বিশেষ খবর

শেকৃবি’র প্রথম সমাবর্তন ॥ প্রধানমন্ত্রীকে ‘ডক্টর অব দ্য ইউনিভার্সিটি’ ডিগ্রি প্রদান

ক্যাম্পাস ডেস্ক শিক্ষা সংবাদ
img

নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে আর উৎসবমুখর পরিবেশে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবর্তন উপলক্ষে ক্যাম্পাসকে সাজানো হয় মনোরম সাজে। বিভিন্ন বিভাগ, হল, প্রশাসনিক ভবন ছাত্রছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। কালো গাউন পরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস জুড়ে আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করে। দিনভর ছবি তোলা, বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা, হইচই ও কোলাহলে মেতে থাকে সবাই।
সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মোঃ আবদুল হামিদ। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে ন্যাশনাল ইমেরিটাস সায়েন্টিস্ট কৃষিবিদ ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোঃ শাদাত উল্লা। এ ছাড়া ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া। এ সময় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ হযরত আলীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট-সিন্ডিকেট সদস্য ও একাডেমিক পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেশের সার্বিক উন্নয়ন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষা, গবেষণায় অসামান্য অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি ‘ডক্টর অব দ্য ইউনিভার্সিটি’ ডিগ্রি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতি শিক্ষাবর্ষে প্রথম হওয়া ২২ জন স্বর্ণপদক এবং স্নাতক ২১১০ জন, স্নাতকোত্তরে ৫১২ জন এবং পিএইচডিতে তিনজন গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ মোঃ রেজাউল করিম সমাবর্তন অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।
রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মোঃ আবদুল হামিদ তার বক্তব্যে ২০৫০ সালকে সামনে রেখে দেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা ও খাদ্য নিরাপত্তার আলোকে কৃষিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কৃষিবিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি কৃষি শিক্ষার গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, এক সময় দেশে কৃষি ব্যবস্থা সনাতনী প্রথা নির্ভর হলেও আজ তাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। ফলে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এজন্য তিনি কৃষক, কৃষিবিজ্ঞানী, শিক্ষক, গবেষক, সম্প্রসারণ কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির কারণে কৃষি উৎপাদন পূর্বের তুলনায় বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ শাদাত উল্লা বলেন, এ দেশের ক্ষুধার্ত মানুষের অন্ন জোগাতে, কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে সচল রাখতে এ প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাজুয়েটরাই অগ্রদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। এ দেশের মৌলিক ও প্রাথমিক কৃষিশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও কৃষি সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন এ ইনস্টিটিউটের গ্র্যাজুয়েটরাই।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, দেশে আজ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর ৩৮ কোটি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে, এটি একটি বিশ্বরেকর্ড। দেশে শিক্ষার হার দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৭টি এবং বেসরকারি ৮৩টি, যাতে প্রায় ত্রিশ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন ও গবেষণা করছে।
সমাবর্তন বক্তা ন্যাশনাল ইমেরিটাস সায়েন্টিস্ট কৃষিবিদ ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা বলেন, কৃষি দিন দিন নানা রকম বৈরী পরিবেশের সম্মুখীন হয়ে পড়ছে। দেশের প্রায় অর্ধেক পরিমাণ আবাদি জমি কোনো না কোনো বৈরী পরিবেশের শিকার। ফলে আজ কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার ধরন-ধারণেও পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ