বিশেষ খবর

ঢাবি শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে নীল দলের নিরঙ্কুশ বিজয় ॥ প্রফেসর ড. মাকসুদ কামাল পুনঃসভাপতি

ক্যাম্পাস ডেস্ক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
img

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতির ২০১৮ সনের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দল। শিক্ষক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কার্যকরী পরিষদের ১৫ পদের মধ্যে চৌদ্দটিতেই জয় পায় নীল দল। সভাপতি হিসেবে নীল দলের প্রার্থী অধ্যাপক মাকসুদ কামাল ও সাধারণ সম্পাদক পদে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ভবনে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। বিএনপিপন্থী একজন শিক্ষক সদস্য পদ ব্যতীত সকল পদে জয় পেয়েছে নীল দল বলে নিশ্চিত করেছেন শিক্ষক সমিতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার রসায়ন বিভাগের প্রফেসর তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব চত্বর এলাকা সকাল থেকেই শিক্ষকদের পদচারণায় মুখরিত ছিল।
সমিতির অন্য পদে নীল দলের বিজয়ীরা হলেন- সহ-সভাপতি উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন মোঃ ইমদাদুল হক, যুগ্ম সম্পাদক ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক তাজিন আজিজ চৌধুরী ও কোষাধ্যক্ষ এ্যাকাউন্টিং এ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস্ বিভাগের অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমেদ।
সদস্যপদ প্রাপ্তরা হলেন- গণিত বিভাগের অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের জিনাত হুদা, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মুহাম্মাদ সামাদ, লেদার এ্যান্ড টেকনোলজি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোঃ আফতাব আলী শেখ, ক্রিমিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ জিয়া রহমান, খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোঃ হাসানুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম, অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা রহমান ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর।
সরকারের সাথে যৌক্তিক আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে শিক্ষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করায় সক্ষম হয়েছি
-প্রফেসর ড. মাকসুদ কামাল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পূনর্বার সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার প্রেক্ষিতে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার প্রতিনিধিকে প্রখর ধী-শক্তি, দূরদর্শী চিন্তার প্রাজ্ঞ শিক্ষক নেতা প্রফেসর ড. মাকসুদ কামাল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে গত এক বছর আমি কাজ করেছি। শিক্ষকদের মর্যাদার প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যে দাবি দাওয়া আছে, আমরা সরকারের সাথে যৌক্তিক আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে শিক্ষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করায় সক্ষম হয়েছি। পাশাপাশি গত বছর নির্বাচনের প্রাক্কালে ২০১৬ সালে আমরা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম সেই প্রতিশ্রুতির সিংহভাগ আমরা পূরণ করতে পেরেছি। বিশেষ করে তরুণদের জন্য বঙ্গবন্ধু ওভারসিজ স্কলারশিপ চালু করা, তরুণ সহকর্মীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, শিক্ষার গুণগত মান এবং উৎকর্ষ সাধনের জন্য কাজ করেছি- তারই প্রতিফলন ঘটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি থেকে দ্বিগুণেরও বেশি ভোটে আমি জয়লাভ করেছি। নির্বাচনে জয়লাভের পর আমার মনে হয়েছে, যদি কেউ নীতি-নৈতিকতার মধ্যে কথা বলে, পড়াশুনা থেকে শুরু করে শিক্ষার পরিবশেকে উন্নত করার ব্যাপারে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করা হয়, সেই কাজের মূল্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যে কোনো মূল্যেই ফেরত দেয়। আমি ৯৪৯ ভোট পেয়েছি এবং আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৪৭৭ ভোট পেয়েছে। আমি আমার কাজের স্বীকৃতি পেয়েছি এর মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটা পবিত্র জায়গা। এখানে প্রতিটি ঘটনাপ্রবাহের প্রতিফলন যে হয়, এই নির্বাচন তার প্রমাণ রেখেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে কী কী পরিকল্পনা আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আর চার বছর পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ বছর পূর্ণ হবে। আমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আমরা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়েই ভাবিনা। পুরো জাতিকে নিয়েই আমাদের ভাবতে হয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয় একটা দেশ বা রাষ্ট্রের সামগ্রিক পটভূমির পরিবর্তন ঘটাতে পারে। আমরা যখন ২০২১ সালে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবো, সেই মুহুর্তে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাও হতে হবে মধ্য আয়ের দেশের উপযোগী একটি শিক্ষাব্যবস্থা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিণত করার লক্ষ্যে একটি মেডিকেল ফ্যাকাল্টি গঠনের পরিকল্পনা আমাদের আছে। এখানে একটি এগ্রিকালচার ফ্যাকাল্টিও থাকবে। অর্থাৎ যেসব বাস্তবসম্মত শিক্ষা এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া হচ্ছে না, সেই বিষয়গুলো যুক্ত করে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করব। একাডেমিক ডেভেলপমেন্ট এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন- এ দু’টোকে সামনে রেখে আমরা একটি পরিকল্পনাও প্রণয়ন করেছি। ৪৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি আমরা, আমি সেই প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ণ কমিটির সদস্য সচিব। শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে, পরিকল্পণা প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে, ডিন হিসেবে আমার কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে। বাকিরা যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই যোগ্যতম প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। অতীতে তাদের অনেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নতির ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। সবাইকে সাথে নিয়ে আমাদের টিম এমন একটা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাবিকে গড়ে তুলতে চায়, যেন ২০২১ সালের মধ্যে পুরো বিশ্বে একটি অনন্য সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি পায়। একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে যাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থাকে সাজানো যায়, সে লক্ষ্যও শিক্ষক সমিতির আছে।
আরেকটি বিষয়, পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রের ইতিহাসেই নেই, একটি জাতি একটি রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে, ঢাবি সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষকরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্রে অবদান রেখে আসছে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে সর্বক্ষেত্রে পলিসি এবং ডিসিশান মেকারদের ৮০ ভাগই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসেছে। সুতরাং এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ মর্যাদা প্রদানের জন্য সরকারের কাছে আমরা দাবি করছি। সামগ্রিক ডেভেলপমেন্টকে সামনে রেখেই আমরা এ বিশেষ মর্যাদার দাবি জানাই। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে যারা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী আছেন, তারা কোনো না কোনোভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জড়িত ছিলেন। এখন নীতিগতভাবে তাঁরাও একমত। আশা করি, আমরা আমাদের দাবি আদায় করতে পারব।
ছাত্রদের প্রাণের দাবি ডাকসু নির্বাচন কেন হচ্ছে না এ সম্পর্কে তিনি বলেন- আমরা যারা শিক্ষকদের নেতৃত্ব দিচ্ছি, আমরা চাই ছাত্ররা এই নেতৃত্বের গুণাবলি ছাত্রজীবন থেকেই অর্জন করুক, তাহলে নেতৃত্বের প্রশ্নে তারা একজন পরিপূর্ণ মানুষে পরিণত হবে। রেগুলার ছাত্ররা ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, নেতৃত্বের গুণাবলি তাদের মধ্যে বিকশিত হবে এবং জাতি গঠনে তারা স্ব স্ব জায়গা থেকে ভূমিকা রাখবে এ প্রত্যাশা করি। ২৭ বছরে ডাকসু নির্বাচন হয়নি, আশা করি নিকট ভবিষ্যতে ডাকসু নির্বাচন হবে। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে ডাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা, কোনো হঠকারিতা না করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা করে যাতে নির্বাচন হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। আমরা শিক্ষকরা মনে করি, এ নির্বাচনটা অত্যন্ত জরুরি। তবে এটাও জরুরি যে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ যেন কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয়, যাতে নির্বাচনের নামে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষাঙ্গনকে কলূষিত করতে না পারে। সকল দিক বিবেচনা করে ডাকসু নির্বাচন হবে, এটা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
ডাকসু নির্বাচনকে আমরা মনে করি একটা রেগুলার প্রক্রিয়া, অন্যসব রেগুলার প্রক্রিয়া চলছে, কিন্তু ডাকসু নির্বাচনটি বন্ধ রয়েছে। এটি চললেই ঢাবি পূর্ণাঙ্গ হবে। বর্তমান প্রশাসন এটি উপলব্ধি করে, অতীতের প্রশাসনে যারা ছিলেন তারা নিশ্চয়ই কোনো কারণ বিবেচনা করে নির্বাচনটি দেননি। আমরা আলাপ আলোচনা করে, বিশ্লেষণ করে যে কারণ পেয়েছি তার মধ্যে মূল কারণটি হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ যেন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিঘিœত না হয়। এ চ্যালেঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিবে, ছাত্র-সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে আশা করি শীঘ্রই উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এই নির্বাচনটি হবে। অতীতের যে ঐতিহ্য- হলগুলোতে নির্বাচন, ডাকসু সেন্ট্রাল নির্বাচন, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক একটিভি চালু হবে এই নির্বাচনের পরে; এতে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের গুণাবলি আমরা অর্জন করব। তাই আমিও দাবি করি, এই ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, এ অনুষদের উন্নয়নে বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ হয়েছে কি এমন প্রশ্নের জবাবে আত্মবিশ্বাসী শিক্ষাবিদ ড. মাকসুদ কামাল বলেন, আমি নির্বাচিত ডিন; পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সিনেট ও সিন্ডিকেট মেম্বার।
আর্থ এবং এনভায়রনমেন্ট দু’টো বিষয় নিয়ে শুরু হয় আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স অনুষদ; একটি হলো ভূতত্ত্ব, অন্যটি ভূগোল ও পরিবেশ। এ দু’টো বিষয়ের পাশাপাশি রয়েছে সমূদ্রসীমা ও ওশান সায়েন্স। সমুদ্রে ১ লক্ষ ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে রয়েছে বিশাল সম্পদ। আমাদের দেশে সমুদ্র সম্পদ নিয়ে কোনো বিষয় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই; তাহলে কীভাবে এ সম্পদ আহরণ করবে, কীভাবে দেশকে সমৃদ্ধ করবে? সমুদ্র সম্পদ আহরণ করে নরওয়ে বিশ্বের উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে। নরওয়ের মতো দক্ষ জনসম্পদ এখন পর্যন্ত আমাদের নেই। তাই এ বিষয়ে দক্ষ জনসম্পদ গড়ার লক্ষ্যে আমি এ ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ আমরা খুলেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির কারণে জিডিপি-কে আরও উঁচু স্তরে নিতে পারছি না; এটি ৬ থেকে ৭ এর মধ্যে অবস্থান করছে। এ বিষয়েও দক্ষ জনসম্পদ সৃষ্টি করার কাজ চলছে। আমাদের এখানে মেটেরলজি বা আবহাওয়া বিজ্ঞানের উপর কোনো বিভাগ ছিল না, আমরা তা খুলেছি। আমার অনুষদ আবহাওয়া বিজ্ঞান সংক্রান্ত জনশক্তির অভাব দূর করার পথে রয়েছে। মহাকাশ গবেষণা নামে কোনো ডিসিপ্লিন বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল না। এই অনুষদে আমরা স্পেস সাইন্স এন্ড জিওমেডিক্স নামে নতুন ইনস্টিটিউট খুলতে যাচ্ছি।
আমাদের অনুষদের বড় সমস্যা হচ্ছে স্থান সংকুলান হচ্ছে না বলে শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট করতে হয়। আমি সরাসরি অংশগ্রহণ করে মাননীয় উপাচার্যের সার্বিক নির্দেশনায়, পরামর্শে ও অনুমোদনে বর্তমান সায়েন্স ক্যাফেটেরিয়া, যেখানে জরাজীর্ণ ডিন অফিসটি আছে, তা ভেঙ্গে তদস্থলে ২১ তলা একটি ভবন নির্মাণ করার সকল পদক্ষেপ নিয়েছি। এটি আমার সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা বলে বিবেচিত হবে বলে আমি আশা করি। এছাড়া অনুষদের ভিতরে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের গবেষণার ব্যবস্থা করব।
আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং বাংলাদেশের যে ভিশন ও মিশন, সেটা অর্জন করা সম্ভব হবে
-প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার প্রতিনিধিকে বর্ণিল গুণাবলির কর্মযোগী ব্যক্তিত্ব প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে জানি এবং দেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখে আসছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় ১০০ বছর হতে চললো ঢাবি’র। জাতি গঠনে, ভাষা আন্দোলনে, স্বাধীনতা যুদ্ধে, দেশের উন্নয়নে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বা কোনো না কোনোভাবে জড়িত। দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যারা আছেন, তারাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক দায়িত্ব পালনে যারা মুখ্য ভূমিকা পালন করেন, সেই শিক্ষকরা আমাকে নির্বাচিত করায় তাঁদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব অনেক বড়। দায়িত্বের প্রথমেই পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মান-মর্যাদা রক্ষা করা, সেই সাথে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সাথে বাংলাদেশের উন্নয়নে কি করা যায় তার পরিকল্পনা তৈরি করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করা। আমরা সেভাবেই কাজ করব। আমাদের প্রেসিডেন্ট এবং অন্যান্য নির্বাচিতদের সাথে বসে আগামী মাসেই যখন আমরা দায়িত্ব নিব, তখন আমরা এক বছরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করব। যেসব প্রতিজ্ঞাগুলো আমরা ইলেকশনে বলেছি, সেগুলো কিভাবে ফুলফিল করা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা করব। অতিরিক্ত কিছু পরিকল্পনাও আমাদের মাথায় আছে, সেগুলো নিয়েও কাজ করা হবে। আশা করি, আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং বাংলাদেশের যে ভিশন ও মিশন, সেটা অর্জন করা সম্ভব হবে।
ঢাকসু নির্বাচন কেন হচ্ছে না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকসু নির্বাচন চায় না এমন কেউই নেই। কিন্তু নির্বাচনের জন্য কিছু ইস্যু থাকে, আগের সময়ের পরিস্থিতি এবং এখনকার পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখবেন, আমাদের যে বেসিক লক্ষ্য- শিক্ষা প্রদান, সেটিই ব্যাহত হচ্ছিল। আমরা ভালো করতে গিয়ে খারাপ হয়ে যায়, এমন সিচ্যুয়েশন হয়েছে। ছুটি-ছাটা, বন্ধ, মারপিট, হত্যা ইত্যাদি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনই হয়ে গিয়েছিল যে, আমাদের যে মূল দায়িত্ব শিক্ষা প্রদান- সেটাই করতে পারছিলাম না। আমিও ডাকসু নির্বাচনের পক্ষে, সবাই আমরা ডাকসু নির্বাচন চাই। কিন্তু সেটার জন্য যে পরিবেশ থাকা দরকার, সেটার দিকে লক্ষ্য রাখছে কর্তৃপক্ষ। যখনই আমরা মনে করবো যে সেরকম পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তখনই ডাকসু নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মনে করি। তবে সেজন্যে আমাদের বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না, সেরকম একটা পরিবেশ শীঘ্রই তৈরি হয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। কর্তৃপক্ষও সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ