বিশেষ খবর

ক্যাম্পাস পরিচালিত ইংলিশ কোর্স এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বায়রা’র প্রেসিডেন্ট বেনজীর আহমেদ

ক্যাম্পাস ডেস্ক ক্যাম্পাস’র অনুষ্ঠান
img

গত ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় ক্যাম্পাস পরিচালিত ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স ফর লিডারশিপ এর ২৩তম ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ডায়নামিক শিক্ষাদ্যোক্তা, কল্যাণকামী রাজনীতিবিদ, উদারপ্রাণ সমাজসেবী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) এর প্রেসিডেন্ট বেনজীর আহমেদ।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) এর মহাসচিব ড. এম হেলাল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রথম নির্বাহী পরিচালক ও সরকারের সাবেক যুগ্মসচিব এম এ রশিদ খান; এনএসআই’র সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক, সমাজ-সংস্কৃতি ও শিক্ষার উন্নয়নে নিবেদিত এম সামছুল আমিন; সরকারের উপ-সচিব আব্দুল্লাহ মাসুদ; ক্যাম্পাস’র ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স এর রিসোর্স পারসন এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া; কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোস্তফা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথিকে পুষ্পমাল্যে বরণ করা হয় এবং উপহার হিসেবে অর্পণ করা হয় ক্যাম্পাস’র জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, আত্মোন্নয়ন ও জাতি জাগরণমূলক বিভিন্ন বইয়ের সেট, ক্যাম্পাস’র নিজস্ব গবেষণায় প্রকাশিত ২টি মডেল, বিভিন্ন সিডির সেট ও স্যুভেনির।
জনশক্তি রপ্তানিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত, সংগ্রামী বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদকে ক্যাম্পাস’র সম্মাননা ক্রেস্ট অর্পণ করেন সিএসডিসি’র মহাসচিব ড. এম হেলাল।
ইংলিশ কোর্সে অংশগ্রহণকারীরা যেন স্মার্ট এন্ড গ্লোবাল ইয়থ জেনারেশনরূপে গড়ে উঠতে পারে, সে কামনায় প্রধান অতিথির হাতে আশা-জাগানিয়া মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। এরপর এ কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় এবং উদ্বোধন শেষে শুরু হয় বক্তৃতাপর্ব।
বেনজীর আহমেদ
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত, সংগ্রামী বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদ বলেন- ক্যাম্পাস’র অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে আমি অত্যন্ত সন্তোষবোধ করছি। আমাকে আপনারা এতবেশি সম্মানিত করেছেন যে, আজকের দিনটি আমার জন্য বিশেষ দিন। তিনি বলেন- আমার জীবনে কী সাফল্য লাভ হয়েছে, সে বিষয়ে আমি ভাবি না; তবে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছি, জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি, অবশেষে যুদ্ধে জিতেছি এবং বিজয়ীর বেশে ফিরে এসেছি। এটাকে আমি জীবনের বড় সাফল্য বলে মনে করি।
বেনজীর আহমেদ বলেন- আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজি শেখার যে কোর্স ক্যাম্পাস চালু করেছে, তা একটি মহতী উদ্যোগ। ইংরেজি ভাষা যে কত প্রয়োজনীয়, তা বিদেশে সেমিনার, সিম্পোজিয়া, সম্মেলনে যোগদান করে সম্যক বুঝেছি। ভাষাজ্ঞান থাকার কারণে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে। আমার সংস্থা বায়রাও ইংরেজি ভাষার উপর জোর দিয়ে থাকে। কারণ আমরা বিদেশে যে জনশক্তি রপ্তানি করে থাকি -তাদের অধিকাংশই অদক্ষ, ইংরেজিতে ভালো জ্ঞান নেই। তাই এদেরকে বিদেশে অড জব করতে হয়। বেতনও তেমন উল্লেখযোগ্য পায় না। বিদেশে জনশক্তির বেশ চাহিদা রয়েছে, কিন্তু ইংরেজি জানা না থাকায় আমরা সে সুযোগ নিতে পারছি না। ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ব্যাপারে ক্যাম্পাস’র মতো আরও প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসা উচিত।
ক্যাম্পাস’র প্রাণপুরুষ ড. এম হেলালের নেতৃত্বে ক্যাম্পাস’র ডায়নামিক কর্মসূচি দেশ ও জাতির উন্নয়নে যে ভূমিকা রাখছে, তা অন্য উদ্যোক্তাদেরকেও উৎসাহিত করবে। স্টাডি সেন্টার নামের যে প্রকল্পটি ক্যাম্পাস শুরু করেছে, তা সমাজ ও জাতীয় জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করবে। এ স্টাডি সেন্টার শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো ছড়াবে, জাতিকে আলোকিত করে তুলবে -এ বিষয়ে আমি আশাবাদী। তাই এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কল্যাণকামী বিত্তবানদের উদারহস্তে সহযোগিতা করা উচিত। আমি ক্যাম্পাস’র অভিভাবক-পৃষ্ঠপোষক সদস্যপদ গ্রহণ করার মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করব। আমার এলাকা ধামরাইয়ে ক্যাম্পাস শিক্ষামূলক কোনো প্রকল্প গ্রহণ করলে আমি জমি দান করে সহযোগিতা করব।
এম এ রশিদ খান
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রথম নির্বাহী পরিচালক ও সরকারের সাবেক যুগ্মসচিব এম এ রশিদ খান বলেন- আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় নেতৃত্বে রয়েছেন। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান বায়রা’র তিনি সভাপতি। শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি ছাত্র-যুবকদের উদ্বুদ্ধ করতে এসেছেন, এজন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ। রশিদ খান বলেন- ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠান আমাকে খুব আকর্ষণ করে। তাদের ডাকে সাড়া না দিয়ে পারি না। ক্যাম্পাস’র কার্যক্রম দেশ ও জাতির উন্নয়নে নিবেদিত। শিক্ষা ও যুব উন্নয়নে নিবেদিত প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাস তার কার্যক্রম আরও ব্যাপক পরিসরে ছড়িয়ে দিতে ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিসহ সমাজের উদারপ্রাণ বিত্তশালীগণ এগিয়ে আসবেন বলে আমি আশা করি।
এম সামছুল আমিন
এনএসআই’র সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক, সমাজ-সংস্কৃতি ও শিক্ষার উন্নয়নে নিবেদিত এম সামছুল আমিন বলেন- ড. এম হেলাল ছাত্র-যুব উন্নয়নে অসাধারণ কাজ করে চলেছেন। দু’টি আকর্ষণীয়, রুচিশীল পত্রিকা ৩০ বছরের উপর অব্যাহত রেখে তিনি প্রকাশনা শিল্পে রেকর্ড স্থাপন করেছেন। তিনি বলেন- আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দেশপ্রেমী, বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি দেশের টানে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়েছেন; এখন দেশের উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। আমি বিশ্বাস করি, তাঁর মতো দেশপ্রেমী ক্যাম্পাস’র কল্যাণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলে তা দেশ ও জাতির উন্নয়নে ব্যাপক ফলপ্রসূ হবে।
আব্দুল্লাহ মাসুদ
সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ মাসুদ বলেন- ক্যাম্পাস’র মাল্টিডায়মেনশনাল কর্মসূচি সময়ের চাহিদা মেটাচ্ছে, দেশকে লাইট হাউজের মতো পথ দেখাচ্ছে। তাই ক্যাম্পাস’র কর্মসূচিতে আমাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন।
এডভোকেট মোঃ গোলাম কিবরিয়া
ক্যাম্পাস’র ফ্রি ইংলিশ কোর্সের রিসোর্স পার্সন এডভোকেট মোঃ গোলাম কিবরিয়া বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি একজন ব্যস্ত মানুষ। তাঁর সংস্থা দেশের সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখছে। তিনি গর্বিত পিতার সন্তান। তাঁর ৪ ভাইয়ের মধ্যে ৪ জনই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। এ ধরনের ঘটনা বিরল।
ক্যাম্পাস’র ইংলিশ কোর্স সম্পর্কে এডভোকেট কিবরিয়া বলেন- প্রথমে এ কোর্স ১৮ জনকে দিয়ে শুরু করতে হয়েছিল; আর এখন স্থান সংকুলান হয় না বলে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পরবর্তী ব্যাচের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আর এখানে শুধু ইংরেজি শিক্ষাই দেয়া হয় না, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। ক্যাম্পাস কার্যক্রমকে আরো ব্যাপক পরিসরে ছড়িয়ে দিতে উত্তরায় ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আগামীর বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। তাই এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করি।
ড. এম হেলাল
সিএসডিসি’র মহাসচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল বলেন- আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়ে ফিরে এসেছেন। রাজনীতিতেও তিনি স্বচ্ছতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান বায়রা’র তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করে দেশের অর্থনীতিকে পুষ্টিদান করছেন।
ড. হেলাল বলেন- ছাত্র ও যুব উন্নয়নে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে ক্যাম্পাস, যার অন্যতম কর্মসূচি ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স ফর লিডারশিপ। এর মাধ্যমে ছাত্র-যুবকদেরকে Smart & global youth genaration রূপে গড়ে তুলছে ক্যাম্পাস। এছাড়াও যুগোপযোগী নানা কর্মসূচি পরিচালনা করে সার্টিফাইড ছাত্র-তরুণদের কোয়ালিফাইড করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ক্যাম্পাস’র কর্মসূচি ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে জোরদার করছে। এসব কর্মসূচিকে আরো গতিশীল করতে আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিসহ সমাজের উদারপ্রাণ বিত্তশালীগণ তাঁদের সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করবেন বলে আশা করি।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ