বিশেষ খবর

ক্রস-বর্ডার হায়ার এডুকেশন ॥ শিক্ষা পদ্ধতিতে নতুন মাত্রা

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রচ্ছদ প্রতিবেদন
img

বাংলাদেশ সরকার ক্রস-বর্ডার এডুকেশনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে এদেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা স্থাপনের আইন পাস করে ৩১ মার্চ ২০১৪ তারিখে। আইন পাসের পর ৯টি প্রতিষ্ঠান শাখা-ক্যাম্পাস স্থাপনের অনুমতি চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে আবেদন করে। আইন অনুযায়ী যথাশীঘ্র সম্ভব যাচাই-বাছাই পূর্বক বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা-ক্যাম্পাস পরিচালনার অনুমতি প্রদান অথবা আবেদন প্রত্যাখান করার বিধান থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সে পথে না হেঁটে আবেদনকারী কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় ক্যাম্পাস পরিদর্শনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের অনুমতি চেয়ে কয়েকদফা চিঠি প্রেরণ করেছে। বিদেশে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের সুযোগ আইনে না থাকায় প্রত্যেকবারই শিক্ষা মন্ত্রণালয় তা নাকচ করে দিয়েছে। এরপরও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেমে থাকেনি। তারা আবারও পরিকল্পনা করছে আগামী এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্যের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য। জানা গেছে তারা ব্রিটিশ কাউন্সিলে যোগাযোগ করছে তাদের সফরের ব্যয়ভার নির্বাহ করার জন্য। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, আইনে না থাকায় তারা কোনোভাবেই বিদেশে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দেখার পক্ষে নয়। ফলে ইউজিসি’র দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বাংলাদেশে বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন।
শিক্ষা নিয়ে সারা দুনিয়াতেই চলছে নানা গবেষণা, নানা কার্যক্রম। তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে শিক্ষা ব্যবস্থায় নিত্যনতুন পরিবর্তন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ফলে শিক্ষাকে নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে বেঁধে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, শিক্ষা এখন গ্লোবাল পণ্য; যার কোনো বর্ডার বা সীমানা নেই। শিক্ষার আবেদন সর্বত্র, শিক্ষা সার্বজনীন।
নিজ দেশে বসে দেশীয় সিলেবাসে পাঠ গ্রহণকে বলা হয় Inbound শিক্ষা; আর নিজ দেশে বসে বিদেশি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিলেবাস অনুযায়ী পাঠ গ্রহণকে বলা হয় Cross Boarder Education বা বিদেশি শিক্ষা। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম স্কলাসটিকা স্কুল ‘ঙ’ লেভেল এবং ‘অ’ লেভেল শিক্ষা পদ্ধতি ও সিলেবাস ইউকে থেকে এ দেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য নিয়ে আসে। প্রথমে এ শিক্ষা গ্রহণে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকলেও পরে তা শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্যতা পায়। তারই ধারাবাহিকতায় তারাসহ প্রায় ২ শতাধিক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে সুনামের সাথে বিদেশি শিক্ষা কার্যক্রম বাংলাদেশে চালিয়ে যাচ্ছে; যদিও তাদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নাই।
স্বাধীনতার ৪৬ বছর অতিক্রান্ত হলেও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা কারিকুলাম এখনও পর্যন্ত তৈরি করা সম্ভব না হওয়ায় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা একপ্রকার জোড়াতালির কারিকুলাম দিয়েই চলছে। ফলে এ দেশের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েও শিক্ষার্থীরা বিশ্বায়ন প্রতিযোগিতায় ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে। অন্যদিকে বহির্বিশ্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিয়ত বিশ্ব শ্রমবাজারের চাহিদানুযায়ী তাদের শিক্ষা কারিকুলাম পরিবর্তন করে থাকে। তাই আমাদের দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা দেশে শিক্ষা শেষ করে যখন বিদেশে পড়তে যায়, তখন তাদেরেকে অনেক ক্ষেত্রেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। এদেশ থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে যাবার পরও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফাউন্ডেশন কোর্স, শর্টকোর্স, এমএ বা এমফিল করে পরবর্তী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে হয়।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণেচ্ছু শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে দেশের শিক্ষাধারায় বিদেশি কারিকুলাম প্রচলনের কথা ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সর্বপ্রথম যুক্তরাজ্য থেকে কারিকুলাম আনা হয়। যুক্তরাজ্যের সাথে বাংলাদেশ তথা পাক-ভারত উপমহাদেশের রয়েছে শত বছরের সম্পর্ক। ব্রিটিশ শাসিত দেশ হিসেবে ইংরেজি ভাষা এ অঞ্চলের মানুষ গ্রহণ করেছে অনেক আগেই। ভারত বিভক্তির পর পাকিস্তানের সৃষ্টি এবং এরপরে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের কিছু শিক্ষানুরাগী ইউকে এর ‘O’ লেভেল, ‘A’ লেভেল শিক্ষা পদ্ধতি এদেশে চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে। সময়ের বিবর্তনে ‘O’ লেভেল, ‘A’ লেভেল শিক্ষা পদ্ধতি আমাদের দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রথম থেকেই ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র এ দেশে পাঠানো হতো; এখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পাঠদান সমাপ্ত করার পর নির্দিষ্ট সময়ান্তে সেই প্রশ্নপত্রের আলোকে পরীক্ষা গ্রহণ শেষে তা মূল্যায়নের জন্যে যুক্তরাজ্যে উত্তরপত্র পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিত ব্রিটিশ কাউন্সিল। এখনও আমাদের দেশে ব্রিটিশ কাউন্সিল ইউকে এর বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাবোর্ডের সহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। ‘O’ লেভেল এবং ‘A’ লেভেল অর্থাৎ এসএসসি এবং এইচএসসি এর সমমানের সার্টিফিকেট অর্জনের পর অনার্স লেভেলের ইউকে ডিগ্রি পাবার ক্ষেত্রে নব্বই এর দশকে রাবেয়া ভূঁইয়া আইন শিক্ষার্থীদের জন্যে নবযুগের সূচনা করেন। সে সময়ে দেশের শিক্ষার্থীদের আইন পড়ার জন্যে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিদেশে গিয়ে পড়তে হতো। তখন তিনি এ দেশের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে যাতে লন্ডন গিয়ে পড়তে না হয়, এ লক্ষ্যে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে চুক্তি করে তাদের কারিকুলাম বাংলাদেশে পড়ানো শুরু করেন। ফলশ্রুতিতে কোর্স শেষে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাসের সার্টিফিকেট পেয়ে ব্যারিস্টারি কোর্স শেষে সোসাইটিতে তাদের সুদৃঢ় অবস্থান গড়তে সক্ষম হন। লিংকন’স ইন এ ব্যারিস্টারি পড়তে গেলে আনুমানিক ৮০ লক্ষ টাকা খরচ হলেও বাংলাদেশে বসে সে একই কোর্স এবং সার্টিফিকেট মাত্র ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকায় করা সম্ভব। বিদেশে গিয়ে শিক্ষার্থী শুধু লেখাপড়ায় ব্যস্ত থাকবে -এটা বলা মুশকিল। একজন শিক্ষার্থী যখন বিদেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে যায়, তখন তাকে দু’ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। একটি হচ্ছে পরিবার থেকে দূরে থাকা, অন্যটি হলো নতুন সংস্কৃতির সাথে খাপ খাওয়ানো। অনেক সময় ভিন্ন সংস্কৃতিতে নিজকে খাপ খাওয়াতে না পারলে তার চারিত্রিক স্খলনেরও সম্ভাবনা থাকে। এমনকি অনেক শিক্ষার্থী দেশে ফিরে আসতেও বাধ্য হয়। কিন্তু দেশে সে রকমটি হবার সুযোগ নেই।
অনেকে মনে করেন, দেশে বসে বিদেশি ডিগ্রি গ্রহণ করলে দেশের টাকা বিদেশে চলে যাবে। কিন্তু এটি ভাবে না, দেশে বসে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা নিতে গিয়ে দেশের টাকা বাইরে চলে গেলেও তাতে ক্ষতির কিছু নেই। কারণ, তারা ডিগ্রি অর্জন করে আরও অনেক বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। মনে রাখতে হবে- তাদের জন্য যা ব্যয় করা হয়েছে, তা কেবল খরচ নয়; সেটি একটি ফলপ্রসূ বিনিয়োগও বটে। এ উপলব্ধির আলোকে ১৯৯০ সাল থেকে ক্রস-বর্ডার এডুকেশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকমানের শিক্ষা প্রসারে অসাধারণ ভূমিকা রাখছে রাবেয়া ভূঁইয়া প্রতিষ্ঠিত ভূঁইয়া একাডেমি। ভূ্ইঁয়া একাডেমির মাধ্যমে এ দেশের অনেক শিক্ষার্থী দেশে বসেই বিদেশি ব্যারিস্টারি ডিগ্রি অর্জন করেছে। এ প্রেক্ষিতে রাবেয়া ভূঁইয়া সম্পর্কে বলা যায়- I love, like & salute her for the contribution, she has made in the field of expansion of education in Bangladesh.
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন পার্টটাইম জব করে নিজেদের শিক্ষাব্যয় নিজেরাই বহন করতে পারে। ফলে সন্তানের শিক্ষাব্যয় নিয়ে অভিভাবকদের যেমন চিন্তা করতে হয় না, তেমনি দেশেরও উপকার হয়। কারণ শিক্ষার্থীরা শ্রমবাজারে ভূমিকা রাখায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্পমূল্যে শ্রম পায় এবং দেশে শ্রমের সহজলভ্যতা তৈরি হয়, যা শিল্প বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এরকমটি তারা করতে পারে, কারণ শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ইচ্ছামতো ক্রেডিট নিতে এবং দীর্ঘসময় ধরে ডিগ্রি শেষ করতে পারে।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ভিন্নরূপ দেখা যায়; এখানে বিসমিল্লাহ পড়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলে মাস্টার্স শেষ করে চাকরি বাজারে ছোটাছুটিতে গলদঘর্ম হলেও সুবিধাজনক চাকরি জোটে না। অথচ ক্রস বর্ডার এডুকেশন এর আওতায় পরিচালিত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের যেকোনো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করে যে সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে, তা বিশ্বের যেকোনো দেশে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। শিক্ষার্থীরা সহজেই দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান করে নিতে পারবে। তাছাড়া সহজ কারিকুলাম হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কাজ ও শিক্ষা গ্রহণ একইসাথে চালাতে পারবে।
বর্তমানে ইউকে এর বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশে তাদের ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে। এরমধ্যে অন্যতম হলো ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অব ডার্বি, ইউনিভার্সিটি অব নর্থাম, ইউনিভার্সিটি অব হেরিয়োট ওয়ার্ট, ক্যামব্রিজ এবং শিক্ষাবোর্ডগুলোর অন্যতম হলো এডেক্সেল, এসইসিএ। আমাদের সরকার উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে আসলে যারা ক্রস-বর্ডার এডুকেশন নিয়ে কাজ করছে, তারা যথাযথ অনুমোদন লাভ করে দক্ষ কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে পারবে। এসব জনশক্তি বিদেশে গিয়ে দেশের জন্য কয়েকগুণ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসতে সক্ষম হবে। কারণ অনেক সময় আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রদত্ত ডিগ্রি বিদেশে সঠিকভাবে মূল্যায়িত হয় না। দেশীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করে কয়েক বছর বেকার বসে থেকে পরিবার ও সমাজের বোঝা হয়ে গ্লানির জীবনযাপনের চেয়ে বিদেশি ডিগ্রি নিয়ে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা কল্যাণকর। সাধারণ শিক্ষায় সময় নষ্ট না করে কোনো শিক্ষার্থী ক্রস বর্ডার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে যখন সার্টিফিকেট নিয়ে প্রসন্নচিত্তে বেরুবে, তখন সে একজন পরিপূর্ণ মানুষ; কারণ দেশে-বিদেশে দ্রুত তার কর্মসংস্থান বলা চলে নিশ্চিত। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে শিক্ষার্থীরা পিতা-মাতার তত্ত্বাবধানে বিএ, এমএ পাস করে বসে থাকে। কিন্তু অভিভাবকরা এ কথা খেয়াল করেন না যে- তার সন্তান তার একার নয়, সে রাষ্ট্রেরও সন্তান। রাষ্ট্রের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে, মানুষের কল্যাণে তাকে কাজ করতে হবে। কিন্তু সে প্রোপারলি ইকুইপড্ হতে পারছে না বলে সে সোসাইটিতে কল্যাণকর ভূমিকাও রাখতে পারছে না।
দেরিতে হলেও আমাদের সরকার ক্রস বর্ডার এডুকেশন এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে ২০১৪ সালের মে মাসে বহু প্রতিক্ষিত ক্রস বর্ডার এডুকেশন আইন পাস করেছে। এ আইনে স্টাডি সেন্টার বা শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার জন্যে সাময়িক অনুমতিপত্র লাভের জন্যে ১৫টি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ২৫,০০০ বর্গফুটের ফ্লোর বিশিষ্ট ক্যাম্পাস, আর স্টাডি সেন্টারের জন্যে ১০,০০০ বর্গফুটের ফ্লোর। ১৫০০ বর্গফুটের লাইব্রেরি আর ন্যূনতম ২০০০ বই। ইউজিসি কর্তৃক নির্ধারিত ৩ সদস্যের সমন্বয়ে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ গঠন। পর্যাপ্ত সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি, মিলনায়তন, সেমিনার কক্ষ, অফিস কক্ষ, শিক্ষার্থীদের পৃথক কমনরুম থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাঠ্যতালিকায় কম্পিউটার সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রকৌশল বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকলে প্রতি ৫ জন শিক্ষার্থীর জন্যে ১টি কম্পিউটার ও প্রাসঙ্গিক যন্ত্রপাতিসহ ল্যাবরেটরি স্থাপন। এছাড়া সংরক্ষিত তহবিলের কথাও আইনে সুস্পষ্ট করে বলা আছে। এতে শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্যে ৫ কোটি আর স্টাডি সেন্টারের জন্যে ১ কোটি টাকা যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে সংরক্ষিত তহবিল হিসেবে স্থায়ী আমানত রাখার বিধানও রাখা হয়েছে। আইনের নানা ধারা অনুসরণ করে ইতোমধ্যেই ৯টি প্রতিষ্ঠান আইনের আওতায় নিয়মনীতি মেনে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার জন্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে আবেদন করেছে। কিন্তু আইনের ৪ ধারায় যথাশীঘ্র সম্ভব আবেদনটি মঞ্জুর বা না মঞ্জুর করার বিধান থাকলেও দীঘ্র ১৮ মাস অতিবাহিত হবার পরও এখনও পর্যন্ত ইউজিসি তা করতে পারেনি। ফলে এখনও কোনো আবেদনকারী সাময়িক অনুমতিপত্র লাভ করেনি। অথচ এ বৈধতা প্রদান কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যে নয়, বরং এ দেশের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিরাপত্তার জন্যেই বেশি জরুরি। তাছাড়া স্থানীয়ভাবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে বিদেশে গমনেচ্ছুদের সংখ্যা কমবে, তখন বিদেশে রেমিটেন্স কম পাঠাতে হবে, এতে বৈদেশিক মুদ্রারও সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে বিদেশি ইউনিভার্সিটির শাখা ক্যাম্পাস চালু হলে উল্টো ঐসব স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাংলাদেশি শাখায় বিদেশি শিক্ষার্থীরাও পড়তে আসবে, সাথে নিয়ে আসবে ডলার; কারণ ইউরোপ-আমেরিকাতে উচ্চশিক্ষা ব্যয়বহুল। তাছাড়া সেসব দেশে জীবনযাত্রার ব্যয়ও অনেক বেশি। অন্যদিকে বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা বাংলাদেশে চালু হলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দেশের সরকারি, বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে। দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের সিলেবাস আপডেট করে বিশ্বমানে নিয়ে যেতে বাধ্য হবে, ফলে শিক্ষামান বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশে জীবনযাত্রা এবং শিক্ষাব্যয় অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে পড়তে আসবে। ধরে নিই যদি ১০০০ বিদেশি শিক্ষার্থী এদেশে পড়তে আসে এবং প্রতিমাসে ১০০০ ডলার করে খরচ করে, তবে বছরে তারা যে পরিমাণ টাকা এদেশে নিয়ে আসবে, তাতে দেশের অর্থনীতি যে অনেক বেশি চাঙ্গা হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস আমাদের দেশে চালু হলে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। দেশে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য চলছে। বিদেশের স্বীকৃত ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে ক্যাম্পাস বা শাখা স্থাপন করলে কিংবা দেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ ক্যাম্পাস গড়ে তুললে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অনেক বাড়বে। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশে না গিয়েও বিশ্বের নামিদামি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নেয়ার সুযোগ পাবে। দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তুলনামূলক অনেক কম থাকায় প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী দেশের বাইরে যায়। এতে শত শত কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। প্রচুর অর্থব্যয় এবং সময় নষ্ট করে, নানা ঝক্কি-ঝামেলা অতিক্রম করে বিদেশে গিয়েও অনেকে শিক্ষার কাক্সিক্ষত পরিবেশ পায় না। বিদেশি গ্রহণযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস দেশে থাকলে শিক্ষার্থী এবং তার পরিবারকে এত গলদঘর্ম হতে হবে না। দেশেই বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পাওয়া যাবে। তবে বিদেশি অখ্যাত অপরিচিত প্রতিষ্ঠান যেন বাংলাদেশে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজরদারি থাকতে হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিদগ্ধজনরা মনে করেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস চালু হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও এগিয়ে যাবে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা-২০১৪ শীর্ষক এই বিধিমালার ফলে বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার নামে দেশে যে অবৈধ শিক্ষা-বাণিজ্য চলছে, তা বন্ধ হবে। যারা শিক্ষার নামে বাণিজ্য করছে, তাদের লাগাম টেনে ধরে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উক্ত বিধিমালা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস স্থাপন এবং স্টাডি সেন্টার পরিচালনার বিরোধিতা করছে একটি চক্র। সরকারের উচিত শিক্ষা-বাণিজ্য পরিচালনাকারী এই চক্রকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া। কেননা তারা চায় না বাংলাদেশে বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা-ক্যাম্পাস কিংবা স্টাডি সেন্টার পরিচালনার সুযোগ দেয়া হোক। বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টির ফলে তাদের ‘বাণিজ্য’ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এ নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছেন তারা। অন্যদিকে শিক্ষাবিদরা মনে করেন, সুস্থ একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টিসহ দেশের স্বার্থে এই নীতিমালা শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টারের বিষয়ে ইউজিসি’র সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলামের মতে ঢালাওভাবে বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয়া ঠিক হবে না। যারা পরীক্ষিত ও বিশ্বাসযোগ্য, কেবল তাদেরই বিচার-বিশ্লেষণ করে অনুমোদন দেয়া যেতে পারে; না হলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অবশ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, কেউ যাতে প্রতারণা করতে না পারে, সেজন্য বিধিমালায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর কারাদন্ড ও ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া সংরক্ষিত তহবিলে মোটা অংকের স্থায়ী আমানত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে কেউ এ প্রতারণা করলে সেখান থেকে জমিরানার টাকা কেটে রাখা যায়।
ক্রস বর্ডার হায়ার এডুকেশনের পক্ষে-বিপক্ষে মতামত থাকলেও এর পক্ষের পাল্লাই ভারী। বিশ্বায়নের এ যুগে তথ্য-প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রগতির প্রসন্ন মুহূর্তে এর সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে। দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে এবং একে উন্নত দেশের সারিতে নিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে জাতির কাছে। এ দু’টো সুবৃহৎ কর্মপ্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে গুণগত মানের শিক্ষা অপরিহার্য। সে শিক্ষা যে ক্রস বর্ডার হায়ার এডুকেশনের মাধ্যমেই সম্ভব, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিদেশের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা হলে আমাদের শিক্ষামানের উন্নতি হবে
প্রফেসর আবদুল মান্নান
চেয়ারম্যান, ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশন (ইউজিসি)

ক্রসবর্ডার শিক্ষা আইনের আওতায় আগ্রহী বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের দেশের দূতাবাসের প্রত্যয়ন নিয়ে বাংলাদেশে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে আবেদন করতে পারবে। তারা কত দ্রুততার সাথে এ কাজ সম্পন্ন করতে পারবে, তা নির্ভর করে নিজ দেশের দূতাবাসের আগ্রহের ওপর। যেসব দূতাবাস দ্রুততার সাথে যথাযথভাবে তাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সহায়তা করতে পারবে তারাই এ কাজে এগিয়ে যাবে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে যথাযথভাবে আবেদন করেছে, সরকারের কাছে তাদের আবেদন বিবেচিত হবে বলেই ধরে নেয়া যায়। তবে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা যদি কোনো অপরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার জন্যে আবেদন করে থাকে, তবে আমরা অবশ্যই সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে যথাযথ খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনে সেসব বিশ্ববিদ্যালয় সরেজমিনে পরিদর্শন করে সিদ্ধান্ত নেব। কিন্তু যেসব দেশে আমাদের অনেক ছাত্র-ছাত্রী এর আগে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে এসেছে; যেমন- লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি, এমআইটি, ক্যামব্রিজ, ভারতের জওহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটিসহ বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয় যদি শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়, তাহলে তাদেরকে আমরা অবশ্যই স্বাগত জানাব।
বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতির জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করলে ইউজিসি বিধি অনুযায়ী সরেজমিন সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা-ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদস্যও থাকবেন। এ ব্যবস্থা এজন্য গ্রহণ করা হবে, যাতে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা প্রতারিত না হয়। বিদেশে আমাদের শত শত ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে, তারা কি সুবিধা-অসুবিধার মধ্যে রয়েছে, কোনো ব্যাপারে প্রতারিত হচ্ছে কি না- তা আমরা বিস্তারিতভাবে জানি না। কিন্তু এখানে সেসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে, তা তারা আমাদের চোখের সামনেই করবে; এখানে তাদের গোঁজামিল কিংবা নয়-ছয় করার সুযোগ থাকবে না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাই সরকারের পক্ষে ইউজিসি গ্রহণ করবে।
বাংলাদেশে ৩৭টি পাবলিক ইউনিভার্সিটি এবং ৮৯টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তাতেও আমরা শিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে পারছি না। বিশ্বায়নের যুগে শিক্ষার চাহিদা ব্যাপকতা লাভ করেছে। বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে; তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে এক জায়গায় বসে থাকা সম্ভব নয়। এজন্য দেশের সীমান্তে ক্রসবর্ডার এডুকেশনের ঢেউ এসে আঘাত হানছে, মানুষকে জাগাচ্ছে, সৃষ্টির পথে কল্যাণের পথে টানছে। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার যোগ্য যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই আমাদের পিছপা হওয়া চলবে না। তাই নামিদামি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় এদেশে আসতে চাইলে তাদেরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। আমাদের দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইনভেস্টমেন্ট আসছে। শিক্ষাও একটি ইনভেস্টমেন্ট। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখানে এলে তারা যেমনি লাভবান হবে, আমরাও তেমনি লাভবান হব।
এক্ষেত্রে আমরা মালয়েশিয়াকে উদাহরণ হিসেবে নিতে পারি। মালয়েশিয়া ক্রসবর্ডার এডুকেশনের ক্ষেত্রে একটি সফল দেশ। শিক্ষার এ ধারাকে তারা বিশ্বাস করে উৎসাহিত করেছে। ফলশ্রুতিতে তারা শিক্ষায় অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। আমাদের দেশে বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আসলে দেশি-বিদেশি উভয়ের মধ্যে একটা সুস্থ প্রতিযোগীতা গড়ে উঠবে, এতে শিক্ষামানের উন্নতি হবে।
বাংলাদেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী হলো তরুণ, ৬৫% ভাগ মানুষের বয়স ৩০ বছরের মধ্যে। এদের কর্মস্পৃহা আছে, এরা অনেক সম্ভাবনাময়। এদেরকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে কর্মক্ষম হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে এরা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের সম্পদে পরিণত হবে। এ বিশাল কাজ সরকারের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়; প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ ব্যাপারে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে আমরা যদি বাইরে থেকে ইনভেস্টমেন্ট আনতে পারি তাহলে সেটি আমাদের জন্য হবে কল্যাণকর।
ক্রসবর্ডার এডুকেশন পরিচালনার অনুমোদন কবে নাগাদ আলোর মুখ দেখতে পাবে জনমনে এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে বলা যায়- অচিরেই সে অনুমোদন আসতে পারে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়- ১৯৯২ সালে অনুমোদন লাভের পর দু’একটি প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করে। ধীরে ধীরে অন্যরা এগিয়ে আসে। ক্রসবর্ডার এডুকেশনের ক্ষেত্রেও তেমনটি হবে বলে আশা করা যায়। ৮-১০টি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে অনুমোদনের জন্যে কাগজপত্র জমা দিয়েছে; উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অতীত কার্যক্রম আশানুরূপ। তাদের হাইকমিশন থেকেও চিঠি এসেছে, তাদের কার্যক্রমে সহযোগিতা দানের জন্য। আমরা খুব শীঘ্রই উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমের অনুমোদন প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। আগামীতে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন প্রভৃতি দেশ থেকে ক্রসবর্ডার এডুকেশনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আসতে পারে বলে আশা করা যায়। বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ ক্যাম্পাস চালু হলে বিদেশি ছাত্ররাও এখানে পড়তে আসবে। ৮০ এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বিদেশি ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করত। একসময় মালয়েশিয়া থেকে অনেক ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতো। কিন্তু এখন বাংলাদেশের ছেলেরাই মালয়েশিয়া যাচ্ছে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে। শিক্ষাক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার অগ্রগতির ফলেই দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের চাহিদা অনেক বেড়েছে, কিন্তু সে তুলনায় মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। ফলশ্রুতিতে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা দেশে সুবিধা না পেয়ে বিদেশে পড়তে চলে যাচ্ছে। বিদেশের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশে ক্রসবর্ডার এডুকেশন পরিচালনায় আসলে আমাদের শিক্ষার্থীদের আর বিদেশমুখী হতে হবে না; তারা দেশে বসে কম খরচেই মানসম্মত শিক্ষা পাবে। সবচেয়ে ভালো দিক হবে দেশি ও বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অঘোষিত প্রতিযোগিতা। সামগ্রিকভাবে দেশের শিক্ষার ওপর এর প্রভাব পড়বে।
বিদেশি শিক্ষা প্রষ্ঠিান এখানে শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার চালু করলে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা করা হয়। স্বার্থগত দ্বন্দ্বের কারণে আমাদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্রসবর্ডার এডুকেশনের বিরোধিতা করে বলে জানা যায়; কিন্তু এটি ঠিক নয়। শিক্ষাক্ষেত্রে সুস্থ প্রতিযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। তাহলে দেশি বিদেশি উভয় প্রতিষ্ঠানই উপকৃত হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটবে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আসলে দেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শংকিত হবার কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না, তবে টিকে থাকতে হলে তাদের প্রতিযোগিতার মন-মানসিকতা অর্জন করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রতিযোগিতায় না গেলে নিজের অক্ষমতা সম্পর্কে জানা যাবে না, নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার সুযোগও আসবে না।
দেশবাসী চায় ক্রস বর্ডার এডুকেশন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হোক, উন্মেচিত হোক নতুন দিগন্ত, নতুন সম্ভাবনার দ্বার
প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মোঃ আবদুল্লাহ
চেয়ারম্যান, নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

ক্রস বর্ডার এডুকেশন শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট মহলে বহুল আলোচিত একটি বিষয়। ক্রস বর্ডার এডুকেশন আইন পাস হয়েছে, যা বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, ইউজিসি চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ায় এটি বিধিবদ্ধ আইনে পরিণত হয়েছে। আমি বলব- তাঁরা দেশের শিক্ষান্নোয়নের স্বার্থে, তরুণ প্রজন্মের কোয়ালিটি শিক্ষার স্বার্থে এ সাহসী উদ্যোগ নিয়েছেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের উচ্চশিক্ষার প্রধান বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ওয়ার্ল্ড রেকিংয়ে হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নেই। এর মানে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা এমন এক জায়গায় এসে আটকে গিয়েছি -যেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই আউটসোর্সিং করতে হবে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা নিতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতার নীতিতে চললে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বেশি উপকৃত হবে আমাদের তরুণ প্রজন্ম। তবে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা-ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা অথবা দেশীয় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জয়েন্ট কোলাবোরেশনে কোনো প্রোগ্রাম চালুর পূর্বে অবশ্যই সে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ওয়ার্ল্ড র্যাংকিংয়ের মধ্যে আছে কিনা, তা অবশ্যই দেখে নিতে হবে।
প্রতিবছর দেশের হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী উচ্চ শিক্ষার্জনের জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। সাথে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্থাৎ হাজার হাজার কোটি টাকা। এটি একটি জাতির জন্য বিশালাকার ক্ষতি। যেমনিভাবে এ ক্ষতি অর্থ সম্পদের, তেমনিভাবে এ ক্ষতি মেধার। দেশ ও জাতি বঞ্চিত হচ্ছে মেধাবী ব্যক্তিদের সেবা থেকে। এ উভয় প্রকার ক্ষতির মেয়াদ যদি আরো দীর্ঘায়িত হয় এবং এটিকে যদি সহনীয় মাত্রায় কমিয়ে আনা না যায়, তাহলে জাতি হিসেবে আমাদেরকে পিছিয়ে পড়তে হবে এবং এটার ক্ষতি ব্যাপক।
আধুনিকায়নের এ যুগে বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা আমরা কেনো হারাব? আমরা কি পারি না ৮-১০ বছর ব্যাপী বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়ে এ দেশে বিশ্বমানের ৪/৫টি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে? আমরা কি পারি না ব্রিটেন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার মতো দেশের ৪/৫টি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের মডেল এদেশে স্থাপন করতে? আমাদের জমি রয়েছে, মানব সম্পদ রয়েছে, প্রাকৃতিক অনুকূল পরিবেশ রয়েছে, বিশ্বমানের শিক্ষকও রয়েছে... তাহলে আমরা পারছি না কেনো? প্রয়োজন শুধু Strong Commitment, সাহসী সিদ্ধান্তের।
সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে এর একটি ছোট বিকল্পও রয়েছে। অবশ্যই সেটি হচ্ছে Foreign Collaboration। ব্রিটেন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া এবং কানাডার ৫/১০টি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে Franchise Collaboration করে আমরা আমাদের মেধা এবং অর্থ দুটোই কিছুটা হলেও দেশে রাখতে পারি। জাতীয় স্বার্থে Franchise Collaboration এর পথ Open করে দেয়া দরকার। বিদেশের A Grade এর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এদেশে আসুক এবং Perform করুক। আমরা দেখেছি- দুবাই, কাতার, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্ডিয়ার অনেকগুলো বিশ্বমানের বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় সফলতার সাথে কাজ করছে। তারাতো পেরেছে, আমরা কেনো পারব না?
আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করব; আন্তর্জাতিক অঙ্গনের A Grade এর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এদেশে Perform করার সুযোগ দিন। আমি অবশ্যই নিম্নমানের বা বাজে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কথা বলব না। A Grade এর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বের যে দেশেই Collaboration করুক না কেনো, তারা Qualityর সাথে আপোশ করবে না। তারা নিয়মিত Quality control করবে। বাংলাদেশ নিয়ে তারা ভাববে না, তারা ভাববে তাদের Quality নিয়ে। সামান্য বিচ্যুতি ঘটলেই তারা Collaboration বাতিল করবে। শুধুমাত্র Study Center এর Collaboration করে কোনো লাভ হবে না। Franchise Collaboration এর মাধ্যমে তাদেরকে এখানে Operate করার সুযোগ করে দিতে হবে। অর্থাৎ আমি বলতে চাই, CBHE এর কারণে উচ্চশিক্ষা ক্ষতির সম্মুখীন হবে না বরং উচ্চ শিক্ষার গুণাগুণ এবং প্রতিযোগিতা বাড়বে।
এদেশে অনেকগুলো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মনে করে ক্রস বর্ডার এডুকেশন চালু হলে স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে, যা মোটেই সঠিক নয়। কারণ- যখন বিশ্ববাণিজ্য নীতিতে নতুন পদ্ধতি চালু হলো, মুক্তবাণিজ্যধারা প্রবর্তিত হলো, তখন বিভিন্ন দেশে স্থানীয় শিল্প-কারখানার পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলো যে- তাদের কি হবে! তাই বলে কি নতুন নীতি প্রবর্তন হয়নি। স্থানীয় শিল্প-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে; না, বরং দেশীয় শিল্প চাঙ্গা হয়েছে। সমাজ, দেশ, মানুষ এগিয়ে যাবেই; স্থির হয়ে বসে থাকতে পারে না। তাদেরকে সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে, বাস্তবের মোকাবেলা করতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হলে তারা নিজেদের কার্যক্রমের উন্নয়ন ঘটাতে পারবে। এ ধরনের সুস্থ প্রতিযোগিতার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। বিদেশিরা এখানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যখন আসবে -তখন তারা দক্ষ, অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়ে আসবেন; ফলে এদেশের শিক্ষার্থীরা উন্নতমানের উচ্চশিক্ষা লাভে সমর্থ হবে, দেশেরও কল্যাণ হবে।
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষাবিদ, শিক্ষাদ্যেক্তা, শিক্ষাব্রতী সবাই আগ্রহী। উচ্চশিক্ষাকে একটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে শিক্ষাবিদরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে যে কাজটি গুরুত্বসহকারে করতে হবে, তা হলো- আমাদের আউট সোর্সিং বাড়াতে হবে, বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে কোলাবোরেশন সৃষ্টি করতে হবে। নিজ-বৃত্তের মধ্যে আবদ্ধ থাকলে চলবে না, দৃষ্টি প্রসারিত করতে হবে, মনকে বড় করতে হবে। বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কারিকুলাম এখানে আসবে, শিক্ষা পদ্ধতি আমরা জানতে পারব, তাদের দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক আসবেন; যার অভাব আমরা এখানে তীব্রভাবে অনুভব করি। ভাবের আদান-প্রদান, অভিজ্ঞতার বিনিময় না হলে কোয়ালিটি এডুকেশন গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।
আমাদের দেশের কিছু দেশপ্রেমী শিক্ষাদ্যোক্তা বেশ কিছুদিন ধরে বিদেশের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে উন্নত মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এখানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়ে আসার পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। এরই মধ্যে ৯/১০টি প্রতিষ্ঠান ক্রস বর্ডার এডুকেশনের জন্য অনুমতি চেয়ে ইউজিসিতে আবেদন করেছেন বলে জেনেছি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তাদের সাময়িক অনুমতিপত্র দিতে বিলম্বিত হচ্ছে বলে উদ্যোক্তাদের মাঝে হতাশা নেমে এসেছে। শিক্ষামন্ত্রী এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান দু’জনই ক্রস বর্ডার এডুকেশন বাস্তবায়নে আগ্রহী। দেশবাসীও চায় এ শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে প্রবর্তিত হোক, শিক্ষাক্ষেত্রে উন্মোচিত হোক নতুন দিগন্ত, নতুন সম্ভাবনার দ্বার।
ক্রস বর্ডার এডুকেশনে যারা পড়ালেখা করবে তারা জব মার্কেটে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের চেয়ে অনেক ভালো করবে
লায়ন এম কে বাশার পিএফজেএফ
চেয়ারম্যান, বিএসবি ফাউন্ডেশন

বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানার মধ্যে সরকারের অনুমতিসাপেক্ষে যদি অন্য কোনো দেশের শিক্ষাকে দেশের অভ্যন্তরে পরিচালনা করা হয় তাকে ক্রসবর্ডার এডুকেশন বলে। এ সংক্রান্ত একটি আইন ২০১৪ সালের মে মাসে পাস হয়েছে, যে আইনের অধীনে বিদেশি ইউনিভার্সিটির স্টাডি সেন্টার অথবা শাখা ক্যাম্পাস বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করা যাবে। এ বিষয়ে সরকার নীতিমালা ঠিক করে দিয়েছে যে, স্টাডি সেন্টারের জন্য ১ কোটি টাকা এবং শাখা ক্যাম্পাসের জন্য ৫ কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে সংরক্ষিত তহবিল হিসেবে স্থায়ী আমানতে জমা রাখতে হবে। এছাড়া স্টাডি সেন্টারের জন্য দশ হাজার বর্গফুট এবং শাখা ক্যাম্পাসের জন্য ২৫ হাজার বর্গফুটের ফ্লোর স্পেস থাকতে হবে। তাছাড়া একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের যতগুলো ধাপ তার প্রায় সব ধাপ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইউজিসি’র কাছে আবেদন করবে। আবেদনের প্রেক্ষিতে ইউজিসি যথাযথ পরিদর্শন শেষে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে ৩ মাসের মধ্যে সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করবে। আর সবকিছু ঠিক থাকলে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে সাময়িক অনুমতি প্রদান করবে। আর তখনই দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে পারবে। আমার বিশ্বাস- শাখা ক্যাম্পাস চালু হলে এবং বিদেশি শিক্ষক দ্বারা পাঠদান শুরু হলে আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া থেকেও ছাত্র-ছাত্রীরা এসব ক্যাম্পাসে পড়ালেখা করতে আসবে। এর প্রধান কারণ হলো বিদেশের ইউনিভার্সিটিগুলোতে পড়ালেখা খুব Expensive; থাকা-খাওয়াসহ আনুষঙ্গিক মোট শিক্ষাব্যয়ও অনেক। বাংলাদেশের শাখা ক্যাম্পাসে যদি বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করে, তবে তাদের শিক্ষাব্যয় অনেক কম হবে। এতে দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা যেমন লাভবান হবে, তেমিন সরকারও লাভবান হবে; কারণ বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি ১ হাজার বিদেশি স্টুডেন্টও পড়তে আসে, তাহলে তারা প্রতিমাসে ২ হাজার ডলার করে খরচ করলে বছরে প্রায় ৩ কোটি ডলার শুধু পড়ার জন্য খরচ করবে; তার বাইরে বেড়ানো, শপিং, বিনোদন ইত্যাদি খরচতো আছেই। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। যেসব দেশ থেকে ছেলেমেয়েরা বাংলাদেশে আসবে, তারা বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের সাথে মিশবে, আমাদের ছেলেমেয়েরা বিদেশের কালচার সম্পর্কে অনেক বেশি জানতে পারবে, তাদের জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ হবে। এর ফলে আমাদের দেশীয় শিক্ষায় আমূল পরিবর্তন আসবে। ক্রস বর্ডার এডুকেশনে যারা পড়ালেখা করবে তারা জব মার্কেটে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের চেয়ে অনেক ভালো করবে। কারণ আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা থিউরিটিক্যাল, কিন্তু বিদেশি শিক্ষাব্যবস্থা প্রাকটিক্যাল এবং জব-ওরিয়েন্টেড। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা মাইগ্রেশন করে যেতে পারবে নির্দিষ্ট দেশগুলোতে। ফলে তারা বিদেশে চাকরির সুযোগ পাবে অনায়াসে।
আমাদের দেশে ক্রস বর্ডার এডুকেশন যখন ব্যাপকভাবে চালু হবে তখন শিক্ষাধারায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হবে, দেশ হবে অনেক সমৃদ্ধ। অস্ট্রেলিয়ায় টোটাল রেমিটেন্সের ১৩% ভাগ আসে ফরিন এডুকেশন সেক্টর থেকে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা প্রভৃতি দেশে শিক্ষার্থীরা বেশি সংখ্যায় এজন্য যায় যে, এ দেশগুলোতে শিক্ষার ধরন অনেক উন্নত। তাদের পড়ালেখার মান ভালো, পড়ালেখায় তারা যথাযথ গুরুত্ব দেয় এবং মনোনিবেশ করে। তারা যদি শিক্ষা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে বাংলাদেশে আসে, তাহলে আমাদের শিক্ষা সমৃদ্ধ হবে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ক্রস বর্ডার এডুকেশন আইনটি পাস হতে প্রায় ৩ যুগ সময় লেগেছে; আর গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে এ পর্যন্ত মাত্র ১০টি আবেদন জমা হয়েছে ইউজিসিতে। আর নিয়ম অনুযায়ী স্টাডি সেন্টার বা শাখা ক্যাম্পাস এর অনুমোদন ৩ মাসের মধ্যে দেয়ার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত কেউই কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন পায়নি। আমরা আশা করছি, চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ শাখা-ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টারগুলো ভিজিট করবেন এবং ২০১৬ সাল থেকে তারা অনুমোদন দেবেন।
ক্রস বর্ডার শিক্ষার পক্ষে-বিপক্ষে মতামত রয়েছে। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি এর বিরোধিতা করে আসছে শুরু থেকে। যারা এ দেশে শিক্ষার উন্নয়ন চায় না, শিক্ষার মাধ্যমে এদেশে বেশি পরিমাণে ফরেন কারেন্সি আসুক চায় না, বিদেশের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-উদ্যোক্তাদের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান, কালচারাল এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে দেশের পরিচিতি, সুনাম-সুখ্যাতি বাড়ুক -এটা চায় না; সাধারণত তারাই ক্রস বর্ডার এডুকেশনের বিরোধিতা করছে। আমার বিশ্বাস- সমস্ত বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে যখন CBHE কার্যক্রম শুরু হবে, তখন বিরোধিতাকারীদের ভুল ভেঙ্গে যাবে; দেশ শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক এগিয়ে যাবে।
খুব বেশিদিন আগের ঘটনা নয়, ’৮০ এর দশকে মালয়েশিয়া আমাদের থেকে শিক্ষা এবং অন্যান্য বিষয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল। কিন্তু তারা নীরব বসে থাকেনি। আমেরিকা, কানাডা, জার্মানী প্রভৃতি দেশের উদ্যোক্তাদের তারা নিজ দেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তাদের দেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। সেসব বিদেশি উদ্যোক্তাগণ একদিকে মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়েছে, অন্যদিকে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদেরও তারা শিক্ষা দিয়েছে। বর্তমানে এশিয়ায় মালয়েশিয়া শিক্ষার অন্যতম Hub হিসেবে বিবেচিত হয়। শিক্ষার মাধ্যমে মালয়েশিয়া প্রচুর ফরিন কারেন্সি আনছে। মালয়েশিয়ান ছেলেমেয়েরা নিজ দেশে অবস্থান করে কম খরচে উন্নত দেশের শিক্ষা অর্জন করতে পারছে। তারা বিভিন্ন দেশে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হচ্ছে। মালয়েশিয়ার বর্তমান উন্নতির পেছনে বিদেশি ইউনিভার্সিটিগুলোর অবদান অনেক বেশি। ওয়ার্ল্ড র্যাংকিংয়ে মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ১৭তম স্থানে আছে। বিদেশি ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার জন্য মালয়েশিয়া সর্বোচ্চ সহযোগিতার হাত সম্প্রাসারণ করেছে। বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নামমাত্র মূল্যে জমি ও অন্যান্য সুযোগ দিয়েছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারের সহযোগিতায় অনেক ভালো করেছে। যেসব দেশ বিদেশি উন্নত শিক্ষাকে স্বাগত জানিয়েছে, কার্যক্রম পরিচালনায় বিদেশিদের আন্তরিক সহযোগিতা করেছে, সেসব দেশ শিক্ষা-দীক্ষায় অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছে।
২০০৫ সালে একটি তালিকা প্রস্তুত হয়েছিল; সেখানে সরকার ৫৬টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করেছিল। অবশ্য সে তালিকা ছিল অসম্পূর্ণ; তারা এমন প্রতিষ্ঠানের নামও তালিকাভুক্ত করেছিল, যারা আদৌ ক্রসবর্ডার এডুকেশনে সম্পৃক্ত ছিল না। সে সময় কিছু প্রশাসনিক ব্যবস্থা, মিডিয়ার বিরোধিতার কারণে এ ধরনের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল; তারা প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। এখন যারা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে, তারা আইন মেনে চলতে চায়। ক্রস বর্ডার এডুকেশন নিয়ে যে আইনটি করা হয়েছে এবং সরকার যেভাবে তাকে পরিচালনা করতে চাইছে -সেটি যদি সঠিকভাবে করা হয়, তাহলে কোনো অবৈধ প্রতিষ্ঠান এখানে অনুপ্রবেশ করতে পারবে না। তবে সরকারের যদি দুর্বলতা থাকে; তাহলে অনেকে অবৈধ তৎপরতা চালাবে, সার্টিফিকেট-বাণিজ্য করবে।
ওয়ার্ল্ড রেকিংয়ে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ১০০০ এর মধ্যে অবস্থান করছে, বাংলাদেশে তাদের ক্যাম্পাস চালু হলে এদেশের শিক্ষার চিত্রই পাল্টে যাবে
ব্যারিস্টার আহমেদ আল ফারাবী সিইও, অরেঞ্জ বাংলাদেশ লিমিটেড

ক্রস বর্ডার এডুকেশন মানে স্টাডি এব্রড; স্টুডেন্টদেরকে যদি ভালো স্টাডি দেয়া যায়, তাহলে তারা সম্ভাবনাময় হয়ে ওঠে। আমি নিজেও ইংল্যান্ডে পড়ালেখা করে এসেছি। দেশে ফিরে এসে দেশের কাজেই লেগেছি, ছাত্র-তরুণদের আধুনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করছি; আর যারা দেশে ফিরে আসেনি, তারাও দেশে টাকা-পয়সা পাঠিয়ে আমাদের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিদেশে ছাত্র-ছাত্রীরা শুধু পড়ালেখার জন্য যায় না, তারা পাঠ্যসূচি বহির্ভূত অনেক কিছু শেখে। আমি দেশে ফিরে এসেছি ১০ বছর হয়েছে। কিন্তু এখনো বাদাম খেয়ে রাস্তায় ঠোঙ্গা ফেলতে পারি না; যখনই ফেলতে যাই, তখন মনে হয় কে যেন পেছন থেকে টেনে ধরছে। ইংল্যান্ডে পড়ালেখা করে আমি শুধু সার্টিফিকেট নিয়ে আসিনি; সাথে কিছু জ্ঞান, কিছু কালচারও ধারণ করে নিয়ে এসেছি। এখন এখানে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে, বিদেশি শিক্ষার একজন কাউন্সিলর হিসেবে আমার প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের যদি কিছু দিতে পারি, তাহলে আমার অর্জিত শিক্ষা সার্থক হবে বলে মনে করি। ২০১৪ সালে ক্রস বর্ডার হায়ার এডুকেশন আইন পাস হয়েছে। এ আইনের আওতায় ৮/১০টি প্রতিষ্ঠান শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনার জন্যে সরকারের কাছে প্রস্তাবনা পেষ করেছে। ইউজিসি এখন যাচাই-বাছাই করে সাময়িক অনুমোদন দিলেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে যখন আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা সার্টিফিকেট পেতে শুরু করবে, তখন আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণভাবেই কম্পিটিশনের মধ্যে পড়বে এবং মার্কেটে টিকে থাকতে চাইলে নিজেদের কার্যক্রমকে তাদের স্টান্ডার্ডে নিয়ে যেতে বাধ্য হবে। যখনই তারা বেটারমেন্ট এর দিকে যাবে, তখন রিসার্চ এর বিষয়টি সামনে আসবে। কারণ রিসার্চ বা গবেষণা ছাড়া তাদের কার্যক্রমে গতি আসবে না, প্রেিযাগিতায় পিছিয়ে পড়বে। তাছাড়া বিদেশিদের পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে প্রোডাক্টগুলো বেরুবে, তা আমাদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো লুফে নেবে। ক্রস বর্ডার এডুকেশনের ক্ষেত্রেও এ বিষয়টি প্রযোজ্য। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি যদি এখানে কোয়ালিটি এডুকেশন দিতে পারে, তাহলে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো তা না পারার কোনো কারণ নেই। তাহলে বোঝা যায়, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা বা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় যদি সত্যিকারভাবে এদেশে কোয়ালিটি এডুকেশন দিতে চায়, উন্নত শিক্ষা প্রমোট করতে চায়, এদেশের ছাত্র-যুবকদের শিক্ষিত বা প্রশিক্ষিত করতে চায়, তাদেরকে বিশ্বায়ন প্রতিযোগিতার উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে চায় -তাহলে জাতির কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ও এর ব্যবহার সম্পর্কে লন্ডন ইউনিভার্সিটি বা অনুরূপ বিশ্ববিদ্যালয় যদি উদ্যোগ নেয়, তাহলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তা অনেক ফলপ্রসূ হবে। আরেকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে- লন্ডন ইউনিভার্সিটির একটি শাখা যদি বাংলাদেশে স্থাপিত হয়, তাহলে সে ক্যাম্পাসে বাংলাদেশের আশেপাশের দেশগুলো থেকেও ছাত্র-ছাত্রীরা পড়তে আসবে -এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। কারণ লন্ডনে গিয়ে তাদেরকে যে শিক্ষা লাভ করতে হতো, সেটি তারা স্বল্পব্যয়ে বাংলাদেশ থেকে অর্জন করতে পারবে। বিদেশি স্টুডেন্টরা যখন বাংলাদেশে পড়তে আসবে, তখন বাংলাদেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হতে থাকবে।
ক্রস বর্ডার হায়ার এডুকেশন বাংলাদেশে নতুন কোনো বিষয় নয়। সম্ভবত ৮০ এর দশক থেকে এটি সীমিত আকারে হলেও বাংলাদেশে চালু রয়েছে; যদিও তার আইনগত বৈধতা ছিল না। এ বৈধতা না থাকার ফলে উদ্যোক্তারা নিঃশঙ্কচিত্ত হতে পারছিল না। তাদের কাজকর্মেও গতিশীলতা ছিল না। ফলে নিভৃতেই ২০০ প্রতিষ্ঠান এদেশে ক্রস বর্ডার এডুকেশন দিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৩৫ বছর পর যখন আইন পাস হলো, তখন মাত্র ৮/১০টি প্রতিষ্ঠান আইনগত বৈধতার জন্যে আবেদন করেছে। বাকিরা এখনও নিশ্চুপ। এত অল্প আবেদন কেন পড়ল, তা আমার বোধগম্য নয়। অন্যদিকে যারা আবেদন করেছে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেও ইউজিসি কালক্ষেপণ করছে, যা দুঃখজনক। এতদিন আইন না থাকায় যে যার মতো করে ক্রস বর্ডার এডুকেশন পরিচালনা করেছে, অন্যদিকে সরকার দেখেও না দেখার ভান করেছে। কিন্তু এখন আইন পাস হওয়ার পর সব প্রতিষ্ঠানকেই আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় সার্টিফিকেট বাণিজ্যের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। তাই সরকারকে এখনই কঠোর অবস্থানে যেতে হবে এবং নিয়মনীতি অনুসরণ করে যারা যোগ্য তাদের বৈধতা দিতে হবে। আর যারা বৈধতা নিতে ব্যর্থ হবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হবে। তাহলে জনগণও জানবে ক্রস বর্ডার এডুকেশন একটা নিয়মনীতির মধ্যে চলছে। আর নিয়মনীতি মানেই শৃংখলা, যা সুফল বয়ে আনবে। ক্রস বর্ডার এডুকেশন সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে দেশে সনদ-বাণিজ্য বেড়ে যাবে। তখন ক্রস বর্ডার শিক্ষার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে।
কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার অনুমোদনের সময় ইউজিসিকে অবশ্যই দেখতে হবে কোন্ দেশের কোন্ বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন করেছে। তারা ওয়ার্ল্ড র্যাংকিংয়ে কোন্ পর্যায়ে আছে। শুধুমাত্র তাদেরই স্বাগত জানানো উচিত -যারা শিক্ষাক্ষেত্রে প্রশ্নাতীতভাবে এগিয়ে গেছে; যেমন- ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আমেরিকা -এসব দেশ যদি আসে তাহলে আমাদের উপকার হবে। এজন্য একটা শর্ত থাকা দরকার যে, ওয়ার্ল্ড র্যাংকিংয়ে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ১০০০ এর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে; শুধুমাত্র তারাই যোগ্য বলে গণ্য হবে। এ ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা হলে বিদেশি ক্যাম্পাসের কাছ থেকে কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিত করা যাবে, দেশে বসেই বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট অর্জন করা যাবে।
ক্রস বর্ডার এডুকেশন সম্পর্কে আমি আশাবাদী। আমরা যারা এ কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছি তাদের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ যোগাযোগ থাকতে হবে। ক্রস বর্ডার একটি মহতী কার্যক্রম, এর প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলের নেক নজর থাকা দরকার। বিদেশ থেকে যারা এখানে পড়ালেখা করতে আসবে তাদের আসা-যাওয়া বিষয়টা সহজ করা প্রয়োজন। বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে বিভিন্ন নিয়মনীতি কঠোর না করে তা সহজ করলে তারা উৎসাহিত হবে। তাদের দেখাদেখি অন্যান্য বিদেশি শিক্ষার্থীরা এখানে পড়ালেখার ভরসা পাবে। ক্রস বর্ডার এডুকেশন কার্যক্রম ইমিগ্রেশনের অংশ; এক্ষেত্রে আইনজীবীদের বেশি করে আসা উচিত। তারা আইনের খুঁটিনাটি বোঝে, কোনো ফাঁকফোকর থাকলে; তা বের করতে পারে। এর ফলে এ কার্যক্রমের নীতিমালা নিখুঁত এবং কার্যকর হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলব- তোমরা বিদেশি শিক্ষা গ্রহণ করলেও দেশকে ভুলে যেও না, সবসময় দেশের কথা মনে রাখবে। তোমাদেরকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। মনে রাখতে হবে- দেশের মানুষের ট্যাক্সে পড়ালেখা করে বড় হয়েছ; বিদেশে গিয়ে হোক আর দেশে বসে হোক তা এ দেশের কল্যাণে কাজে লাগতে হবে। তারা পারিবারিক বন্ধনে যেমনি আবদ্ধ থাকবে, তেমনি দেশ ও সমাজের উন্নয়নে, মানবসেবায় নিজকে সম্পৃক্ত রাখবে। তোমাদের সাফল্য অন্যদেরকে যেন উৎসাহিত করে। তবেই ক্রস বর্ডার এডুকেশন এগিয়ে যাবে, শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞানে-গরিমায় দেশও এগিয়ে যাবে কাঙ্খিত লক্ষ্যে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ