বিশেষ খবর

গ্র্যাজুয়েটদের মেধা ও মূল্যবোধ দিয়ে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসতে হবে -রাষ্ট্রপতি

ক্যাম্পাস ডেস্ক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ সমাবর্তন যেমন শিক্ষার্থীদের সাফল্য অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তেমনি তাদের ওপর পরিবার, দেশ ও জাতির প্রতি দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা তাদের মেধা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে ভবিষ্যৎ দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবে। সম্প্রতি ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে আচার্য ও প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে এক হাজার ৩৯৯ জন গ্র্যাজুয়েট অংশগ্রহণ করেন এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সর্বোচ্চ নম্বরধারী ২৯ জন শিক্ষার্থীকে ৩২টি স্বর্ণপদক দেয়া হয়। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, জাতি, ধর্ম, গোত্র, শ্রেণি, সম্প্রদায়ের নামে যে বিচ্ছিন্নতা ও পারস্পরিক ঘৃণার সৃষ্টি করা হচ্ছে তা থেকে মুক্তির উপায় নজরুলের কবিতা ও সাহিত্য। কবির সৃষ্টির উদ্দেশ্য ছিল মানবসৃষ্ট এই কৃত্রিম দেয়ালগুলো ভেঙে ফেলা। তাই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তিনি সংগ্রাম করেছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জাগরণের কবি, অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি নজরুলের ক্ষুরধার লেখনীর স্ফুলিঙ্গ যেমন ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়েছে, তেমনি তাঁর বাণী ও সুরের অমিয় ঝরনাধারা সিঞ্চিত করেছে বাঙালির হৃদয়। পরাধীন ব্রিটিশ আমলে সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে কবি বাংলা ও বাঙালির জয়গান গেয়েছেন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে কবির গান ও কবিতা অনিঃশেষ প্রেরণা জুগিয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, নতুন প্রজন্ম নজরুলচর্চার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবে। দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা দিয়ে সুখী, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে অর্থবহ অবদান রাখবে।
রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, নজরুল আমাদের জাতীয় কবি, গানের কবি, বিদ্রোহী কবি। তাঁর নামাঙ্কিত এই বিশ্ববিদ্যালয় কবির বিস্ময়কর সৃষ্টিশীল কর্ম যেমন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেবে, তেমনি তাঁর প্রতি আমরা সত্যিকারার্থে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারব। রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, বাংলাদেশ আজ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। পদ্মা সেতু আজ কল্পনা নয়। বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীর বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, জঙ্গিবাদ দমন, ক্ষুধা-দারিদ্র্য দূরীকরণসহ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে কার্যকরি ভূমিকা পালন করেছে। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে নজরুল স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে প্রতিষ্ঠা করা হয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। এ শিক্ষালয়টি ১১ বছরে পা রাখল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হলো।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ