির নামই প্রেম। অর্থাৎ খড়াব রং ধ ংরহমষব ংড়ঁষ রহ ঃড়ি নড়ফরবং. এর উৎস মনে, বিকশিত হয় স্নেহ-ভালোবাসায়, প্রকাশিত হয় দেহে, পূর্ণতা পায় মিলনে যাকে আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বলা হয় বিয়ে। প্রাকৃতিকভাবে অংকুরিত এই অনুভূতির বীজের পরিপূর্ণতার কোনো পর্বে বাধা এলেই হতাশা-ব্যর্থতা-অসুস্থতা এসে বাসা বাঁধে দেহ-মনে; যে অসুখের প্রতিকার বা প্রতিরোধ দুরূহ। প্রেমের পাত্র-পাত্রীর মধ্যকার পারস্পরিক অবিশ্বাস-অহমিকা-অভিমান-বিরহ, সামাজিক রক্ষণশীলতা এবং ভালোবাসার অপব্যবহারসহ কিছু নেগেটিভ বিষয় ভালোবাসার অন্তরায় হয়ে ভালোবাসাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মন্দবাসায় পরিণত করে ফেলছে। ভালোলাগার ভালোবাসা, স্বার্থের জন্য ভালোবাসা, অন্যের ভালোবাসার প্রতি ভালোবাসা এভাবেই চলছে কথিত প্রেম-ভালোবাসার সর্বাধিক আলোচিত ও জনপ্রিয় খেলা।
তবুও প্রেম-ভালোবাসার নেশায় মশগুল বহু মানুষ কিশোর-তরুণ বয়সেই ক্ষয় করে ফেলে জীবন-যৌবন, প্রেমাবেগের ঘূর্ণিপাকে পড়ে শরীরে তৈরি করে নানা রোগের ভিত্তিমূল। যে রোগ নির্মূলতো দূরের কথা, রোগের সূত্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়ার বিষয়টিও অনেকের ভাগ্যে জোটে না। অভিভাবক এবং চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা তার রোগের আপাত শারীরিক চিকিৎসা করান বটে, কিন্তু প্রেম-ভালোবাসায় ব্যর্থতা ও হতাশার প্রতিক্রিয়ার প্রতিকারে নজর দেবার ফুরসত পান না। বিধি-নিষেধের বেড়াজালে এবং অনুদার সমাজে প্রেম-ভালোবাসায় বিপত্তি ও অসুস্থতা আরো বেশি। অথচ প্রেম-ভালোবাসার মতো প্রাকৃতিক বিষয়ে বাধা-বিপত্তি অমূলক। প্রকৃতির পথে বাধাদান মানে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি। পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দিলে যেমনি দু’কূল ছাপিয়ে সব ধ্বংস হয়ে যায়, তেমনি প্রেম-ভালোবাসায় বাধা এলে স্বাস্থ্যহানিসহ পারিপার্শ্বিক অনেক অসুবিধা তৈরি হয়। তাই আমার মতে, প্রেমের পথে কঠিন দেয়াল তোলা কখনো ঠিক নয়। দেয়াল যদি দিতেই হয়, তাহলে সে দেয়াল হবে নমনীয় বা ঋষবীরনষব; যাতে স্বাস্থ্যহানি-প্রাণহানি বা পারিপার্শ্বিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকলেও তা যেন হয় সর্বনিম্ন। অর্থাৎ মানব-মানবীর মধ্যকার কোনো প্রেম যদি অন্যের দৃষ্টিতে অনাকাক্সিক্ষত বলেও মনে হয়, তাহলে সে প্রেমের পথে বাধাদান বা কঠোরতা অবলম্বনের চেয়ে সহমর্মিতা, সহানুভূতি ও কাউন্সেলিং অধিক ফলপ্রসূ।
প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, প্রেমের সাথীটির মধ্যে মানবিক গুণগুলোর উপস্থিতি ও কদর কতখানি। মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষের প্রেমাস্পর্শে আপনি পেতে পারেন স্বর্গীয় সুখ ও ঐশ্বর্য; আবার মনুষ্যত্বহীন ও রিএকটিভ মানুষের প্রেমে আপনি হয়ে পড়তে পারেন অপ্রকৃতিস্থ, অসুস্থ। প্রেম-ভালোবাসার মতো সহজ ও প্রাকৃতিক বিষয়ে এত অপ্রাকৃতিক অঘটনের কারণ হচ্ছে সব মানুষ ভালোবাসা চায়; ভালোবাসা ভালোবাসা বা প্রেম প্রেম বলে মুখে ফেনা তোলে; অথচ ভালোবাসা বোঝে না, না বুঝেও বলাবলি করতে ভালোবাসে। ভালোবাসা দানের মাধ্যমেই প্রেম যে তৈরি করা যায়, তা তাদের বোধেই আসে না। আমাদের কিশোর-তরুণরা নিজেকে পরিশুদ্ধ না করে স্বভাব-চপলতার আবেগে বা যৌবন-যৌনতার মোহে পরস্পরের মধ্যে যে প্রেমের সম্পর্কের দাবি তুলে বসে, তা প্রেমের মর্যাদার জন্য বিরাট ক্ষতিকর। ইউরোপ-আমেরিকার সমাজে এরূপ সম্পর্ককে বলা হয় ঋৎরবহফংযরঢ় (ইড়ু ভৎরবহফ ড়ৎ এরৎষ ভৎরবহফ). আমাদের সমাজে এরূপ সম্পর্ক অবৈধ বলে একে প্রেম হিসেবে চালিয়ে দেয়া হয় এবং বাধিয়ে দেয়া হয় যত বিপত্তি। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রেম-ভালোবাসা-বিয়ে-পরিবার, স্রষ্টা-সৃষ্টি, মানবতা-নৈতিকতা ইত্যাকার মৌলিক বিষয়ে পাঠ নেই; পরিবারে বা সমাজে নেই অধ্যয়ন। তাই নানারূপ ভুল ধারণা, নিদারুণ আকাল ও কঠিন এ দুরবস্থা শুধু প্রেম-বিয়ের ক্ষেত্রেই নয়, বাজার ও বাণিজ্য ব্যবস্থাসহ আমাদের জাতীয় জীবনের সর্ব ব্যবস্থায় বিরাজমান।
স্নেহ-প্রেম-ভালোবাসা মানুষকে অন্ধ করে দেয়। প্রেমে পড়লে মানুষ ভাবতে শেখে প্রেমই জীবন, প্রেমই প্রাণ, প্রেমই একমাত্র সত্য। এজন্যই দার্শনিক প্লেটো বলেছেন, খড়াব রং ধ সবহঃধষ ফরংবধংব. তাইতো প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্কের যৌক্তিকতা নিয়ে কখনো তর্ক করা উচিত নয়। কারণ মানুষের মন লজিকের প্রফেসর বা বিচারকের পরামর্শ মেনে চলে না। মুক্ত বিহঙ্গের মতো সে আপন গতিতে বিচরণ করে বেড়াতে চায়। প্রেমাকাশে কেউ একবার উড়াল দিয়ে ফেললে তখন হঠাৎ তাকে মর্ত্যে নামানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই প্রেমের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ নয় বরং পূর্ব সতর্কতার সব পাঠ ছোটবেলা থেকেই দিয়ে দেয়া উত্তম চিকিৎসা। সে সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছি আপনার শিশু-কিশোরদের গড়ে তুলবেন যেভাবে শীর্ষক বইয়ে। বিজ্ঞানীরাও বলছেন, মধুময় সম্পর্ক ভেঙে গেলে কিংবা ভালোবাসার পতন হলে স্বাস্থ্যগতভাবে হৃদযন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। প্রেম-বিচ্ছেদের কারণেই অনিবার্য হয়ে ওঠে মৃত্যু। বিচ্ছেদের ফলে নারী-পুরুষ উভয়েই হৃদসংক্রান্ত ঝুঁকিতে পড়ে। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারীর ঝুঁকি প্রায় ৯ গুণ বেশি। বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দেখেছেন, বিচ্ছেদে অতিরিক্ত আবেগ ক্রিয়াশীল হয়; প্রতিনিয়ত চলতে থাকে মানসিক ক্ষরণ। সর্বোপরি দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত হয়ে ঐ ব্যক্তি হার্ট-এটাকসহ নানা ধরনের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রেম বিচ্ছেদে হার্ট-এটাকের ঝুঁকি পুরুষের তুলনায় নারীরই বেশি। শুধু তাই নয়, হৃদয়ঘটিত রোগের বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রেমঘটিত কারণে কিংবা স্বামীর বিচ্ছেদে যখন কোনো নারীর হৃদয় ভাঙে, তখন সেই শোক সামলাতে না পেরে ঐ নারী হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং নাটকীয়ভাবে তার হৃদযন্ত্রের রক্ত সঞ্চালন অস্বাভাবিক হয়ে যায়, হৃদযন্ত্রের চেম্বারগুলো বন্ধ হতে থাকে। এ ধরনের রোগীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেরে উঠতে না পেরে অগত্যা মৃত্যুর কাছে হার মানতে বাধ্য হয়। যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অভিষেক দেশমুখ জানান, শুধু হৃদয় ভাঙার কারণে এ ধরনের ঝুঁকিতে পড়ছেন অসংখ্য ভুক্তভোগী। ২০০৭সালে এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রায় এক হাজার হাসপাতালে এ ধরনের রোগী ছিল ৬ হাজারেরও বেশি। এসব রোগীর মধ্যে ৬৭১ জন পুরুষ, বাকি সব নারী।
প্রেম ও বিয়েঃ বিয়েকে প্রেমের সফলতা বলে ধরে নেয়া হয় রক্ষণশীল সমাজে। এজন্যই বিয়ে না হলে সেই প্রেমকে বলা হয় ব্যর্থ। অথচ প্রেম আর বিয়েতো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। প্রেম হচ্ছে মনোজগতের স্বর্গীয় সুখ-স্বস্তি ও প্রশান্তি। আর বিয়ে হলো সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান; অর্থাৎ দু’জন মানুষের মিলনের সামাজিক স্বীকৃতি। অথচ অধিকাংশ মানুষ প্রেমাবেগকে বিয়ের সিদ্ধান্ত বলে ভুল করে ভুলে ভুলে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যকে তুষের আগুনে অঙ্গার করে ফেলে। আর তখন স্বাদ ও সাধের জীবনেরে দেয় জলাঞ্জলি। তাই আসুন, প্রেম-মরীচিকার ঘোরে ঘুরে আর স্বাস্থ্যহানি না করি বরং এখন থেকে নিজের মধ্যেই প্রেমের বাসা বুনি। নিজকে গড়ে তুলি প্রেম-ভালোবাসার কারখানারূপে। এ কারখানার স্বরূপের বিভিন্ন দিক উন্মোচন করেছি ‘নিজের মধ্যে গড়ে তুলুন প্রেম-ভালোবাসার কারখানা’ শীর্ষক বইয়ে। এখন থেকে সর্বক্ষেত্রে প্রোএকটিভ-পজিটিভ এটিচিউড, সততা, বিশ্বাস, ধৈর্য, ক্ষমা ও বিনয়সহ সকল মানবিক গুণে নিজকে এমনই ব্যালেন্সড, স্মার্ট ও গ্ল্যামারাস করে তুলি যাতে আমার প্রতি আসতে থাকে লক্ষ প্রেমের মিছিল। এই দেখুন না প্রেমের রাজকন্যাদের মিছিলে পড়েও আমি থেকে যাচ্ছি সমঝদার পাঠকদেরই সাথে, আমাদের সবার স্বাস্থ্য-সুখের শেয়ারিং ও কেয়ারিংয়ে। চলুন, আমরা সবাই প্রেমের মহাকাশে বিচরণ করে সুস্থ-সবল-দীর্ঘায়ু জীবনের সৌন্দর্য-সুখে অবগাহন করি। অসংখ্য ব্যর্থ প্রেমিক-প্রেমিকার কঠিন অসুস্থতার দিকে চেয়েও এমনকি ভালোবাসার ভুবনে গভীর হতাশার অমানিশা অথবা তুষের আগুনের প্রেমানল কিংবা প্রেমের আগুনের দাবানলের দিকে তাকিয়েও আমরা সবাই প্রেম-ভালোবাসার কারিশমাটিক গুণগান গেয়ে যাই গুনগুন করে নয়, বরং সজোরে সোচ্চারে ভালোবাসা, ভালোবাসা, ভালোবাসা; সে এক দীপ্র স্বর্গীয় প্রতাপ; যার মৃত্যু নেই, যার জন্মান্তর নেই, যার শেষ নেই।
প্রেমঃ শারীরিক কষ্ট ভুলতে অব্যর্থ দাওয়াই
কবি-সাহিত্যিক বা গীতিকাররা প্রেমকে মহৎ করে তোলেন এর নেতিবাচক দিকটিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে। তাই তাদের কাছে বেদনা হয়েই বেশি ফুটে ওঠে প্রেম; গানে গানে এমনও বলেন, ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই...।’ ভাবুকদের কাছে প্রেমের মহত্ত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হলেও চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের কাছে কিন্তু শারীরিক ব্যথা উপশমের পথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে প্রেম-ভালোবাসা। যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক জানিয়েছেন গীতিকারদের ভাষায় মানুষের মনে প্রেম যত আঘাত দিক না কেন, ঔষধের বাইরে প্রেমই হলো একমাত্র দাওয়াই যা মানুষের শারীরিক কষ্ট ভুলিয়ে দিতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা মানুষের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে এমনই ফলাফল পেয়েছেন। তারা দেখতে পান মস্তিষ্কের যে অংশটি ব্যথার অনুভূতির সঙ্গে পরিচিত, প্রণয়ঘটিত চিন্তার ফলে ঠিক সেই অংশটিই জাগ্রত হয়ে একটি সুখের আবেশ তৈরি করে। সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে যায় শারীরিক কষ্টের অনুভূতি। এটি অনেকটা পেইন কিলার হিসেবে কাজ করে।
বিজ্ঞানীরা ১৫ জন ছাত্রের ওপর এ পরীক্ষা করেন। গভীর প্রেমের প্রাথমিক স্তরটি ব্যাখ্যা করতে প্রেমের বয়স ৯ মাস হয়েছে এমন ছাত্রদের তাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরীক্ষার আগে তাদেরকে প্রেমিকার ছবি এবং প্রেমিকার মতো আকর্ষণীয় অন্যকোনো নারীর ছবি আনতে বলা হয়। এরপর তাদের মস্তিষ্ক স্ক্যান করার সময় তাদের সামনে একবার তাদের প্রেমিকার ছবি এবং আরেকবার অন্য নারীর ছবি দেখানো হয়। উভয় সময়েই তাদের হাতের তালুতে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত স্বল্পমাত্রার গরম ছেঁকা দেয়া হয়। এতে দেখা যায়, প্রেমিকার ছবি দেখার সময় তাদের মস্তিষ্কে ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি হচ্ছে না। গবেষক দলটির সদস্য ড. জ্যারেড ইয়াংগার বলেন, প্রেমসৃষ্ট এই বেদনাবোধহীনতা মস্তিষ্কের মৌলিক কার্যাবলী হিসেবেই প্রমাণিত হয়েছে। পেইন কিলারও এভাবেই ব্যথাবোধহীনতা তৈরি করে।
ভালোবাসা ব্যথা কমায়
প্রকৃত ভালোবাসা যে মানুষের হৃদয়ের ব্যথা-বেদনা দূর করে প্রাণকে সজীব ঝলমল অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে এ কথার সত্যতা আবিষ্কার করলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানীরা দীর্ঘ গবেষণা শেষে বলছেন, প্রকৃত ভালোবাসা মানুষের বেদনাময় অনুভূতি সত্যি সত্যিই হ্রাস করে। ১৭ জন নারীর ওপর এ গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে নিজেদের ব্যথা-বেদনা নিয়ে যখন এসব নারী তাদের পুরুষসঙ্গী বা ভালোবাসার মানুষের ছবি দেখে, তখন তারা যেন কম বেদনা অনুভব করে। কিন্তু যখন মাকড়সার জাল বা অন্যকোনো বস্তু বা অপরিচিত কোনো ব্যক্তিকে দেখে, তখন তাদের অস্বস্তির মাত্রা বেড়ে যায়। এ পরীক্ষা থেকে গবেষকরা দেখতে পান, একেক প্রেক্ষাপটে মস্তিষ্কের ভেতরের কার্যকরণ একেক রকম হয়ে থাকে। ঐ জায়গাটির সঙ্গেই মানুষের অনুভূতির স্নায়ু জড়িত। এখান থেকেই প্রেম-ভালোবাসা, ব্যথা-বেদনা, ভয়-উত্তেজনা ও ক্রোধ নিয়ন্ত্রিত হয়।
সাবধান! ভালোবাসায়ও এলার্জি আছে
ভালোবাসা যেমনি রোগ-শোক দূরীভূত করে, তেমনি ভালোবাসায় ছড়াতে পারে এলার্জি। ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এলার্জি ছড়াবার এ নেতিবাচক খবর ভালোবাসার পাত্র-পাত্রীদের জন্য নিঃসন্দেহে দুশ্চিন্তার। আপনার হয়ত রয়েছে ফুড বা মেডিসিন এলার্জি, অর্থাৎ বিশেষ খাবার কিংবা ঔষধ আপনার ত্বক বা শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ঐসব খাবার বা ঔষধ দূরে সরিয়ে রেখে হয়ত ভাবছেন, এলার্জিতে ভোগার আর কোনো আশঙ্কা নেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধারণা একেবারেই ভুল। সঙ্গী বা সঙ্গিনী যদি আপনার জন্য এলার্জিক কোনো খাবার বা ঔষধ গ্রহণ করে এবং পরে চুম্বন বা শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে আপনার সঙ্গে, তাহলেও এলার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে আপনার। গবেষণায় এমন তথ্যই জানা গেছে। আমেরিকান কলেজ অব এলার্জি, এজমা এন্ড ইমিউনোলজির প্রেসিডেন্ট ড. সামি বাহ্না জানিয়েছেন এলার্জিক খাদ্য বা ঔষধ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকলেই এ সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। নন-এলার্জিক কোনো ব্যক্তি যদি সেসব খাবার বা ঔষধ গ্রহণ করে, তবে তার মুখের লালায় এলার্জিক উপাদানগুলো শোষিত ও সঞ্চিত হয়। এরপর তিনি চুম্বন বা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে এলার্জিতে ভোগা সঙ্গীর এ উপসর্গ আবার দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা গবেষণায় দেখেছেন ঐ ধরনের খাবার বা ঔষধ গ্রহণের বেশ কয়েক ঘণ্টা পরও যদি চুম্বন বা শারীরিক সম্পর্র্ক ঘটে, তবে এলার্জির সংক্রমণ ঘটতে পারে। এমনকি ভালো করে দাঁত ও মুখ ব্রাশ করে ধুয়ে নেয়ার পরও সংক্রমণে ব্যত্যয় ঘটে না। এমন অবস্থায় এলার্জি বড় নাকি ভালোবাসা ও এর বিনিময় বড় এরূপ প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে যেসব যুগল দুশ্চিন্তায় ভুগতে শুরু করেছেন, তাদের একেবারে নিরাশ হওয়ার কারণ নেই। গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, এলার্জিক খাবার গ্রহণের পর ১৬ থেকে ২৪ ঘণ্টা পার করে সঙ্গীর সাথে মিলিত হলে এলার্জি সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটাই কমে।
বিয়েতে ক্যান্সার উপশম!
বিয়ের মাধ্যমেও রোগ-শোক থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিয়ের মাধ্যমে কোলন বা মলাশয়ের ক্যান্সার থেকে নিরাময় পাওয়া যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট কলেজ অব মেডিসিন এবং ব্রিগহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা জানান, কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ব্যক্তির ওপর গবেষণা করে দেখা গেছে, অবিবাহিত অবস্থায় এ রোগে আক্রান্তরা বিয়ে করার ফলে ক্যান্সারে তাদের মৃত্যুঝুঁকি ১৪ শতাংশ কমেছে। নারী-পুরুষ যে কেউই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে এবং বিয়ের ফলে রোগ উপশমে দু’জনই সমান সুবিধা পায়। বিবাহিত রোগীদের ডায়াগনসিস করে দেখা গেছে, তাদের অবস্থা তুলনামূলক ভালো। বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সহযোগিতা এবং একজন অন্যজনের প্রায় সব বিষয়ে মনোযোগী হওয়াই ক্যান্সার উপশমে সহায়তা করে। ব্রিগহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সভেন উইলসন বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বামী-স্ত্রী দু’জনের যেকোনো একজন যদি এ রোগে আক্রান্ত হয়, তাহলে অন্যজন সর্বাত্মক সহায়তা ও দ্রুত সেবা দিতে পারে, যা কোনো চিকিৎসালয়ের নার্স বা তত্ত্বাবধায়কের চেয়ে অনেক বেশি আন্তরিক।
চলবে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ