বিশেষ খবর

অগ্রণী ব্যাংক - দেশপ্রেম ও জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনুকরণীয় ডায়নামিক ও গতিশীল প্রতিষ্ঠান

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রচ্ছদ প্রতিবেদন
img

অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড বাংলাদেশের অন্যতম রাষ্ট্র-মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক। এটি ২৬ মার্চ ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তানের দু’টি ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক এবং কমার্স ব্যাংক এর সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অগ্রণী ব্যাংক সহ সকল সরকারী ব্যাংকের নামকরণ করেন। বাংলাদেশ সরকার ও ব্যাংকের মধ্যে সম্পাদিত ভেন্ডরস চুক্তির মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংক ১৫ নভেম্বর ২০০৭ থেকে দেশের অন্যতম বৃহত্তম পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি রূপে নতুন অভিযাত্রা শুরু করে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন উৎসাহ ও অঙ্গীকার নিয়ে দেশের শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে টেকসই ভিতের ওপর দাঁড় করানোর জন্য অগ্রণী ব্যাংক বহু বিস্তৃত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।

ব্যাংকটির সমগ্র দেশব্যাপী ৯৫৮টি শাখা, ১১টি সার্কেল অফিস, হেড অফিসে ৩৬টি ডিভিশন, ৫৩টি জোনাল অফিস, ৩৪টি কর্পোরেট শাখা, ৪২টি এডি ব্রাঞ্চ এবং দেশে-বিদেশে নিজস্ব মালিকানাধীন ০৫টি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি। এছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিং এর ২৮০টি শাখা রয়েছে।

ব্যাংক পরিচালনা যেভাবে

চেয়ারম্যানকে প্রধান করে বর্তমানে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও সহ মোট ১০ জন পরিচালক সমন্বয়ে গঠিত। পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংকের সামগ্রিক নীতি নির্ধারণ করে থাকে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী এবং তাঁকে ৪ জন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ২২ জন মহাব্যবস্থাপকসহ অন্যান্য নির্বাহী ও কর্মকর্তারা সার্বিক কর্মকান্ডে সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট এবং বরিশাল এ ছয়টি প্রশাসনিক বিভাগে ব্যাংকের শাখাগুলির পরিচালনার দায়িত্ব মহাব্যবস্থাপকদের ওপর অর্পিত। ঢাকায় ধানমন্ডিতে একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট রয়েছে। এছাড়া, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ঊহঃবৎঢ়ৎরংব এৎড়ঃিয ধহফ ইধহশ গড়ফবৎহরুধঃরড়হ চৎড়লবপঃ-এর আওতায় প্রধান কার্যালয়ের ঋণ, নিরীক্ষা, তথ্য প্রযুক্তি এবং হিসাব এই চার ক্ষেত্রে মহাব্যবস্থাপক পদমর্যাদার ২জন (হেড অব আইসিসি, সিআইটিও)সহ ১ জন সার্বক্ষণিক আইন উপদেষ্টা নিয়োজিত রয়েছেন। বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত্ এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড সিইও মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে ব্যাংকটি পরিচালনা করে আসছেন।

অগ্রণী ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম
বিভিন্ন হিসাবে আমানত গ্রহণ এবং অর্থনীতির প্রায় সকল খাতে ঋণ প্রদান ছাড়াও ব্যাংকটি স্কুল ব্যাংকিং, অবসর ভাতা তহবিল, শিল্প উন্নয়ন বন্ড এবং অভ্যন্তরীণ অর্থপ্রেরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা প্রদান করে থাকে। ব্যাংকটি আয়বর্ধক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত কিছু প্রকল্প পরিচালনা করে, যেমন উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান প্রকল্প, নেত্রকোনা সমন্বিত কৃষিপণ্য এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, চাকরি সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ইফাদ সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প, জাতীয় ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রকল্প এবং কৃষি বহুমুখীকরণ ও নিবিড়করণ প্রকল্প ইত্যাদি। ব্যাংকটি বৈদেশিক বাণিজ্যে অর্থসংস্থান ও রেমিট্যান্স সেবাসহ বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত ব্যবসায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের আত্মীয়স্বজন বা তাদের মনোনীত প্রতিনিধি যাতে দেশে প্রেরিত রেমিট্যান্স-এর অর্থ স্বল্পতম সময়ে এবং সহজে পেতে পারেন, সেই লক্ষ্যে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড দেশজুড়ে গড়ে তুলেছে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। এলক্ষ্যে ব্যাংকটি মধ্যপ্রাচ্য, উপসাগরীয় অঞ্চল, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ছাড়িয়ে ইউরোপ, আমেরিকা, সাউথ আফ্রিকা সহ বিশ্বের প্রায় সকল দেশব্যাপি রেমিট্যান্স কার্যক্রম সম্প্রসারিত করেছে। বর্তমানে ব্যাংকের নিজস্ব ৩টি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান(সিঙ্গাপুর,মালয়েশিয়া, কানাডা)সহ ৮৪টি বিদেশি ব্যাংক/এক্সচেঞ্জ হাউসের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে দেশে সরাসরি টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। ৩১ জানুয়ারি ২০০২ তারিখে সিঙ্গাপুরে অগ্রণী এক্সচেঞ্জ হাউস প্রাঃ লিমিটেড নামে একটি এক্সচেঞ্জ হাউস খোলা হয়, যার মাধ্যমে ২০১৯ সালে প্রায় ১,২৬৩.১৮ কোটি টাকা এবং ২০২০ সালে জানুয়ারি মাস হতে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় ১,২৩০.৮০ কোটি টাকা রেমিট্যান্স বাংলাদেশে প্রেরিত হয়। এছাড়া ২১ জানুয়ারি ২০০৪ তারিখে ভূমিপুত্র কমার্স ব্যাংক, বারহাদ ব্যাংক, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়ার সাথে মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স আহরণের নিমিত্তে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৫ মার্চ ২০০৪ তারিখ হতে অদ্যাবধি ভূমিপুত্র কমার্স ব্যাংকের মাধ্যমে মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স প্রেরণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ার মে ব্যাংক-এর সাথে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড-এর ড্রয়িং অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, যার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশীদের অর্থ দেশে প্রেরিত হচ্ছে। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে কর্মরত বাংলাদেশীদের অর্থ দ্রুত প্রেরণের লক্ষ্যে অগ্রণী রেমিট্যান্স হাউস এসডিএন, বিএইচডি চালু আছে। যার মাধ্যমে ২০১৯ সালে প্রায় ৫৫৭ কোটি টাকা এবং ২০২০ সালে জানুয়ারী মাস হতে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় ৩৪৫.৪০ কোটি টাকা রেমিট্যান্স বাংলাদেশে প্রেরিত হয়। সরকার ঘোষিত নীতিমালার সাথে সংগতি রেখে রেমিট্যান্সের অন্তর্মুখী প্রবাহ বৃদ্ধিসহ নিরাপদে ও দ্রুততম সময়ে গ্রাহক বা বেনিফিশিয়ারিদের হিসাবে টাকা জমাকরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০০৯ পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড-এর ৩৯৮৩টি প্রকল্পের জন্য ক্রমপুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮০৪৩ মিলিয়ন টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক কেবল ২০০৯ সালে ২২৫টি প্রকল্পের অনুকূলে ৪৩১৪ মিলিয়ন টাকা মঞ্জুর করেছে, যার মধ্যে ৫৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্লান্টও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিল্পখাতে ব্যাংক প্রদত্ত শিল্প ঋণের মধ্যে শতকরা ৪৮ ভাগ দেয়া হয়েছে বৃহৎ ও মাঝারি শিল্প খাতে এবং অবশিষ্ট ৫২ ভাগ দেয়া হয়েছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাতে। সরকার ঘোষিত অগ্রাধিকার খাতসহ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ৪৪টি উপ-খাতে ব্যাংক অর্থায়ন করেছে। বিগত কয়েক বছর যাবত বিদ্যুৎ খাত দেশের অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত। অগ্রণী ব্যাংক এ খাতে অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত এ খাতে ১৫টি প্রকল্পে মোট ৪২২৫.৮২ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে। মঞ্জুরিকৃত ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে ১১টি প্রকল্প হতে দৈনিক ১০২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে এবং তা জাতীয় গ্রীডের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং অপর ৪টি প্রকল্প হতে আরো ১৩৩৪.৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ করার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড ১৯৭৭ সাল থেকে সরকারের নীতিমালার আলোকে পল্লী এলাকার বিপুল জনগোষ্ঠীকে দেশের অর্থনীতির মূল স্রোতধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল ও উজ্জীবিতকরণসহ দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ২৫টি কর্মসূচি/প্রকল্পের মাধ্যমে ১০টি এনজিওসহ ৩২,৮০,৫৬৩ জন উদ্যোক্তাকে মোট ২৭,৩৬৭ মিলিয়ন টাকা ঋণ বিতরণ করেছে এবং এ খাতে আদায়ের হার সন্তোষজনক। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইউনিট (মেডু) অনুবিভাগকে এসএমই ও মাইক্রো ক্রেডিট বিভাগ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগে রূপান্তর করে দারিদ্র্য বিমোচনে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে ১৯৯৫ সাল থেকে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড ও ইফাদ-এর যৌথ উদ্যোগে গ্রামীণ দরিদ্র জনগণের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্প (ইজিপিআরপি) প্রকল্পটি দক্ষতার সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। পরবর্তীকালে জুলাই ২০০০ থেকে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকার খাত হিসেবে অন্যান্য ৩টি পাবলিক লিমিটেড ব্যাংকের সাথে প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে বিশেষ ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি চালু করেছে। বর্তমানে এ বিভাগের আওতাধীনে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এনজিওদের ঋণদানসহ ১৪টি ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৩টি কর্মসূচি নিম্নরূপ

গ্রামীণ দরিদ্র জনগণের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্প ইজিপিআরপি
ইফাদ ও অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের অর্থায়নে ১৯৯৫-’৯৬ সাল থেকে জুন ২০০০ সাল পর্যন্ত ইজিপিআরপি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তা বর্তমানে ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ প্রতিষ্ঠা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলো এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। প্রকল্পের আওতায় জামানতবিহীন ৭৫,০০০ টাকা এবং জামানতসহ সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা হয়। এছাড়া এর আওতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনদের ঋণ দেয়া হয়ে থাকে। জুন ২০২০ পর্যন্ত এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৮০০৩২ জন উদ্যোক্তাকে মোট ৩৯৯০.২০ মিলিয়ন টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে এ পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৪১৮৬.৬০ মিলিয়ন টাকা। এখাতে পুঞ্জিভূত ঋণ আদায়ের হার শতকরা ৯৬ ভাগ।

প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে বিশেষ ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি
বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ২০০২ সালে এ বিশেষ ঋণ কর্মসূচি চালু করা হয়। প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মূল স্রোতধারায় একীভূত করার লক্ষ্যে সরকার প্রণীত এ ঋণ কর্মসূচি অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের উদ্যোগে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শারীরিকভাবে পঙ্গু কিন্তু বুদ্ধিমান ও ব্যবসায় ক্ষেত্রে পারদর্শী প্রতিবন্ধীরা এককভাবে বা পরিবারের কোনো যোগ্য সদস্যের সঙ্গে যৌথভাবে এ ঋণ গ্রহণ করতে পারেন। জুন ২০২০ পর্যন্ত এ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫৭ জন উদ্যোক্তাকে মোট ১৩.১০ মিলিয়ন টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে।

মহিলাদের ঋণদান কর্মসূচি
মহিলাদের সমাজে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং তাদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে এ কর্মসূচি শুরু করা হয়। একজন মহিলা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা ঋণ পেয়ে থাকেন। এ প্রকল্পের আওতায় জামানতবিহীন ৫০,০০০ টাকা এবং জামানতসহ সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা হয়। জুন ২০২০ পর্যন্ত এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৭১৬ জন উদ্যোক্তাকে মোট ২৮৯.৬০ মিলিয়ন টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে এ পর্যন্ত আদায় হয়েছে ২৮৫.৫০ মিলিয়ন টাকা। পুঞ্জিভূত ঋণ আদায়ের হার শতকরা ৮৯ ভাগ।

ডিজিটালাইজাইশেনে অগ্রগামী অগ্রণী ব্যাংক
অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড-এর যাবতীয় কার্যাবলি দক্ষতা ও দ্রুততার সাথে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পাদন করার অভিপ্রায়ে দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে, যার ফলে অর্জিত হয়েছে বিপুল সাফল্য। বর্তমানে ব্যাংকের ৯৫৮টি শাখার সকল শাখাতেই ঙহষরহব জবধষঃরসব পদ্ধতিতে কম্পিউটারাইজড গ্রাহক সেবা চালু রয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের সকল শাখায় ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপিত হয়েছে, যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ঋড়ৎবরমহ জবসরঃঃধহপব পরিশোধ, ঈরৎপঁষধৎ প্রেরণ ও সকল তথ্যাদি আদান-প্রদান করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে দৈনন্দিন ঝঃধঃবসবহঃ ড়ভ অভভধরৎং, চৎড়ভরঃ ধহফ খড়ংং অপপড়ঁহঃং সম্পর্কিত তথ্যাদি ধঁঃড়সধঃবফ পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হচ্ছে। ২০০২ সালের শেষভাগে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড-এর নামে একটি ওয়েবসাইট খোলা হয়, যাতে ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য সেবা ও পণ্যসহ আর্থিক বিবরণী সংক্রান্ত তথ্যাদি সংরক্ষিত হচ্ছে। ২০০২ সালে ঊ-ঈধংয নামে এটিএম ব্যবস্থা চালু করা হয়, যা গ্রাহক সেবার ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা নগদ টাকা তোলা ও বিভিন্ন সেবা সংস্থার সব ধরনের পরিসেবা বিল পরিশোধ করার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকবৃন্দ। এটি একটি ংযধৎবফ ব্যবস্থা যার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে ৮টি সদস্য ব্যাংক। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শহরে সদস্য ব্যাংকগুলোর ৪০টি এটিএম বুথের মাধ্যমে এই সুবিধা চালু রয়েছে। এটিএম-এর সংখ্যা এবং এই সংক্রান্ত অন্যান্য প্রোডাক্ট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ব্যাংকের বিবেচনাধীন রয়েছে। এছাড়া বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের দ্রুততম সেবা নিশ্চিত করার নিমিত্ত ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনকারী বিভিন্ন শাখায় ১৪টি সুইফ্ট স্টেশন চালু রয়েছে। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক সমূহের মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড-ই প্রথম ব্যাংকিং কার্যক্রমে কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক সমূহের মধ্যে ২০০৮ সালে অগ্রণী ব্যাংকে সর্বপ্রথম কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে রিয়েল টাইম অনলাইন ব্যাংকিং সেবা কার্যক্রম চালু করা হয় যা বর্তমানে ব্যাংকের ৯৫৮ টি শাখায় পরিচালিত হচ্ছে। সময়ের পরিক্রমায় প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে সাথে অগ্রণী ব্যাংকও গ্রাহকদের প্রযুক্তি নির্ভর সৃজনশীল সেবা প্রদান করে আসছে। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যাংকিং সেবা গ্রাহকের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য অগ্রণী ব্যাংক প্রথম দ্বি-মুখী ডিজিটাল লেনদেন (অগ্রণী হতে বিকাশ এবং বিকাশ হতে অগ্রণীতে টাকা লেনদেনের সুবিধা) সার্ভিস চালু করেছে। এছাড়াও, সমগ্র দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায় ৪০০টি এজেন্ট পয়েন্ট, নিজস্ব অঞগ এর পাশাপাশি শেয়ারড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারা দেশের ২০০০ হাজারের অধিক অঞগ এর মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংক গ্রাহকদের প্রযুক্তি নির্ভর ২৪ ী ৭ ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে আসছে। ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসনের অংশ হিসেবে ২০১৮ সনে ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য ঝগঝ অষবৎঃ ঝবৎারপব চালু করা হয়েছে যার মাধ্যমে লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত হওয়ার পাশাপাশি সর্বশেষ ৫টি লেনদেনের তথ্য ও সর্বশেষ ব্যালেন্স গ্রাহক জানতে পারছে। ফরেন রেমিট্যান্স এর প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রবাসী গ্রাহকদের জন্য ২০২০ সনে চালু করা হয় মোবাইল অ্যাপস ভিত্তিক সেবা - অমৎধহর জবসরঃ। প্রবাসী গ্রাহকগণ ঘরে বসে বা কর্মস্থলে থেকেই নিজের মোবাইলের মাধ্যমে এই অ্যাপস ব্যবহার করে দেশে টাকা পাঠাতে পারছেন। যার সুফল হিসেবে ঈঙঠওউ-১৯ এর মহামারীর সময় সিংগাপুর প্রবাসী গ্রাহকগণ ঘরে বসেই স্বাচ্ছন্দে দেশে টাকা প্রেরণ করতে পেরেছেন। তাছাড়াও, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, আইটি ডিভিশনের নিজস্ব দক্ষ জনবলের মাধ্যমে ডেভেলপকৃত সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যথাঃ উযধশধ ঊষবপঃৎরপ ঝঁঢ়ঢ়ষু ঈড়সঢ়ধহু (উঊঝঈঙ), উযধশধ চড়বিৎ উরংঃৎরনঁঃরড়হ ঈড়সঢ়ধহু খঃফ. (উচউঈ), উযধশধ ডঅঝঅ, কধৎহধঢ়যঁষর এধং উরংঃৎরনঁঃরড়হ ঈড়সঢ়ধহু খঃফ.(কএউঈখ), ঝঁহফধৎনধহ এধং উরংঃৎরনঁঃরড়হ ঈড়সঢ়ধহু খঃফ. (ঝএউঈখ), ইধশযৎধনধফ এধং উরংঃৎরনঁঃরড়হ ঈড়সঢ়ধহু খঃফ. (ইএউঈখ), ঞরঃধং এধং উরংঃৎরনঁঃরড়হ ঈড়সঢ়ধহু খঃফ. (ঞএউঈখ) ইত্যাদি এর বিল কালেকশন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফি/চার্জ গ্রহণ এবং বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে। যার ফলে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান সমূহ তাদের সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে থাকা গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থের ব্যালেন্স তাৎক্ষনিকভাবে নিজস্ব অফিসে বসেই নিশ্চিত হবার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া, ব্যাংকের নির্বাহী/কর্মকর্তা/কর্মচারীর বেতন-ভাতাদি কেন্দ্রীয়ভাবে হিসাবায়ণ ও বিতরণ, প্রভিডেন্ট ফান্ড এর হিসাবায়ণ ইত্যাদি ওয়েব বেইজড সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। যুগোপযোগী ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা চালুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে যা অতিশীঘ্রই চালু করা হবে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা নিরাপদ, সহজতর ও সার্বজনীন করার লক্ষ্যে অগ্রণী ব্যাংক দেশে সর্বদাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ