বিশেষ খবর

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এলাকাভিত্তিক স্কুলিং ॥ ক্যাম্পাস’র মডেল বাস্তবায়নের আশাবাদ

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রতিবেদন
img

এলাকার শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি স্কুল ভর্তি নীতিমালায় আনা হচ্ছে বড় ধরনের পরিবর্তন। এলাকাভিত্তিক স্কুলিং নিয়ে বিভিন্ন মহলের দাবি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা না গেলেও এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের প্রেক্ষাপটে ভর্তি পদ্ধতিতে আনা হচ্ছে পরিবর্তন। সকল মহানগরী ও জেলা পর্যায়ের স্কুলে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে ৪০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করে নতুন এ নীতিমালা তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বরে প্রথম শ্রেণি থেকে মাধ্যমিকের সকল শ্রেণিতেই শুরু হবে ভর্তি কার্যক্রম। তার আগেই নীতিমালায় পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজও শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এদিকে এর মধ্য দিয়ে এলাকাভিত্তিক স্কুলিংয়ের পথে একধাপ অগ্রগতি বললেও এলাকাভিত্তিক আরও ভালো স্কুল গড়ার তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।
জানা গেছে, এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস এবং ১১ অক্টোবর বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্কুলে শিশুদের ভর্তি নিয়ে কথা বলেছেন। দুই অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রী স্কুল ভর্তি বিশেষত প্রথম শ্রেণিতে শিশুদের ভর্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুলে যাওয়ার বয়স হলেই সব শিশু যাতে ভর্তি হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। ক্লাস ওয়ানের শিশুরা ছাপানো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হবে কেন? যখনই একটা শিশুর ভর্তির বয়স হবে, তখনই তাকে ভর্তি নিতে হবে। শিক্ষা তার মৌলিক অধিকারগুলোর একটি। শেখ হাসিনা প্রশ্ন রাখেন, সে যদি ছাপানো প্রশ্নপত্র পড়ার মতো জ্ঞানই অর্জন করে থাকে, তাহলে আর তাকে স্কুলে কী পড়াবে? এলাকার শিক্ষার্থীর ভর্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেনÑ যে এলাকায় যে বসবাস করে, সে এলাকায় ভর্তি হওয়া তাদের অধিকার। সরাসরি তাদের আগে ভর্তি করিয়ে নিতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্যই এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এটা যেন সমন্বয় করা হয়। তারা যেন লক্ষ্য রাখেন, কাজগুলো ঠিক মতো হচ্ছে কিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেনÑ আমাদের ছেলেমেয়েরা যেন পড়তে পারে, সেজন্য শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো উন্নত করা দরকার। আমি অনুরোধ করব, জরাজীর্ণ স্কুলগুলো মেরামত ও উন্নত করুন। ছেলেমেয়েরা তাদের প্রথম শিক্ষা পাড়ার স্কুল থেকেই নেবে, পাড়ার স্কুলেই ভর্তি হবে। শিক্ষা যেন শিশুর জন্য বোঝা না হয় বরং স্কুলগুলোতে ও পরিবারে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তারা নিজেরা শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হবে এবং পড়াশোনায় উৎসাহ বোধ করবে। তবে পরীক্ষা ছাড়াই শিশুদের নিজ এলাকার স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
এদিকে শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেরই বহুদিনের দাবি ছিল এলাকাভিত্তিক স্কুলিং সিস্টেম। যেখানে প্রতিটি এলাকার শিশু তাদের এলাকার প্রতিষ্ঠানেই ভর্তি হবে। তবে যেহেতু সারাদেশের স্কুলের মান সমান নয় এবং নানা কারণে গুটিকয় স্কুলের প্রতিই আগ্রহ বেশি থাকছে, তাই স্কুলিং সিস্টেম চালু করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য যে, জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনে নিবেদিত প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (CSDC) এর মহাসচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এম হেলাল এলাকাভিত্তিক স্কুলিং (Areawise Schooling) কনসেপ্ট এর ওপর বহুপূর্বেই গবেষণামূলক মডেল প্রকাশ করেন; যা ক্যাম্পাস পত্রিকায় ২০০৮ সালের ডিসেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
এরপর ২০১৩ সালে ক্যাম্পাস জ্ঞানমেলা সিরিজে এম হেলাল প্রণীত উক্ত মডেলটি বই আকারে বাংলায় ও ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়। সেসময়ে মডেলটির নামকরণ করা হয়- দুর্বিষহ যানজট, অর্থ-শ্রম ও সময়ের অপচয়, মৌলিক শিক্ষায় ত্রুটি, ড্রপ-আউট, শ্রেণি-বৈষম্যসহ জাতীয় বহু সমস্যার একক সমাধানঃ এলাকাভিত্তিক স্কুলিং (Areawise Schooling)। এর কয়েক বছর পূর্বে ক্যাম্পাস গবেষণা সেলের আওতায় এম হেলাল প্রণীত আরেকটি মডেল বই আকারে বাংলা ও ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়; যার শিরোনাম- জাতির সকল সমস্যার স্থায়ী সমাধান PERMANENT SOLUTION OF ALL NATIONAL PROBLEMS Including Energy Crisis, Traffic Jam, Disaster, Unemployment & Poverty.
এলাকাভিত্তিক স্কুলিংয়ের বহুল উপকারিতা এবং সহজ বাস্তবায়ন পদ্ধতির ওপর এম হেলালের উক্ত মডেলটি বই আকারে প্রকাশিত হবার পর তা বিভিন্ন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়। অত্যাধুনিক বিশ্ব এবং আধুনিক বাংলাদেশের অনন্য রূপকার ও এতদবিষয়ে গ্রন্থ রচয়িতা এম হেলাল এলাকাভিত্তিক স্কুলিং কনসেপ্ট প্রতিভাবান জাতি গঠনে প্রাণপ্রবাহের নৈতিক দায়িত্ব মনে করে মডেলটি সরকারের প্রধানমন্ত্রী, সকল মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিব, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের কাছে নিজ খরচে এর সৌজন্য কপি প্রেরণ করেন। তাঁর প্রত্যাশা যে, জনকল্যাণমূলক, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাটির সমাধানে কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবেন। কিন্তু বেশকিছু দিন অতিবাহিত হবার পরও এ ব্যাপারে কাক্সিক্ষত সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকজন মন্ত্রী এম হেলাল প্রণীত উক্ত মডেলটি বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট সুপারিশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক এলাকাভিত্তিক স্কুলিং এর ওপর গুরুত্বারোপ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলকে আশান্বিত করেছে। সময়োচিত কল্যাণকর এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে দেশ যেভাবে উপকৃত হবে, তা দেখানো হয়েছে এম হেলাল রচিত এলাকাভিত্তিক স্কুলিং মডেলে। প্রথম শ্রেণিতে যেহেতু ভর্তি পরীক্ষা এমনিতেই হয় না। প্রথম শ্রেণির ভর্তি হয় লটারির মাধ্যমে। তবে অনেক শিক্ষক সংগঠনেরই দাবি হচ্ছে, লটারিটাও যেন হয় শিশুর সন্নিকটস্থ স্কুল ক্যাম্পাসেই, দূরবর্তী স্কুলে গিয়ে নয়। বারিধারার শিশুরা ভিকারুননিসা স্কুলের ধানম-ি শাখায় যাবে না, অথবা ধানম-ির শিশুরা বারিধারা বা সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে গিয়ে লটারিতে অংশ নেবে না। যার বাসা-বাড়ি স্কুলের যত কাছে, ভর্তির ক্ষেত্রেও নিকটস্থ স্কুলে তার তত অগ্রাধিকার থাকা উচিত। এলাকাভিত্তিক স্কুলিংয়ের মাধ্যমে সময়-শ্রম ও অর্থের অপচয় বন্ধ হবে, অন্যদিকে বাবা-মার প্রতিদিনের টেনশন কমবে, গাড়ি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি কিংবা হৈহুল্লোড় থাকবে না, রাস্তায় যানজট ও দুর্ঘটনা কমবে, তাছাড়া তেল ও গাড়ি আমদানিতে সরকারের ব্যয় হ্রাসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ও খাতে জাতীয় অপচয় বন্ধ হবে।
এলাকাভিত্তিক স্কুলিংয়ের দাবি যারা করে আসছেন তারা এর বিভিন্ন সুবিধাও চিহ্নিত করেছেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, এটি করা হলে স্কুলে যাতায়াতের জন্য যানবাহনের দরকার হবে না, ফলে যানজটও কমবে, সড়ক দুর্ঘটনাও হ্রাস পাবে। আবার যাতায়াত সঙ্কট ও যাতায়াত ব্যয় থাকবে না বলে এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর পেছনে অভিভাবকের টেনশন থাকবে না এবং অর্থব্যয় হবে না। জাতীয় ক্ষেত্রে জ্বালানি তেল আমদানি ও গ্যাসের অপচয় রোধ হবে, জাতীয় অর্থের অপচয় কমবে। সন্তানের জন্য বাবা-মার অফিসের গাড়ি বরাদ্দের দুর্নীতি বন্ধ হবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের শ্রম ও সময়ের অপচয় রোধ হবে। দূরবর্তী স্থানে যাতায়াত করতে হবে না বলে ঝরে পড়ার হার কমবে। শিশুর জন্ম ও ক্রমবৃদ্ধির সঠিক ও যথাযথ পরিসংখ্যান রাখা সম্ভব হবে।
দুই মন্ত্রণালয় ও মাউশি সূত্র বলছে, যেহেতু আমাদের মানসম্মত স্কুলের সংখ্যা বেশি নয়। কিংবা সারাদেশে একই মানের প্রতিষ্ঠান নেই তাই পুরোপুুরি এলাকাভিত্তিক স্কুলিং সিস্টেম চালু করা সম্ভব নয়। প্রতিযোগিতা ছাড়াই স্থানীয় শতভাগ শিক্ষার্থীকে তার এলাকার প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ দেয়াও অসম্ভব। কারণ যদি ভিকারুননিসা নূন বা মতিঝিল আইডিয়ালে সে সুযোগ দেয়া হয় তাহলে এলাকার হাজার হাজার শিশু ভর্তির জন্য চলে আসবে। অথচ প্রতিষ্ঠানের সেই আসনও থাকবে না। অন্যদিকে দেশের একটি ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ দেশের অন্য এলাকার কারও না থাকলে বাড়বে বৈষম্য। এছাড়া পছন্দের প্রতিষ্ঠানের আশপাশে বাসা ভাড়া নিয়ে অভিভাবকরা চলে যাবেন সন্তানকে নিয়ে বিদ্যালয়ে।
জানা গেছে, মূলত এসব সমস্যার কথা মাথায় নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে ভর্তি পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে সামনে রেখেই বিদ্যালয় এলাকার শিক্ষার্থীকে ভর্তিতে অগ্রাধিকার দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে যে যে সমস্যা সামনে চলে আসবে তা নিয়েই কাজ শুরু হয়েছে। এলাকার শিক্ষার্থীর জন্য ৪০ শতাংশ কোটা রেখে ভর্তির পদ্ধতিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এজন্য যত অনিয়ম হতে পারে যেমন কারা স্থানীয় নাগরিক? কতদিন আগে বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করলে স্থানীয় বলে বিবেচিত হবেন, এলাকা বলতে কতদূরের নাগরিক হবেন? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফহিমা খাতুন। তিনি উদ্যোগ সম্পর্কে বলছিলেন, এলাকার শিশুদের ভর্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের প্রেক্ষিতে আমরা পরিবর্তন আনছি। আমরা চাই স্কুলে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তির সময় স্থানীয় শিক্ষার্থীর জন্য ৪০ শতাংশ কোটা বরাদ্দ রাখতে। যেহেতু শহরের ভাল প্রতিষ্ঠানের দিকেই আগ্রহ থাকে শিক্ষার্থীর মা-বাবার। এখানেই প্রতিযোগিতাটা হয়। তাই আমরা মহানগরী ও জেলা শহরকে এই পদ্ধতির মধ্যে আনব। এখানে প্রতিষ্ঠানের আশাপাশের এলাকা বলতে আসলে কী বোঝানো হবে? এ প্রশ্নে মহাপরিচালক বলেন, এটা হবে আমাদের অধিদপ্তরের ক্যাচমেন্ট এরিয়া। আমাদের শিক্ষা অঞ্চলেই হবে প্রতিষ্ঠানের এরিয়া।
কিন্তু কারা হবে এলাকাবাসী? এ প্রশ্নে দীর্ঘদিন শিক্ষার সঙ্গে জড়িত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক এ চেয়ারম্যান বলছিলেন, ভাড়া থাকা বা নিজ বাসা সকলেই এলাকার। তবে যদি ভাড়া হলেই ভর্তির সুযোগ পায় তাহলে তো পাল্লা দিয়ে ভাল প্রতিষ্ঠানের আশপাশে ভাড়া নেয়া শুরু হয়ে যাবে। অনেকে সন্তানের ভর্তির কদিন আগে ঐ এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে ভর্তির জন্য আসবে।
এই সুযোগে অনেক প্রতিষ্ঠানের আশপাশে বাসা ভাড়াও বাড়িয়ে দেবেন বাসার মালিকরা। তাই যখন তখন বাসা ভাড়া নিলেই হবে না। কতদিন আগে থেকে বসবাসকারী হবে কিংবা কী কী প্রমাণ লাগবে তার সবই আমরা আলোচনা করে চূড়ান্ত করব। আমরা চাই আগামী নভেম্বরে স্কুল ভর্তি কার্যক্রম শুরুর আগেই নীতিমালায় ৪০ শতাংশ কোটা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে; যাতে আগামী ভর্তির সময়েই এটি কার্যকর হয়।
এলাকাভিত্তিক ভালো স্কুল গড়ার তাগিদ শিক্ষাবিদদের এলাকাভিত্তিক ভালো স্কুল গড়ার তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির কারণে স্কুলগুলো গুণগত শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। শিক্ষাবিদ, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সন্তানকে স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে সবসময় অভিভাবকের পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকে হাতেগোনা কিছু স্কুল। এর ফলে এসব স্কুল ভালো শিক্ষার্থী বেছে নিয়ে একচেটিয়া ভালো ফল করার সুযোগ পাচ্ছে। অন্যদিকে, ভালো স্কুলের ওপর বাড়ছে ভর্তির চাপ। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এলাকাভিত্তিক ভালো স্কুল গড়ে তোলা জরুরি।
জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শেখ একরামূল কবীর বলছিলেন, কিছু স্কুল বা প্রতিষ্ঠানের মান ভালো, কিন্তু সব প্রতিষ্ঠানের নয়। ফলে ভর্তির চাপটা ভালো প্রতিষ্ঠানের দিকেই যায়। সারাদেশে ভালো মানের প্রতিষ্ঠান করা জরুরি, সরকার এ ব্যাপারে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। নিশ্চয়ই আস্তে আস্তে ভালো প্রতিষ্ঠান বাড়বে। তিনি বলেন, ভালো প্রতিষ্ঠান বাড়লে এলাকাভিত্তিক ভর্তির বিষয়টিও ভালো ফল দেবে। অভিভাবকদেরও দূরে গিয়ে সন্তানকে ভর্তির আগ্রহ থাকবে না।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ