ইন্দোনেশিয়ার বালি থেকে দেশে ফেরার পথে ডেনপাসার এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন পার হচ্ছিলাম। বিভিন্ন লাইনে দাঁড়ানো নানা দেশের, নানা জাতের, নানা বর্ণের মানুষ" /> নিজ দেশে আমরা বীরের জাতি, কিন্তু অন্য দেশে!
বিশেষ খবর

নিজ দেশে আমরা বীরের জাতি, কিন্তু অন্য দেশে!

ক্যাম্পাস ডেস্ক বিশেষ নিবন্ধ
img

ইন্দোনেশিয়ার বালি থেকে দেশে ফেরার পথে ডেনপাসার এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন পার হচ্ছিলাম। বিভিন্ন লাইনে দাঁড়ানো নানা দেশের, নানা জাতের, নানা বর্ণের মানুষ; যারা হলিডে কাটাতে ট্যুরিজমের প্যারাডাইজ বলে খ্যাত বালি দ্বীপে এসেছিল। স্ত্রী ড. নাজনীন ছাড়া আমার আশপাশে বাংলাদেশি এমনকি ইন্ডিয়ান কাউকে চোখে পড়ছিল না। আমাদের লাইনে আগে-পিছে অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মানুষ।
স্ত্রীসহ বিদেশ সফরে গেলে সাধারণত আমার কাজ হচ্ছে ভবঘুরের মতো ঘুরে ঘুরে নিত্যনব বিষয় পানে তাকিয়ে থাকা; আর স্ত্রীর কাজ হচ্ছে ট্রাভেল প্ল্যান ও তৎসংক্রান্ত সেটেলমেন্ট এবং এয়ারপোর্টে চলাচলে উদ্যোক্তা, গাইড, পিএস, পিএ সব দায়িত্ব পালন করা। বিশ্বভ্রমণে আমার আগে তার বের হওয়ার কারণে এসব বিষয়ে হ্যাসেল সহ্য করার ধৈর্য ও অভিজ্ঞতা তারই বেশি বিধায় এটি আমাদের মধ্যকার এক অলিখিত চুক্তি। সেজন্যই ডেনপাসার পোর্টেও ইমিগ্রেশন লাইনে স্ত্রীর পেছনে দাঁড়িয়ে অন্য লাইনে জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের উচ্ছল দুষ্টুমি উপভোগ করছিলাম।
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার ডেস্কের সম্মুখে লেখা ছিল One by one passport please.
প্রতিটি পাসপোর্ট ডিসপোজাল হচ্ছিল ৫/১০ সেকেন্ডে। আমাদের পালা এলে ড. নাজনীন এগিয়ে যায় এবং ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাকে পাসপোর্ট দেখায়। ‘বাংলাদেশ পাসপোর্ট’ দেখেই কর্তাটি অতি কৌতুহলী ও অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে পাসপোর্টধারী তথা নাজনীন’র দিকে তাকায় এবং জিজ্ঞেস করে তোমরা কতজন? তোমার সাথে আর কেউ আছে?
স্ত্রী পেছন ফিরে আমাকে দেখায়। কর্তাটির চোখে-মুখে সতর্কতা জেগে ওঠে; তটস্থ হয়ে ডেস্ক থেকে উঠে এসে সবার সামনে দিয়ে আমাদেরকে লাইন থেকে বের করে পেছনে নিয়ে যায় এবং পাসপোর্ট সমেত সোপর্দ করে অনতিদূরে ইমিগ্রেশন কক্ষে থাকা সিনিয়র দু’কর্তার নিকট। তারা আমাদের বসতে বলে পাসপোর্ট নিয়ে আরো ঊর্ধ্বতনের কাছে যায়। বিভিন্নদেশী যাত্রীদের লাইনের সম্মুখ থেকে কেবল বাংলাদেশি আমাদের দু’জনকে যেভাবে পেছনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তাতে আমরা কোনো অপরাধী নই বলে নিজেরা নিশ্চিতভাবে জানলেও অন্য যাত্রীরা হয়ত আমাদেরকে সন্দেহজনক অপরাধী বলেই দেখছিল।
এ অভিজ্ঞতা আমার নিকট নতুন, যদিও অনেক বাংলাদেশির নিকট এরূপ বিব্র্রতকর ও অনভিপ্রেত পরিস্থিতির কথা শুনেছি বহুবার। তাই নিজের ব্রেইনকে বিব্রতবোধের নেগেটিভ আইডিয়া তৈরি করতে না দিয়ে বরং পজিটিভ আইডিয়া তথা আগামীর বাঙালি-ক্ষমতার Imaginary Power সঞ্চয়নের চেষ্টা করছিলাম। স্ত্রী আমাকে প্রবোধ দিয়ে বলে এটিতো আমাদের ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নয়; এটি দেশগত বা জাতিগত বিষয়; এতে আমাদের বিব্রত কিংবা চিন্তিত হবার কিছু নেই। কোনো দোষ দেখিয়েতো তারা আমাদেরকে এখানে বসিয়ে রাখেনি; এমনকি কিছু জিজ্ঞাসাও করেনি, পাসপোর্টের ওপর বাংলাদেশের নাম দেখলেই এয়ারপোর্টে কর্মকর্তাদের চোখ-কান যেন খাড়া হয়ে যায়। আমাদের ব্যক্তিগত কোনো ত্রুটিতে তারা এরূপ করলে তাতে আমাদের বিচলিত হবার কথা..।
বিব্রত স্ত্রীর সাহস সঞ্চারী কথার ফাঁকে বললাম আমার দেশের প্রতি তাদের এ জঘন্য এটিচিউডের মানে কি আমার প্রতি ভালো এটিচিউড? এদের এরূপ নেগেটিভ এটিচিউড তৈরি হবার দায় বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে কি আমারও নেই?
মিনিট ৭/৮ পর ইমিগ্রেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাদের কাছে এসে সিলসহ পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়ে বলে যাও; তোমাদেরকে পুনরায় ইমিগ্রেশন লাইনে দাঁড়াতে হবে না, ফার্স্ট ক্লাস বা ক্রুদের লাইন দিয়ে ফরোয়ার্ড হও। তাদের সন্দেহের কারণে আমাদের যে ৭/৮ মিনিট সময় নষ্ট হয়েছে, সে ক্ষতি পুষিয়ে দিতেই হয়ত এ কমপ্লিমেন্ট। এটি তাদের সৌজন্যতা ও মানবতাবোধের পরিচয়।
ইন্দোনেশিয়ান ইমিগ্রেশন কর্তাদের প্রথম ও শেষ এটিচিউড দেখে ধারণা করলাম তারা হয়ত পরীক্ষা করে বুঝেছে যে, আমরা কেবলই ভবঘুরে ট্যুরিস্টরূপে নয়, ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কশপের পার্টিসিপেন্ট বা গেস্টরূপে এসেছি। তাছাড়া আমাদের একেকজনের ট্রিপল পাসপোর্টে ইউরোপ-আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশের বহু ভিসা ও ইমিগ্রেশন সিল দেখে তথা নানা দেশ ভ্রমণের কথা বুঝতে পেরে এবং পেশা ও পাসপোর্টের ক্যাটাগরি দেখে হয়ত আমাদের আর কিছু জিজ্ঞেস করেনি।
তাদেরকে থ্যাঙ্কস বলে বেরিয়ে সম্মুখে চলতে চলতে অনেকক্ষণ পর্যন্ত আমরা দু’জন কেউ কাউকে কিছু বলতে পারলাম না। এ এক অনাকাঙ্খিত ট্র্যাজেডি!  যারা ‘বীরের জাতি’ পরিচয়ে বক্তৃতা ও লেখায় খই ফোটাই, সে জাতির সদস্যদের অন্য দেশে এমন দশা! কতকাল অবধি চলবে আমাদের এ অসহায়ত্ব?
পৃথিবীর বহু এয়ারপোর্টে On Arrival Visa পদ্ধতি চালু রয়েছে, যার ফলে ঐ দেশে যাত্রার পূর্বে ভিসা সংগ্রহের হ্যাসেলে পড়তে হয় না ভ্রমণকারীকে। সে দেশের এয়ারপোর্টে নেমে ইমিগ্রেশন  ডেস্কে  পাসপোর্ট  রাখলেই  ভিসা লেগে যায়। অথচ সেসব এয়ারপোর্টে যে গুটিকতক দেশের নাগরিকরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত, তন্মধ্যে বাংলাদেশও একটি।
বিভিন্ন দেশ থেকে বালি দ্বীপে যারা নিছক হলিডে উপভোগ করতে এসেছে, তারা ব্যক্তিগতভাবে ভালো কি মন্দ সে বিবেচনায় না পড়ে কেবল দেশের নামের বদৌলতেই পগারপার। অথচ আমরা যারা তাদেরই আমন্ত্রিত অতিথিরূপে অফিসিয়াল কাজে তথা ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কশপে এসেছি, কেন তাদের এ দুর্দশা? এ দুর্নাম-দুর্গতি আর কত দিন? আর কত কাল?

আমাদের পূর্ব-পুরুষদের নানা বঞ্চনার কথা অতীত ইতিহাসে পড়েছি, বর্তমানেও নিজেরা বঞ্চনা ভোগ করে চলেছি। বঞ্চনার এ ধারাবাহিকতা কি ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে? অতীত বঞ্চনার জন্য আমরা তথা বর্তমান এ প্রজন্ম মোটেও দায়ী নই। কিন্তু ভবিষ্যতের বঞ্চনার জন্য উত্তরসূরীরাতো আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই ক্ষমাহীন ক্ষমায় অনেকেই ক্ষমা পেয়ে গেলেও আমি কিন্তু সেই ক্ষমাপ্রার্থী হতে চাই না। তাইতো আমাদের মতোই উন্নয়নশীল এবং মুসলিম প্রধান দেশ হয়েও ইন্দোনেশিয়ার এয়ারপোর্টে আমার দেশের অবমূল্যায়ন ও অবমাননার প্রতিবাদে নগণ্যের এ লেখা।
বিশ্বপরিসরে আমরা বিশেষ তালিকাভুক্ত জাতি, সেখানে কাজের কাজী হতে না পারলেও নিজ দেশে ফুটানি ও বাহাদুরির তর্জন গর্জনে আমরা বেশ পারঙ্গম। অর্থাৎ ‘গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল’ এ আত্মঅহংকারের অভিশাপ থেকে কেউ নিষ্কৃতি না চাইলেও আমি কিন্তু চাই।
অনেক বীর-বাঙালি এরূপ ঘৃণা ও অপমানজনক আচরণের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারলেও আমি পারছি না। একদিকে দেশগত ব্যাপার বলে বিদেশি তল্লাশী ও নিরাপত্তা রক্ষীদেরকে জোর প্রতিবাদ করতে পারছি না, অন্যদিকে এ অনাহুত অপমানও সহ্য করা যায় না। তাই ডেনপাসার থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত প্লেনে বসে সিদ্ধান্ত নিলাম, সিঙ্গাপুরের চেঙ্গী এয়ারপোর্টে কয়েক ঘন্টার ট্রানজিট টাইমে স্ত্রীকে চোখ ধাঁধানো শপিং মলে রেখে তার থেকে ঘন্টাখানেক ছুটি নেব এবং কাগজ যোগাড় করে পাঠকের সাথে এ বিষয়টি শেয়ার করব। তা না করা পর্যন্ত আমার মনন ও বিবেকের যেন স্বস্তি নেই।
মনোমুগ্ধকর সিঙ্গাপুরের ততোধিক মনোহারী চেঙ্গী এয়ারপোর্টের সাথে আমাদের ঢাকাই এয়ারপোর্টের এবং স্টার এয়ারলাইন্স গ্রুপের অন্যতম সদস্য সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সাথে বাংলাদেশ বিমান তথা বিবি’র তুলনামূলক আলোচনা করেছি আমার লেখা ‘ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতির সন্ধানে, বাংলাদেশ ও বিশ্ব অধ্যয়ন’ বইয়ে। তাই পুনরায় সে ট্র্যাজেডিতে না গিয়ে পাঠকের সাথে আজকের জীবন্ত ট্র্যাজেডির শেয়ারিংয়েই আমার এ লেখা।    
প্রিয় পাঠক, দয়া করে আপনারাই বলুন এ লজ্জা কি শুধু আমার একার? নাকি আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতৃবৃন্দসহ সকল নাগরিকের? যদি আমার একারই হয়, তাহলে তা সংশোধনে আপনাদের পরামর্শ চাইব। আর যদি এটি আমাদের সকলের লজ্জা তথা জাতির লজ্জা ও দেশের অবমাননা হয়, তাহলে আমি জানতে চাইব কবে পরিত্রাণ পাব এ লজ্জা থেকে? এ প্রশ্নের উত্তর আছে কি কারুর কাছে?   
যেদেশে জাতীয় নেতাদের হত্যা চলে অবলীলায়, যেখানে হত্যার বিচার নিয়ে চলে রাজনীতি, যেখানে আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার দুর্বল, উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণও হয় কুরুক্ষেত্র, খুনের মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত ফাঁসির আসামীও ক্ষমা পেয়ে যায়; যেখানে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের নাম পরিবর্তন ও পাল্টা পরিবর্তন নিয়ে চলে তুঘলকি; যেখানে মানুষকে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় দুর্বিষহ যানজটে এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা মূল্যবান জ্বালানীর অযথা অপচয়সহ প্রত্যেক নাগরিকের প্রতিদিন অন্ততঃ ৩/৪ ঘন্টা সময়ের অপচয় হয়; যে জাতির শীর্ষ নেতাগণ সর্বদা পল্টনের পাল্টাপাল্টিসহ বিদেশ-বিভূঁয়ে গিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে গালমন্দ করেন এবং স্বদেশি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নালিশ করেন বিদেশিদের কাছে, রাজনীতিবিদগণের মধ্যে সৌজন্যবোধ ও স্বচ্ছতা চর্চার অভাব, একের বিরুদ্ধে অন্যের ভাষা এরূপ দানব সরকার, পুরো রাষ্ট্র গিলে খাচ্ছে, জালেম সরকারের হাত থেকে দেশ রক্ষা করুন, বিরোধী দল দেশকে গুন্ডারাষ্ট্র বানাতে চাইছে; যেদেশে সত্য মানার বা ভুল স্বীকারের সংস্কৃতি নেই নেতা-নেত্রীর মধ্যে, নেতা বা মন্ত্রীর বারংবারের ব্যর্থতায়ও পদত্যাগ নেই, এমনকি কোনো দুঃখ প্রকাশও নেই বরং নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর ফন্দি ফিকিরে ও তর্কযুদ্ধে লেগে থাকেন; যেখানে আইন-শৃঙ্খলার রক্ষকরা ভক্ষকে পরিণত এবং তারা জনগণের কাছে সেবক না হয়ে ঘাতকরূপে অবতীর্ণ; যেখানে দুর্নীতি-ভেজাল ও খাদ্যে বিষ-সংস্কৃতিতে ছেয়ে গেছে পুরো দেশ সেখানে, সেদেশে আমূল পরিবর্তনের বৈপ্লবিক কর্মসূচি ব্যতীত আধুনিক বিশ্বের উন্নয়ন গতির সাথে পাল্লা দেয়ার গল্প মরীচিকা মাত্র।

মানবতা ও কল্যাণ দর্শনে উজ্জীবিত হয়ে অধিকাংশ দেশ ও জাতি যখন জ্ঞান-বিজ্ঞান অবলম্বনে উন্নতির চরম শিখরে, এমনকি ২০/৩০ বছর পূর্বে আমাদের দেশের ন্যায় গরিবরাও উন্নয়ন প্রগতিতে গতিশীল ও দ্রুত ধাবমান তখন আমার ন্যায় হতভাগাদের লিডাররা ব্যক্তি ও পরিবারের ক্ষমতায়ন-দ্বন্দ্বে লিপ্ত। অধিকন্তু ক্ষমতাসীন নেতা দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যখনই কোনো কাজ করেন বা কর্মসূচি ঘোষণা করেন, ক্ষমতার বাইরে থাকা নেতা ততোধিক ক্ষমতার আস্ফালনে অনতিবিলম্বে পাল্টা ঘোষণা দিয়ে দেন আমি ক্ষমতায় গেলে এই সরকারের এ কাজ বা ঐ কর্মসূচি বাতিল করে দেব, পরিবর্তন করে ফেলব, ছুঁড়ে ফেলব, ডাস্টবিনে ফেলে দেব... ইত্যাদি।
এসব বিদ্বেষ ও বিরোধের আচরণে বিদেশিরা বুঝে নিয়েছে যে আমরা যতটা না Constructive, তার চেয়ে ঢের বেশি Destructive. আমরা যতটুকুন প্রোএকটিভ বা পজিটিভ এটিচিউডের চর্চা করি, তার চেয়ে ঢের বেশি রিএকটিভ ও নেগেটিভ এটিচিউড লালন করি।
ক্ষমতাসীনরা বোঝেন না যে আমাদের এগুতে হবে সবাইকে নিয়ে, সুদীর্ঘ পরিকল্পনায় এবং সুশাসনের মাধ্যমে। আবার বিরোধীরাও বোঝেন না যে হরতালের ঘোষণা দিয়ে দৈনিক ৫ হাজার ৫শ’ ৪৬ কোটি টাকার (ইউএনডিপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী) যে ক্ষতি তারা করেন, জাতীয় সে ক্ষতির মধ্যে তাঁদের নিজেদের ব্যক্তি ও পরিবারের সুদূরপ্রসারী ক্ষতিও অন্তর্ভুক্ত। এও বোঝেন না যে হরতাল ডেকে যদি সকল জনকার্যক্রম বন্ধ করে সরকার ও জনগণকে জিম্মি করে দেই, তাহলে আমরা ক্ষমতায় গেলেওতো প্রতিপক্ষ এই একই কৌশল আমাদের ওপর প্রয়োগ করবে। প্রোএকটিভ এটিচিউডের কৌশল দ্বারা পরিবেশ জয়ের শিক্ষা ক্ষমতাসীন বা বিরোধী দলের নেই বলে প্রতীয়মান। ধৈর্য ধরে, ঠান্ডা মাথায়, প্রোএকটিভ এটিচিউডের কর্মকৌশলে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার যোগ্যতা বা ক্ষমতা আমাদের রাজনীতিবিদদের মধ্যে তেমন পরিলক্ষিত হয় না। ক্ষমতা বদল হচ্ছে, কিন্তু এটিচিউডের বদল হচ্ছে না।
পারস্পরিক বিবাদ-বিসংবাদে লিপ্ত এ নেতারা যখন বিদেশ সফরে যান, তখন ঐসব দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির যে বর্ণিল চিত্র তাঁরা নিজ দেশের ব্যয়ে, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়, সপরিবারে ও সদলবলে উপভোগ করেন সে উন্নয়নের জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা  তাঁরা  স্বদেশে  ফিরে  কেন  যে বাস্তবায়ন করেন না, নিজের এ প্রশ্নবানে জর্জরিত আমি নিজেই। এর উত্তর মিলছে না কিছুতেই। এটি কি শ্রদ্ধেয় নেতাদের স্বাভাবিকতা নাকি অস্বাভাবিকতা?
প্রিয় পাঠক, দয়া করে বলবেন কি আমার অনুরূপ প্রশ্ন কি অস্বাভাবিক, নাকি জন-উন্নয়নের নামে দলীয় উন্নয়ন ও আত্মঅহংকারের এ প্রতিযোগিতা অস্বাভাবিক? গরম মাথার অশালীন আচরণ, চ্যাঁচামেচি ও অস্থির প্রতিযোগিতার অবসান হয়ে কবে এ দুর্ভাগা জাতি সুস্থির, দূরদর্শী ও সঠিক নেতৃত্ব লাভ করবে? সেজন্য বন্দরে বন্দরে ঘুরে আওড়াতে থাকি ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন; আল্লাহুম্মাফ তাহলী আওয়াবা রাহমাতিকা...। প্রার্থনায়ও বলি হে আল্লাহ, আমাদের সব ভুল ক্ষমা করে দাও, এ অসহায়ত্ব থেকে উদ্ধার করো, আমার দেশ ও জাতির ওপর তোমার খাস রহমত বর্ষণ করো, আমিন।  
হয়ত এরূপ এক অনুভূতিতে পড়েই কবি ফররুখ আহমদ ‘পাঞ্জেরি’ কবিতায় লিখেছিলেন
    রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
    এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
    সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?...
    দীঘল রাতের শ্রান্তসফর শেষে
    কোন্্ দরিয়ার কালো দিগন্তে আমরা পড়েছি এসে?..
    বন্দরে বসে যাত্রীরা দিন গোনে,
    বুঝি মৌসুমী হাওয়ায় মোদের জাহাজের ধ্বনি শোনে,..
    শুধু গাফলতে শুধু খেয়ালের ভুলে,
    দরিয়া- অথই ভ্রান্তি- নিয়াছি ভুলে,
    আমাদেরি ভুলে পানির কিনারে মুসাফির দল বসি
    দেখেছে সভয়ে অস্ত গিয়াছে তাদের সেতারা, শশী।
    মোদের খেলায় ধুলায় লুটায়ে পড়ি।
    কেটেছে তাদের দুর্ভাগ্যের বিস্বাদ শর্বরী। ..
    পাঞ্জেরি!
    জাগো বন্দরে কৈফিয়তের তীব্র ভ্রুকুটি হেরি,
    জাগো অগণন ক্ষুধিত মুখের নীরব ভ্রুকুটি হেরি!
    দেখ চেয়ে দেখ সূর্য ওঠার কত দেরি, কত দেরি!!
সুধী পাঠক, বিশ্ব-উন্নয়নের সাথে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির তুলনা করতে গিয়ে ইতিপূর্বেও আমি লিখেছিলাম বর্তমান গতিতে চলতে থাকলে যেদিন বাংলাদেশ উন্নত হবে, সেদিন বিশ্বে আর কোনো দেশই গরিব থাকবে না। তাই মিথ্যে আত্মপ্রসাদে গা না ভাসিয়ে বরং প্রকৃত উন্নয়নের মহাপরিকল্পনায় আমাদের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার নেশায় প্রোএকটিভ বাংলাদেশ ও প্রোটেক্ট বাংলাদেশ কর্মসূচি এবং দেশ ও জাতি জাগানিয়া গান ফেরি করে ফিরছি ক্যাম্পাস’র ব্যানারে (www.campus.org.bd)।  
প্রোএকটিভ বাংলাদেশ সেমিনারসহ ক্যাম্পাস’র বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রাণিত করুন ক্যাম্পাস কর্মীদের, শানিত করুন আপনার নাগরিক অধিকার।
আসুন, ২০২০ সালের মধ্যে অত্যাধুনিক বাংলাদেশ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও আলোকিত জাতি গঠনে ক্যাম্পাস’র প্রণীত মডেল ‘জাতীয় সকল সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ইউনিয়নভিত্তিক উন্নয়ন মডেল’ (www.helal.net.bd/model.php) বাস্তবায়ন করি। ১৬ কোটি বাঙালি সৈনিক প্রোএকটিভ ও পজিটিভ এটিচিউড নিয়ে বিশ্বের বুকে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার নতুন শপথ নিই।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ