বিশেষ খবর

ক্যাম্পাস’র ৩৪ বছরে পদার্পণ - বিশিষ্টজনের মতামত

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রচ্ছদ প্রতিবেদন
img

শিক্ষা ও যুব উন্নয়নে নিবেদিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনে তার কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে; তাছাড়া প্রকাশনার ৩৪ বছরে পদার্পণ করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ পত্রিকা প্রকাশনার ২৫ বছরে পালন করেছে রজত জয়ন্তীর আনন্দানুষ্ঠান; নিয়েছে লক্ষ্যে পৌঁছানোর বলিষ্ঠ শপথ।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি), যার মাধ্যমে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে বিভিন্ন মাল্টিডায়মেনশনাল কর্মসূচি। মাতৃসংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে নিজস্ব গবেষণা কার্যক্রম এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক জাতি জাগানিয়া কর্মসূচি।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকাকে অনেক বাধা, প্রবল প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এগিয়ে যেতে হয়েছে সামনের দিকে। কিন্তু ক্যাম্পাস তাতে দমে যায়নি। আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে এগিয়ে গেছে দীপ্ত পদভারে। বিভিন্নমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছাত্র-যুব সমাজের মাঝে প্রোএকটিভ ও পজিটিভ এটিচিউড এর মানুষ গড়ে চলেছে, তাদের মন থেকে দূর করছে নেতিবাচক চিন্তা; ক্যাম্পাস যুব সমাজের সামনে তুলে ধরছে স্বপ্নের বিশাল ক্যানভাস। বিশ্বায়নের প্রতিযোগিতায় যুব সমাজকে যোগ্য করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডায়নামিক কম্পিউটার ট্রেনিংয়ের আয়োজন করেছে, পরিচালনা করছে ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স ফর লিডারশিপ।
শিক্ষানবীশ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাস তার সমাজ সচেতনতামূলক, জাতিজাগানিয়া কর্মসূচির আওতায় নিজস্ব ক্যালেন্ডার, বিভিন্ন বাণী ও দিকনির্দেশনামূলক উক্তিসহ স্টিকার, লিফলেট, ব্যানার প্রকাশ করছে। পরীক্ষায় নকল, ক্যাম্পাসে ধূমপান ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এবং শ্রেণিবৈষম্যহীন শিক্ষার পক্ষে সোচ্চার হয়েছে। ক্যাম্পাস’র সেসব কল্যাণমূলক কর্মসূচি অনেকটা বাস্তবরূপ লাভ করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে ধূমপান, নকল এখন বিরল প্রায়; সন্ত্রাস মাঝে মাঝে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়। প্রতিরোধের মুখে এটিও একদিন অবলুপ্ত হবে।
ক্যাম্পাস সমাজ, দেশ ও জাতির কাছে দায়বদ্ধ; ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন সমগ্র জাতির স্বপ্ন। ডিজিটাল বাংলাদেশের মহাকর্মযজ্ঞের সাথী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষাঙ্গনে কোয়ালিটি শিক্ষার প্রসার, দক্ষ শিক্ষকের নিযুক্তি নিশ্চিত করার জন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে পরামর্শ রেখে ক্যাম্পাস তার সামাজিক দায়িত্ব পালন করে চলেছে। ৪ দশকে পদার্পণ ক্যাম্পাস’র ধারাবাহিক অগ্রযাত্রার বর্ণিল স্বাক্ষর। ক্যাম্পাস’র ৩৪ বছরে পদার্পণ পত্র-পত্রিকা জগতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এ উপলক্ষে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষাদ্যোক্তা, সমাজসেবী কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার মূল্যায়ন এবং এর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন সম্পর্কে তাঁদের সুচিন্তিত পরামর্শ আহ্বান করা হয়েছিল। যাঁরা সাড়া দিয়েছেন তাঁদের মতামত নিচে তুলে ধরা হলো।


বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রুচিশীল পাঠকের প্রিয় পত্রিকা। উন্নতমানের প্রকাশনায় উত্তরোত্তর সাফল্য একান্তভাবে কাম্য
-মাহবুব জামিল, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা
বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন নিয়ে ভাবনার কথা জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহবুব জামিল বলেন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে, হতাশা যেন গ্রাস করে রেখেছে পুরো অঙ্গন। শিক্ষার হার বাড়ছে, পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এর ছড়াছড়ি, তা দেখেও আমরা আনন্দিত হতে পারছি না; কারণ শিক্ষার গুণগত মান বাড়ছে না। আমাদের এখন এমন শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে, যে শিক্ষার মাধ্যমে দেশে গড়ে উঠবে মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ; যারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নেবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যথাযোগ্য ভূমিকা রাখছে না। তাদের ছাত্র সংগঠনগুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। জাতীয় স্বার্থের চেয়ে তাদের দলীয় স্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে বলে তারা সর্বনাশের পথে এগিয়ে চলেছে। এসব ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না, কলেজ ছাড়িয়ে এখন স্কুলেও ছড়িয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, ছাত্র-রাজনীতি অতীতে একটা লক্ষ্য ও আদর্শকে সামনে রেখে পরিচালিত হলেও বর্তমানে তা থেকে অনেকটা সরে গেছে। তারা প্রভাব বিস্তার, নিজস্ব প্রভাব-বলয় গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন পথে অবৈধ অর্থবিত্ত গড়ে তোলার কাজে নিজেদেরকে জড়িয়ে ফেলছে। বিদ্যার্জন করে মানুষ হওয়া নয়, ছাত্রাবস্থায় কোটিপতি হবার উদগ্র বাসনা ছাত্র-নেতৃত্বকে আদর্শহীন করে তুলছে। শিক্ষাঙ্গনে এ অবক্ষয় রোধ এবং নতুন আশার আলো জ্বালাতে হলে দেশ পরিচালনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে নতুনভাবে ভাবতে হবে; রাজনীতিবিদ, সমাজচিন্তাবিদ, শিক্ষক, গবেষক, বিজ্ঞানী সবাইকে নিয়ে বসতে হবে; আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বের করতে হবে সংকট উত্তরণের উপায়।
গুণগত মানের শিক্ষার প্রচলন অবারিত করতে হলে কী কী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন এমন প্রশ্নে দেশপ্রেমী, সমাজসেবী ব্যক্তিত্ব মাহবুব জামিল বলেন, মানোন্নত শিক্ষকের অভাবের কারণে গুণগত মানের শিক্ষা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না, মেধাবী শিক্ষার্থীও গড়ে উঠছে না আশাতীতভাবে। এজন্য শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়েই আমাদের মনোনিবেশ করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে চিন্তার অবকাশ নাই। শিক্ষান্নোয়নের সমস্যা একটি জাতীয় সমস্যা। শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে হলে, মানোন্নত করত হলে মেধাবী শিক্ষকের ভূমিকা থাকতে হবে। মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশায় নিয়ে আসতে হবে, যাতে শিক্ষাজীবনে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা আরও বিকশিত হতে পারে।
মেধাবী ছাত্ররা শিক্ষকতা পেশাকে কেন আন্তরিকভাবে গ্রহণ করতে পারছে না এমন প্রশ্নে শিক্ষাপ্রেমী, কল্যাণকামী ব্যক্তিত্ব মাহবুব জামিল বলেন, এক সময় মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দের বিষয় ছিল শিক্ষকতা। এখনও যে তারা শিক্ষকতাকে পছন্দ করছে না তা নয়; তারপরও তারা এ পেশায় আসতে ভয় পায়, দ্বিধান্বিত হয়। কারণ সরকারের অন্যান্য ডিপার্টমেন্টে যে সুযোগ-সুবিধা আছে, আর্থিক উন্নতির সুযোগ আছে, সামাজিক মর্যাদা আছে, সেগুলোর কতটুকু শিক্ষকতা পেশায় আছে তা তারা বিচার করে, ভেবে দেখে। তাছাড়া শিক্ষক নিয়োগে দলপ্রীতি, স্বজনপ্রীতি কাজ করে বলে মেধাবী ছাত্ররা শিক্ষকতা পেশায় আসতে চাইলেও সে সুযোগ পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে তাদের হতাশার কারণ অমূূলক নয়, তাই শিক্ষকতা পেশাকে আরও আকষর্ণীয় করে তুলতে হলে এসব ত্রুটি দূর করতে হবে।
ছাত্র-যুবকদের বিপথগামিতা রোধে সমাজে কার কী ভূমিকা রয়েছে, তাদের পথভ্রষ্ট হবার ক্ষেত্রে কারা দায়ী এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্র-যুব সমাজের অমিত সম্ভাবনায় আশাবাদী মানুষ মাহবুব জামিল বলেন, ছাত্র-যুবকদের বিপথগামিতা রোধে পরিবারের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবার থেকে সুশৃংখল জীবনের শিক্ষালাভ করলে পরবর্তীতে তার লাইনচ্যুত হবার সম্ভাবনা কম থাকে। মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর যখন সে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়, তখন মা-বাবার নজরদারি কমে আসে; সেসময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যদি শিক্ষার্থী সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখেন, তাহলে তার বিপথে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে আসে। অন্যদিকে সমাজেরও দায়িত্ব আছে। পাড়া মহল্লায় যদি ছাত্র-যুবকরা মাস্তানি, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, এসিড সন্ত্রাস করে, তাহলে সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করতে হবে। এ অবস্থায় ছাত্র-যুবকরা বখাটেপনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক মূল্যবোধ যদি গড়ে তোলা যায় তাহলে মূল্যবোধের অবক্ষয় থেকে সমাজ রক্ষা পাবে। সমাজে যারা দুর্নীতি করে, মাস্তানি করে, অবৈধভাবে বিত্ত-বৈভবের মালিক হয় তাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখতে হবে, তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। ন্যায়ভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে এমন প্রশ্নে মাহবুব জামিল বলেন, এ ধরনের সমাজ গড়তে হলে বড় ধরনের স্বপ্ন দেখতে হবে। যারা সমাজ-নিয়ন্তা হবেন তাদেরকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে; তাহলেই দেশে-সমাজে পূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু থাকবে, পরমতসহিষ্ণুতা থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ৩৪ বছরে পদার্পণ করেছে- এ পত্রিকার কাছে আপনার প্রত্যাশা এবং এর উন্নয়নে আপনার পরামর্শ কী- এমন প্রশ্নে শিক্ষা ও সংস্কৃতিপ্রেমী ব্যক্তিত্ব মাহবুব জামিল বলেন, পাক্ষিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা মূলত ছাত্র ও যুবসমাজের উন্নয়নে কাজ করলেও এটি সকল শ্রেণির রুচিবান মানুষের পত্রিকা। উন্নতমানের প্রকাশনায় এ পত্রিকা সুদীর্ঘকাল প্রকাশিত হচ্ছে। এ পত্রিকায় নিয়মিত প্রবন্ধ, প্রতিবেদন, মতামত প্রকাশিত হয় যা পাঠক মানসে উন্নত চিন্তার প্রতিফলন ঘটায়। এ পত্রিকার সম্পাদক এবং তাঁর সহযোগীগণ পত্রিকার উন্নয়নে তাদের শ্রম, মেধা ও সময় ব্যয় করে একে সংবাদপত্র জগতে এক উন্নত আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সেজন্য তাদের অভিনন্দন। এ পত্রিকায় অনেক বিভাগের সাথে খেলাধুলা বিভাগও যোগ করা যেতে পারে। আমি এ পত্রিকার উত্তরোত্তর সাফল্য এবং ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা কামনা করি।

জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ায় ক্যাম্পাস’র দীর্ঘদিনের আন্দোলন সফল হোক
-প্রফেসর ড. এম আর খান, ভাইস-চ্যান্সেলর, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন নিয়ে আপনি কতটুকু আশাবাদী? আগামীর শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন কীরূপ দেখতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর এম আর খান বলেন, অতীতে প্রকৃতির বুকে গাছের ছায়ায় পাঠদান করতেন পন্ডিতরা। এ যুগেও শিক্ষাঙ্গন বড় একটা সমস্যা নয়, শিক্ষা ব্যবস্থার দিকেই আমাদের নজর দিতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করে একে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে এটি সময়ের চাহিদা পূরণ করতে পারে। শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকতে হবে; শিক্ষকরা পড়াবেন আন্তরিকতা, যতœশীলতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে; শিক্ষার্থীরা সেই জ্ঞান আহরণ করবে অত্যন্ত আগ্রহ ও আন্তরিকতার সাথে; এর মাঝামাঝি কোনো পথ নেই। তিনি বলেন, সমাজের সবর্ত্র অবক্ষয় চলছে, এর মধ্যে শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।
গুণগত শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে দক্ষ শিক্ষকের স্বল্পতা মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে প্রবীণ শিক্ষাবিদ প্রফেসর এম আর খান বলেন শিক্ষকদের সামনে আশার আলো থাকতে হবে, তারা ভবিষ্যতের জন্য যাতে আশাবাদী হতে পারে, তা থাকতে হবে শিক্ষা ব্যবস্থায়। শিক্ষকগণ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন তাদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন-স্কেল গঠনসহ অন্যান্য সুযোগসুবিধা বৃদ্ধির। অষ্টম পেকমিশন রিপোর্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের পদমর্যাদা আগেকার পে-কমিশনের চেয়ে দু’ধাপ নীচে নামিয়ে আনা হয়েছে, এতে শিক্ষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মেধাবী শিক্ষকদের শিক্ষকতা পেশায় আকর্ষণ এবং এতে তাদেরকে ধরে রাখতে হলে বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা এবং তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধি করতে হবে; এ ব্যাপারে কোনো কার্পণ্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
ন্যায়ভিত্তিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠন সম্পর্কে করণীয় কী এমন প্রশ্নে প্রফেসর এম আর খান বলেন, জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ায় ক্যাম্পাস’র দীর্ঘদিনের আন্দোলন সফল করতে শিক্ষার উন্নয়নের বিকল্প নেই। উন্নতমানের শিক্ষাই সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে, জাতিকে দিতে পারে আলোকিত মানুষের মর্যাদা।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা ৩৪ বছরে পদার্পণ করেছে; এ উপলক্ষ্যে তাঁর প্রত্যাশা এবং এ পত্রিকার উন্নয়নে মূল্যবান পরামর্শের কথা জানতে চাইলে ছাত্রবৎসল শিক্ষক প্রফেসর এম আর খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা ছাত্র ও যুব সমাজের প্রিয় পত্রিকা। ছাত্র ও যুব সমাজকে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকবেলা করে, বিশ্বায়ন প্রতিযোগিতার উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পত্রিকাটি প্রণোদনামূলক কাজকর্ম করে যাচ্ছে। এ পত্রিকা নেগেটিভ চিন্তাধারা বর্জন করে পজিটিভ চিন্তার লেখা প্রকাশ করে থাকে, যা আমার কাছে খুব আকর্ষণীয়। দীর্ঘদিন ধরে পত্রিকাটা উন্নতমানের প্রকাশনা কার্যক্রম পরিচালনা করে পত্র-পত্রিকা জগতে সুনামের অধিকারী হয়েছে। আমি পত্রিকা-সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানাই এবং প্রত্যাশা করি যে এর পাঠকপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে, জাতিগঠন এবং জাতিজাগরণে এর ভূমিকা হবে অত্যুজ্জ্বল।

মানবিক মূল্যবোধে উদ্ভাসিত মানুষই সমাজ সভ্যতার অগ্রগতিতে বেশি অবদান রাখে, যা ক্যাম্পাস পত্রিকার বিভিন্ন লেখায় প্রতিফলিত হয়
-আবু সাঈদ মোঃ শায়খুল ইসলাম এফসিএমএ, প্রেসিডেন্ট, আইসিএমএবি
বর্তমান শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন নিয়ে আপনি কতটুকু আশাবাদী। আগামীর শিক্ষাব্যবস্থাকে কোন্ পর্যায়ে দেখতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষাপ্রেমী, সমাজসেবী আবু সাঈদ মোহাম্মদ শায়খুল ইসলাম বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে আমার মিশ্র অনুভূতি রয়েছে। আমি এ ব্যাপারে খুব বেশি আশাবাদী নই, আবার হাতাশাবাদীও নই। আমাদের শিক্ষা পাঠপুস্তক নির্ভর। কিন্তু এ শিক্ষা শিক্ষার্থীকে কতটুকু মানবীয় গুণাবলিসম্পন্ন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলছে, তা এখনই ভেবে না দেখলে আমরা বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পিছিয়ে পড়ব। তাই আমি মনে করি সবার আগে সমাজে সেই শিক্ষাই প্রচলন করতে হবে, যা মানুষকে মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার সুযোগ দেয়। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে একজন শিক্ষার্থী তার সামাজিক দায়িত্ব, পারিবারিক দায়িত্ব, মানবিক দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সম্পর্কে যথাযথ শিক্ষা নিয়ে যোগ্য ও দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে। শিক্ষা অর্থ উপার্জনের অবলম্বন নয়, এটি মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ তৈরির একটা মাধ্যম; শিক্ষাকে আমরা যেন সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করি। ক্যাম্পাস পত্রিকা তার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। তাই আমাদের দেশে ক্যাম্পাস’র মতো আরো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা দরকার।
তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গন হবে মানুষের মতো মানুষ গড়ার কারখানা। সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে এ চিরন্তন দর্শনকে বাস্তবরূপ দিতে হবে শিক্ষাঙ্গন থেকেই। শিক্ষকদেরকে বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর। এ মহান চেতনা শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিক্ষাঙ্গনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার মনে জাগিয়ে তুলতে হবে। আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতা, হীনন্মন্যতা দূর করে সম্মিলিত উন্নয়নের চেতনায় উজ্জীবিত হতে শিক্ষাঙ্গনই হবে সবচেয় নিরাপদ, নির্ভরতার স্থান; সেখানে আমরা কোনো অবস্থাতেই সন্ত্রাস করব না, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করব না, হানাহানি-মারামারি করব না। শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনের সাথে যারা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত সেই শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক-কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসমুক্ত ও শিক্ষাবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে এগিয়ে আসতে হবে।
গুণগত শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে দক্ষ শিক্ষকের অভাব প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিরাজ করছে; এতে শিক্ষাদান ব্যাহত হচ্ছে, মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি হচ্ছে না; এ সমস্যা কীভাবে মোকাবেলা করা যায় এমন প্রশ্নে শিক্ষাব্রতী, কল্যাণকামী ব্যক্তিত্ব শায়খুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা-সম্মান বাড়ুক এটি আমি প্রত্যাশা করি; শিক্ষকের আয় বাড়ুক, এটিও আমার কামনা। শিক্ষকরা শুধু বলছেন শতভাগ মর্যাদা বাড়ুক, শতভাগ বেতন বাড়ুক; কিন্তু বিনিময়ে তাঁদের কী করণীয় সেটা বলছেন না। এ ধরনের দাবি সমর্থনযোগ্য নয়। শিক্ষককে আদর্শ মানুষ হতে হবে, অনুকরণীয় হতে হবে ছাত্রসমাজের কাছে। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে ডিগ্রি লাভের পর শিক্ষকদের দেশে ফিরে আসার মানসিকতা থাকতে হবে। অন্যদিকে সরকারকেও তাদের জন্য উপযুক্ত বেতন-ভাতা ও তাদের সামাজিক মর্যাদার যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হবে।
অনেক শিক্ষকের মধ্যে দু’একজন শিক্ষক ছাত্রদের মন জয় করে নিতে পারে, অন্যরা পারে না; এটা কেন হয় এমন প্রশ্নে পরিচ্ছন্ন চিন্তার অধিকারী শায়খুল ইসলাম বলেন, আমাদের সময়কার শিক্ষকদের আয় এখনকার তুলনায় কম ছিল, কিন্তু তাঁদের মনে একটি সন্তুষ্টিভাব ছিল; তাঁরা শিক্ষকতা পেশার মর্যাদাকে বড় করে দেখতেন। এখনকার শিক্ষকগণের অনেকেই কোচিং সেন্টারের দিকে ছোটেন, প্রাইভেট কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম ক্লাস নেন। তাঁরা অনটনে আছেন, এটা আমি বিশ্বাস করি না। তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে, সমাজের অন্যান্য শ্রেণির মানুষের বিত্ত-বৈভব দেখে তাঁদের মনে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে তাঁরা তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছেন না বলে ছাত্রদের মন জয় করতে পারছেন না। কিন্তু যাঁরা শিক্ষকতা পেশাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে নিজ কর্মগুণকে বাড়িয়ে তুলতে পারছেন, তাঁরাই শিক্ষার্থীদের মন জয় করতে পেরেছেন।
ছাত্র-তরুণদের বিপথগামিতা রোধে পরিবার বা সমাজে কার কী ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন এমন প্রশ্নে ছাত্র-তরুণদের কল্যাণকামী ব্যক্তিত্ব শায়খুল ইসলাম বলেন, ছাত্র-তরুণদের বিপথগামিতার জন্য প্রধান দায়ী দেশের নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত রাজনীতিবিদ, যারা তাদের সংকীর্ণ স্বার্থে ছাত্রদেরকে দলীয় রাজনীতিতে টেনে আনছে এবং অন্ধকারের পথে ঠেলে দিচ্ছে। আগামীতে যারা দেশ পরিচালনা করবে তাদেরকে নষ্ট করে ফেলছে, তাহলে সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালিত হবে কীভাবে! এরপর আসে পরিবার ও সমাজ -এ ব্যাপারে তারাও নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। পরিবার যদি সচেতন থাকে, সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাহলে ছাত্র-তরুণদের প্রতি তারা উদাসীন থাকতে পারে না। বৈরি ও সংঘাতময় পরিবেশের মধ্যেও সচেতন পরিবারের সন্তানরা লাইনচ্যুত হতে বা উচ্ছন্নে যেতে পারে না। পরিবার যদি তার নতুন সদস্যের প্রতি নজর রাখে, তার ভেতর লজ্জার ভাবটা সঞ্চারিত করতে পারে, তাহলে সে লাইনচ্যুত হতে পারে না। এক্ষেত্রে ছাত্র-তরুণদের বিপথগামিতা রোধে প্রথম দায়িত্ব পরিবারের; দ্বিতীয়তঃ রাজনীতিবিদদের এবং তৃতীয়তঃ সমাজ ব্যবস্থার। পরিবারের পিতা-মাতা যখন দেখেন তাদের সন্তান গুণাগুণের দিক থেকে, কর্ম সাফল্যে তাদেরকে ছাড়িয়ে যায় তাহলে তারা খুশি হন। তবে এ ছাড়িয়ে যাওয়াটা এমনি এমনি হবে না; সেজন্য সন্তানকে যেমনি সাধনা করতে হবে, তেমনি পরিবার প্রধানকে যতœশীল হতে হবে এবং সন্তানদের জন্যে বেশি বেশি সময় দিতে হবে।
জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনে করণীয় সম্পর্কে দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব শায়খুল ইসলাম বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং এর সঠিক প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ। ন্যায়ভিত্তিক সমাজে অন্যায় কাজ চলতে পারে না। তবে আইনের শাসন তথা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় রাজনীতিকদের ভূমিকা এবং যারা ক্ষমতাসীন থাকেন তাদের দায়িত্ব থাকে অনেক বেশি। শিক্ষার ব্যাপক প্রসার হলে, শিক্ষার সুযোগ অবারিত হলে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠতে থাকবে। উন্নত বা উন্নয়নশীল দেশে ছাত্রদেরকে শিক্ষাঋণ দেয় সরকার, ছাত্ররা পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বা কর্মসংস্থান হবার পর সে ঋণ পরিশোধ করে। আমাদের শিক্ষার্থীদের ফি-এর ওপর ভ্যাট বসানো হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ, মানববন্ধন, ঘেরাও তুলকালাম কান্ড! শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের বোধদয় হয়েছে, ভ্যাট প্রত্যাহৃত হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাঙ্গন শান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষা মূলতঃ পাবলিকই, কারণ শিক্ষার দেখভাল, পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব সরকারেরই। পাবলিক-প্রাইভেট নির্বিশেষে সকল শিক্ষার আবেদন একই। তাই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি সরকারের সহযোগিতার হাত আরো প্রসারিত করা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা ৪ দশকে পদার্পণ করেছে, এ পত্রিকার কাছে তাঁর প্রত্যাশা ও পরামর্শের কথা জানতে চাইলে শিক্ষা-সংস্কৃতিতে উজ্জীবিত সমাজদরদী ব্যক্তিত্ব শায়খুল ইসলাম বলেন, গত ৪ দশকে ক্যাম্পাস তার দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করেছে। তারপরও আমার পরামর্শ হলো আলোকিত মানুষ চাই, জাগ্রত বিবেক চাই! এ স্লোগান বাস্তবরূপ দিতে আরো বেশি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করুন এটিই আমার প্রত্যাশা। আমি মনে করি হিংসা-বিদ্বেষ, পেশীশক্তি দিয়ে নয়, ভালোবাসা-সহমর্মিতা দিয়ে মানুষের মন জয় করা যায়; বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে আগামীর পথচলাকে সহজ-সাবলীল করে তোলার আন্দোলন অব্যাহত রাখলে অচিরেই ক্যাম্পাস শুধু দেশে নয়, বিশ্ব দরবারেও তার স্থান করে নিতে পারবে।

অব্যাহত উন্ন্ত প্রকাশনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হোক আগামীর ছাত্র ও যুবসমাজের পথ-নির্দেশক মুখপত্র
-আব্দুল হালিম, অধ্যক্ষ, ড. শহীদুল্লাহ কলেজ
বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন সম্পর্কে আপনি কী ভাবছেন, আগামীর শিক্ষাঙ্গন কিরূপ দেখতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে আশাবাদী শিক্ষাব্রতী অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম বলেন, শিক্ষার প্রসার, গুণগত মানের শিক্ষার প্রচলন, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। আশা করি, সেসব সিদ্ধান্ত থেকে কার্যকর ব্যবস্থা বেরিয়ে আসবে।
গুণগত শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে দক্ষ শিক্ষকের স্বল্পতা মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে নিবেদিত শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম বলেন, আমাদের যে ধরনের শিক্ষা জাতির জন্য কল্যাণকর তা এখনও অর্জিত হয়নি; সময়ের প্রয়োজনে শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি; গড়ে ওঠেনি দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক। এ সমস্যা মোকাবেলায় ব্যাচ-বাই-ব্যাচ শিক্ষকদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয়েছে। আশা করি, এ সমস্যার সমাধান অল্প কিছুদিনের মধ্যে হয়ে যাবে।
মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশার প্রতি অনীহা এবং এ সমস্যা মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে দূরদর্শী শিক্ষা ব্যক্তিত্ব আব্দুল হালিম বলেন, আগে মেধাবীরা সম্মানজনক পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে বেছে নিতেন। এখন যুগ পাল্টেছে, চাহিদার পরিধি বেড়েছে অনেক, যা বর্তমান বেতন-ভাতা দিয়ে মেটানো সত্যি কঠিন। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের তুলনায় শিক্ষকদের মর্যাদার অবনমন হয়েছে। এসব কারণে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হচ্ছে না। শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতনস্কেল গঠন এবং তাঁদের পদমর্যাদা নির্ধারণ করা হলে আশা করা যায়, তাদের মনোভাবের পরিবর্তন হবে। ছাত্র-যুবকদের বিপথগামিতা রোধে পরিবার বা সমাজের ভূমিকা সম্পর্কে সমাজ সচেতন শিক্ষক অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম বলেন, ছাত্র-যুবকরা পরিবারের শাসনাধীনে যতদিন থাকে, ততদিন তারা সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লাসে যোগ দিতে বেরিয়ে পড়ে। স্কুল থেকে ফিরে আসার পর খেলাধুলা করতে পুনরায় বেরুলেও সন্ধ্যার সাথে সাথেই বাসায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়; এর ব্যতিক্রম হলে বাবা-মা বা অভিভাবকের কাছে এর কারণ জানানোই নিয়ম। এ ধরনের কড়াকড়ির ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা খারাপ পথে যেতে পারে না। কিন্তু পরিবার যদি কোনো কারণে শিথিলতা প্রদর্শন করে, তাহলে এ শিথিলতার কারণেও ছাত্র-যুবকদের বিপথগামী হবার সম্ভাবনা থাকে।
ন্যায়ভিত্তিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও আলোকিত জাতি গঠনে করণীয় সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম বলেন, জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন একটি জাতীয় কর্মসূচি। এতে সবারই ভূমিকা থাকতে হবে। ছাত্র-শিক্ষক-রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী সবাইকে এ বিশাল কর্মযজ্ঞে শামিল হতে হবে। একমাত্র সবার প্রচেষ্টায়ই গড়ে উঠতে পারে এ কাঙ্খিত সমাজ । শিক্ষা ও যুব উন্নয়নে নিবেদিত পত্রিকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস’র ৩৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে পরামর্শ রেখে আব্দুল হালিম বলেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা শিক্ষার প্রসার এবং গুণগত মানের শিক্ষা প্রচলনে যে আন্দোলন করছে, তা কাঙ্খিত ফলাফল অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত রাখবে এটিই আমার প্রত্যাশা। আমি এই পাঠকপ্রিয় পত্রিকার অব্যাহত উন্নতি কামনা করছি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হোক ছাত্র-যুব সমাজের পথ-নির্দেশক মুখপত্র।

শিক্ষাঙ্গনকে ঘিরে যে ক’টি পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস তাদের পুরোধা
-ড. মোঃ আবদুল হক তালুকদার, সচিব (যুগ্ম সচিব), বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড
বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন সম্পর্কে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিব ড. মোঃ আবদুল হক তালুকদার বলেন গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর হার ও পাসের হার বেড়েছে। মান বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করছে। সবাই আন্তরিকতার সাথে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলে আশাবাদের ক্ষেত্রটা মজবুত অবস্থানে দাঁড়াবে। মানব সম্পদ ও দক্ষতা উন্নয়নে শিক্ষা একমাত্র নিয়ামক শক্তি।
গুণগত শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে দক্ষ শিক্ষকের স্বল্পতা প্রতীয়মান, এ সমস্যা মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে আবদুল হক তালুকদার বলেন যেকোনো পেশার সাথে সম্মান, মর্যাদা ও আর্থিক সক্ষমতার দিকগুলো বিশেষভাবে সম্পৃক্ত। এ বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করা হলে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী হবেন। তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। সর্বোপরি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ ও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি-২০১১ এর সফল বাস্তবায়নে উদ্যোগী হওয়া আবশ্যক।
ছাত্র-যুবকদের বিপথগামিতা রোধে পরিবার বা সমাজের কার কি ভূমিকা রয়েছে বলে আপনি মনে করেন এমন প্রশ্নে শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব ড. মোঃ আবদুল হক তালুকদার বলেন, সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের অভাবে আমাদের যুব সমাজ বিপথগামী হচ্ছে। সামাজিকীকরণের যেসব বাহন যেমন পরিবার, সহপাঠী, বিদ্যালয় পরিবেশ, খেলার সাথী, পারিপার্শ্বিকতা উন্নত হলে বিপথগামিতা হ্রাস পাবে। এজন্য পরিবারসহ সরকারি ও বেসরকারি প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সামাাজিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে।
ন্যায়ভিত্তিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে সমাজসচেতন কল্যাণকামী ব্যক্তিত্ব ড. আবদুল হক তালুকদার বলেন ন্যায়-অন্যায় শেখার হাতেখড়ি পরিবারে, এরপর বিদ্যালয়, সমাজ, রাষ্ট্র থেকে ব্যক্তি ন্যায়-অন্যায়ের সবক গ্রহণ করে। কাজেই এ প্রতিষ্ঠানসমূহের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে ন্যায়ভিত্তিক মূল্যবোধের চর্চা বা অনুশীলন করা। জ্ঞানের ক্ষেত্র উন্মোচনের বহু দ্বার বর্তমানে উন্মুক্ত। ঘরে বসেই বিশাল জ্ঞান ভান্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব। সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সুস্থ ও সুন্দর জ্ঞান আহরণের সুযোগ করে দেয়া। অপসংস্কৃতির প্রভাব আলোকিত মানুষ গঠনের প্রক্রিয়াকে যাতে বাধাগ্রস্ত না করে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা প্রকাশনার ৪ দশকে পদার্পণে আপনার প্রত্যাশা এবং এর উন্নয়নে পরামর্শের কথা জানতে চাইলে শিক্ষান্নোয়নে নিবেদিত ব্যক্তিত্ব ড. আবদুল হক তালুকদার বলেন আমার জানামতে আমাদের শিক্ষাঙ্গনকে ঘিরে যে ক’টি পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস তাদের পুরোধা।
শিক্ষা নিয়ে হরহামেশা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়- আমাদের শিক্ষার হার বাড়ছে বটে মান বাড়ার পাশাপাশি আমরা শিক্ষিত জনগণ পাচ্ছি, কিন্তু প্রকৃত মানুষ তৈরি করতে পারছি কী? যারা শিক্ষিত হচ্ছেন তারা নৈতিক শিক্ষায় বলীয়ান কি-না? প্রচলিত শিক্ষা কি আমাদের দেশপ্রেম, আত্মত্যাগের মহিমা জাগ্রত করেছে? ঘুষ-দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি, দুর্বৃত্তায়ন রোধে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে? এ বিষয়গুলোতে মনোযোগী হলে বোধ করি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে নিঃসন্দেহে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা রুচিশীল প্রকাশনার মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত
-ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড
বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন নিয়ে আপনি কতটুকু আশাবাদী বা আগামীতে শিক্ষাঙ্গনকে কেমন দেখতে চান এমন প্রশ্নে ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা সম্পর্কে আমি খুব আশাবাদী। শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হচ্ছে; শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, শিক্ষার হার বেড়েছে। এছাড়া প্রাইমারিতে ঝরেপড়ার সংখ্যা অনেক কমেছে। আগামীতে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকুক, শিক্ষাঙ্গন সন্ত্রাস ও ধূমপানমুক্ত থাকুক, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক মধুর হোক, দেশ কারিগরি শিক্ষায় সমৃদ্ধ হয়ে দ্রুত এগিয়ে যাক -এটি কামনা করি।
বাংলাদেশকে উন্নত দেশের সারিতে অন্তর্ভুক্ত হতে করণীয় সম্পর্কে ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উন্নত দেশের সারিতে পৌঁছুতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে; বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষাকে দিতে হবে বিশেষ গুরুত্ব। আমাদের ছাত্র-সমাজের মন-মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে, শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্বায়ন প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। আমাদের ছাত্র-তরুণদের সামনে যদি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সাহস থাকে, তাহলে তারা জয়ী হবেই। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা প্রধান। তাদেরকে আন্তরিকতার সাথে পাঠদানে একনিষ্ঠ হতে হবে; টিউশনী, কোচিং সেন্টারের চিন্তা মাথা থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে। কারণ দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার তারাই কারিগর। এজন্যই তাদেরকে দায়িত্বশীল হতে হবে। ছাত্র-তরুণদের বিপথগামিতারোধে পরিবার বা সমাজের ভূমিকা সম্পর্কে সমাজ সচেতন শিক্ষা-ব্যক্তিত্ব প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিক দায়িত্ব পরিবারকে বহন করতে হবে। জন্মের পর থেকে শৈশব-কৈশোর পর্যন্ত ছাত্ররা পরিবারের তত্ত্বাবধানে থাকে, যৌবনে পা রেখে উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে যুক্ত হয়। এ সময়টায় পারিপার্শ্বিকতার কারণে, খারাপ ছেলেদের খপ্পরে পড়ে নষ্ট পথে চলে যায়, তখন তাদের দেখভালের দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা সমাজের ওপর বর্তায়। এভাবে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ সবাই যদি সচেতনভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর নজর রাখে তাহলে তারা লাইনচ্যুত হতে পারে না।
জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনে করণীয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসার জবাবে প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন যে সমাজে জ্ঞানী-গুণীর কদর নেই, সে সমাজের অগ্রগতি মন্থর। জ্ঞানের অবিরাম চর্চার মধ্যদিয়ে গড় উঠবে ন্যায়ের সমাজ তথা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ। জ্ঞানী লোক অন্যায় কাজ করতে পারে না। এজন্য জ্ঞান চর্চার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া উচিত। জ্ঞান ও ন্যায়ের সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে সে সমাজ আলোয় উদ্ভাসিত হবে, গড়ে উঠবে আলোকিত জাতি।
ছাত্র ও যুব উন্নয়নে ভূমিকা পালনকারী পত্রিকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রকাশনার ৩৪ বছরে পদার্পণ করছে, এ পত্রিকার উন্নয়নে তাঁর পরামর্শের কথা জানিয়ে শিক্ষাব্রতী ছাত্রবৎসল শিক্ষাবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা পাঠক মহলে রুচিশীল প্রকাশনায় মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত রয়েছে। শিক্ষান্নোয়নে এ পত্রিকার ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ পত্রিকা আগামীতেও দেশ ও সমাজকে অত্যাধুনিক চিন্তা-চেতনা ও সমৃদ্ধ রচনার মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমি এ পত্রিকার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।

ক্যাম্পাস পত্রিকার উন্নতমান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে
-এম কাওছার এইচ কমেট, ভাইস-চেয়ারম্যান, ইবাইস ইউনিভার্সিটি
বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন সম্পর্কে ইবাইস ইউনিভার্সিটির ভাইস-চেয়ারম্যান এম কাওছার এইচ কমেট বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমি খুব আশাবাদী। শিক্ষা ব্যবস্থা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আশা করা যায়, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের শিক্ষামান আন্তর্জাতিক শিক্ষামানের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।
গুণগত মানের শিক্ষকের স্বল্পতা শিক্ষার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে চলেছে, কীভাবে এ সমস্যার সমাধান করা যায় এমন প্রশ্নের জবাবে কাওছার এইচ কমেট বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম হয়। রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন কারণে মেধাবীরা অনেক সময় শিক্ষাঙ্গন থেকে ফিরে যান, বেছে নেন অন্য পেশা। এভাবে দীর্ঘদিন থেকে উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষকের অভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থার প্রতিকারে শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে দক্ষ শিক্ষকের অভাব দূর হবে।
আগে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় সাগ্রহে যোগ দিতেন, বর্তমানে এ মহান পেশায় যোগ দিতে তাদের মধ্যে অনীহা দেখা যায়। এর কারণ কী এবং কীভাবে এ অবস্থা কাটিয়ে ওঠা যায় এমন প্রশ্নে কাওছার এইচ কমেট বলেন, বিভিন্ন বৈষম্যমূলক আচরণের ফলে মেধাবীরা পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে বেছে নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। বর্তমানে তাদের জন্য যে বেতন-কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে, তা দিয়ে শিক্ষকদের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ছে। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদাও অবনমিত হয়েছে। সম্প্রতি বাস্তবায়নাধীন বেতন কাঠামোয় প্রফেসরের অবস্থান তিন ধাপ নিচে নেমে এসেছে, যা আগের বেতন কাঠামোয় সচিবের পরেই স্থান ছিল। শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা পুনঃস্থাপন করে সরকার যদি নতুন সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় অধিক সংখ্যায় আসবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
ছাত্র-তরুণদের বিপথগামিতা রোধে পরিবার বা সমাজের কী ভূমিকা আছে বলে মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে কমেট বলেন, এক্ষেত্রে প্রাথমিক দায়িত্ব পরিবারের। কিন্তু বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে পরিবারের সিনিয়র সদস্যদের নানা কর্মকান্ডে জড়িত থাকতে হয় বলে তাদের পক্ষে তরুণ সদস্যদের সঠিকভাবে দেখাশোনা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। শিক্ষাঙ্গনে তরুণরা যখন অবস্থান করে, তখন শিক্ষকদের যদি সতর্ক নজরদারি থাকে তাহলে ছাত্র-তরুণরা বিপথে যাবে না। সমাজে শৃংখলা প্রতিষ্ঠার জন্য সমাজচিন্তাবিদরা মানুষের মনে চেতনা সঞ্চার করেছেন, এতে আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সামাজিক শৃংখলা সৃষ্টি হবে এবং ছাত্র-তরুণরা অধ্যয়নে সম্পৃক্ত থেকে নিজেদের জীবন গড়ে তুলতে পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা ৩৪ বছরে পদার্পণ করেছে। এ পত্রিকার উন্নয়নে তাঁর পরামর্শের কথা জানিয়ে কাওছার এইচ কমেট বলেন, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ছাড়া সমাজকে সত্যিকার অর্থে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। সেদিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস’র আন্দোলন জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সহায়ক হবে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে ন্যায়ের সমাজ গড়ে উঠবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার উন্নতমান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আমি মনে করি।

উন্নতমানের পত্রিকা হিসেবে ক্যাম্পাস সম্মানজনক আসনে অধিষ্ঠিত
-লায়ন এম কে বাশার পিএমজেএফ, ফাউন্ডার ও চেয়ারম্যান, ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপ
বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন সম্পর্কে স্বনামধন্য শিক্ষাদ্যোক্তা লায়ন এম কে বাশার বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৫ বছরে শিক্ষার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। নতুন নতুন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উন্নত দেশের শিক্ষাঙ্গন সর্বাংশে আকর্ষণীয় হলেও আমাদের দেশের শিক্ষাঙ্গনকে আমরা এখনও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারিনি। তবে সেজন্য হতাশ না হয়ে সবার সম্মিলিত চেষ্টায় আমরা সুন্দর, শিক্ষাবান্ধব শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলার নিরন্তর চেষ্টা চালাতে পারি। কেননা আগামী দিনে এ অঙ্গন থেকেই নামকরা গবেষক, সমাজ বিজ্ঞানী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিল্পপতি, দক্ষ প্রশাসক বেরিয়ে আসবে। যাদের কর্মফল শুধু বাংলাদেশকে নয়, সমগ্র বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
আধুনিক বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষার মান সম্পর্কে স্বনামধন্য শিক্ষাদ্যোক্তা লায়ন এম কে বাশার বলেন, একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হতো। অর্থাৎ বাংলাদেশেও অক্সফোর্ডের মতো বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, বিদেশিরা বাংলাদেশে পড়ালেখার জন্য আসত, কারণ এ অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার মান ভালো ছিল। আজ থেকে হাজার বছর আগে বাংলার কৃতী সন্তান অতীশ দীপংকর ভারতের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরূপ বহু কৃতী শিক্ষাবিদ, পন্ডিতের জন্ম হয়েছে এ অঞ্চলে।
লায়ন বাশার বলেন বর্তমানেও কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলো আন্তর্জাতিকমানের। তবে প্রচার-প্রচারণায় অনেক পিছিয়ে আছে বলে আমরা তাদের সম্পর্কে অনেক কিছুই জানি না। শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুযোগ অবারিত করে দেয়ার পর অনেকগুলো প্রাইভেট ইউনির্ভাসিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা লাভের পথ সুগম হয়েছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমিত আসন সংখ্যার কারণে অনেকেই উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতো। সেক্ষেত্রে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষাক্ষেত্রে এক অসাধারণ ভূমিকা পালন করছে। অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে বিদেশের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে নিজেদের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আশা করা যায়, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত হবে।
গুণগত শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে দক্ষ শিক্ষকের স্বল্পতা রয়েছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এ সমস্যার সমাধানে কী ব্যবস্থা নেয়া উচিত এমন প্রশ্নে লায়ন এম কে বাশার বলেন, গুণগত শিক্ষার জন্য যোগ্যতম শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তার বিকল্প নেই। দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষকের অভাব আমরা প্রতিনিয়ত অনুভব করি। শিক্ষকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং তাদের সামাজিক মর্যাদার দিক বিবেচনা করলে দেখা যাবে, আমরা উন্নত বা উন্নয়নশীল বিশ্বের তুলনায় এ ব্যাপারে অনেক পিছিয়ে আছি। অন্যান্য পেশায় আর্থিক সুযোগ-সুবিধা, প্রভাব-প্রতিপত্তির হাতছানিতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে দ্বিধান্বিত থাকে কিংবা আসলেও বেশিদিন টিকতে পারে না। ফলে গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষক পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠেছে। সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যথেকে কিছু শিক্ষককে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব শিক্ষককে যদি উপযুক্ত বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা এবং তাদের যথাযোগ্য সম্মান দেখাতে পারি, তাহলে যোগ্য শিক্ষকের অভাব দেশের শিক্ষাঙ্গনে থাকবে না।
ছাত্র-যুবকদের বিপথগামিতা রোধে পরিবার বা সমাজের ভূমিকা সম্পর্কে লায়ন এম কে বাশার বলেন, ছাত্র-যুবকদের বিপথগামিতার জন্য তারা দায়ী নয়; এক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজই অনেকাংশে দায়ী। শিশু-কিশোররা বড় হয়ে পরিবারের মধ্যে আবদ্ধ থাকে না, সে সমাজের সব অঙ্গনে বিচরণ করে। পরিবার থেকে যদি সুশিক্ষা পায় তাহলে শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন তার স্বচ্ছন্দ হয়। শিক্ষাঙ্গনে যদি ভালো পরিবেশ থাকে, তাহলে সে নষ্ট না হয়ে সমৃদ্ধ হয়। সুশৃংখল, শান্তিপূর্ণ সমাজ তাকে আরো এগিয়ে দেয়, সে দেশের যোগ্য নাগরিকে পরিণত হয়। তাই একটি শিশুর বিকশিত হবার ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সবারই দায়িত্ব রয়েছে। আমরা যদি মনে করি- আমার ছেলে ভালো থাকলেইত হলো, অন্যের ছেলের কথা ভাবার দরকার কি? এ ধরনের মনোভাব পরিহার করতে হবে । সমাজ যদি নষ্ট হয়ে যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি সন্ত্রাস চলতে থাকে তাহলে আমার ছেলে তা থেকে রক্ষা পাবে কি? এজন্য পরিবার, সমাজ বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের উচিত হবে সম্মিলিতভাবে শান্তি-স্বস্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
ন্যায়ভিত্তিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও আলোকিত জাতি গঠনে করণীয় সম্পর্কে লায়ন এম কে বাশার বলেন, আমাদের কথায় ও কাজে মিল নেই। আমাদের কাজের যৌক্তিকতা প্রতিপন্ন না করে একে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করি; আমরা যেটি বিশ্বাস করি, তা পালন করি না। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে আমাদের মুক্তি নেই। আমাদের কাজের যৌক্তিকতা থাকতে হবে, আমরা ন্যায়নিষ্ঠ হব, সত্যসন্ধানী হব, কমিটমেন্ট বা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব। আমরা শুরু করি, আমরা সফল হই; এরপর অন্যরা আমাদের অনুসরণ করবে। এভাবে সমাজ এগিয়ে যাবে, জ্ঞানের চর্চা হবে, বুদ্ধির বিকাশ হবে, প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায়ের সমাজ।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা ৩৪ বছরে পদার্পণ করেছে, এ উপলক্ষে এ পত্রিকার কাছে আপনার প্রত্যাশা এবং এর উন্নয়নে আপনার পরামর্শ কী এমন প্রশ্নে সংস্কৃতিবান ব্যক্তিত্ব লায়ন এম কে বাশার বলেন, ক্যাম্পাস পত্রিকার ৩৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আমি এ পত্রিকার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। তাদের আন্তরিক চেষ্টায় উন্নতমানের এ পত্রিকা আজ পত্রিকা জগতে সম্মানজনক আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ বছর আগে যখন আমি ঢাকা আসি, তখন থেকে এ পত্রিকা নিয়মিত পড়ি। এ পত্রিকা অনেক উন্নতিলাভ করেছে, পাঠকপ্রিয়তা লাভ করেছে। শিক্ষা ও যুব উন্নয়নে ক্যাম্পাস’র ভূমিকা অব্যাহত থাকবে -এ প্রত্যাশা আমাদের সকলের।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ