বিশেষ খবর

৮৩তম জন্মদিনেও প্রাণোচ্ছ্বল সৎ, ডায়নামিক ও ডিজিটাল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রিয় মানুষের মুখোমুখি
img

২৫ জানুয়ারি ৮৩তে পা রাখলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ দিনটিও তিনি কাটালেন ব্যস্ততম দিন হিসেবে শুধু নয়- দেশ, রাষ্ট্র ও মানুষের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে। যেখানে অনেক কাজ থাকবে সৃষ্টিশীল। অনেক কাজ থাকবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। আবার এর ফাঁকেই গাড়িতে বসে বা কোনো এক সময়ে পড়লেন পছন্দের কোনো নতুন বই। এমনকি এদিনে তিনি হয়ত শত কাজের ফাঁকে কোনো এক সময়ে লিখে ফেললেন সৃষ্টিশীল কোনো লেখা।
তাঁর জন্মদিনটি মিলে যায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিনের সঙ্গে। মধুসূদন ছিলেন বিস্ময়কর প্রতিভা। তাঁর জীবন ছিল স্বল্পায়ুর। আবুল মাল আবদুল মুহিত বিস্ময়কর প্রতিভা নন, কিন্তু বহু গুণের অধিকারী একজন মানুষ। যাকে কখনই সীমাবদ্ধ করা যায় না অর্থনীতির ভিতর বা একজন ভালো ব্যুরোক্র্যাট বা ভালো রাজনৈতিক মন্ত্রীর ভিতর। ইতিহাস, সাহিত্য, সমাজ বিজ্ঞান, সঙ্গীতসহ ললিত কলার সব দিক তাঁকে আকর্ষণ করে। তিনি সেখানে পৌঁছে যান অবলীলায়। অর্থাৎ রমাঁ রোল্যার সেই আদর্শ মানুষ তিনি, যিনি নিজের ভিতর সৃষ্টি করতে পেরেছেন অনেকগুলো জগত। আর সব জগতে আছে তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ। এর সঙ্গে তিনি পেয়েছেন দীর্ঘ সুস্থ জীবন।
৮৩তে পা রাখার তিন দিন আগে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিন দিন পরেই তো ৮২ পার হয়ে যাবে, এ বছরটিকে কিভাবে দেখছেন? না, খুব বেশি সময় নেননি, সামান্য একটু সময় নিয়ে- হঠাৎই সোফার ওপর সোজা হয়ে বসে বললেন, জীবনের শ্রেষ্ঠতম বছর। তাঁর বলার ভঙ্গিমা, দৃঢ়তা সব দেখে কিছুটা অবাক হয়ে যাই। ভাবতে চেষ্টা করি, কী অপরিসীম জীবনীশক্তির একটি মানুষ যে, তাঁর জীবনের ৮২তম বছরটিকে বলছেন জীবনের শ্রেষ্ঠতম বছর।
বাজেটের কাজ এখন প্রায় সারা বছরই চলে। তাই পরবর্তী বাজেটের অনেক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নিতে হয়েছে। সেই বাজেট নিয়ে অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে, তিনি বলেন, দেখ এটাই হবে আমার লাইফের শ্রেষ্ঠ বাজেট। এর পরেরটা সম্পর্কেও আমার একটা চিন্তা করা আছে। তবে সেটা আমি নেত্রীকে বলব। এর আগে কাউকে নয়।
অর্থনীতিকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নেয়া, ৭ পার্সেন্ট গ্রোথ নিশ্চিত করা, ভবিষ্যৎমুখী ৬ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়া, সর্বোপরি জীবনের সেরা বাজেটটি তৈরি করা। এসব কাজই তিনি তাঁর ৮২তম বছরে করেছেন। তাই তাঁর মুখে ছিল অনেক প্রশান্তি। এই প্রশান্তির ছেদ টানতে চাননি, তবে তারপরেও যে বছরটি তিনি পার করে এলেন, এ বছরে ব্যক্তিগত কথা আসতেই তাঁর মুখে একটা ছায়া নেমে এলো। অনেকটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়েই বললেন, আসলে রাশেদের এমন সুন্দর শরীর স্বাস্থ্য ওর কেন যে এবার এই চারটে বাইপাস করতে হলো। পিতা হয়ে ছেলের এ ধরনের অসুস্থতার ধাক্কা সামলানো যে কত কষ্টের তা যে কোনো পিতাই উপলব্ধি করতে পারেন। কিন্তু তাঁর ছেলের এ অসুস্থতার সমস্ত ব্যথা ও ভার বহন করেছিলেন সাবিহা মুহিত। পিতা আবুল মাল আবদুল মুহিত মাত্র একবার সিঙ্গাপুর যেতে পেরেছিলেন, তাও সামান্য সময়ের জন্যে। বাদবাকি গোটা দায়টা বহন করতে হয়েছে সাবিহা মুহিতকে। সাবিহা মুহিতের এই নীরব ত্যাগের হিসাব বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাসে কোনো দিন থাকবে না। যদি সত্যি বলা হয়, তাহলে বলতে হবে, সাবিহা মুহিত শুধু তাঁর সন্তানকে চিকিৎসা করাননি, তিনি বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে নিশ্চিন্তে তাঁর দেশ নিয়ে, অর্থনীতি নিয়ে ওই বিপদের সময়ও কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আর যে কারণে অর্থমন্ত্রী বলতে পারছেন, তাঁর জীবনের ৮২তম বছরটি তিনি পার করলেন শ্রেষ্ঠতম বছর হিসেবে। আগামী বাজেটটি তিনি করতে যাচ্ছেন তাঁর জীবনের সেরা বাজেট হিসেবে। সাবিহা মুহিতের এ ত্যাগের বাকি যেটুকু প্রকাশের থাকে, তা মনে হয় গদ্যে লেখা যায় না।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কর্মজীবনের মতো তাঁর ব্যক্তিজীবনও কিন্তু আরেক দিগন্ত। যেমন ২০১৬তে ৮৩তম জন্মদিনের মাত্র দুই দিন আগে সেই আলাপচারিতায় একপর্যায়ে তাঁর লাইব্রেরিতে বই পড়ার প্রসঙ্গ আসে। এক সময়ে তো তিনি ছাত্রজীবনে বংশালে বুক শপে বসেও সারাদিন বই পড়েছেন। সেদিন আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বললেন, তিনি প্রকৃত অর্থে নিজেকে এনলাইট করার সুযোগ পেয়েছেন ১৯৮৭ থেকে ২০০০ অবধি। আর সাহিত্য থেকে অর্থনীতিতে তাঁর সুইস ওভারটা হয়েছে ১৯৬২ থেকে ৬৪ এই সময়ে। এ সময়ে ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট অর্গানাইজ করার দায়িত্ব পড়ে তাঁর ওপর। ওই সময়ে ট্রান্সপোর্টের ওপর যে স্টাডি পেপার সেটা পড়তে গিয়ে তাঁকে বিশ্ব অর্থনীতির অনেক বই পড়তে হয়। সেখানে ইস্ট পাকিস্তান ও ওয়েস্ট পাকিস্তানের অর্থনীতিও ছিল। সব মিলে ওই সময়টা তাঁকে টেনে নিয়ে যায় অর্থনীতিতে। যা তাঁকে হার্ভার্ড থেকে অর্থনীতিতে ডিগ্রি নিতে উদ্বুদ্ধ করে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ৮৩তম জন্মদিনটি তাঁর শুভানুধ্যায়ীরা নানান অনুষ্ঠানের ভিতর দিয়ে পালন করেন। কিন্তু তরুণদের জন্য বা আগামী প্রজন্মের জন্য এ দিনটি কিন্তু উপলব্ধির। অর্থাৎ তাঁর মতো মানুষ আমাদের দেশে এখন সংখ্যা গণনায় খুব বেশি নেই। তাই তাঁর জন্মদিনে তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নেয়া অনেক বড় বিষয়। অন্তত এটুকু শিক্ষা তো তরুণ প্রজন্ম নিতে পারে, সে জীবন কেমন বহতা নদী তা আবুল মাল আবদুল মুহিতের জীবন থেকে শেখা যায়। এখানে থেমে থাকার কিছু নেই। নিজেকে উত্তরণ ঘটাতে হয় এবং সেটা যে কোনো সময়ে। আর সব কিছুরই মূলে জ্ঞানার্জন। জ্ঞানই কিন্তু তৈরি করেছে একজন ডায়নামিক ও ডিজিটাল আবুল মাল আবদুল মুহিতকে। অন্য কোনো উপাদান নয়। কঠোর পরিশ্রমী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজের সব তথ্য-উপাত্ত কম্পিউটারে নিজেই সংরক্ষণ ও পরিচালনা করেন; ব্যক্তিগত সহকারীর সহযোগিতা নেন না; কেউ এপয়েন্টমেন্ট চাইলে তাৎক্ষণিক নিজেই কম্পিউটারে মাউস ক্লিক করে মিনিটের মধ্যে এপয়েন্টমেন্ট দিয়ে দেন। সত্যিকার অর্থে তিনি একজন ডিজিটাল ব্যক্তিত্ব, তাই কোনো কোনো সাংবাদিকের মতে তিনি ডিজিটাল মন্ত্রী। আবুল মাল আবদুল মুহিতের জন্মদিন তরুণরা পালন করতে পারে জ্ঞানার্জনের শপথ নিয়ে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ