বিশেষ খবর

সুচিন্তা ও সুস্থ আচরণের মাধ্যমে বিশেষ মানুষ হয়ে সুস্থতা ও শতায়ুলাভ-৪২

ক্যাম্পাস ডেস্ক বিশেষ নিবন্ধ

অধ্যায় ১১
॥পর্ব ১॥
ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি
প্রোএকটিভ এটিচিউড এবং হাসির মাধ্যমে স্বাস্থ্যজয় ও বিশ্বজয়
যেকোনো অবস্থায় বা যেকোনো পরিবেশে রিএকটিভ না হয়ে প্রোএকটিভ থাকা উচিত। রিএকটিভ মানুষরা সাধারণত হাইপারটেনশন, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে ভুগে থাকে। এর মূল কারণ, অন্যের কথা বা আচরণের সাথে তার সাংঘর্ষিক ক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়া। প্রতিক্রিয়াশীল অনুভূতির প্রাথমিক রূপ হিসেবে দেখা দেয় অস্থিরতা। পৌনঃপুনিক অস্থিরতায় তৈরি হয় হাইপারটেনশন, যা থেকে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের সৃষ্টি। অন্যদিকে প্রোএকটিভ এটিচিউডের মানুষরা যেকোনো কিছুতে পজিটিভ থাকার ফলে তাদের দেহ-মনে রিএকশন হয় না, এতে একদিকে তাদের বুদ্ধি ও সৃজনশীলতা কাজ করে এবং যেকোনো পরিবেশ জয় করা তাদের জন্য সহজ হয়ে যায়; অন্যদিকে তারা সুস্থ, সবল ও শতায়ুলাভ করতে পারে। তারা সর্বদাই থাকে হাসি-খুশি ও আনন্দিত। তাদের মনোরাজ্যের এই আনন্দালোকই তাদেরকে পৌঁছে দেয় কর্ম-সাফল্যের দ্বারে এবং সুস্থতা ও শতায়ু লাভের স্বর্ণালী জীবনে।
সুধী পাঠক, নিজের কোনো অসুখ-বিসুখ বা বিপদ হলে সেটির উপশম ও সমাধানের পূর্বে অতীতে আপনার কৃত ভালো কাজ ও সাফল্যের কথা স্মরণ করুন, মেমোরি থেকে সাফল্যের ঘটনা জবপধষষ ও ঠরংঁধষরুব করতে থাকুন। সর্বদাই পজিটিভ কথা বলুন। কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, কেমন আছেন? বলুন, ভালো আছি অথবা বলুন, আগের চেয়ে ভালো আছি (ইবঃঃবৎ ঃযধহ নবভড়ৎব)। এতে যেমনি আপনার কান শুনছে যে- আপনি ‘ভালো আছি’ বলছেন, তেমনি আপনার ব্রেন সেটা আমলে নিয়ে সমস্ত শরীরে অনুরূপ পজিটিভ কমান্ড পাঠাবে। অন্যদিকে যাকে বলছেন, তিনিও পজিটিভ কথা শুনে ভালো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবেন। এতে আপনার সবকিছুই ভালো হবে। আপনার অসুস্থতার কথা বা নেগেটিভ কথা শুনে প্রশ্নকর্তা আপনার কী উপকার করতে পারবেন, সেটা বুঝে-শুনে বলবেন কিন্তু। আবার ডাক্তারের কাছে গিয়ে ‘ভালো আছি’ বললে ডাক্তারতো আপনার কোনো চিকিৎসা বা ঔষধ দেবার প্রয়োজনবোধ করবে না।
যারা সবসময় আনন্দে বা হাসি-খুশিতে থাকেন এবং জীবন সম্পর্কে যাদের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক, তারা গোমড়ামুখো মানুষের চেয়ে বেশিদিন বাঁচেন। নৈরাশ্যবাদীদের তুলনায় তাদের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।
হাসিঃ রোগ প্রতিরোধ ও দীর্ঘজীবনের টনিক
শরীর, মন ও পরিবেশের জন্য হাসি খুবই উপকারী। অথচ নিজেকে ‘জ্ঞানী ও গম্ভীর’ দেখাতে হাসির ওপর ছুরি চালায় বেশিরভাগ মানুষ। মোটামুটি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর অনেকেই তথাকথিত ব্যক্তিত্ব বজায় রাখার জন্য মেপে হাসার কৌশলটি আয়ত্তে আনতে সচেষ্ট হন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলেছেন, জোর করে হাসি কমানোর দরকার নেই। কৈশোর পার হওয়ার পর প্রকৃতির নিয়মেই আমাদের হাসি ১০ বছর পর গড়ে একবার করে কমে আসে। আর বয়স ৫২ ছুঁলে রসবোধের অবক্ষয় চূড়ান্ত মাত্রায় পৌঁছে। ঐ বয়সে অধিকাংশ মানুষই বদমেজাজি ব্যক্তিতে পরিণত হয়। বয়সের সঙ্গে মানুষের রসবোধের সম্পর্ক নির্ণয়ে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব গ্ল্যামারগনের অধ্যাপক ড. লেসলি হারবিজের নেতৃত্বে একদল গবেষক দু’হাজার মানুষের ওপর সমীক্ষা চালান। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু অবস্থায় মানুষ গড়ে ৩০০ বারের মতো হাসতে পারে। কিন্তু কৈশোরের শেষ ধাপে তা কমে গিয়ে দিনে মাত্র ৬ বারে দাঁড়ায়। বয়স ৩০ এর কোঠায় পৌঁছলে প্রতিদিন গড়ে ৫ বার হাসে মানুষ। চল্লিশে গিয়ে এই সংখ্যা চার, পঞ্চাশে তিন এবং ষাটে দৈনিক আড়াইবারে এসে ঠেকে। বিশেষত বয়স যখন ৫২তে পৌঁছে, তখন রুষ্টতা হয়ে ওঠে আচরণের প্রধান অনুষঙ্গ। ঐ সময়টায় বিষণœতার মাত্রাও বেড়ে যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৌতুক করার ক্ষমতাও কমতে থাকে। অবশ্য ৫০ পেরোনো নারীরা পুরুষের তুলনায় কম বদমেজাজি হয় বলে গবেষণায় প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই বয়সের পুরুষরা নারীদের তুলনায় দ্বিগুণ বদমেজাজি হয়। আর বয়স ৬০ হলে তা তিনগুণে দাঁড়ায়। গবেষকরা বলছেন, রসবোধের বিবেচনায় কৈশোরকালই মানুষের শ্রেষ্ঠতম সময়। বিভিন্ন গবেষণায় এটিই প্রমাণিত হয়েছে যে, আনন্দপূর্ণ জীবনযাপনের সঙ্গে দীর্ঘায়ুলাভ ও সুস্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। হাসি-ঠাট্টায় যেমনি জীবনানন্দ তৈরি হয়, তেমনি হাসি দিয়ে বিশ্বও জয় করা যায়। এভাবে আপনার আরাধ্য জীবনতরীকে কেবল শতায়ুতে পৌঁছানোই নয়, শতায়ু পার করে বিশ্বরেকর্ডও করতে পারেন। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী যমজের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের এনা পাগ ও লিলি মিলওয়ার্ড। ১০০ বছর ২ মাস বয়সী এ দু’বৃদ্ধা এখনো এমনই কর্মক্ষম যে- তারা নিজেদের কাজ নিজেরাই করেন; প্রতিসপ্তাহে বাজার করতে যান, এমনকি রান্নার কাঠও যোগাড় করেন নিজেরাই। দীর্ঘায়ুর রহস্য সম্পর্কে মিলওয়ার্ড জানান, হাসি-ঠাট্টা ও পরস্পরের সঙ্গে মজা করা তার সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের সহায়ক হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এখনো খামারে পুরোদিন কাজ করি এবং তা উপভোগ করি।
হাসিতে আয়ও বাড়ে
হাসি শুধু আনন্দ দান বা রোগ দূরীভূতই করে না, হাসিতে আয়ও বাড়ে। আপনি কোনো রে¯েঁÍারায় খাবার পরিবেশক বা বিক্রয় প্রতিনিধির কাজ করছেন? ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত? আপনার এ চিন্তা দূর করে দিতে পারে শুধুই একটি নির্মল হাসি। উজ্জ্বল হাসিই আপনাকে পৌঁছে দেবে সাফল্যের শীর্ষে। আপনার হাসিতে ক্রেতার পকেটের টাকা চলে আসবে আপনার হাতে। সম্প্রতি একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করে একদল ব্রিটিশ মনোবিজ্ঞানী এ কথা জানিয়েছেন। গবেষণাপত্রে বলা হয়, পরিবেশকের নির্মল হাসি ক্রেতাকে প্রশান্তি দেয়। এজন্য তারা অতিরিক্ত বিল দিতেও কার্পণ্য করে না। গবেষণায় মনোবিজ্ঞানীরা প্রতি হাসির মূল্যও রাখার চেষ্টা করেন। অভিব্যক্তি কীভাবে মানুষের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, এর ওপর গুরুত্ব দেন গবেষকরা। বিক্রয়কর্মীর দেঁতো হাসি কীভাবে ক্রেতার টাকা খরচে প্ররোচিত করে, গবেষণায় তা জানার চেষ্টা করা হয়। এজন্য একদল স্বেচ্ছাসেবককে কম্পিউটারে প্রকৃত হাসি ও কপট হাসির দুই চরিত্রের সঙ্গে গেম খেলতে দেয়া হয়। এতে দেখা গেছে, প্রকৃত হাসি দেয়া চরিত্রের দিকেই তারা বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে। যুক্তরাজ্যের ব্যাঙ্গর বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি’র ছাত্র ড্যানিয়াল শোর বলেন- একজন বিক্রয়কর্মীর প্রকৃত হাসি যদি আপনাকে প্রভাবিত করে, তাহলে দেখবেন আপনি সাধারণ মানের একটি গাড়ি কিনতে গিয়ে আরো বেশি দামি গাড়ি কিনে ফিরছেন। প্রিয় পাঠক- হাসিতে আয়, আয়ু, সুখ, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি থাকার এত এত কথা জেনে এখনও কি প্রাণখুলে হো হো করে হেসে উঠবেন না? হাসিমুখের জয় যেমনি সর্বত্র, তেমনি আপনার শতায়ুও নিহিত রয়েছে আপনারই হাসিতে।
হাসিতে যত সুখ
কথায় বলে, হাসতে টাকা লাগে না। সুস্থ দেহ ও মনের প্রতিচ্ছবি হচ্ছে হাস্যোজ্জ্বল মুখ। গোমড়ামুখো মানুষকে কেউ পছন্দ করে না। না ঘরে, না বাইরে। প্রবাদ আছে, হাসিমুখের জয় সর্বত্র। চিকিৎসকরা সততই বলেন, প্রাণ খুলে হাসলে অসুখ অর্ধেক নিরাময় হয়। হাসিতে আয়ু বাড়ে। হাসিখুশি সুখী মানুষের কাছ থেকে হৃদরোগ থাকে অনেক তফাতে। গবেষণায় দেখা গেছে- ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, গাড়ি বা দামি পোশাক যতটা না মানুষকে সুখ দিতে পারে, তার চেয়ে মানুষ বেশি সুখী হয় পরিবার-বন্ধুবান্ধব ও প্রকৃতির সান্নিধ্যে এলে। রিপোর্টে বলা হয়েছে- প্রতিদিন মানুষ হাসতে পারে, এতে কোনো বাধা নেই। এ আনন্দের ভাগ সবাই পেতে পারে এবং তা সহজলভ্য। তাই প্রতিদিন সবাই কিছু না কিছু হাসুন। দু’হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, সুখ বা আনন্দ উপভোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হাসি। তারা কীসে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায় -এমন প্রশ্নের জবাবে ২২ শতাংশ মানুষ বলেছে, হাসি। বন্ধুদের সঙ্গে ভালো খাবার গ্রহণের পক্ষে বলেছে ২১ শতাংশ মানুষ। ১৯ শতাংশ মানুষ উষ্ণ আলিঙ্গনকে তৃতীয় স্তরে রেখেছে। তাই পাঠকের প্রতি অনুরোধ- শৈশব কৈশোরের হাসিকে বার্ধ্যকেও ধরে রাখতে প্রয়াসী হোন, এতে অনেক রোগ প্রতিরোধসহ দীর্ঘজীবনের স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন। ছড়ায় আছে- ‘রামগঢ়–ড়ের ছানা, হাসতে তাদের মানা; হাসির কথা শুনলে বলে- হাসব? না না না না।’ ওহে পাঠক- আমরাতো মানুষ, রামগঢ়–ড়ের ছানা নই। হাসতে আমাদের বাধা কোথায়? ঝড়, ংসরষব ঢ়ষবধংব!
হাসি শেখার বিশ্ববিদ্যালয়
হাসি-কান্না মানুষের স্বভাবজাত। বড় হয়েও হাসি শিখতে হবে -এটি হয়ত কারো কল্পনায়ও আসবে না; তাও আবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে! এমনই ব্যতিক্রমী কোর্স নিয়ে ভারতের ব্যাঙ্গালোরে চালু হতে যাচ্ছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চাপ, লাগাতার পরীক্ষার দুশ্চিন্তা এবং চাকরিজীবীদের কাজের চাপ থেকে মুক্তি দিতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি হবে বিশ্বের প্রথম হাসি শেখার বিশ্ববিদ্যালয়। হাসি শেখার ঐ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ডাঃ মাদান কাতারিয়া জানান, অতিরিক্ত কাজের চাপে মানুষের মন ও স্বাস্থ্য অত্যন্ত নাজুক। ভবিষ্যতে এ থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে হাসি থেরাপির কথা ভাবা হচ্ছে। যথাযথভাবে হাসি থেরাপি দিতে পারলে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো থাকা সম্ভব। হাসি শেখানোর এই কোর্সের নাম ‘হাসির যোগাভ্যাস’ বা ‘হাসি থেরাপি’। ডাঃ কাতারিয়া জানান, এ ধরনের থেরাপির ধারণা অমূলক নয়। এটি বৈজ্ঞানিকভাবে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। অনেক সময় শরীর আসল ও নকল হাসি পৃথক করতে পারে না। যদি কাউকে সঠিকভাবে হাসি থেরাপি দেয়া যায়, তবে অন্য শরীরচর্চার মতোই সুফল পাওয়া যেতে পারে।
সুখের বিছানা-তত্ত্ব
বিছানায় স্বামী বা স্ত্রী কোন্্ পাশে ঘুমাচ্ছে, এর ওপর নির্ভর করে একজন মানুষের মুড। বিছানায় বাম পাশে ঘুমালে মুড থাকে ফুরফুরে, চিত্তে থাকে সুখ; আর ডান পাশে ঘুমালে মেজাজ বিগড়ে থাকে। এমন কথা বিশ্বাস করতে কিছুটা কষ্ট হওয়ারই কথা। তবে বিজ্ঞানীদের কথা মানলে বলতে হবে, সুখের এ বিছানা-তত্ত্বে কোনো ভুল নেই! ডেইলি এক্সপ্রেসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বিছানার কোন্্ পাশে শোয়া হচ্ছে, সেটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বামপাশে ঘুমাতে অভ্যস্তদের ঘুম থেকে ওঠার পর মনে উৎফুল্লভাব কাজ করে এবং তারা অনেক বেশি শারীরিক ও মানসিক চাপ নিতে পারে; তাদের চাকরিচ্যুতির হারও বেশ কম; জীবন সম্পর্কে ধারণাও ইতিবাচক। সব মিলিয়ে তারা বেশ সুখী। অন্যদিকে ডানপাশে ঘুমানো ব্যক্তিরা সব সময় অস্থিরতায় সময় কাটায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘুম থেকে ওঠার সময় তাদের মেজাজ খিটখিটে থাকে। সারাদিনের কাজের চাপ বা অন্যকোনো মানসিক চাপ তারা একেবারেই সামাল দিতে পারে না। অল্পেই অধৈর্য ও অসহিষ্ণু হয়ে পড়ে। ডানপাশে ঘুমানো ব্যক্তিরা আয়-রোজগার বেশি করলেও বামপাশে ঘুমানো কম রোজগার করা ব্যক্তির চেয়ে তারা কম সুখী। এছাড়া বিভিন্ন জটিল পরিস্থিতিতে দেখা গেছে, ডানপাশে ঘুমানো ব্যক্তিরা একেবারে অধৈর্য হয়ে পড়ে, অস্থিরতায় ভোগে। অন্যদিকে বামপাশে ঘুমানো সঙ্গীরা ঐ সময় মাথা বেশ শান্ত; ঠা-া রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে। গবেষকরা জানিয়েছেন- ঘুম সংক্রান্ত বিভিন্ন দিকের সাথে আচরণ বেশ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
অতীতের দুঃখ-কষ্ট ভুলে ভবিষ্যতের সুখ-স্বপ্নে বিভোর থাকুন
অতীত নিয়ে বেশি ভাবলে প্রতিদিনের আনন্দই মাটি হতে পারে, স্বাস্থ্যের জন্যও হতে পারে ক্ষতির কারণ। অতীতে যেসব ভুল হয়েছে, যেসব সুযোগ নষ্ট হয়েছে কিংবা অন্যের কাছ থেকে পাওয়া আঘাত নিয়ে যারা বেশি ভাবেন, তাদের কষ্ট বাড়ে এবং অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। সব মিলিয়ে তাদের জীবনমান নিচে নেমে যেতে পারে। অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা বেশি স্বপ্ন দেখেন, তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। সবচেয়ে সুখী ও প্রাণোচ্ছল তারাই, যারা অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনাটা করতে পারে। স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব গ্রানাডার গবেষকরা এসব কথা বলেছেন। গবেষকরা বলেন- অতীত নিয়ে যাদের ভাবনা নেতিবাচক, তারা হতাশাপ্রবণ ও খিটখিটে মেজাজের। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও ভালো থাকে না। তাদের কর্ম-উদ্দীপনা কমে যায় এবং শরীর দুর্বল হয়ে যায়। গবেষক দলের প্রধান ক্রিস্টিয়ান ওয়ানাদেল বলেন, অতীতের ভুলের কারণে হতাশাগ্রস্ত না হয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনায় মনোযোগ দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আবার যারা শুধু স্বপ্নের জাল বুনেন, তারা অনেক সময় অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে ভুলে যান।
সবচেয়ে সুখের বয়স ৩৩
জীবনের কোন্্ সময়টি সবচেয়ে সুখের- এমন প্রশ্নের উত্তর কারো মতে ১৯, কারো ১৮; আবার কারো ২১, কারো ২৫। এসব বয়স হয়ত সুখের কোনো সময়ই নয়, সুখ রয়ে গেছে ত্রিশ কিংবা তেত্রিশে। শৈশব-কৈশোর-যৌবন জীবনের এই সময়গুলো একে অন্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার বিষয় নয়। সবই জীবনে বহন করা কাল। তবুও যখন পাওয়া, না পাওয়া আর হাহাকার নিয়ে বাঙালি কবি কবিতা লিখলেন- ‘তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি’। সে থেকে বোঝা যায়- আর যা হোক, জীবনের এ সময় অন্তত সুখের নয়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা তথ্য-প্রমাণ নিয়ে বলছেন, তেত্রিশ বছর বয়সই জীবনের সবচেয়ে সুখের সময়; তাতে কেউ কথা রাখুক বা না রাখুক। ব্রিটেনে বিভিন্ন বয়সের মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা এ তথ্য জানিয়েছেন। গবেষণা দলের প্রধান ডোনা ডাউসন বলেন- ৩৩ বছর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়। শৈশবের বালখিল্যতা, টিনএজার পাগলপনা কাটিয়ে ওঠার বয়স ৩৩। যৌবনের শক্তি ও সাহস না হারিয়েই এ বয়সে তা কাটিয়ে ওঠা যায়। এ সময়ের মধ্যে নিষ্পাপ ভাবটা কেটে বাস্তববোধের জন্ম দেয় -যা আমাদের মেধা ও সামর্থ্যরে ওপর ইতিবাচক বোধ তৈরি করে। ইদানিংকালে গবেষকগণ এসব বললেও আমার কেমন যেন মনে হয় যে, পুরুষের ক্ষেত্রে সর্বাধিক সুখের বয়স ৩০ আর নারীদের ক্ষেত্রে ২৮।
মধ্য বয়সের শুরু ৫৫
মানুষের মধ্যবয়স নিয়ে আমরা অনেক কথা শুনি। কিন্তু মধ্য বয়সের শুরু কখন, তা জানি না অনেকেই। গবেষণায় বলা হচ্ছে- মধ্যবয়স শুরু হয় ৫৫ বছরে; আর শেষ হয় ৭০ বছরে গিয়ে। অর্থাৎ এটি প্রায় ১৪ বছর স্থায়ী হয়। লাভ টু লার্ন ওয়েবসাইটে একটি সমীক্ষার ফলাফলে এ কথা বলা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন- মধ্যবয়স আসলে মানুষের মনের বিষয়। এর নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। সুখী হওয়ার সহজ উপায় পৃথিবীর সব মানুষ সুখী হতে চায়, এটি চিরসত্য। সুখী হওয়ার জন্য মানুষ কী না করে থাকে! দুঃখী মানুষের চেয়ে তারা বাঁচেও বেশি। কিন্তু সবার পক্ষে সারাক্ষণ কি সুখী থাকা সম্ভব? হয়ত না। মনোবিজ্ঞানীরা এ বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করেছেন। গবেষণার ফলে দেখা গেছে, সুখী হওয়ার বিষয়টি রপ্ত করতে হয়। প্রতিনিয়ত অনুশীলনে মস্তিষ্কের বিশেষ কোষকে উজ্জীবিত রাখা সম্ভব। গ্রিসের স্টোইক দার্শনিক অ্যাপিকটেটাস এ বিষয়ে বলেন, কোনো ঘটনা আমাদের বিমর্ষ করে না। আসলে ঘটনাকে আমরা কোন্্ দৃষ্টিকোণ (ইতি বা নেতিবাচক) থেকে গ্রহণ বা বিশ্লেষণ করছি, তার ওপর সেটি নির্ভর করে। কোনো ব্যক্তি বা ঘটনা আমাদের দুঃখী বা সুখী করে না। সুখ নির্ধারিত হয় সমাজ ও জীবনের প্রতি আমাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। আমাদের নিজস্ব পছন্দ বা অপছন্দ থেকে তা উৎসারিত। যেমন- অনেকে বহু মানুষের ভিড়ে ভীষণ অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আবার অনেকে এ থেকে আনন্দ বা মজা পান। অর্থাৎ বিশেষ এক পরিস্থিতি বা পরিবেশকে আমরা কীভাবে মূল্যায়ন করছি আমাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান থেকে, তার ওপর নির্ভর করে সুখ বা দুঃখবোধ। বিজ্ঞানীরা বলছেন- আমরা মুডকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ বা পরিবর্তন করতে পারি, সেভাবেই ব্রেন কাজ করবে। ইতালির মনোচিকিৎসক অধ্যাপক গিওভানি ফাভা বলেন- প্রতিদিন আপনি ৫টি বিষয় নির্বাচন করুন, যা আপনাকে আনন্দ দেয় এবং তার বর্ণনা ডায়েরিতে লিখে রাখুন। দেখবেন, ধীরে ধীরে আপনি এক আনন্দময় ভুবন আবিষ্কার করে ফেলেছেন। অতীতের দুঃখগাঁথা বা স্মৃতি মন থেকে সরিয়ে ফেলুন জোর করে। তা নিয়ে অগ্রসর হয়ে লাভ কী, বলুন? অতীত জীবনের দুঃখজনক অভিজ্ঞতা মুছে ফেলতে চাইলে ক্যাম্পাস’র মেডিটেশন সিডি সংগ্রহ করুন এবং Disowning the negatives of past and planning for bright & successful future টেকনিক অবলম্বন করুন।
যৌবনে নয় বার্ধক্যেই যত সুখ!
মানুষের জীবনে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত চলে ইচ্ছার রাজত্ব, ৩০ বছরে বুদ্ধির রাজত্ব এবং ৪০ বছরে আসে বিবেচনার রাজত্ব। আর বিচার-বিবেচনার মাধ্যমে পজিটিভ এটিচিউড তৈরি হয় পঞ্চাশোর্ধে তথা বার্ধক্যে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তার প্রবণতা বাড়তে থাকে। ফলে সব কিছুকে ভালো চোখে দেখার এবং সহজভাবে নেয়ার ক্ষমতাও বাড়ে। এতে নিজের অবস্থান সম্পর্কেও সন্তুষ্টি কাজ করে। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত কম বয়সের মানুষদের মধ্যে এ ধরনের বোধ বা পজিটিভ এটিচিউড কম দেখা যায়। জার্মানি’র হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে- বার্ধক্য মানুষকে অসুখী করে না বরং বার্ধক্যেই সুখ শুরু হয়। আর বয়স বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে সুখ অনুভব করার প্রবণতা। গবেষকরা জানান, মোটামুটি ৫০ বছর বয়স থেকেই মানুষের অবসরে যাওয়া শুরু হয়। সমগ্র জীবনের কর্মক্লান্তি, পাওয়া না পাওয়ার হিসাব এবং সর্বোপরি বার্ধক্য -সব মিলে এ মানুষদের অসুখী ভাবাটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ‘বুড়োরা অসুখী’ -এ প্রচলিত ধারণা ভ্রান্ত। বরং এ বয়সে এসে মানুষের মধ্যে তৈরি হয় ইতিবাচক মনোভাব। এ সময়ে তারা সবকিছু সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অবসর বিষয়টিকে বেশিরভাগ মানুষই বেশ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে এবং তা উপভোগ করে। এ সময়টিকে তারা একান্তই নিজেদের মতো করে এবং নিজেদের জন্য ব্যবহার করতে পারে, যা তাদের যুব বা তরুণ বয়সে সম্ভব ছিল না। ফলে এ সময়টিতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য আগের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায় থাকে। এ থেকে বোঝা যায়, মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর ওপর শরীর-স্বাস্থ্য এবং সুখী বা অসুখী হওয়া -অনেক কিছুই নির্ভর করে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইতিবাচকতার ওপর জোর দেয়া। অতএব, কেউ মুখে বা মনে কখনো বলবেন না যে- বুড়ো হয়েছি।
-চলবে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ