বিশেষ খবর

সুস্থতা ও শতায়ুলাভে প্রাকৃতিক চর্চা - ৮

ক্যাম্পাস ডেস্ক বিশেষ নিবন্ধ

কালোজিরা
প্রাচীনকাল থেকে মানুষের রোগ প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক হিসেবে কালোজিরা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চৌদ্দশত বছর পূর্বে মহানবী (সঃ) বলেছেন তোমরা কালোজিরা ব্যবহার করো, নিশ্চয়ই সকল রোগের নিরাময় এর মধ্যে নিহিত রয়েছে, মৃত্যু ব্যতীত (সহীহ্ বুখারী)। আর তাই যুগ যুগ ধরে পয়গম্বরী ঔষধ হিসেবে কালোজিরা ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
প্রাচীনকাল থেকে মধ্যপ্রাচ্য, দূরপ্রাচ্য এবং ভারত উপমহাদেশে সফলতার সাথে এজমা বা হাঁপানি-ব্রঙ্কাইটিস নিরাময়ে, বাত-ব্যথানাশক হিসেবে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ঘা শুকানো, হজমশক্তি বৃদ্ধি এবং সর্দি ও কাশি দূর করতে কালোজিরা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর নিয়মিত সেবনে সাধারণ পুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এটি ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তের শর্করা কমিয়ে ডায়াবেটিস আয়ত্তে রাখে। কালোজিরা শরীরে নিম্ন রক্তচাপ বৃদ্ধি এবং উচ্চ রক্তচাপ হ্রাসের মাধ্যমে এর স্বাভাবিক মাত্রা সুনিশ্চিত করতে সহায়তা করে; মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্মরণশক্তি বাড়ায়; চুলের গোড়ায় পুষ্টি যুগিয়ে চুল পড়া বন্ধ করে এবং চুল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে; রিউমেটিক এবং পিঠের ব্যথা কমায়; শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে সহায়ক। নিয়মিত কালোজিরা সেবনে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।
কালোজিরায় রয়েছে ক্ষুধা বাড়ানোর উপাদান। পেটের যাবতীয় রোগজীবাণু ও গ্যাস দূর করে ক্ষুধা বাড়ায়। যাদের শরীরে পানি জমে হাত পা ফুলে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে, তাদের পানি জমতে বাধা দেয়। সন্তান প্রসবের পর কাঁচা কালোজিরা পিষে খেলে শিশু প্রচুর দুধ পায়। কালোজিরায় রয়েছে এন্টিমাইক্রোরিয়াল এজেন্ট অর্থাৎ শরীরে রোগজীবাণু ধ্বংসকারী উপাদান। এ উপাদানের জন্য শরীরে সহজে ঘা, ফোঁড়া, সংক্রামক রোগ হয় না; মেধার বিকাশে কাজ করে দ্বিগুণ হারে। কালোজিরা নিজেই একটি এন্টিবায়োটিক বা এন্টিসেপটিক। দাঁতে ব্যথা হলে কুসুম গরম পানিতে কালোজিরা দিয়ে কুলি করলে ব্যথা কমে। জিহ্বা, তালু, দাঁতের মাড়ির জীবাণু মরে। কৃমি দূর করার জন্য কাজ করে কালোজিরা। এটি তারুণ্য ধরে রাখে দীর্ঘকাল। কালোজিরার তেল বা নির্যাস খাওয়ার পদ্ধতিঃ রাতে শোবার আগে অথবা সকালে ঘুম থেকে উঠে মধুর সাথে কালোজিরার তেল পেস্ট করে বা মিশিয়ে খাওয়া যায়; গরম দুধের সাথেও খাওয়া যায়।
রসুন
রসুনকে বলা হয় প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক। রসুনের নির্যাস ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং সকল প্রকার ভাইরাসের বিরুদ্ধে সরাসরি কাজ করে। রসুনে থাকে সক্রিয় উপাদান এলিসিন নামক সালফারযুক্ত জৈব যৌগ। রসুনের কুখ্যাত গন্ধ ও বিখ্যাত ভেষজ গুণ দু’য়েরই প্রধান কারণ হচ্ছে এলিসিন। তবে অক্ষত রসুনে এলিসিন থাকে না, থাকে এলিইন। রসুন কাটলে বা ক্ষত করলে এলিনেজ নামক একটি এনজাইম এলিইন থেকে এলিসিন তৈরি করে। এলিসিন স্বল্প সময় স্থায়ী থাকে। রান্না করলে বা এসিডের প্রভাবে এলিনেজ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তাই কাঁচা রসুন চিবিয়ে খাওয়াই ভালো। কারণ চিবিয়ে না খেলে রসুনের রাসায়নিক উপাদান এলিসিন নির্গত হয় না। এই এলিসিনই হচ্ছে শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক।
রসুনের শক্তিশালী উপাদান ইমিউন সেলগুলোকে উদ্দীপিত করে অধিকতর সক্রিয় করে এবং দেহে অবাঞ্ছিত উপাদান যেমন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। এটি ইমিউন কোষগুলোর বৃদ্ধিকে উদ্দীপিত ও নিয়ন্ত্রণ করে। দীর্ঘদিন ধরে রসুন গ্রহণ করলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
রক্তের ঘনত্ব কমানোর এক অব্যর্র্থ ঔষধি খাদ্য হচ্ছে রসুন। এটি হৃদরোগ, মস্তিস্কে রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কমায়; রক্তের কোলেস্টেরল কমায়। রসুনের উপাদানগুলো মস্তিস্কের নিউরনকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়া নিউরনের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধেও সক্রিয় ভূমিকা রাখে রসুন। রসুনের মেডিসিনাল উপাদান এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ভূমিকার কথা দীর্ঘদিন ধরেই সকলের জানা। নিয়মিত রসুন গ্রহণ করলে অনেক রোগ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। এজন্য রসুনকে বলা হয় প্রাকৃতিক আশ্চর্য ঔষধ।
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসামতে- খালি পেটে রসুন খেলে যেকোনো ধরনের ব্যথা দূর হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। প্রতিদিন রসুন খেলে কখনো টিবি (টিউবারকুলোসিস) হয় না। রসুন এন্টিবায়োটিক হওয়ার কারণে কোনো কঠিন রোগই শরীরের ধারেকাছে আসতে পারে না। রসুন সর্দি নির্মূল করে, বাতের ব্যথা দূর করে। আহারের সময় নিয়মিত রসুন বা রসুনের চাটনি খেলে তা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কালো রসুনঃ সাদা রসুনের তুলনায় কালো রসুনের গুণাগুণ বহুগুণ বেশি। ঔষধি গুণের বিচারে কালো রসুনকে বলতে হয় সর্বরোগের মহৌষধ। সাদা রসুনকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ফারমেন্টেড করে কালো রসুন করা হয়। কালো রসুনে থাকে সাদা রসুনের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি এন্টিঅক্সিডেন্ট, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।
রসুনে থাকে এলিসিন, যা এন্টিবায়োটিক এবং ছত্রাকনাশক হিসেবে কাজ করে। সাদা রসুনকে যখন কালো রসুনে রূপান্তর করা হয়, তখন এলিসিন পরিণত হয় এসএলিসিসটেইনে। এ উপাদানটি পানিতে দ্রবীভূত এন্টিবায়োটিক এবং এটি ছত্রাক নাশক, যা মানবদেহ খুব সহজেই গ্রহণ করতে পারে। কালো রসুনে সাদা রসুনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাকটেরিয়া নাশক উপাদান থাকে এবং প্রাকৃতিক উপাদান এসএলিসিসটেইন ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম। কালো রসুনে আছে সালফার কম্পাউন্ড, ভলাটাইল অয়েল, এনজাইম, কার্বোহাইড্রেড, ভিটামিন, মিনারেল, এমাইনো এসিড -যেগুলো মানবদেহের ফ্রি রেডিক্যাল ধ্বংস করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, ইমিউন ডেভেলপ করে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করেঃ কালো রসুন রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা এবং ব্লাড সার্কুলেশন উন্নত করে। এটি ভিটামিন ‘ই’ এর চেয়ে ২০০০ গুণ বেশি কার্যকর। কোনো প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই নিরাপদভাবে রক্তচাপ বা ব্লাডপ্রেসার নিয়ন্ত্রণ করে কালো রসুন। রসুনের পটাশিয়াম রক্তের পটাশিয়ামকে সরিয়ে রক্তচাপকে স্বাভাবিক করে তোলে।
কোলেস্টেরল কমায়ঃ কালো রসুন সরাসরি ও দ্রুত রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তের প্রবাহ বাড়তে সাহায্য করে। মাত্রাতিরিক্ত লিপিড কোলেস্টেরল হৃদরোগের কারণ। এ রসুন রক্তের ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়, যা হৃদরোগের সম্ভাবনাকে প্রতিরোধ করে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্ট এটাক থেকে রক্ষা করে।
ব্লাড সুগার এবং ডায়াবেটিস সংক্রান্ত সকল জটিলতা নিয়ন্ত্রণ করেঃ ডায়াবেটিসের জন্য কেবল ব্লাড সুগারই দায়ী নয়, এর প্রধান কারণ মাইক্রানজিয়াম প্যাথলজিক্যাল পরিবর্তন। রসুনের নির্যাস শুধুমাত্র ব্লাড সুগার লেভেলই নিয়ন্ত্রণ করে না, ভাস্কুলার প্যাথলজিক্যাল পরিবর্তন এবং ডায়াবেটিসের ফলে সৃষ্ট জটিলতাসমূহ দূর করে। এটি এট্রোপিক আইলেটস সেলগুলোকে মেরামত করে ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম করে তোলে। রসুনে বিদ্যমান এলিসিন ব্লাড সুগার কমায়, ইনসুলিন লেভেল বাড়ায় -যা ডায়াবেটিসজনিত সকল জটিলতা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করে।
ক্যান্সার প্রতিরোধে কালো রসুনঃ যে সমস্ত উপাদান ক্যান্সার তৈরি করে, কালো রসুন তাদেরকে থামিয়ে দেয়। যেমন নাইট্রেসামিনের গঠন, ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি। এছাড়া এটি ক্যান্সার কোষের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। কালো রসুনে প্রচুর পরিমাণে সেলেনিয়াম থাকে যা মানবদেহে পারঅক্সাইড পৃথক করে ক্যান্সার কোষগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়; ফলে ক্যান্সার কোষ বাধাপ্রাপ্ত হয়। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন লিউকোমিয়া, মুখের ক্যান্সার, অন্ননালীর ক্যান্সার, পাকস্থলীর ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার, ওভারিয়ান ক্যান্সার এবং অন্যান্য ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে কালো রসুন। রক্ত জমাটের ও রক্ত ক্ষরণের ঝুঁকি কমায়ঃ রসুনের আরেক নাম ‘রক্তনালি পরিষ্কারক’। নিয়মিত রসুন গ্রহণ করলে রক্তনালিতে চর্বি জমা হতে পারে না। রক্তনালিতে চর্বি জমাট হওয়া হার্ট এটাকের মুখ্য কারণ; যার ফলে আর্টারী ব্লক হয়ে যায়, রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা দুর্বল হয়ে পড়ে, এপোপ্লেক্সিয়া বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশান হতে পারে। রক্ত গাঢ় হওয়ার প্রধান কারণ অনুচক্রিকার জমাটবদ্ধতা। রসুনের সক্রিয় উপাদান এলিসিন রক্তের চর্বি ও গাঢ়ত্ব কমিয়ে অনুচক্রিকার জমাটবদ্ধতা প্রতিহত করে বলে হার্ট এটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
জীবানু ও প্রদাহনাশকঃ রসুনের নির্যাস প্রদাহনাশক গুণের জন্য ব্যাপক পরিচিত। এটি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং সকল প্রকার ভাইরাসের বিরুদ্ধে সরাসরি কাজ করে। কালো রসুনের সক্রিয় উপাদান দেহের ইমিউন সেলগুলোকে উদ্দীপিত করে অধিকতর সক্রিয় করে তোলে এবং দেহে অবাঞ্চিত ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
এন্টি-এজিং ইমিউন এন্ড কসমেটোলজিক ইফেক্টঃ রসুনে বিদ্যমান উদ্বায়ী তেল ম্যাকরোফেজের ফ্যাগোসাইটিক কার্যাবলী এবং ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে। রসুনে বিদ্যমান প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন ও মিনারেল ভাস্কুলার এজিং এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া প্রতিরোধ করে। রসুনের কিছু উপাদানের সাথে ভিটামিন বি-১ মিলিত হয়ে ‘গার্লিক এমাইন’ উৎপন্ন করে। এই গার্লিক এমাইন ভিটামিন বি-১ এর ন্যায় কাজ করে শর্করা অক্সিডেশনে শক্তি সরবরাহ করে এবং সেরিব্রাল কোষগুলোতে প্রচুর শক্তি সরবরাহ করে সেরিব্রালের কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়া উদ্বায়ী তেল ঘর্মগ্রন্থি এবং হেয়ার ফলিকলে রক্তের প্রবাহ ঠিক রাখে; ফলে চুল বৃদ্ধি পায় এবং মাথায় টাক পড়া বন্ধ হয় ও খুশকি দূর হয়।
সাদা রসুনকে কালো রসুনে রূপান্তর চীন ও কোরিয়ার এক বিস্ময়কর আবিষ্কার, যা হারবাল খাদ্য এবং Supplementary food হিসেবে বিভিন্ন রোগ দমন ও রোগ প্রতিরোধে এক অত্যাশ্চর্য মহাটনিক। চকলেটের চেয়েও সুস্বাদু এবং তাৎক্ষণিক কার্যকর এই দুর্লভ খাদ্য-পথ্য এখন শুধু উন্নত দেশেই নয়, বাংলাদেশেও দু’রকমে পাওয়া যায়; ক) গোটা কালো রসুন খ) কালো রসুনের খাঁটি জুস।
প্রতিদিন ১ প্যাকেট জুস অথবা ১টি কালো রসুন ৪ সপ্তাহ খেলেই নিজের মধ্যে সুপরিবর্তন লক্ষণীয়; এমনকি সে পরিবর্তন ধরা পড়বে অন্যদের চোখেও। শরীরের স্থূলতা বা চর্বি কমানো, ক্যান্সার, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, থ্রম্বোসিস, লিভার, হৃদরোগসহ বহু রোগের একক ও দুর্দমনীয় সমাধান কালো রসুন। বিশেষত কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিকর ঔষধ গ্রহণের চেয়ে কালো রসুন গ্রহণের ন্যায় প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। তাই আজই পরখ করুন এবং সুস্থ দেহ-মনের অধিকারী হয়ে জীবন বদলে দিন। নিরোগ ও শতায়ুলাভের এ টনিক এখন আপনার নাগালেই; এ ব্যাপারে ক্যাম্পাস কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।
হার্ট বাঁচাতে এবং ব্লাড প্রেশার ও ব্যথা উপশমে রসুনের তেল
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষত হার্ট বা হৃদযন্ত্রের সুস্থতা ও পুষ্টতায় রসুনের গুণের তুলনা ভার। ছোটবেলায় নানী-দাদীদের দেখেছি, শরীরে ব্যথা-বেদনার উপশমসহ বিভিন্ন অসুখে তাঁরা রসুনের রস বা নির্যাস গরম করে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করতেন।
আধুনিক বিশ্বে মানুষের নিকট সর্বাধিক আতঙ্কের ব্যাধি হচ্ছে হৃদরোগ। এরূপ অসহায় ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় রোগাক্রান্তদের জন্য নতুন সুখবর হচ্ছে রসুনের তেল ব্যবহারে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। যাদের হার্টের বেশিরভাগ কোষ ইতোমধ্যেই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে কিংবা হার্ট এটাকের কবলে পড়ে কোষগুলোর বেশিরভাগ নাজুক অবস্থায় রয়েছে, তারা নিয়মিত রসুনের তেল মালিশ করলে ঐ কোষগুলো পুনরায় সজীব হয়ে উঠবে। যুক্তরাষ্ট্রের ইমরি ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের একদল গবেষক এই গবেষণা চালিয়েছেন। তারা রসুনের কোয়া পিষে তৈরি ডায়ালাই ট্রাইসালফাইড নামের পদার্থ দিয়ে এ পরীক্ষা করেন।
ডায়ালাই ট্রাইসালফাইডে রয়েছে হাইড্রোজেন সালফাইড, যা হার্টের কোষ সজীব করতে সহায়তা করে। সাধারণত অস্থিত ও উদ্বায়ী গ্যাস দেহ থেকে বের করতে ইনজেকশনের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু রসুনের তেল বাহ্যিক ব্যবহারের ফলেই এ কাজ সম্পন্ন হয়। হাইড্রোজেন সালফাইড আসলে এক ধরনের শক্তিশালী বিষ, যা রসুনের তেলে পাওয়া যায়। এটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে বাহ্যিক ব্যবহারের ফলে ব্যথা-বেদনা কমায়, ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং কোষ জীবন্ত রাখতে সহায়তা করে। হার্ট এটাক বা হার্টের অপারেশনের পর রক্তে অক্সিজেনের উপস্থিতি কমে যায়। হাইড্রোজেন সালফাইড হার্টের প্রকোষ্ঠে অক্সিজেন সরবরাহে সহায়তা করে।
-চলবে।
সুস্থতা ও শতায়ুলাভে
প্রাকৃতিক চর্চা ও চিকিৎসা
Be your own Doctor -এ বইটির
পৃষ্ঠা সংখ্যা- ৩৪৬, মূল্যঃ ৩৫০ টাকা
প্রাপ্তিস্থানঃ ক্যাম্পাস পত্রিকা অফিস
৩৩ তোপখানা রোড, ১৩ তলা, ঢাকা।
ফোনঃ ৯৫৫০০৫৫, ৯৫৬০২২৫


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ