বিশেষ খবর

সুস্থতা ও শতায়ুলাভে প্রাকৃতিক চর্চা ও চিকিৎসা -১০

ক্যাম্পাস ডেস্ক বিশেষ নিবন্ধ

॥ পূর্ব প্রকাশিতের পর -১০॥

স্বাস্থ্য রক্ষায় নিরামিষ
এটি নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অন্যতম উপায় সব্জি গ্রহণ। নিয়মিত শাক-সব্জি খেলে অনেক রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়। তাই ক্রমান্বয়ে নিরামিষ খাওয়ার চল বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে ৪০ লক্ষ লোক নিরামিষভোজী; ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল, চীনসহ বিশ্বের বহু দেশে নিরামিষভোজীর সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। এমনকি সেসব দেশের সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কেবল নিরামিষজাতীয় খাবারই পরিবেশন করা হয়। নিরামিষভোজীদের বডি মাস ইনডেস্ক (বিএমআই) স্ট্যান্ডার্ড এবং কোলেস্টেরল কম থাকে, যা ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে নিরামিষভোজীরা দীর্ঘায়ু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের লোমা লিন্ডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষের ওপর গবেষণা করে দেখেছেন আমিষভোজী নারী-পুরুষের তুলনায় নিরামিষভোজী নারী-পুরুষের আয়ু অনেক বেশি। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, নিরামিষভোজী ব্যক্তিদের হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ৩২ শতাংশ কম।
নিরামিষভোজীদের খাদ্যে থাকে প্রচুর ফাইটোকেমিক্যালস, যা আছে রঙিন ফল ও সব্জিতে। যেমন ব্রোকলিতে আছে ল্যুটিন এবং টমেটোতে আছে লাইকোপেন। ফাইটোকেমিক্যাল হলো শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট, যা ক্যান্সাররোধী। নিরামিষ খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি শরীরে প্রোটিনেরও প্রয়োজন হয়। তাই বিভিন্ন প্রোটিন পেতে হলে খেতে হবে বাদাম, বীজ, ডাল, মটরশুঁটি প্রভৃতি। সয়াদ্রব্য হলো প্রোটিনের বড় উৎস; মাংসের পরিপূরকও বটে। সয়া দিয়ে সব্জি রান্না খেতেও বেশ স্বাদ।
এছাড়া নিরামিষের পাশাপাশি শরীরে প্রয়োজন ভিটামিন ও খনিজ; যেমন ভিটামিন বি ১২, ভিটামিন ডি, লোহা, দস্তা, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি। এজন্য দুধ, দধি, পনির খেলে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম; এতে হাড় মজবুত থাকে। বিকল্প ক্যালসিয়ামও প্রয়োজন হতে পারে। যেমন ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ সয়াদুধ, কমলার রস, বীজ, বাদাম ও সব্জি। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আছে পত্রবহুল সবুজ শাক-সব্জি, রান্না করা শুষ্ক বিনস, শস্য খাদ্যে। ওমেগা ও মেদ অম্ল হলো স্বাস্থ্যকর চর্বি যা রক্তচাপ কমায়; হৃদহিতকরও বটে। তৈলাক্ত মাছ ও ডিম, কুমড়ার বিচি, তিসি, ওয়ালনাট, সয়াবিন তেলে আছে এই মেদ অম্ল।

ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ফুলকপি ফুলকপিকে আমরা মুখরোচক ও সুস্বাদু সব্জি হিসেবে খেয়ে থাকি। কিন্তু ফুলকপির বহু পুষ্টিগুণের কথা অনেকেরই অজানা। ফুলকপিতে ভিটামিন বি এবং সি রয়েছে। তাছাড়া খনিজ উপাদান যেমন ফসফরাস, আয়রন, পটাশিয়াম, কোলাইন ও সালফার মেশানো ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। এ সব্জিটিতে অধিক খাদ্য-আঁশও রয়েছে। ফুলকপির ডাঁটা ও সবুজ পাতায় রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম।
ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষত কোলন, রিকটাম ও পাকস্থলীর ক্যান্সার রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে ফুলকপি; এছাড়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং কোলেস্টেরল কমাতেও এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

কচুরও আছে ঔষধি গুণ কথায় কথায় বিদ্রুপের সুরে আমরা বলে থাকি ‘কচু’। কিন্তু কচু যে কত মূল্যবান ও উৎকৃষ্ট খাদ্যের নাম, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং ঔষধি গুণসম্পন্ন খাদ্য হচ্ছে কচু।
কচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে, যা দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক। কচু পরিপাকে সহায়তা করে, হজমশক্তি বৃদ্ধি করে, বাত-ব্যাধি লাঘব ও শরীরের কমনীয়তা বৃদ্ধি করে। কচুতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, থায়ামিন, ক্যারোটিন, রিবোফ্লাভিন ইত্যাদি। বর্ষাকালে সব্জির অপ্রতুলতার সময় সব্জি হিসেবে কচু যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে।
সব্জি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি দেহের পুষ্টি চাহিদা পূরণে কচু, কচুর লতি ও কচু শাকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যালসিয়ামের বড় উৎস কচুশাক ভিটামিন এ এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। কচুশাক দুই প্রকার; সবুজ কচুশাক ও কালো কচুশাক। খাদ্য উপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম সবুজ ও কালো কচুশাকে যথাক্রমে ১০২৭৮ ও ১২০০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন রয়েছে, যা ভিটামিন এ’র অন্যতম উৎস। এছাড়া কচুশাকে রয়েছে আমিষ, শর্করা, স্নেহ, লৌহ, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ভিটামিন সি এবং খাদ্যশক্তি। সবুজ কচু শাকের চেয়ে কালো কচুশাক অনেক বেশি পুষ্টিকর। বাংলাদেশের মাটি ও বায়ু কচু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী; কিন্তু কচুর কদর ততটা না থাকায় এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এটি অতীব সস্তা এবং অনেকক্ষেত্রে মূল্যহীন। এক মণ ওজনের ৮টি কচু বিক্রি করে কৃষক ১ কেজি চালের দামও পায় না। তাই চালের চেয়ে কচুর পুষ্টি ও গুণ অত্যধিক হওয়া সত্ত্বেও বেয়াড়া খাদ্যাভ্যাসের কারণে সম্ভাবনাময়ী এ ঔষধি গুণের খাদ্যটির চাহিদা ও সরবরাহ ব্যাপক হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে কচু চাষ ও ব্যবহার বৃদ্ধির ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগ একদিকে দেশের সব্জি সংকট দূর করবে, অন্যদিকে কচু বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দ্বারও উন্মোচিত হবে।

ক্যান্সার ঠেকাবে রঙিন আলু ক্যান্সার প্রতিরোধক গুণসম্পন্ন নতুন ৪ প্রজাতির রঙিন আলু উদ্ভাবনে সফলতা দেখিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। রঙিন আলুর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বাকৃবি’র হর্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ রহিম জানান রঙিন আলুতে প্রচুর পরিমাণে এন্থোসায়ানিন ও ফেনোলিক কম্পাউন্ড থাকে, যার এন্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া হলুদ রঙের আলুতে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিনয়েড, বিটা ক্যারোটিন ও লুটেইন এবং বেগুনি রঙের আলুতে প্রচুর পরিমাণে ফ্লেভোনয়েড থাকে, এরও এন্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা রয়েছে। এই এন্টিঅক্সিডেন্ট মানবদেহে ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এই উপাদানটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, বয়োবৃদ্ধিজনিত বুদ্ধি হ্রাস রোধ এবং মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এছাড়া রঙিন আলুর মাংসল অংশের তুলনায় চামড়া বা খোসায় প্রায় ১০ গুণ এন্টিঅক্সিডেন্ট বেশি থাকে।
তাই ভাতের বিকল্প হিসেবে নিয়মিত এ আলু খেলে প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ক্যান্সার, হৃদরোগসহ কয়েকটি রোগের ঝুঁকি থেকে অনেকটাই রক্ষা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা জানান, লাল আলুতে রয়েছে ভিটামিন এবং রকমারি ফাইটোকেমিক্যালস যা মানবদেহে রক্তচাপ হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এজন্য আলু সেদ্ধ করে খাওয়া ভালো। তেলে ভাজলে বা বেশি আঁচে রান্না করলে আলুর গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়; রক্তচাপ কমারও কোনো সম্ভাবনা থাকে না।

মটর শিমে ক্যান্সার রোধ কলাই, মটরশুঁটি, শিম কিংবা সুশির (ভাত) মতো শ্বেতসার জাতীয় খাবার কোলন ক্যান্সার রোধে সহায়ক। শ্বেতসার জাতীয় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ খাবার সহজপাচ্য নয়, ফলে এগুলো যেভাবে খাওয়া হয়, ঠিক সেভাবেই মলাশয় বা অন্ত্রে প্রবেশ করে। অন্ত্রে থাকা অবস্থায় খাবারগুলো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। খাবারগুলো একদিকে অন্ত্রের পাচকরস কমায় এবং অন্ত্র দিয়ে পরিবাহিত হওয়ার সময় কম নেয়। অন্যদিকে ফ্যাটি এসিড উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। এর প্রভাবে হজম প্রক্রিয়ায় উপকারী অণুজীব বৃদ্ধি পায় এবং অপকারী অণুজীব হ্রাস পায়। শ্বেতসার অন্ত্রে থাকাকালীন যেসব প্রক্রিয়া ঘটে থাকে তাতে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ ধ্বংস হয় এবং প্রদাহ হ্রাস পায়। তবে কলাই, শিম ইত্যাদি রান্না করলে শ্বেতসার উপাদান কমে যেতে পারে। তাই সঠিকভাবে এগুলো খেতে হবে। শ্বেতসার জাতীয় খাবার ব্রেস্ট ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও উপকারী ভূমিকা পালন করে।

অমরত্বের চাবিকাঠি মাশরুম মাশরুম মূলত এক ধরনের ছত্রাক বা ফাঙ্গাস। পুষ্টিকর খাবার বলেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি ব্যাপকভাবে চাষাবাদ হয়ে থাকে। মাশরুমের নব্বই শতাংশই পানি। আছে অল্প পরিমাণ ক্যালরি এবং কিছুটা ফাইবার ও সোডিয়াম। প্রাচীন মিসরের অধিবাসীরা বিশ্বাস করত, মাশরুম হচ্ছে অমরত্বের চাবিকাঠি। তারা এটিকে ঈশ্বরের খাবার বলেই মনে করত।
অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য মাশরুম। এটি প্রোটিন আর ভিটামিনে সমৃদ্ধ। নিয়মিত মাশরুম খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়; ডায়াবেটিস কমিয়ে আনে; হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার ও টিউমার, হেপাটাইটিস-বি ও জন্ডিস প্রতিরোধ করে; রক্তস্বল্পতা দূর করে; হাড় ও দাঁতের কার্যক্ষমতা বাড়ায়; খাদ্য হজমে সহায়তা করে। আমাশয় নিরাময় করে; কিডনি স্বাভাবিক রাখে; শক্তিবর্ধক হিসেবে কাজ করে; মেদভুঁড়ি নিয়ন্ত্রণসহ চর্ম ও যৌনরোগ এবং ভাইরাস প্রতিরোধ করে।
মাশরুমে সামান্য পরিমাণ বিষও আছে। তাই কাঁচা খাওয়া মোটেও উচিত নয়। রান্না করলে এর বিষক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়।

তুলসীঃ বহু রোগের একক ঔষধ তুলসী অর্থ তুলনা নেই। তুলসীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রবল। প্রবাদ আছে বাড়িতে তুলসী গাছ থাকলে সেখানে কোনো ভাইরাস ছড়াতে পারে না। তুলসীর পাতায় বিদ্যমান এসেনশিয়াল অয়েল মানবদেহে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বন্ধ করে; এমনকি যেসকল ব্যাকটেরিয়া এন্টিবায়োটিক ঔষধের কারণে বেড়ে ওঠে, তাদের ধ্বংস ও প্রতিরোধে কাজ করে থাকে। তুলসীর প্রকারভেদ রয়েছে; তবে হরিৎ বর্ণ ও কৃষ্ণ বর্ণ দু’রকম তুলসীর গুণ একই।

তুলসীর ঔষধি গুণ ও ব্যবহারঃ ১। সর্দি-জ্বরঃ তুলসী পাতার রসের সঙ্গে আদা মিশিয়ে খেলে সর্দি-জ্বরের উপশম হয়।
২। এলার্জিঃ তুলসী পাতা বেটে কাঁচা হলুদের রস ও আখের গুড়ের সাথে মিশিয়ে খেলে এলার্জিতে উপকার হয়।
৩। দেহ-মন সতেজ ও নিরোগঃ রোগ প্রতিরোধে তুলসী পাতা চায়ের মতো করে খেতে হবে। বৃদ্ধ বয়সে দেহ ও মনের সতেজতা ধরে রাখতে পানের সঙ্গে আধা ইঞ্চি পরিমাণ তুলসীর মূল মিশ্রিত করে চিবিয়ে খেতে হবে।
৪। সর্দি-কাশি, কোষ্ঠকাঠিন্যঃ সর্দি বা সর্দির প্রবণতা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে প্রতিদিন ১ চা-চামচ তুলসী পাতার রস ও ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে খেতে হবে।
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ৫ ফোঁটা তুলসী পাতার রসের সঙ্গে ২ ফোঁটা মধু অনুপাতে (বয়স অনুযায়ী কমবেশি পরিমাণমতো) খাওয়াতে হবে।
৫। ঘামাচি ও চুলকানিঃ তুলসী পাতা বাটা ও টক দই মিশিয়ে গায়ে মাখলে ঘামাচি ও চুলকানি ভালো হয়।
৬। বসন্ত-হামঃ বসন্ত হওয়ার পর যেকোনো দাগ এবং হামের পর শিশুদের শরীরে কালো দাগ পড়লে সেখানে তুলসী পাতার রস মাখলে দাগ চলে যায়।
৭। ব্রণ মুক্তিঃ ব্রণ ও ব্রণের দাগ মেটাতে তুলসী অতুলনীয়। তুলসী এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল। তাই বেসনের সঙ্গে তুলসী বাটা মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলার নিয়মিত অভ্যাসে কিছুদিনের মধ্যে ব্রণ ও ব্রণের দাগ চলে যায়।
৮। দাদঃ তুলসী পাতার রসের সঙ্গে লবণ মিশিয়ে দাদে লাগালে উপশম হয়।
৯। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়াঃ তুলসীর বীজ পানিতে ভেজালে পিচ্ছিল হয়। সে পানিতে চিনি মিশিয়ে খেলে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া চলে যায়।
১০। রক্ত পরিষ্কারঃ তুলসী পাতার রয়েছে রক্ত পরিষ্কার করার ক্ষমতা। তাই রক্ত পরিষ্কার রাখতে তুলসী পাতার রস খাওয়া উচিত।
১১। এছাড়াও যদি কখনো বমি কিংবা মাথা ঘোরা শুরু হয়, তাহলে তুলসীর রসের মধ্যে গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। সকালবেলা খালি পেটে তুলসী পাতা চিবিয়ে রস পান করলে ক্ষুধামন্দাভাব দূর হয়। নিয়মিত তুলসীর রস পানে হৃদরোগেও উপকার হয়। চোখের সমস্যা দূর করতে রাতে কয়েকটি তুলসী পাতা পানিতে ভিজিয়ে রেখে ঐ পানি দিয়ে সকালে চোখ ধুয়ে ফেললে উপকার পাওয়া যায়।
(চলবে)

সুস্থতা ও শতায়ুলাভে
প্রাকৃতিক চর্চা ও চিকিৎসা Be your own Doctor -এ বইটির
পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৪৬, মূল্যঃ ৩৫০ টাকা
প্রাপ্তিস্থানঃ ক্যাম্পাস পত্রিকা অফিস
৩৩ তোপখানা রোড, ১৩ তলা, ঢাকা।
ফোনঃ ৯৫৫০০৫৫, ৯৫৬০২২৫


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ