বিশেষ খবর

বাড়ল মন্ত্রিসভা ॥ শপথ তিন মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীর

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

সরকারের মেয়াদের চার বছরের মাথায় শপথ নিলেন আরও তিন মন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী। সম্প্রতি বঙ্গভবনের দরবার হলে এক আড়ম্বর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিসভায় যোগ হওয়া এই চারজনের মধ্যে খ্যাতনামা তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী, লক্ষ্মীপুরের জননন্দিত সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামাল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা নারায়ণ চন্দ্র চন্দ পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। অন্যদিকে, রাজবাড়ীর এমপি কাজী কেরামত আলী শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেন।
মন্ত্রিসভার নতুন এই সদস্যদের বঙ্গভবনে নিয়ে যেতে বিকেলে সচিবালয় থেকে পাঠানো হয় চারটি গাড়ি। শপথের জন্য বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে তারা সবাই বঙ্গভবনে পৌঁছে যান। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে গেলে রাষ্ট্রপতি তাঁকে স্বাগত জানান। সেখান থেকে তাঁরা দু’জন সরাসরি শপথ গ্রহণের স্থল বঙ্গভবনের দরবার হলে আসেন। সাড়ে ছয়টায় শুরু হয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। মাত্র ১৮ মিনিটেই শপথ গ্রহণের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্যগণ, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র কোরান থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ গ্রহণের মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। নিয়মানুযায়ী প্রথমে তিন মন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। পরে পড়ানো হয় কাজী কেরামত আলীকে প্রতিমন্ত্রীর শপথ। শপথ নেয়ার পর তিন মন্ত্রী টেবিলে বসে শপথবাক্যে স্বাক্ষর করেন। পরে প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়ে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। শপথ গ্রহণ শেষে তিন মন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে করমর্দন করেন এবং প্রতিমন্ত্রী কেরামত আলী করমর্দন ছাড়াও রাষ্ট্রপতিকে কদমবুচি করে দোয়া চান। নবনিযুক্ত তিন মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রিত সকল অতিথিকে চা-চক্রে আপ্যায়িত করেন।
সম্প্রসারণের পর চমক মন্ত্রিসভায় রদবদল
নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বদল করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে চমক সৃষ্টি না হলেও এ রদবদল নিয়ে চমক সৃষ্টি হয়েছে। কারণ পুরনো মন্ত্রীদের মধ্যে যাঁদের দপ্তর বদল করা হয়েছে তাঁরা সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল ও সংসদের বিরোধী দলের নেতা। সম্প্রতি নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন ও পুরনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের রদবদলের প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী করা হয়েছে। পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে করা হয়েছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে করা হয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রী। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী তারানা হালিমকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
শপথ নেয়া মন্ত্রীদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে তাঁর আগের কর্মস্থল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। এ কে এম শাহজাহান কামালকে করা হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী। তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বারকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী করা হয়েছে। নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী কেরামত আলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের আট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করার কথা জানিয়েছেন।
এ সরকারের শুরু থেকে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। আরেক শরিক জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু শুরু থেকেই পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ছিলেন। একইভাবে সংসদের বিরোধী দল এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী। সরকারের শেষ বছরে এসে এবার তাঁদের দু’জনের মধ্যে দায়িত্ব বদল হলো। সরকারের শুরু থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছায়েদুল হক মারা যাওয়ায় পদটি শূন্য হয়। পদোন্নতি পেয়ে এই পদে বসেছেন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।
সরকারের দেড় বছরের মাথায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হন তারানা হালিম। তাঁকে এবার পাঠানো হয়েছে ক্ষমতাসীন জোটের আরেক শরিক দল জাসদের (ইনু) সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে। শুরু থেকে একাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। শেষ সময়ে এসে তাঁর দায়িত্বে ভাগ বসালেন প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী। তিনি এ মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগের দায়িত্ব সামলাবেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী ও প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিনের মৃত্যুর পর ২০১৬ সালের মাঝামাঝি নুরুজ্জামান আহমেদকে প্রতিমন্ত্রী করে সমাজকল্যাণে পাঠানো হয়। এতদিন তিনি একাই পুরো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এবার তাঁর ওপরে বসেছেন রাশেদ খান মেনন।
২০১৪ সালে সরকার গঠনের দেড় মাসের মাথায় এ এইচ মাহমুদ আলী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ও মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। শুরু থেকে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্থানীয় সরকার মন্ত্রী থাকলেও ২০১৫ সালের ৯ জুলাই তাঁকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। পরে তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। ওই সময়ের প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে করা হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী করা হয় নুরুল ইসলাম বিএসসিকে। একই সময়ে মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি পান আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ইয়াফেস ওসমান। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে এ সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এ মন্ত্রিসভায় ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও দু’জন উপমন্ত্রী ছিলেন। নতুন চারজনকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা হলো ৫৩ জন। তাদের মধ্যে ৩৩ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুইজন উপমন্ত্রী। এছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বে আছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে আছেন আরও পাঁচজন।
বঙ্গবন্ধুর সংসদের সংসদ সদস্য শাহজাহান কামাল এবার বঙ্গবন্ধু কন্যার সংসদে মন্ত্রী
এ কে এম শাহজাহান কামাল আপাদমস্তক একজন রাজনীতিবিদ। রাজনীতিকে মিশিয়ে নিয়েছেন জীবনের সাথে। জনাব শাহজাহান কামাল লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি বর্তমান সংসদের সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য। এ কে এম শাহজাহান কামাল ১৯৫০ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার আঠিয়াতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম হাজী ফরিদ আহমেদ, মাতা মরহুমা মোসাম্মৎ মাসুমা খাতুন। ৩ ভাই ৫ বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তিনি এক ছেলে ও তিন মেয়ের জনক।
শিক্ষাজীবন শুরু করেন লাহারকান্দি প্রাইমারি স্কুলে। ১৯৬৩ সালে লক্ষ্মীপুর মডেল হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন ১৯৬৫ সালে চৌমুহনী কলেজ থেকে। শাহজাহান কামাল ১৯৬৮ সালে চৌমুহনী কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনীতির দীক্ষা গ্রহণ করেন ছাত্রাবস্থা থেকেই। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে কারাবরণ করেন। হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ এবং লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
শাহজাহান কামাল এমপি একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এ কে এম শাহজাহান কামাল ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৮৫ সালে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জনবন্ধু একেএম শাহজাহান কামাল সর্বদাই জনগণের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেন। তাঁর কাছে এলাকার সমস্যা নিয়ে গেলে তিনি তাদের সানন্দে গ্রহণ করেন, তাদের কথা ধৈর্য সহকারে শোনেন, সমস্যা সমাধানের সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। এলাকার মানুষের কাজ করে দিতে পারলে তিনি অনুভব করেন স্বর্গীয় প্রশান্তি, অপার আনন্দ। এলাকার উন্নয়নে দেয়া জনগণের পরামর্শকে তিনি মূল্যবান উপহার হিসেবে গ্রহণ করেন। আর এরূপ পরামর্শের মাধ্যমে তিনি লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের পথকে দিন দিন দ্রুত প্রসারিত করে চলেছেন। ছাত্র-রাজনীতি দিয়ে অভিষেক হয়েছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের। সে ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে তিনি রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হয়েছেন; স্থানীয় এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-সমাজকে ১১ দফার আন্দোলনে সংগঠিত করেছেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন ও লক্ষ্মীপুর জেলা বাস্তবায়ন আন্দোলনে কারাবরণ করেছেন। হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে কেবল সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণই করেননি, সক্রিয় সংগঠক হিসেবে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে দেশপ্রেমের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সত্তরের জাতীয় নির্বাচনে ১১ দফা আন্দোলনের অন্যতম রূপকার পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, লক্ষ্মীপুরের সন্তান খালেদ মোহাম্মদ আলীকে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথে সমর্থন দিয়ে জয়যুক্ত করেছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান কামাল ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তৎকালীন সংসদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট পুনঃনির্মাণে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন, যা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর হত্যার পর স্থবির হয়ে পড়ে; থমকে দাঁড়ায় সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড। দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য জনাব শাহজাহান কামাল জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দেশ-উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি নিজ জন্ম-এলাকার মানুষের সেবায় দিবানিশি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সংসদ সদস্য হিসেবে নানা ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সমাজসেবামূলক কাজে সক্রিয়ভাবে নিবেদিত রয়েছেন। তিনি জেলার শতাধিক স্কুল, কলেজ, মন্দির, মসজিদ, মাদ্রাসা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্টের উন্নয়ন করেছেন। শাহজাহান কামাল লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক এবং জনতা ব্যাংকের ডিরেক্টর থাকাকালীন লক্ষ্মীপুরের গরিব-মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা-সহায়তা হিসেবে ৪০ থেকে ৪৫ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন। জটিল রোগীদের লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকায় এনে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। সাংবাদিকতা থেকে মন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি জগতের প্রবাদ পুরুষ মোস্তাফা জব্বার বিজয় কিবোর্ড-এর উদ্ভাবক এবং বাংলা সফ্টওয়্যার-এর জনক মোস্তাফা জব্বার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার চর চারতলা গ্রামে নানার বাড়িতে ১৯৪৯ সালের ১২ আগষ্ট জন্মগ্রহণ করেন। ঘটনাক্রমে দিনটি ছিল আরবী মাসের ১২ রবিউল আওয়াল। তার পৈত্রিক নিবাস নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরী থানার কৃষ্ণপুর গ্রামে। তাঁর পিতা মরহুম আবদুল জব্বার তালুকদার ছিলেন একজন আধ্যাত্মিক জ্ঞানী পুরুষ, এলাকায় পরিচিত ছিলেন পীর সাহেব হিসেবে। তাঁর সমাজকর্ম ও রাজনৈতিক জীবনও ছিল ঘটনাবহুল। তিনি খালিয়াজুরী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক ছিলেন। একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক হিসেবে তিনি রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ সরবরাহ করেছেন সারাজীবন। মোস্তাফা জব্বারের মায়ের নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি ছিলেন শিক্ষানুরাগী। নিজ সন্তানদের বিদ্যাশিক্ষার পাশাপাশি তিনি স্থানীয় নারী শিক্ষার বিষয়ে ব্যাপকভাবে আগ্রহী হওয়ায় তার সন্তানরা প্রতিষ্ঠা করেন আবদুল জব্বার-রাবেয়া খাতুন বালিকা বিদ্যালয়। মোস্তাফা জব্বার প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন পৈত্রিক নিবাস নেত্রকোণায়। নিজ থানায় কোনো জুনিয়র স্কুল, হাইস্কুল না থাকায় তিনি হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ থানার এএবিসি হাই স্কুলে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। মোস্তাফা জব্বার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্রকল্যাণমূলক অনেক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করেন। নিজ থানা এলাকার মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক ছিলেন। কর্মজীবন শুরু হয় সাংবাদিক হিসেবে। তিনি দৈনিক গণকন্ঠ পত্রিকার রিপোর্টার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন গণকন্ঠ ইউনিটের ইউনিট চিফ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কয়েকটি মাসিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। মোস্তাফা জব্বার দেশের প্রথম বাংলা নিউজ সার্ভিস ‘আবাস’ এর সম্পাদক, চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে বেশ কিছু সময় কাজ করেছেন। তিনি ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন আটাব এর মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মোস্তাফা জব্বার তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশ ও উন্নয়নে রেখে চলেছেন অনন্য অবদান। ১৯৮৭ সালে কম্পিউটারে কাজ শুরু করার পর কোনো প্রকারের প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যতিতই ১৯৮৭ সালেই সাপ্তাহিক আনন্দপত্র প্রকাশ করেন। সেটি ছিল বাংলাদেশে বাংলা হরফে কম্পিউটার কম্পোজ করা প্রথম পত্রিকা। এর আগে ১৯৮৬ সালে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঢাকা কুরিয়ার কম্পিউটারে প্রকাশ করার ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ১৯৮৭ সালে ডেইলী নিউজ নামক ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা কম্পিউটারে প্রকাশের দায়িত্ব পালন করেন। এর পাশাপাশি তিনি দেশের সকল মুদ্রণ, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও সংবাদপত্রে কম্পিউটার প্রযুক্তি প্রয়োগ করেন। তিনি কম্পিউটার শিক্ষায় ১৫ হাজারের বেশি লোককে শিক্ষিত করে তুলেছেন এবং ৬০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। তাঁর তৈরি বিজয় কীবোর্ড, বিজয় বাংলা সফ্টওয়্যার এবং বাংলা ও অসমীয়া ফন্ট এখন বাংলাদেশে শতকরা ৯৯ ভাগ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শতকরা ৮০ ভাগ এবং বিশ্বের অন্যত্র শতকরা ৯০ ভাগ ব্যবহৃত হয়। তার বিজয় সফ্টওয়্যার এখন ভারত, আমেরিকা, ইউরোপ ইত্যাদি দেশ ও মহাদেশে রপ্তানি হয়। মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে বেসিস এর সভাপতি তিনি। তাঁর লেখা বইÑ ‘মাধ্যমিক কম্পিউটার শিক্ষা’ মাধ্যমিক স্তরের একমাত্র পাঠ্যবই। উচ্চ-মাধ্যমিক কম্পিউটার শিক্ষা বইটি উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রথম ও অন্যতম পাঠ্যবই। তিনি উপন্যাসও রচনা করেছেন। মোস্তাফা জব্বার নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন আলিমুদ্দিন-আরজেন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৯৭ সালে ভাই-বোনদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন আবদুল জব্বার-রাবেয়া খাতুন স্কুল নামে একটি বালিকা বিদ্যালয়। আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল মোস্তাফা জব্বার এর বিশাল কীর্তি। এখন চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ ও চাঁদগাঁও, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, ফেনী, নরসিংদী, মনোহরদী-টঙ্গী, ময়মনসিংহ, গৌরীপুর, হোমনা ও বগুড়ায় এ স্কুলগুলো চালু আছে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুরের ছয়ফুল্লাহকান্দিতে প্রথম বিজয় ডিজিটাল স্কুল প্রতিষ্টা করেছেন। মোস্তাফা জব্বার ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, ম্যাকাও, দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ড, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফিলিপাইন, আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব ও লাওসসহ বিশ্বের অনেকগুলো দেশ ভ্রমণ করেছেন। স্কুলশিক্ষক থেকে মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ হাজার হাজার শিক্ষার্থীর প্রিয় স্যার খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ মন্ত্রী হয়েছেন। এই খবরে যারপরনাই খুশি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মানুষ। আনন্দ মিছিল ও মিষ্টিমুখ করেছেন তারা। রাজনীতির তৃণমূল থেকে ধাপে ধাপে উঠে আসা নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও কর্মজীবনের অধিকারী। ক্লিন ইমেজের অধিকারী তিনি মন্ত্রিসভার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। দায়িত্ব পেয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে। খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার উলা গ্রামের চন্দ বংশের কালীপদ চন্দের মেজো ছেলে নারায়ণ চন্দ্র চন্দের জš§ ১৯৪৫ সালের ১২ মার্চ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং ১৯৬৭ সালে একই বিষয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েই নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ডুমুরিয়া উপজেলার নোয়াকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ১৯৭৩ সালের প্রথম দিকে ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি একটানা প্রায় ঊনচল্লিশ বছর শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৬৭ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৮ সালে ডুমুরিয়া থানা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৮৪ সালে সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৫ সালে ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। একই পদে এখনো তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আওয়ামী লীগ খুলনা জেলা কমিটির নির্বাহী সদস্য। নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ডুমুরিয়া উপজেলার ভা-ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। এরপর একটানা ছয় বার একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সালাহউদ্দিন ইউসুফের মৃত্যুর পর ২০০০ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে তিনি চারদলীয় জোট প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এরপর তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। আর এখন নতুন বছরে দায়িত্ব পেলেন মন্ত্রীর। নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, মানুষ আমাকে ভালোবাসে। তাদের ভালোবাসায় আজকের এই অর্জন। জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত মানুষের জন্যই কাজ করতে চাই। দক্ষিণাঞ্চলের চিংড়ি শিল্পসহ মৎস্য সেক্টরের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। চাই সবার সহযোগিতা। রাজবাড়ীর ৪ বার নির্বাচিত এমপি কাজী কেরামত আলী এবার শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রভাবশালী কাজী পরিবারের ছেলে কাজী কেরামত আলীর জন্ম ১৯৫৪ সালের ২২ এপ্রিল রাজবাড়ী জেলার সজ্জনকান্দায়। তাঁর পিতা কাজী হেদায়েত হোসেন এবং মাতা মনাক্কা বেগম। তাঁর স্ত্রীর নাম রেবেকা সুলতানা। কাজী কেরামত আলী রাজবাড়ী ইয়াসিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.কম সম্মানসহ এম.কম ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ব্যবসার পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি ১৯৯০ থেকে অদ্যাবধি রাজবাড়ী জেলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯২ সালে রাজবাড়ী-১ থেকে ৫ম জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কাজী কেরামত আলী। ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদে এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ ও ২০১৪ সালে ১০ম জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ৫ম জাতীয় সংসদে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ৭ম জাতীয় সংসদে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, নবম জাতীয় সংসদে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কিমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং জাতীয় সংসদে লাইব্রেরি কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিমন্ত্রী ১৯৯৬ থেকে রাজবাড়ী জেলার বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি, রাজবাড়ী জেলার রোটারি ক্লাবের সদস্য এবং রাজবাড়ী জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জীবন সদস্য। ইংরেজি ভাষায় দক্ষ কাজী কেরামত আলী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে কুয়েত সফর এবং সরকারি ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আমেরিকা, কানাডা, চীন, জাপানসহ বিশ্বের অনেক দেশ সফর করেছেন।
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
বিমান হবে এশিয়ার একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান -শাহজাহান কামাল
দায়িত্ব গ্রহণের পর এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ লালন করে মানুষের জন্য রাজনীতি করছি। কখনো লোভ করিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের উচ্চ শিখড়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বিরামহীনভাবে কাজ করছেন। এ কে এম শাহজাহান কামাল বলেন, মন্ত্রী হিসেবে আমার কাজ হবে দেশের সেবা করা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেয়া। মন্ত্রিত্বকে আমি সেবা বলে মনে করি। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ে এসে নিজের দায়িত্ব বুঝে নেন শাহজাহান কামাল। পরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা নতুন মন্ত্রীর সাথে পরিচিত হন। বিমান মন্ত্রণালয় থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত রাশেদ খান মেনন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তার সময়কালের কর্মকান্ড তুলে ধরেন। পাশাপাশি নতুন দায়িত্ব পাওয়া বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীকে তিনি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। এ সময়ে নবনিযুক্ত বিমানমন্ত্রী মন্ত্রণালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, বাইরে থেকে বিমানের অনেক বদনাম শুনেছি। বিমানকে লাভজনক করা খুব কঠিন কাজ না। বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করবো। শাহজাহান কামাল বলেন, তিনি বেশি দিন সময় পাবেন না। এর মধ্যে তাকে মন্ত্রণালয়ে আসতে হবে, সংসদে যেতে হবে, আবার এলাকায়ও যেতে হবে। কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চান তিনি এসময়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও, আমার রক্ত দিয়ে হলেও বিমানকে লাভজনক করবো। একেএম শাহজাহান কামাল এমপি বলেন, নেতিবাচক ইমেজ দূর করে বিমান যাতে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক হয় সে লক্ষ্যে কাজ করব। এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়াকে অনেকে ‘আগুনে নিক্ষেপের’ সঙ্গে তুলনা করছেন। কিন্তু সেই আগুনকে আমি পানিতে পরিণত করব। বিমানকে এশিয়ার একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেব। পর্যটন শিল্প যাতে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের কাছে যথাযথ গুরুত্ব পায় সে প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে। নতুন মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ভাবমূর্তি বৃদ্ধিতে এভিয়েশন ও পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে এ খাত হতে পরে দেশের সমৃদ্ধির অন্যতম হাতিয়ার। গত চার বছরে দেশের প্রধান বিমানবন্দর শাহজালালের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে একাধিক ঘটনায়। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে যুক্তরাজ্য কার্গো বহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাতে মুনাফায় বড় ধস নেমেছে। প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটির ঘটনা নিয়েও সমালোচিত হয়েছে এ মন্ত্রণালয়। এক প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান কামাল বলেন, বিমানে চড়লে ঠিকমতো সার্ভিস দেয় না এবং জনগণ বিমানের ভালো সার্ভিস পায় না। এটা বাইরের লোকজন বলছে। বাইরের বদনামটা আমি শুনছি। আসলে বাইরে যতটুকু শোনা যায় প্র্যাকটিক্যাল ততটুকু নয়, এই বদনামকে আমি ধুয়েমুছে সুন্দর করে পরিষ্কার করে দেব। বিমানকে লাভজনক করতে কী কী পদক্ষেপ নেবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিমানকে লাভজনক করা খুব কঠিন কাজ নয়। আমি জাতির জনকের সঙ্গে কাজ করেছি। এখন আমি কাজ করছি বঙ্গবন্ধুর কন্যার সঙ্গে। এই মন্ত্রণালয়কে লাভজনক প্রতিষ্ঠান করার জন্য জীবন আর রক্ত দিয়ে চেষ্টা করব। নয় মাসে এই মন্ত্রণালয়কে লাভজনক প্রতিষ্ঠান করে দেখাব। নতুন পরিকল্পনা নিয়ে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করে যাব। এ সময় বিমানকে পুরো এশিয়া মহাদেশের একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার আশার কথাও শোনান শাহজাহান কামাল। আগের মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে নিজের ‘ভাই’ সম্বোধন করে মন্ত্রী কামাল বলেন, তিনি একজন প্রগতিশীল নেতা। দেশপ্রেমিক। তিনি কোনো সম্পদের মালিক নয়। অর্থের জন্য রাশেদ খান মেনন রাজনীতি করেননি। আমি তাকে ছাত্রজীবন থেকে চিনি। এ কে এম শাহজাহান কামাল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন এটা আমার জন্য অনেক বেশি সময়। আমি মনে করি, এক বছর এটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ।
সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর করব, আমার প্রথম কাজ ইন্টারনেট সহজলভ্য করা -মোস্তাফা জব্বার
ইন্টারনেট নিয়ে ‘অনৈতিক’ ব্যবসা ভেঙে দিয়ে তা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। মন্ত্রী হিসেবে নিজের অগ্রাধিকারের তিনটি ক্ষেত্র তিনি উল্লেখ করেছেন। এগুলো হচ্ছে ইন্টারনেটের দাম সাধারণ মানুষের আয়ত্তের মধ্যে আনা, শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর করা এবং ইন্টারনেটের সুফল পৌঁছে দিতে বাংলা ভাষায় কনটেন্ট তৈরি করা। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) কার্যালয়ে এক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এতে বেসিসসহ তথ্য-প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা মোস্তাফা জব্বারকে অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গেও আলাদাভাবে কথা বলেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ বেগবান করতে আগে সরকারের মধ্যে ডিজিটাল চর্চা নিশ্চিত করতে চান মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, আমার বড় এজেন্ডা সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর। সরকারের মধ্যে কারা ডিজিটাল রূপান্তর চায় না, তা আমার জানা আছে। তাদের ধরে ডিজিটালে অভ্যস্ত করতে পদক্ষেপ নেব। এত স্বপ্ন মাত্র এক বছরে কিভাবে বাস্তবায়ন করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওয়ান ইয়ার ইজ এনাফ। এই এক বছরের মধ্যে আমি প্রথম ১০০ দিনে কী করব তার একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করব। আমি এত দিন যেসব দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করেছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। আমি তা তথ্য-প্রযুক্তি খাতের সবাইকে নিয়ে তা করতে পারব। দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের কানাগলি ভাঙবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, টেলিকম খাত ক্যান্সারে আক্রান্ত। আর আইসিটিতে অনেক কানাগলি আছে, যা ভাঙতে হবে। কত দিনের মধ্যে ইন্টারনেট সমস্যার সমাধান দেখা যাবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমি খুব শিগগির টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সবার সঙ্গে বসব। তারা কেন এত দিনে ইন্টারনেটের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে পারেনি, গতি বাড়াতে মোবাইল ফোন অপারেটরদের বাধ্য করতে পারেনি, তা জানব। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। মোস্তাফা জব্বার আরো বলেন, আমি ইংরেজি কিংবা অন্য ভাষার বিরোধী নই। কিন্তু যে দেশের ৯৬ শতাংশ মানুষ যে ভাষা বোঝে তাদের প্রতি এবং ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগসহ সব ভাষা হবে বাংলা। তিনি বলেন, গ্রামীণফোন কিংবা মাইক্রোসফট আমার মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখলে বাংলা ভাষাতেই লিখতে হবে। এ জন্য তাদেরও বাংলা ভাষা জানা লোক অফিসে রাখতে হবে। ইংরেজি ভাষা বাংলায় এবং বাংলা ভাষা ইংরেজিতে শোনার জন্য আইসিটি ডিভিশনের একটি প্রকল্পের কাজ চলছে বলেও জানান বিজয় সফটওয়্যারের জনক। তিনি বলেন, আমার মন্ত্রণালয়ে দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের কাজ দেশি কম্পানিই করবে। বিদেশি কম্পানিকে অগ্রাধিকার দেয়ার সংস্কৃতি বন্ধ হবে। তিনি দেশি কম্পানিগুলোকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজ পাওয়ার পরামর্শ দেন। কোনো অনৈতিক দাবি নিয়ে তাঁর কাছে না আসার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, আমি এক বছরের মেয়াদে ৬৯ বছরের অর্জন মুছে ফেলতে চাই না। তথ্য-প্রযুক্তি খাতের অন্যতম সংগঠন বেসিস’র সভাপতি হওয়ার আগে মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) চারবার সভাপতি ছিলেন। ছিলেন বেসিসের প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি ও পরিচালক। দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতে কয়েক যুগ ধরে এই পথচলায় তিনি খাতটির শুরু থেকে ভালো-মন্দ, আশা-হতাশা, সাফল্য- সব সময়ের সাক্ষী। তাই এ খাতের অনেক কিছুই তাঁর নখদর্পণে বলে জানান তিনি। সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমি মন্ত্রী হতে চাই না, আপনাদের ‘জব্বার ভাই’ হয়ে থাকতে চাই। আগেও আমাকে যেভাবে তথ্য-প্রযুক্তি খাতের নানা সমস্যায় সব সময় পাশে পাওয়া গিয়েছিল, এখনো পাওয়া যাবে। তবে মন্ত্রী হিসেবে যেহেতু আমার কিছু ক্ষমতা থাকবে, তাই সেই ক্ষমতা দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজে লাগাব। সরকারের যে ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন আছে তার সত্যিকার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কাজ করব। কম্পিউটারে বাংলা লেখার সফটওয়্যার ‘বিজয়’-এর উদ্ভাবক মোস্তাফা জব্বার তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন সাংবাদিক হিসেবে। নিজের সাংবাদিকতাজীবনের কথা স্মরণ করে বলেন, এখনো আমার পাসপোর্টে সাংবাদিক পরিচয় আছে। এখনো আমি দেশের তিনটি পত্রিকায় কলাম লিখি। দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নিতে আইসিটি সাংবাদিকরা ব্যাপক অবদান রেখে চলেছেন।
অতীতের অর্জন ধরে রাখা এবং নতুন নতুন বিষয় সংযোজন করা হবে -নারায়ন চন্দ্র চন্দ
ধানম-িতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নারায়ন চন্দ্র সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। অল্প দিনের মধ্যেই এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেব। প্রাণিসম্পদেও আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। মাংস উপাদন ৭ গুণ বেড়েছে। অতীতের এসব অর্জন ধরে রাখা এবং নতুন নতুন বিষয় সংযোজন করা হবে। নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, দেশের সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষকে এক সাথে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যেতে হবে। যা দেশের মহান স্বাধীনতা চেতনার অংশ। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ‘পাচার ঠেকাতে’ ইলিশ রফতানির সুযোগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি বলেন, আমরা রফতানির দিকে যেতে চাচ্ছি এই কারণেও যে আমাদের ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা রয়েছে। সে জন্য আমরা কিছুটা রফতানি করতে চাই। মন্ত্রী জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের দাদনের হাত থেকে রক্ষায় তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে একটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে এবং গভীর সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ করতে গবেষণা চলছে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশে দুধের ঘাটতিও পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আমরা পুষ্টি চাহিদা পূরণে মৎস্য ও প্রাণিজ আমিষ, দুধ, ডিমসহ সব ক্ষেত্রে অতিদ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে চাই। মাংসের দাম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম কম। চেষ্টা করছি অন্যগুলো (মাংসের দাম) নিয়ন্ত্রণে আনতে। উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়। এই খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দাম কমবে। দেশে পর্যাপ্তসংখ্যক গরু উৎপাদন হওয়ায় বিদেশ থেকে আপাতত আর আমদানির পরিকল্পনা নেই বলে জানান প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ। মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশীয় উৎপাদন যদি চাহিদা মেটাতে পারে তাহলে বিদেশ থেকে কেন (গরু) আমদানি করবো? আমদানি হলে খামারিরা মার খাবে, সেটা নিশ্চয়ই করবো না।
যেসব গ্যাপ আছে, সেগুলো সমন্বয় করে পূরণের চেষ্টা করব -কেরামত আলী
শপথ অনুষ্ঠান শেষে রাতে বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে আসার পর সাংবাদিকদের নবনিযুক্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কেরামত আলী বলেন, যে দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়েছে তা সম্মানের সঙ্গে পালন করব। প্রশ্নফাঁস নিয়ে সমালোচনার মধ্যে থাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমস্যাগুলো কীভাবে মোকাবেলা করবেন- এমন প্রশ্নে নতুন এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব গ্যাপ আছে, সেগুলো সমন্বয় করে পূরণের চেষ্টা করব। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী কারিগরি শিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর অঙ্গীকার করেছেন। কেরামত আলী বলেন, কারিগরি শিক্ষা দেশের মূল চালিকাশক্তি। এ শিক্ষাব্যবস্থাকে ডিজিটাইজড করতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাব। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় বর্তমানে প্রশ্ন ফাঁস একটি বড় সমস্যা। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখন থেকে যেন আর কোনোভাবে প্রশ্ন ফাঁস না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গত ২০০৯-২০১৪ মেয়াদেও একই দায়িত্বে ছিলেন। আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার।
দপ্তর বদল চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
দপ্তর বদল হওয়া তিন মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারই টুকরো অংশ তুলে ধরা হলো-
যদি কাজ না করতাম, তাহলে এই শকটা পেতাম না -তারানা হালিম
তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, প্রচ- প্রতিরোধের মুখে আমি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল ফোনের সিম নিবন্ধন সম্পন্ন করেছি। বাংলা ভাষায় ডট বাংলা ডোমেইন চালু করেছি। সিম নিবন্ধন যাচাইয়ের জন্য প্ল্যাটফর্ম করেছি। মোবাইল ফোনের সেবার মান বাড়াতে স্প্রেকট্রাম নিলামের ব্যবস্থা নিয়েছি। কয়েক মাস পরেই ফোরজি আসছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উক্ষেপণের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন। স্যাটেলাইট বিষয়ে মানুষের কোনো ধারণা ছিল না, থাকলেও ভ্রান্ত ধারণা ছিল। আমি সেই ধারণা সৃষ্টি করেছি এবং ভ্রান্ত ধারণা পাল্টে দিয়েছি। আমার কষ্টের কারণ, আমি স্যাটেলাইটের জন্মপ্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিলাম, কিন্তু উক্ষেপণের সময় থাকছি না।
তারানা হালিম বলেন, দেশে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল যুক্ত হয়েছে। টেসিসকে লাভজনক করতে পেরেছি। খুলনাতে কেবল শিল্প লিমিটেডও লাভজনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। গত আড়াই বছরে এসব কাজে আমাকে অনেক শ্রম দিতে হয়েছে। এই শ্রমের পেছনে আমার একটাই উদ্দেশ্য ছিল- প্রধানমন্ত্রীর মুখ উজ্জ্বল করব, সরকারের সফলতা নিশ্চিত করব। এমন কেউ বলতে পারবে না, এসব কাজে আমার শ্রম, আন্তরিকতা ও একনিষ্ঠতা কম ছিল। বিদেশে গেছি, প্রাইভেট সেক্টর সাথে নিয়ে ঘুরিনি। আমি যদি কাজ না করতাম তাহলে এই শকটা পেতাম না। অবৈধ ভিওআইপির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলাম। তার ফল কি এটা হতে পারে? আমি ফেরেশতা নই, মানুষ, কষ্ট তো হবেই। তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছি। এখানে কী করব জানি না। আমি ভাবতে চাই। আমি টেলিযোগাযোগ সেক্টরে পয়সা কামাতে আসিনি। দুর্নীতি করতে আসিনি। কাজ করতে এসেছিলাম। এই সেক্টরটাকে পরিষ্কার করতে চেয়েছিলাম। তার পরও আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমি তাঁকে ভালোবাসি। আপা আমাকে এমপি করেছেন, প্রতিমন্ত্রী করেছেন, বিশ্বাস করেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে তাঁর সেই বিশ্বাস এবং আশ্বাস রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি বলেছিলেন, সৎ থাকো, মন দিয়ে কাজ করো। আমি তাই করে যাচ্ছি। তিনি আমাকে ভালোবেসেই হয়তো তথ্য মন্ত্রণালয়ে দিয়েছেন; এটা আমি বিশ্বাস করি।
প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত -মঞ্জু
তিন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বদলের কারণ একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলতে পারবেন বলে মনে করেন পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলতে পারবেন কেন, কিসের জন্য তিনি পরিবর্তন করেছেন। এ বিষয়ে আমার কোনো ক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়া নেই। আমি কুম্ভ রাশির জাতক, কাজের লোক। বদলের কারণ আমি বলতে পারব না। প্রধানমন্ত্রী বলতে পারবেন। তিনি হর্তাকর্তা-বিধাতা। প্রধানমন্ত্রী যখন যাকে যে দায়িত্ব দেন, যে নির্দেশনা দেন তিনি সেই দায়িত্বই পালন করেন। আমাকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, সেটা কেমন করেছি জনগণই বিচার করবে।
চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করেছি বিমান মন্ত্রণালয়ে -রাশেদ খান মেনন
প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যে চ্যালেঞ্জ, সেটা আমি ভালোভাবে ম্যানেজ করেছি। এখানে আমি সফল বলে মনে করি। পর্যটন খাতে আজ সারা বিশ্বে বাংলাদেশ পরিচিত। আমার দায়িত্ব পালনকালে বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে দাঁড় করিয়েছি। নতুন মন্ত্রণালয় সম্পর্কে মেনন বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এমন একটি মন্ত্রণালয় যেখানে একদম সাধারণ মানুষ, প্রান্তিক মানুষ, প্রতিবন্ধী ও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে কাজ করতে পারব। আমি মনে করি, এখানে আরো বেশি কাজ করার সুযোগ আছে। বিশেষ করে মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করার সুযোগ হলো। আশা করি, এই মন্ত্রণালয়েও সফলভাবে কাজ করতে পারব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। এর আগে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেনন বলেন, আমার জন্য সুখকর এই কারণে বলতে পারেন, আমি আকাশ থেকে একটু মাটিতে নামলাম। সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নে বলেন, সামাজিক কল্যাণের প্রশ্নে বলেন, একেবারে সাধারণ মানুষের কাছে।
সরকারে ছিলাম, সরকারে আছি -আনিসুল ইসলাম মাহমুদ
মন্ত্রীদের দপ্তর বদলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেন, সরকারে ছিলাম, সরকারে আছি। প্রধানমন্ত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা আগেও পালন করেছি, আগামীতেও করব।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ