গত ৯ এপ্রিল ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ফ্রি ইংলিশ কোর্সের ১৪তম ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান " /> ক্যাম্পাস পরিচালিত ফ্রি ইংলিশ কোর্স উদ্বোধন করেন ড. মোঃ খালেদ এবং এডভোকেট এম এন জামান
বিশেষ খবর

ক্যাম্পাস পরিচালিত ফ্রি ইংলিশ কোর্স উদ্বোধন করেন ড. মোঃ খালেদ এবং এডভোকেট এম এন জামান

ক্যাম্পাস ডেস্ক ক্যাম্পাস’র অনুষ্ঠান
img

গত ৯ এপ্রিল ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ফ্রি ইংলিশ কোর্সের ১৪তম ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ডায়নামিক ও দক্ষ প্রশাসক, লেখক ও গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব ড. মোঃ খালেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব, বিদগ্ধ আইনজীবী, শিক্ষানুরাগী-কল্যাণকামী ও উদারপ্রাণ সমাজসেবী এডভোকেট এম এন জামান।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ও ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) এর মহাসচিব এম হেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রোএকটিভ এবং পজিটিভ এটিচিউড আন্দোলনের প্রবক্তা ড. আলমাসুর রহমান; সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও বিআইডিএসর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ; ফ্রি ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ কোর্সের রিসোর্স পার্সন এম জি কিবরিয়া; কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার উপদেষ্টা ও শিশু-সংগঠক মোহাম্মদ মোস্তফা প্রমুখ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ক্যাম্পাসর শিক্ষানবিশ আনতারা রাইসা ও জসিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ক্যাম্পাস থিম সং লাইভ পরিবেশিত হয় এবং মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে দেখানো হয় ক্যাম্পাসর বিভিন্ন উদ্দীপনা ও প্রণোদনামূলক কার্যক্রমের ওপর নির্মিত ডক্যুমেন্টারি। এরপর অতিথিদ্বয়কে ক্যাম্পাসর সম্মাননা ক্রেস্ট অর্পণ করা হয়। নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন সিএসডিসির মহাসচিব এম হেলাল। অতিথিদ্বয়কে উপহার হিসেবে ক্যাম্পাসর জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত বিভিন্ন বইয়ের সেট, ক্যাম্পাসর নিজস্ব গবেষণায় প্রকাশিত ২টি মডেল ও বিভিন্ন সিডির সেট এবং ক্যাম্পাসর স্যুভেনির প্রদান করা হয়।

ভালো কাজে পুরস্কার ও মন্দ কাজে তিরস্কার ক্যাম্পাসর চিরায়ত রীতি। সে ধারাবাহিকতায় ক্যাম্পাসর ওয়েব ডেভেলপার ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার রিমেল বড়য়া এবং কম্পিউটার ট্রেইনী এরশাদ হোসেনের হাতে ক্যাম্পাসর পক্ষ থেকে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিদ্বয়। এরপর শুরু হয় বক্তৃতা পর্ব।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ড. মোঃ খালেদ বলেন, ক্যাম্পাস মাতৃভাষা বাংলার গুরুত্বকে সমুন্নত রেখে ইংরেজি শেখার ওপর জোর দিচ্ছে; ফ্রি ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ কোর্স পরিচালনা করছে। এখানে ইংলিশ ক্লাসের পড়ানোর ধরন দেখে আমি খুব চমৎকৃত হয়েছি। এত সুন্দর করে, হৃদয়গ্রাহী করে কোর্স উপস্থাপনা করা যায়, তা না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। ক্যাম্পাস ঠিকই বুঝেছে, ইংলিশ জানা না থাকলে গ্লোবাল সিটিজেন হওয়া যাবে না। ক্যাম্পাস সময়ের দাবি মিটিয়ে জাতিকে প্রাগ্রসর করছে।

প্রধান অতিথি বলেন, ক্যাম্পাস উন্নততর মানুষ গড়ার কাজে লিপ্ত। সৎ ও দক্ষ মানুষ গড়ে তুলে ক্যাম্পাস ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। এ অনন্য সাধারণ সমাজ সেবার কাজ করে তারা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনকে এগিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, চীন-জাপান প্রভৃতি উন্নত দেশ নিজ দেশের ভাষায় সবকিছু করছে; কিন্তু বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সুবিধার জন্য তারা ইংরেজি ভাষা শেখায় বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছে। বর্তমান বিশ্বের নবোত্থিত দেশ হিসেবে স্বীকৃত মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাথির মোহাম্মদ ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব অনুধাবন করে সে দেশের জনগণকে মালয় ভাষার সাথে ইংরেজি ভাষা শেখায় উৎসাহিত করেন।

কর্মজীবনের প্রসঙ্গ টেনে মোঃ খালেদ বলেন, ব্যাংকের অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করি। এখানে সূক্ষ্মভাবে অনেক অনিয়ম হয়। আমার সহকর্মীদের অনেকের ছোটবড় সাজা হয়েছে, আমিই ছিলাম এর ব্যতিক্রম। ছোটবেলায়ই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম কর্মজীবনে অন্যায় করব না, ঘুষ-দুর্নীতির আশ্রয় নেব না। আমাদের সমজে দুর্নীতির অনেক সুযোগ রয়েছে, চারিদিকে লোভের হাতছানি; এরমধ্যে মাথা ঠিক রেখে চলা সত্যি কঠিন। কিন্তু আমিতপ্রতিজ্ঞা করেছি, আমি এ থেকে বিচ্যুত হতে পারি না। ছাত্র-যুবকদের আমি বলব তোমরা ক্যাম্পাস থেকে শুধু ইংরেজি ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করছ না; তোমরা এখানে সততার শিক্ষা পাচ্ছ, প্রোএকটিভ এটিচিউডের শিক্ষা পাচ্ছ। এসব শিক্ষা তোমরা কর্মজীবনে কাজে লাগাবে এটাই আমাদের চাওয়া।

 

ক্যাম্পাসর উদ্দীপনামূলক কার্যক্রম আমাদের প্রেরণার উৎস। তাদের কার্যক্রম জাতিকে সাহস ও আশার সঞ্চার করছে

এডভোকেট এম এন জামান

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি, আত্মপ্রচারণাবিমুখ বিদগ্ধ আইনজীবী এম নুরুজ্জামান বলেন আমি অনুষ্ঠানে অনুপ্রেরণা দিতে নয়, অনুপ্রেরণা নিতে এসেছি। ক্যাম্পাসর উদ্দীপনামূলক কার্যক্রম প্রেরণার উৎস। তথ্য-প্রযুক্তির যুগে ক্যাম্পাসর ভূমিকা অসাধারণ। তারা জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনে লক্ষ্য নির্ধারণ করে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের কর্মযজ্ঞ জাতির বুকে সাহস এবং আশার সঞ্চার করছে। তথ্য-প্রযুক্তির শিক্ষাকে সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার দুর্নিবার আকাক্সক্ষা সমাজ বিবর্তনে নির্দেশক ভূমিকা পালন করছে।

ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে এম এন জামান বলেন, আমার নিজের প্রতিবেশ-পরিবেশ খুব বৈরি ছিল। লেখাপড়া শুরু করেছিলাম অনেক কষ্টের মধ্যে, সেখান থেকে বর্তমান পজিশনে উঠে আসা সহজ নয়। জীবনে এ বিশ্বাসে বলীয়ান হয়েছি যে সত্যের জয়, সততার জয় হয়। কর্মক্ষেত্রে যেখানে অসততা দেখেছি, তা ছেড়ে এসেছি। ছাত্র-রাজনীতিতে ওপরে ওঠার সিঁড়ি পেয়েছিলাম, কিন্তু দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে আপোশ করতে পারিনি বলে এটাও ছেড়ে দিয়েছি। বর্তমানে ওকালতি করছি। সৎভাবে ওকালতি করা যায় এটা অনেকে বিশ্বাস করতে না চাইলেও ঘটনা সত্য। তবে সৎভাবে চলার জন্য সংগ্রাম করতে হবে নিজের সঙ্গে, সমাজের সঙ্গে। তিনি বলেন, লক্ষ্য ঠিক থাকলে সাফল্য আসবে, তবে সেখানে ভাগ্যেরও ছোঁয়া থাকতে হবে।

ড. নাজনীন আহমেদ

ক্যাম্পাসর অনারারি রিসার্চ ডিরেক্টর, অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন আজকের অনুষ্ঠানের অতিথিদ্বয় নিজ নিজ অঙ্গনে সফল ব্যক্তিত্ব। সততার মাধ্যমে পরিচালিত তাঁদের জীবনী ও সাফল্যের কথা আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্র-যুবকদের প্রেরণা যোগাবে বলে বিশ্বাস।

ড. নাজনীন বলেন, ক্যাম্পাস যুগের চাহিদা পূরণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কার্যক্রমের অন্যতম হচ্ছে ফ্রি ইংলিশ কোর্স। ইংলিশ কোর্সে অংশগ্রহণ করে ছাত্র-যুবকরা নিজেদেরকে স্মার্ট এন্ড গ্লোবাল ইয়থ জেনারেশনরূপে গড়ে তুলতে পারছে। ছাত্র-যুব কল্যাণে ক্যাম্পাস আরও পরিচালনা করছে ফ্রি কম্পিউটার ট্রেনিং, ফ্রি মেডিটেশন কোর্স, ফ্রি প্রোএকটিভ সেমিনার, ফ্রি ইয়োগা-আকুপ্রেশার-রিফ্লেক্সোলজি প্রভৃতি প্রোগ্রাম। ক্যাম্পাসর এসব কর্মসূচি আরও ব্যাপকভাবে পরিচালনার জন্য আজকের অনুষ্ঠানের অতিথিদ্বয়ের সহযোগিতা থাকবে বলে আশা করি।

ড. আলমাসুর রহমান

প্রোএকটিভ এটিচিউড আন্দোলনের প্রবক্তা ড. আলমাসুর রহমান বলেন যারা ভারসাম্যহীন, তাদেরকে উন্মাদ বলা হয়। নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল যিনি জানেন না, চলনে-বলনে রিএকটিভ ভাব দেখান তিনি জীবনে সফল হতে পারেন না। যারা প্রোএকটিভ, তারাই সফল।

তিনি বলেন, আমাদেরকে নিয়মিত বই পড়তে হবে। বই থেকে দূরে সরে গেলে মানুষ রোবটসদৃশ প্রাণহীন নিছক যন্ত্রে পরিণত হয়। মানুষ যখন বই পড়া শুরু করে, তখন সে একরকম মানুষ; আর বই পড়া শেষ হলে সে তখন অন্য মানুষ, বিশেষ মানুষ। আমাদেরকে সেই বিশেষ মানুষ হবার সাধনা করতে হবে।

এম জি কিবরিয়া

ফ্রি ইংলিশ কোর্সের রিসোর্স পার্সন এম জি কিবরিয়া বলেন ক্যাম্পাস পরস্বার্থে কাজ করে; সর্বগ্রাসী স্বার্থপরতার যুগে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বিরল। অনেক কিছু পরিবর্তনের কেন্দ্র হলো ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাস এ আসলে অনেক কিছু হারাতে হয়। এখানে এসে আমি আমার রাগ হারিয়েছি, রিএকটিভনেস হারিয়েছি। সব মিলিয়ে বলব, ক্যাম্পাস ব্যতিক্রমী বাংলাদেশের প্রতীক। ক্যাম্পাস উন্নত সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার পথপ্রদর্শক।

এম জি কিবরিয়া বলেন ক্যাম্পাস থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে একজন শিক্ষার্থী তার গ্রামে এলাকার ছাত্র-তরুণদের অর্গানাইজ করছে, যাতে তারা উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হবার জন্য উপযুক্ত হতে পারে। অন্য একজন শিক্ষার্থী বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াচ্ছে। ক্যাম্পাস থেকে যে আলো নিয়ে গেছে, তা অকাতরে বিতরণ করছে এটিই ক্যাম্পাসর সার্থকতা।

এম হেলাল

ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং সিএসডিসির মহাসচিব এম হেলাল বলেন আজকের অনুষ্ঠানের দুজন অতিথি বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব। দুজনই নিয়মিত পড়াশোনা করা বিশেষ মানুষ। তাঁরা নিজের ওপর আস্থাশীল ছিলেন। আমি পারি, এ বিশ্বাসে অটুট ছিলেন বলে সাফল্য তাঁদের কাছে ধরা দিয়েছে। আমি মনে করি আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্র-তরুণরাও অতিথিদ্বয়কে দেখে অনুপ্রাণিত হবে, নিজ জীবনকে করবে সাফল্যমন্ডিত।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ