বিশেষ খবর

মডার্ণ হারবাল গ্রুপের ভেষজ গার্ডেনে ‘ঔষধি উদ্ভিদের পরিকল্পিত চাষাবাদ-সংগ্রহ-সংরক্ষণ’ কর্মশালা

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রচ্ছদ প্রতিবেদন
img

মানব ইতিহাস ও জন্মলগ্নের সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধের জন্য ঔষধি ভেষজ উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল। পৃথিবীর সকল উদ্ভিদই ঔষধ হিসেবে কাজ করে বা ঔষধি ভেষজ গুণ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঔষধি ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহার করার জন্য জোর সুপারিশ করেছে। দেশে-বিদেশে ঔষধি ভেষজ উদ্ভিদের ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অগণিত মানুষ ভেষজ ঔষধের বদৌলতে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। একারণেই এদেশে হারবাল আন্দোলনের পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান মডার্ণ হারবাল গ্রুপ এর সুযোগ্য কর্ণধার, হারবাল চিকিৎসা ও গবেষণার জীবন্ত কিংবদন্তি , বাংলাদেশ হারবাল প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারিং এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. আলমগীর মতি ঔষধি উদ্ভিদের চাষাবাদ, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় সংশ্লি­ষ্ট সকলকে উৎসাহী ও সচেতন করতে আয়োজন করেছেন সমৃদ্ধ এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা।

মেডিসিনাল প্লান্টস এন্ড হারবাল প্রোডাক্টস বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল ও বাংলাদেশ হারবাল প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারিং এসোসিয়েশনের উদ্যোগে মডার্ণ হারবাল গ্রুপ আয়োজিত ‘ঔষধি উদ্ভিদের চাষাবাদ, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ’ শীর্ষক এই কর্মশালা ৩০ অক্টোবর গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শৈলাটে নিভৃত সবুজ শ্যামলে ঘেরা গাজীপুর গ্রামে মডার্ণ হারবাল গ্রুপের ভেষজ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়।

মডার্ণ হারবাল গ্রুপের ফাউন্ডার, কিংবদন্তি হারবাল চিকিৎসক ডা. আলমগীর মতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ও ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) এর মহাসচিব ড. এম হেলাল, মডার্ণ হারবাল গ্রুপের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) খন্দকার ফরহাদ হোসেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব জাহেদা পারভীন, দুদক’র উপ-পরিচালক সেলিনা আক্তার, বাংলা টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল এইচ, শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ এর আহবায়ক আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান বুলবুল, গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

পবিত্র কুরআন শরীফ থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ ঔষধি উদ্ভিদের চাষাবাদ, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ সম্পর্কে তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁদের বক্তব্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ উপস্থাপন করা হলো।

প্রধান অতিথি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের
অতিরিক্ত সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান


বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডায়নামিক অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, আমি একটা সাফল্যের খবর দিয়ে শুরু করতে চাই। বাংলাদেশ আজ মাথাপিছু আয়ে ভারতকে পিছনে ফেলেছে। পাকিস্তানকে তো অনেক আগেই পিছনে ফেলেছে বাংলাদেশ, এখন ভারতকেও পিছনে ফেলায় এশিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে আমাদের দেশকে নিয়ে। করোনাকালেও এই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সূদুরপ্রসারী পরিকল্পনা ফলে।
২০০৮ সালে যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দেয়া হয়, তখন অনেকেই মুচকি হেসেছিল। কিন্তু আজকে সেটা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। কোভিডও ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতিকে থামিয়ে দিতে পারেনি। লকডাউনে কয়েকমাস সব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশের ফলে এই লকডাউনেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনলাইন কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছে অনেক উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মূলত ৭টি সেক্টর নিয়ে কাজ করছে। হারবাল সেক্টর এর মধ্যে একটি। লকডাউনে আমাদের আইসিটি সেক্টর নিয়ে চিন্তার কিছু ছিল না, কারণ তারা কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে অনলাইনে। হারবাল সেক্টর তো আইসিটিতে তেমন উন্নত নয়, তাই চিন্তার ব্যাপার ছিল। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশের কারণে তাও সম্ভব হয়েছে। আমরা জুন পর্যন্ত যেসব কর্মশালা করেছি, মডার্ণ হারবাল গ্রুপের মগবাজারের অফিসসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের সব অফিসই অনলাইনে ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করেছে। দূর-দূরান্তের সকলের ব্যাপক অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বার্থকতা কিভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দূরদর্শী। করোনাকালীন সময়ে জীবিকা অর্জনে দেশের মানুষ যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্যে ঘোষণা করেছেন বিভিন্ন রকমের প্রণোদনা প্যাকেজ। তারই ফলশ্রুতিতে গত এক মাসে দেশের রপ্তানির হার রেকর্ড ছুঁয়েছে। প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি এক্সপোর্ট হয়েছে। পুরো ইউরোপের অর্থনীতি যখন ধ্বংসের পথে, আমেরিকার অর্থনীতি ধুকছে, কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে বাংলাদেশ ইকোনমিক গ্রোউথে সবচাইতে অগ্রগামী দেশের তালিকায়। বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের অক্লান্ত সেবা থেকে শুরু করে দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাসমাজ, সকলের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশের পথে, অপার সম্ভাবনার দেশ হিসেবে বিশ্বে উজ্জ্বল দেশের নাম বাংলাদেশ। ১৭ কোটি লোক নিয়ে আমরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, তা বিস্ময়ের বিস্ময়।
আমি কর্মজীবনে হেলথ ইন্সটিটিউটে পাবলিক হেলথ নিয়ে কাজ করার সময় ডাঃ আলমগীর মতির সাথে পরিচয়। তখন ডাঃ আলমগীর মতির মত লিজেন্ডদের আমরা খুঁজে পেলাম। মতি ভাইয়ের ডেমরার খামারে তখন তিনি কেঁচো চাষ করতেন, সবচেয়ে দামি হার্ব জিনসেং এর চাষ করতেন, যা কেউ কল্পনাই করতে পারেনি সেসময়। প্রতিবারই তাঁর সাথে কথা বলার সময় মনে হয়েছে আমি নতুন নতুন জিনিস শিখছি।
বাংলাদেশ এমন সম্ভাবনার দেশ, এখানে সবকিছুই সম্ভব। হার্বসের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অপরিসীম ভূমিকা রাখতে পারে। সারা পৃথিবীতে যখন এত মৃত্যু, বাংলাদেশে কেন এত কম এটাই সবার বিস্ময়। এটি সম্ভব হয়েছে, কারণ আমাদের আশেপাশে এত হার্বস আছে, যেগুলো আমাদের অজান্তেই আমাদের রক্ষা করে চলেছে যা আমরা জানিনা। ডাঃ আলমগীর মতি ভেষজের ব্যবহার নিয়ে টিভি চ্যানেলে বলছেন, পত্র-পত্রিকায় বলছেন, প্রকাশনার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে মানুষ জানতে পারছে, বাড়ির আশেপাশে ভেষজ উদ্ভিদ লাগানোয় উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। মতি ভাই গাজীপুর এলাকায় হারবাল বাগান করতে চাচ্চেন। ২০ বছর আগেই এখানে হার্বসের বাগান করার স্বপ্ন দেখেছেন, তখনই জমিটা কিনেছিলেন। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের পথে। গাজীপুরের স্থানীয় লোকেরাই এখন এ ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভেষজ উদ্ভিদের চাষ করবে, কাজ করবে। ফলে বহুলোকের কর্মসংস্থান হবে এবং অনেকেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। ঔষধি ভেষজ উদ্ভিদ চাষ অন্য যেকোনো ফসল চাষের চেয়ে বহুগুণ বেশি লাভজনক এবং নিরাপদ। তাই হার্বসের চাষ করে অন্য ফসলের চাইতে পাঁচগুণ বেশি লাভ পাবে এখানকার কৃষকরা। কোভিডের চিকিৎসাও হার্বস দিয়ে করা যায়। এলাচি, দারচিনি, নিম, কাঁচাহলূদ, রসুন এসব কোভিডের চিকিৎসায় কাজে লাগে। ফ্যাক্টরির এসব কাঁচামাল যদি স্থানীয়রাই চাষ করে দিতে পারে, তাহলে সবাই লাভবান হবে। একসময় বিদেশেও এক্সপোর্ট করতে পারবে। আমরা যদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে পারি, মডার্ণ হারবাল যদি এখানে বিশ্বমানের মডেল ভেষজ ইন্ডাস্ট্রি করতে পারে, তখন ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানিগুলোও উপকৃত হবে। ইউরোপ আমেরিকায় হার্বস এর ব্যাপক চাহিদা। তখন সারাবিশ্বেই গাজীপুরের হার্বস ছড়িয়ে পড়বে। ভারত-চীন থেকে যেন হার্বসের কাাঁচামাল আমদানি করতে না হয়, স্থানীয়ভাবেই যেন সব কাঁচামাল আসে -সবাই হারবাল জগতের কিংবদন্তি ডা. আলমগীর মতিকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবেন এই আশা করি।

হারবাল চিকিৎসা ও গবেষণায় কিংবদন্তি,
মডার্ণ হারবাল গ্রুপের ডায়নামিক ফাউন্ডার ডা. আলমগীর মতি


বাংলাদেশ হারবাল প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারিং এসোসিয়েশনের সভাপতি ও মডার্ন হারবাল গ্রুপের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান ডা. আলমগীর মতি বলেন, পৃথিবীর সার্বিক জনগোষ্ঠীর বেশ বড় অংশ ভেষজ ঔষধের ওপর নির্ভর করে তাদের রোগব্যাধির চিকিৎসা করে থাকে। অর্থাৎ ভেষজ ঔষধ না থাকলে এই বিরাট জনগোষ্ঠী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হতো। উন্নত দেশগুলোতে ভেষজের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু আমাদের দেশে চারপাশে এতো ভেষজ থাকা সত্ত্বেও আমরা হারবাল চিকিৎসার মর্ম এখনো সেভাবে বুঝতে পারিনি। নিজের দেশ উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার মতো আমিও ভাবি, দেশের জন্য কাজ করবো, দেশের মানুষের জন্য কাজ করবো। আমরা আমাদের ভেতরের শক্তি, আত্ম-উপলব্ধির শক্তি যদি কাজে লাগাতে পারি, তাহলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দেশ আর পিছিয়ে থাকবে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনা সেটাকেই জাগিয়ে তুলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন উন্নয়ন অগ্রগতির বেগবান ধারায়। বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন এক নতুন বাংলাদেশ গড়ায় দৃঢ়প্রত্যয়ী তিনি।
মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ভেষজের উপকারিতা ছড়িয়ে দেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন বিভিন্ন টিভি মিডিয়াতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি প্রতিনিয়ত ভেষজের নানাবিধ উপকারিতা নিয়ে বলি। ভাবতাম, এসব কথা মানুষের আসলেই কি কোনো কাজে আসছে কিনা! আগে মানুষ এসবে বিশ্বাস করত না। করোনা এসে সেটা মানুষকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে। মানুষের ভিতরে অপার সম্ভাবনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন আমরা যারা বসে আছি, তারা সকলেই কিন্তু ফার্মাসিটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির মালিক। আমাদের যে স্টোমাক আছে, এটা ঔষধের ফ্যাক্টরির মত। আমরা যেসব কাচা বা রান্না করা জিনিস খাচ্ছি, তা এখানে পরিশোধিত হয়ে বিভিন্ন উপাদানে শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। স্টোমাক তাই ভাল রাখতে হবে, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। দানাদার খাদ্য স্টোমাকের জন্য ভালো। যতবেশি মাংস-তেলজাতীয় খাবার বা ফাস্টফুড খাবেন, স্টোমাকে তত বেশি সমস্যা হবে, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা লেগেই থাকবে। আপনি যদি এসব বিষ না খান, তাইলে স্টোমাকের কোনো সমস্যাই হবে না।
এবার আমি বলব কিভাবে আপনি ২০,০০০ কোটি টাকার মালিক। সেটা হচ্ছে আমাদের ব্রেইন। বিল গেটস, বেজোস এদের চাইতে আপনাদের ব্রেইন কোনো অংশেই কম নয়। তারা এর যথাযথ ব্যবহার করেছে বলেই আজকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী। তাই আমাদেরও অলস বসে না থেকে ব্রেইনের পরিপূর্ণ ব্যবহার করতে হবে। আমি কোনো শুক্রবারই ঘরে থাকিনা, যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, তখনই আমার কাজ শুরু হয়। দিনে ১৮ ঘন্টা ধরে কাজ করে আজকে আমি এই পর্যায়ে। সকাল ৭টায় অফিসে ঢুকি, রাত ১২টায় বের হই। আমার মাথা, হাত-পা সব কাজে লাগিয়েছি কর্মক্ষেত্রে। কোভিড-১৯ এর প্রতিরোধ নিয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি গরম পানি খাই, গরম পানি দিয়ে গোসল করি, গরম গরম জিনিস খাই তাহলে কোভিড আমাদের আক্রমণ করতে পারবে না। আমরা যদি একটা লবঙ্গ গালের ভিতর রাখি, তাতে শুধু দাঁতের উপকার হবে তা নয়, করোনা ভাইরাসও মুখ দিয়ে ঢুকতে বাধা পাবে। নিম পাতাও একইভাবে বাধা দিবে কোভিড-১৯ ভাইরাসকে। কত স্বল্প দামি জিনিস, সহজলভ্য জিনিস দিয়ে আমরা কোভিড-১৯ কে প্রতিহত করতে পারি, অথচ আমরা তা জানিই না। চিনির মধ্যে ১২০ টা রোগ থাকে, ২০ বছর আগে বলছিলাম। এখন বিজ্ঞানীরাই বলছে, চিনি ১৫৯টা রোগের কারণ। চিনি খেলে ডায়াবেটিস হয়, কফ তৈরির একটা কারণ এই চিনি। সর্দি-কাশি হলে আমাদের গরম পানি খেতে হবে, চিনি ছাড়া লিকার চা খেতে হবে। চিনি কিন্তু আমাদের শত্রু, কিন্তু করোনা ভাইরাসের বন্ধু। করোনা ভাইরাস চিনি পছন্দ করে। তাই যারা চিনি খায়, তারা আসলে বিষ খাচ্ছে যা শরীরে দীর্ঘমেয়াদী রোগের কারণ। আপনি যদি প্রতিদিন সকালে আনারসের রস খান, তাইলে ২৪ ঘণ্টা অনেক রোগ থেকে প্রতিরোধ পাবেন। অসুস্থ হলে আমাদের কিছুই করার থাকে না। আসামীর বেশে ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। সামনের শীতের দিনগুলোতে আবার করোনা-নিউমোনিয়ার হার বেড়ে যেতে পারে। আপনারা মায়ের কাছে যেসব হার্বস পাওয়া যায়, বাড়ির আশেপাশে, রান্নাঘরে যেসব হার্বস আছে, তা দিয়েই কিন্তু অর্ধেক চিকিৎসা করে ফেলতে পারেন। আমাদের আশেপাশেই ছড়িয়ে আছে উপকারী এসব হার্বস। হাজার বছর ধরেই মানুষ কাটাছেড়ায় এসব হাবস ব্যবহার করছে। সামান্য আদা পানি, সামান্য রসুন, সামান্য গরম পানি অনেক রোগের চিকিৎসা করতে পারে। যাদের নাক দিয়ে রক্ত বের হয়ে, তারা সকালে কয়েক কোয়া রসুন খেলেই এক সপ্তাহের মধ্যেই এর সমাধান হয়ে যাবে। মানুষের এসব জানা প্রয়োজন, তাই ২৪ ঘন্টা শুধু স্বাস্থ্য নিয়ে বলবে, স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন করবে এমন টিভি চালু করতে যাচ্ছি। খুব শীঘ্রই এর কার্যক্রম শুরু হবে।
ভেবে দেখুন, খুলনা এবং কক্সবাজারের মানুষের ডায়াবেটিস কম হয়, কিন্তু পদ্মাপাড়ের মানুষ বা মিঠা পানির মানুষের ডায়াবেটিস হওয়ার হার বেশি। ঠিক সেভাবে যারা পুকুরের পানি খায় তাদের যে রোগ হবে, টিউবওয়েলে পানি যারা খাবে তাদের সে রোগ হবেনা। খুলনা-কক্সবাজারের এলাকার লোকের ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা কম, অন্যদিকে মিঠা পানির লোকের ডায়রিয়া হওয়ার হার বেশি। খুলনা-কক্সবাজারের মানুষেরা খায় সামুদ্রিক মাছ, আর আমরা পদ্মাপাড়ের মানুষেরা খাই মিঠা পানির মাছ। খাদ্যাভাস তাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে রোগ সৃষ্টির পিছনে। গাজীপুরে ভেষজ শিল্প গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমাদের সকলের ইচ্ছা এখানে একটা ভেষজ শিল্প গড়ে তুলি। আসলে বড় স্বপ্ন নিয়ে আমাদের সবুজায়নের দিকে অগ্রসর হওয়া। আমরা শীঘ্রই গাজীপুরে চলে আসব আর আপনাদের সকলের সাথে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে তুলব। আপনাদের সকলের ভালোবাসা, দোয়া নিয়ে আগামীদিনে এ অঞ্চলে আন্তর্জাতিকমানের শিল্প গড়ে তুলব।

বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ও ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের মহাসচিব ড. এম হেলাল

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) এর মহাসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল বলেন, সময়ের প্রেক্ষাপটে আজকের এ অনুষ্ঠান ও আলোচনার বিষয়বস্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ; তা যত নিভৃত পল্লীতে কিংবা ছোট পরিসরেই অনুষ্ঠিত হোক না কেন।
সুদীর্ঘ ৪দশক থেকে মডার্ণ হারবালই কেবল সচেতন করছেনা, এবারের বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর চলমান পরিস্থিতিও আমাদের শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে যে, আমাদের খাদ্যাভাস ও স্বাস্থ্যচর্চায় অনেক ভুল রয়ে গেছে। কিন্তু আমরা অনেকেই সেই শিক্ষা গ্রহণে এখনো কুণ্ঠিত। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, সমগ্র বিশ্বকে আশ্চর্যজনকভাবে অচল করে দেয়া এই করোনার উৎপত্তি কিন্তু চীনের উহান প্রদেশের হারাম খাদ্য থেকে। আমার বিশ্বাস, যারা এই প্রাকৃতিক শক্তি কোভিড-১৯ থেকে খাদ্যাভাস পরিবর্তনের পাশাপাশি সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবন-যাপনের বহুমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে নিজ জীবনকে পরিবর্তন করে নবযৌবন কিংবা নবজীবন লাভ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারাই হবেন ২০২২ সাল থেকে নব্যসফল অত্যাধুনিক মানুষ।

সুস্থ জীবন-যাপনের জন্য হারবাল ও মেডিসিন্যাল প্ল্যান্ট

কতো জরুরি, সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা করে ড. হেলাল বলেন আমি যখন শেষবার ইউরোপে গিয়েছিলাম, তখন ৮দিনে ৭ দেশ সফরের একটি ইন্টারন্যাশনাল ট্রিপ নিয়েছিলাম। সেই ট্রিপে বিভিন্ন দেশের ট্যুরিস্ট পয়েন্ট বা স্পটগুলোতে দেখেছি, সারা পৃথিবী থেকে যেসব অভিজাত পর্যটকরা যায়, তারা খাবার-দাবারে বিভিন্ন রকমের হার্বস চায় এবং খায়। বিশেষত স্যুপ ও সালাদে বিভিন্ন রকমের হার্বসতো থাকবেই। কেননা তারা জানে সুস্থতার জন্য, যৌবন ধরে রাখার জন্য, বেশিদিন বাঁচার জন্য হার্বস কতো জরুরি। অথচ আমরা হার্বসকে অবহেলা করি, এড়িয়ে যাই। হার্বস এবং ঔষধি খাদ্যের অত্যাবশ্যকীয়তার কথা জানা থাকা সত্ত্বেও এ নিয়ে চলছে অবহেলা। আমরা হার্বস না খেয়ে শরীরের জন্য ক্ষতিকর ক্যামিকেল মিশ্রণ ও ফাস্টফুড জাতীয় খাদ্যদ্রব্য ইনটেক করছি। এইরূপ বিভিন্ন কুঅভ্যাস, আত্মহনন ও স্বেচ্ছা-অনাচারের বিরুদ্ধে চার দশক থেকে আন্দোলন করে চলেছেন এ উপমহাদেশের হারবাল চর্চা ও চিকিৎসার জীবন্ত কিংবদন্তি ডা. আলমগীর মতি।
ডা. আলমগীর মতির অনুরূপ অনবদ্য আন্দোলন-উৎসর্গের ভূয়সী প্রশংসা করে ড. হেলাল বলেন, আমার চিন্তা-চেতনার ভূবনের জীবন্ত কিংবদন্তি ডা. আলমগীর মতি এদেশে হারবাল চর্চা ও চিকিৎসার পথিকৃৎ। আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, তখনই দেখেছি দিবানিশি নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মতো হারবাল আন্দোলন করে চলেছেন আমাদের সবার প্রিয় মতি ভাই। সেই ৪০বছর পূর্ব থেকেই তিনি বলে আসছেন ‘আদা, রোগ সারে আধা’; ‘আপনার বাড়ির আঙিনায় ও পতিত জায়গায় নিম, তুলসী এবং হার্ব ঔষধি গাছ লাগান’; ‘নিজে সুস্থ থাকুন, অন্যকে সুস্থ থাকতে সহযোগিতা করুন’...। এরূপ নানা কর্মযজ্ঞের কারণে এদেশে হারবাল চিকিৎসার ইতিহাস এবং ডা. আলমগীর মতি একই সমার্থক। এখন এদেশের মানুষ হারবাল আন্দোলন বলতে ডা. আলমগীর মতিকেই চেনে। তার আগেও দেশে প্রাচীন হারবাল পণ্য-দ্রব্যের প্রচলন থাকলেও ডা. আলমগীর মতি হারবালকে সুলভ-সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য করে এদেশের মানুষের মাঝে ব্যাপক বিকশিত করেছেন। অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন হারবাল ও ঔষধি খাদ্যদ্রব্যকে এবং মানবসেবার জরুরী এ কার্যক্রম তাঁকে আজ পরিণত করেছে জীবন্ত কিংবদন্তিতে। তাইতো তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আন্তর্জাতিক বহু পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন। স্বাস্থ্য ও হারবাল ছাড়াও বিভিন্ন অঙ্গনে তিনি বহুমুখী ও ব্যতিক্রমী সৃজনশীল কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে এখন এ দেশ ও জাতির এক বিরল প্রতিভা হিসেবে আমাদের কাছে সমাদৃত। বুলেটপ্রুপ লাইফ জ্যাকেট আবিষ্কার করা থেকে শুরু করে গাছ-গাছালি, মানুষ-কুকুর-বিড়াল-পশুকেও ভালোবাসা-সেবাযতœ দান করে কীভাবে তাদের একান্ত আপন হওয়া যায়, তা তিনিই জানেন আমাদের সবার চেয়ে বেশি। এই করোনা মহামারীতে আজকেও ঢাকা থেকে এতদূরে এসে তিনি এখানে ঔষধি গাছের চাষাবাদ, পরিচর্যা, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে মানুষকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করার জন্য নিজ খরচে এইরূপ সময়োপযোগী অতীব গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালার আয়োজন করেছেন এবং আমাদের মতো হারবাল সমঝদারদের দূর-দূরান্ত থেকে এই গ-গ্রামে এনে জড়ো করে ছেড়েছেন। ঔষধি গাছের চাষাবাদ, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে ড. এম হেলাল আরও বলেন, ঔষধি গাছের চাষাবাদ করা আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা, সারা পৃথিবী এখন এলোপ্যাথিক ও রাসায়নিক ঔষধ ছেড়ে দিয়ে হারবাল-ইউনানি এবং হোমিও ঔষধের ওপর ঝুঁকেছে। এরূপ ঔষধের কোনোরকম পার্শপ্রতিক্রিয়া নেই। অনেক হারবাল পণ্যতো বিকল্প খাদ্য বা ফুড সাপ্লিমেন্ট হিসেবে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বাংলাদেশে হারবালের জনপ্রিয়তা বেড়েছে এই জনপ্রিয় হারবাল চিকিৎসক ডা. আলমগীর মতির একান্ত অবদানে। ঔষধি গাছের চাষাবাদ, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার জন্য তিনি আজ যে এই কর্মশালার আয়োজন করেছেন, তা চলমান করোনা মহামারী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। হারবাল খাদ্যদ্রব্যের ব্রাান্ডিং সম্পর্কে বলতে গিয়ে ড. হেলাল বলেন, করোনার কারণে সরকারও নানারকম পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সরকারের এক্রিডিটেড জার্নালিস্ট হিসেবে গতকাল একজন মন্ত্রী ও পরপর ৪ মন্ত্রণালয়ের ৪জন সচিবের সাথে আমার সাক্ষাৎ ও আলোচনা হয়েছিলো। সেইসব মিটিংয়েও ব্রাান্ডিং বাংলাদেশ সম্পর্কিত নানা বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য সচিব ড. জাফর (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সতীর্থ) ব্রান্ডিংয়ে নতুন বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলেছেন। মৎস্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আমাদেরকে অনেক আশার কথা শুনিয়েছেন। ইলিশ মাছের জিআই তো অনেক আগেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিলাভ করেছে। এখন বিলুপ্তপ্রায় দেশী মাছের প্রজনন করা হচ্ছে; সামুদ্রিক টুনাফিশ, চিংড়িসহ বহু মাছের ব্যাপক চাষাবাদের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইলিশসহ আমাদের জাতীয় অনেক মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বিদেশে। তাই এসব রপ্তানির মাধ্যমে দেশের ব্রান্ডিং ইমেজ বাড়ানোর জন্য কাজ করছে সরকার। সেইরূপভাবে আমাদের হারবাল ও ঔষধি খাদ্যসামগ্রীর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো অধিক জনপ্রিয় করতে ব্রান্ডিং করতে হবে বলে ড. হেলাল অভিমত ব্যক্ত করেন। দেশে-বিদেশে ঔষধি উদ্ভিজ্য পণ্যের ব্যাপক চাহিদার প্রেক্ষিতে ড. হেলাল আরও বলেন, ঔষধি ভেষজ উদ্ভিদ পণ্যের প্রত্যেকটিরই বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ ঔষধি ইতোমধ্যে বিদেশে রপ্তানি করা হয়, কিন্তু তা অত্যন্ত স্বল্প পরিসরে। ব্যাপক পরিসরে নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ বিদেশে রপ্তানির চাহিদা বিদ্যমান রয়েছে। এছাড়া দেশেও ঔষধি উদ্ভিদের অনেক চাহিদা রয়েছে, যার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত অপ্রতুল। তাছাড়া গুণগতমানের খাঁটি পণ্যের অভাবতো রয়েছেই। দেশে-বিদেশে ঔষধি উদ্ভিদ পণ্যের ব্যাপক এই চাহিদার প্রেক্ষিতে প্রথিতযশা হারবাল গবেষক ও চিকিৎসক ডা. আলমগীর মতি’র উদ্যোগে আয়োজিত আজকের এই ‘ঔষধি উদ্ভিদের পরিকল্পিত চাষাবাদ, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ’ শীর্ষক কর্মশালা অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ। আমি তাঁর এই মহতী উদ্যোগের সম্প্রসারণ ও সারাদেশে এর বিস্তার কামনা করছি। শুভ হোক সকল মঙ্গল প্রয়াস।

মডার্ণ হারবাল গ্রুপের পরিচালক
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) খন্দকার ফরহাদ হোসেন


ঔষধি উদ্ভিদ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা প্রসঙ্গে মডার্ণ হারবাল গ্রুপের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) খন্দকার ফরহাদ হোসেন বলেন, গাজীপুরে মডার্ণ হারবাল গ্রুপের ভেষজ শিল্প স্থাপন করার পরিকল্পনা একটা যুগান্তকারী উদ্যোগ। এখানে এ শিল্প গড়ে উঠলে অনগ্রর গ্রামাঞ্চলের চেহারাই পাল্টে যাবে। ভেষজ পল্লী গড়ার এ পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য বর্ণিল গুণাবলির কর্মযোগী, কালজয়ী হারবাল চিকিৎসক ডা. আলমগীর মতিকে ধন্যবাদ জানাই। ঔষধি উদ্ভিদের চাষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং চীন ভেষজ উদ্ভিদ, ভেষজ ঔষধ ও ভেষজ পণ্য উৎপাদনে এতটা অগ্রসর হওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা। ওই সব দেশে ভেষজ উদ্ভিদ চাষে যথেষ্ট সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। ঋণ সুবিধা, প্রযুক্তিগত এবং বাজারজাতকরণ সুবিধাসহ সেসব দেশের সরকার এই খাতে যথেষ্ট সহযোগিতা প্রদান করে থাকে। ঔষধি উদ্ভিদ উৎপাদন করার পর তা সঠিক সময়ে সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ বা গুদামজাত না করলে তার ভেষজ গুণ ঠিকমতো থাকে না বা কার্যকরী হয় না। এভাবে দেশজুড়ে অসংখ্য ‘ঔষধি গ্রাম’ সৃজন সম্ভব হলে আমাদের দেশের কৃষিক্ষেত্রে নবদিগন্ত সূচিত হতে পারে। ঔষধি গাছ শুধু মানুষেরই রোগ সারায় না, এটি পরিবেশ রক্ষা এবং বাতাসে ভাসমান নানা অদৃশ্য রোগজীবাণু ধ্বংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাই ব্যাপকভাবে ঔষধি বৃক্ষ চাষের ফলে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষা দুটোই সম্ভব। সেকারণেই আমাদের ঔষধি উদ্ভিদের পরিকল্পিত চাষাবাদ, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার বিষয় নিয়ে সবাইকেই সচেতন করতে আয়োজন করা হয়েছে এই ব্যতিক্রমী কর্মশালার।

বাংলা টিভির সিইও সোহেল এইচ
বাংলা টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল এইচ ঔষধি ভেষজ চাষের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ঔষধি ভেষজ উদ্ভিদ চাষ অন্য যেকোনো ফসল চাষের চেয়ে বহুগুণ বেশি লাভজনক এবং নিরাপদ। সমগ্র বিশ্বে ভেষজ উদ্ভিদের বিপুল চাহিদা রয়েছে। ভেষজ উদ্ভিদ রপ্তানি করে চীন প্রতি বছর আয় করে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারত আয় করে ৬ বিলিয়ন ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আয় ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শতভাগ রপ্তানি সম্ভাবনা ছাড়াও ভেষজ উদ্ভিদের চাষ করে কৃষক তুলনামূলক অধিক লাভ করতে পারেন। অধিকাংশ ভেষজ উদ্ভিদের চাষ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ। ভেষজ উদ্ভিদ চাষের ক্ষেত্রে সার ও কীটনাশকের ভূমিকা অত্যন্ত গৌণ, এ কারণে কৃষকের উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। গুল্মজাতীয় ভেষজ প্রায় বিনা পরিচর্যা ও বিনা খরচে উৎপাদন সম্ভব, অথচ এসব উদ্ভিদের বাজারদর বেশ চড়া।
আমাদের দেশে অধিকাংশ উদ্ভিদ ও লতা-গুল্মেরই ভেষজ গুণ রয়েছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য সবজি ও মসলাজাতীয় সবগুলো উদ্ভিদই উচ্চমাত্রার ভেষজ গুণসম্পন্ন যা আমাদের অজানা। খ্যাতনামা হারবাল গবেষক ডা. আলমগীর মতি বিভিন্ন টিভি মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত ভেষজের বিভিন্ন গুণাগুণ সম্পর্কে বলে মানুষকে সচেতন করে তুলেছেন। তিনি বাংলাদেশের হারবাল জগতের অবিসংবাদিত কিংবদন্তী। তার উদ্যোগে মডার্ণ হারবাল গ্রুপ ঔষধি উদ্ভিদের পরিকল্পিত চাষাবাদ, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব জাহেদা পারভীন
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব জাহেদা পারভীন বলেন, ডা. আলমগীর মতি ভাই হারবাল জগতের একজন লিজেন্ড। আমার পরিবারের সবাই মডার্ণ হারবালের প্রোডাক্ট ব্যবহার করি। পরিবারের সদস্যদের ভালোর জন্যই, সুস্বাস্থ্যের জন্যই আমরা ডা. আলমগীর মতির হারবাল প্রোডাক্টের এর উপর বেশি ভরসা করি।
আমি গাজীপুরের সন্তান, কালীগঞ্জে আমার বাড়ি। আমি জানি, গাজীপুরের মাটি হলো সোনা, গাজীপুরের মানুষ সোনার মানুষ। এখানে হার্বস এর চাষাবাদ করলে সেটি খুব লাভজনক হবে বলেই আমার বিশ্বাস। স্বাস্থ্য সচেতনা বৃদ্ধিতে হার্বস এর তুলনা নেই। অসুস্থ হলে দৌড়ে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে আমরা কিন্তু হাতের কাছে যেসব হার্বস থাকে, তা দিয়েই প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারি। গাজীপুরের শৈলাটে ডা. আলমগীর মতি হার্বসের বাগান করতে যাচ্ছেন জেনে আমি অত্যন্ত খুশি এবং এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এতে এলাকায় বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। গ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী দেখবে সাফল্যের মুখ, পাবে উন্নয়নে সুবাতাস।
বর্তমানে আমাদের দেশে কৃষি ব্যবস্থায় যথেষ্ট আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। তাই ঔষধি উদ্ভিদের পরিকল্পিত চাষাবাদ, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার বিষয়ে আগামীতে মডার্ণ হারবাল গ্রুপকে এধরণের আরো কর্মশালার আয়োজন করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সার্বিকভাবে মর্ডাণ হারবাল গ্রুপের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

দুদক’র উপ-পরিচালক সেলিনা আক্তার

দুদক’র উপ-পরিচালক সেলিনা আক্তার বলেন, আজকের এই মহতী কর্মশালায় আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হার্বস নিয়ে অনেক কিছুই অজানা ছিল, যা এই কর্মশালায় উপস্থিত বিভিন্ন গুণী ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য থেকে জানতে পারলাম।
ঔষধ ও প্রসাধনী সামগ্রীর বাইরে আমাদের দেশে এমন অনেক উদ্ভিদ আছে, যা থেকে মূল্যবান ঔষধিগুণসম্পন্ন পরিপূরক খাদ্য তৈরি করা সম্ভব। নিতান্ত অবহেলায় জন্ম নেয়া এইসব উদ্ভিদের রয়েছে অসামান্য ভেষজগুণ। এসব অবহেলিত ফল-উদ্ভিদ প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করতে পারলে আমাদের কৃষিবাণিজ্যে নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
বহুমুখী প্রতিভার সমাজসেবী ব্যক্তিত্ব ডা. আলমগীর মতি প্রতিষ্ঠিত এই ভেষজ পল্লীতে এসব ভেষজের সংরক্ষণ, চাষাবাদের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এতে দেশ ও জাতি নানাভাবে উপকৃত হবে। সেজন্য এধরণের কর্মশালার আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশব্যাপী এরকম কর্মশালার বিস্তৃত হওয়া আবশ্যক।

শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বুলবুল

শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বুলবুল মডার্ণ হারবাল গ্রুপের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন এরকম একটা প্রতিষ্ঠান অনেক পরিশ্রমের ফসল। আজকে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে। অনেক সরকার এসেছে, কিন্তু একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যাই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন করতে পেরেছেন। বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছেন বলেই আজ দেশে গ্রামে গঞ্চেও শিল্পকারখানা গড়ে উঠতে পারছে। মডার্ণ হারবালের কাছে অনুরোধ, শিল্প স্থাপনের পাশাপাশি আপনারা গ্রাম অঞ্চলের উন্নয়ন করবেন। মানসম্পন্ন প্রোডাক্ট বের করবেন যাতে রোগীরা সুস্থ হয়ে উঠবে, এতে এ অঞ্চলের ঔষধি উদ্ভিদের ভেষজ গুণাগুণের কথা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে। সকলে আমরা সহযোগতিার হাত বাড়িয়ে দিবে মডার্ণ হারবালকে। আর আপনারা এলাকার মানুষের জন্য কাজ করবেন, এ এলাকায় শিল্প উন্নয়নের কাজে যেন এলাকার মানুষেরা বেশি প্রাধান্য পায় এটাই দাবি জানাই।

গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলাম

গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন ঐতিহ্যবাহী গাজীপুর ইউনিয়নে মডার্ণ হারবাল গ্রুপ ভেষজ শিল্প গড়ে তুলতে যাচ্ছে দেখে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। মডার্ণ হরাবাল এখানে চিকিৎসা সেবার বিভিন্ন রকম ঔষধ তৈরি করবে জেনে আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি। একটা গ্রামকে উন্নত করতে হলে মানুষের পদচারণা দরকার, শিল্প-কারখানা, খামার গড়ে তোলা দরকার। এ অঁজপাড়াগায়ে ভেষজ শিল্প স্থাপন হলে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আমাদের সকলে যারা আছি, তারা সবাই আন্তরিকতার সাথে মডার্ণ হারবালকে সহযোগিতা করবো। গ্রামের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মডার্ণ হারবাল ভূমিকা রাখবে সেই আশাবাদ রাখি। শিল্প বড় হলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আমার এলাকার মানুষ স্বচ্ছলতার মুখ দেখবে। খ্যাতনামা চিকিৎসক ডা. আলমগীর মতির মডার্ণ হারবালের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক, বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়–ক এর নাম -এই প্রত্যাশা রাখি।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ