বিশেষ খবর

দিনবদলের সরকারের কাছে প্রত্যাশা ও অগ্রগতি

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন চৌদ্দদলীয় মহাজোট ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শপথ নিয়ে সরকার গঠন করে এবং দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের ১০ম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩২টিতে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে। ১২ জানয়ারি তারিখে শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি সেক্টরেই লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া ও খুলে গেছে অযুত সম্ভাবনার দ্বার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর অবস্থা, দারিদ্র্য দূরীকরণ ইত্যাদি সামাজিক খাতে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। এ অগ্রগতিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা ‘ঈর্ষণীয়’ বলে বর্ণনা করেন। এভাবেই প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ মাথা উচুঁ করে সম্মানের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের সাত বছর পূর্তিতে বিশিষ্টজনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রতিবেদন তৈরি করেন যথাক্রমে ক্যাম্পাস’র প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন আহমেদ এবং আনিসুর রহমান এরশাদ। সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে বিশিষ্টজনদের খোলামেলা মতামত নিম্নে সন্নিবেশিত হলো।
প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনা ও শিক্ষামন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে সম্ভাবনার নব দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে
মোঃ হেলাল উদ্দিন
অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়), শিক্ষা মন্ত্রণালয়

বর্তমান সরকারের সাত বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদের্শী নেতৃত্বে সকল দিক থেকেই দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী দিক নির্দেশনা ও শিক্ষামন্ত্রীর উপযুক্ত নেতৃত্বে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে প্রাইমারি লেভেলে ৯৯.৪৭% ইনরোলমেন্ট এবং প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি লেভেলে ছেলে এবং মেয়ের সমতা অর্জিত হয়েছে। রেজাল্টের দিক থেকেও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায়ও বেশি এগিয়ে গেছে। এখন কারিগরি শিক্ষায় আছে মোট শিক্ষার্থীদের ১৩ ভাগ। উন্নয়নের জন্য ভকেশনাল ও টেকনিক্যাল এডুকেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইনশাআল্লাহ ২০২১ এর ভেতরে কারিগরি শিক্ষার্থীদের হার শতকরা ২০ ভাগে নিয়ে যেতে পারব।
উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সাত বছরে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯৫, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৩৮টি। এছাড়া অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি দেয় এমন কলেজ এর সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। ২৮ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ শিক্ষার্থী এসব প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে। এদের মধ্যে শতকরা ৪৫ জন মেয়ে শিক্ষার্থী। আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করতে পারবে।
২০৩০ সালে এসডিজি ডেভেলপমেন্ট গোলে পৌঁছানোর জন্য আমরা সুচিন্তিত পরিকল্পনার আলোকে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। সবমিলিয়ে বাংলাদেশে নীরবে শিক্ষা বিপ্লব ঘটেছে। দেশে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। এসব শিক্ষার্থীদের মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করে উজ্জ্বল ভবিষ্যত নির্মাণে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সমন্বিত ‘এ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল এ্যাক্ট’ প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। আমরা উচ্চশিক্ষা কমিশন করতে চাই। বর্তমানে যেটিকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বলছি এটি আরো বেশি শক্তিশালী হবে ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। যখন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন করা হয়েছিল তখন বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ৬টি, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৩৩টি। সুতরাং ১৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ন্ত্রণ করা, দেখাশুনা করা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এর যে জনবল আছে তা দিয়ে সম্ভব নয়। হায়ার এডুকেশন কমিশন হয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সহায়তার মাধ্যমে কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে।
বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহেন্সমেন্ট প্রজেক্ট (হেকেপ) চলছে। প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল তৈরি করছে। এই ‘কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল’ ঐ বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ক্যাপাসিটিতে কোয়ালিটি কিভাবে ডেভেলপ করবে তা নিশ্চিত। হেকেপ প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা ৬টি গ্রুপের মধ্যে ১টি গ্রুপ নিশ্চিত করবে যারা রিসার্চ সম্পর্কে নীতিমালা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা, গবেষণার কালচার তৈরি করা হচ্ছে এর উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশ রিসার্চ এন্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (ইউজঊঘ) ভার্চুয়াল লাইফ, ভার্চুয়াল ক্লাস, ভার্চুয়াল যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। গবেষণায় দেশের সাথে দেশের যোগাযোগ হচ্ছে। এটি ট্রান্স এশিয়া, ট্রান্স ইউরোপ তথা গোটা বিশ্বের সাথে যোগাযোগ তৈরি করবে। ইতোমধ্যেই ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নলেজ শেয়ারিং, রিসার্চ শেয়ারিং, ইনপুট শেয়ারিং, একাডেমিক থটস এন্ড আইডিয়া শেয়ারিং হচ্ছে। এসব কর্মকান্ডের মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষাক্ষেত্রে সম্ভাবনার নব দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত ও সংখ্যাগত দু’দিক থেকেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে, জনগণের প্রত্যাশার চেয়েও বেশিকিছু অর্জিত হয়েছে
প্রফেসর ড. আল-নকীব চৌধুরী
উপাচার্য, পাবনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বর্তমান সরকার দুই মেয়াদে ৭ম বছর পূর্ণ করেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে তাতে আমি অত্যন্ত আশান্বিত ও আনন্দিত। সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা অনেক আগেই পূরণ করেছে। ইতোমধ্যেই জনগণের প্রত্যাশার চেয়েও বেশিকিছু করতে পেরেছে। গুণগত ও সংখ্যাগত দুই দিক থেকেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে। এখন আগের মতো চাল বাইরের দেশ থেকে কিনতে হয় না। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে, আমরা বাইরে রপ্তানিও করতে পারি। দেশে অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বিদ্যুৎ সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়েছে। একসময় ছিল যখন মানুষ বলতো, বিদ্যুৎ কখন আসবে? এখন লোডশেডিং নেই বললেই চলে। আইটি সেক্টর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এসব ইতিবাচক পরিবর্তনগুলোকে অব্যাহত রাখতে পারলে অচিরেই দেশ সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।
বিশ্বায়নের যুগে শিক্ষা অবশ্যই বিশ্বমান সম্পন্ন হতে হবে। আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষায় কারিকুলাম বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো করেই তৈরি করা হয়েছে। ফলে আমি মনে করছি আমরা ইন্টারন্যাশনাল স্টান্ডার্ড মেইন্টেন করার প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যেই লিপ্ত হয়েছি। তবে শিক্ষাদানের পদ্ধতিতে দ্রুত নজর দিতে হবে।
দেশের বিশ্ববিদ্যায়গুলোর প্রত্যেক অধ্যাপকের চেষ্টা করতে হবে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্তত একজন স্বনামধন্য প্রফেসরের সাথে যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক রাখা এবং গবেষণা বৃদ্ধি। যৌথ উদ্যোগ বা পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ হলে বাইরের গুণগত মানগুলো এদেশেও আসবে। গবেষণার ক্ষেত্রে যে আর্থিক অপ্রতুলতা রয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে হলে ইন্ডাস্ট্রির সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোলাবোরেশন দরকার। এজন্য দরকার জাতীয় পরিকল্পনার, জাতীয় উদ্যোগের।
আমার পরিবারে বাবা থেকে শুরু করে অনেকেই শিক্ষক। শিক্ষক পরিবারেই বেড়ে ওঠা, শিক্ষক পরিবারের সুখ দুঃখগুলো রক্তের সাথে মিশে থাকার কারণেই শিক্ষকতার প্রতি হয়তো এত টান। বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছের পাতা বদলে যাওয়ার মতোই নতুন ছাত্র-ছাত্রী আসে, একধরনের নতুন গতিময়তা লাভ করে। এই বৈচিত্রতা অত্যন্ত আকর্ষণীয়। মানুষ গড়ার কাজে সৃষ্টির আনন্দ, অন্যরকম এক পবিত্র সুখানুভূতি যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
সরকারের কাছে আমার অনুরোধ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরির জন্য যাতে আলাদা হেড করে টাকা দেয়া হয়, যাাতে করে গবেষণাগারগুলো আধুনিক ও উন্নত করা সম্ভবপর হবে। কেননা গষেণাগারের মাধ্যমেই জ্ঞান ইন্ডাস্ট্রিতে সঞ্চারিত হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ হচ্ছে, পড়াশুনা করে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হতে হবে, বিশ্বমানের যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষ হতে হবে, বাবা-মায়ের স্বপ্নের মানুষ হতে হবে। নিজেকে এমনভাবে তোমরা প্রস্তুত করবে যাতে দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে সক্ষম হবে।
উন্নতি ও অগ্রগতির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে সহসাই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ
অধ্যাপক ড. মোঃ কবির হোসাইন
সাবেক উপাচার্য, লীডিং ইউনিভার্সিটি সিলেট

বর্তমান সরকারের ৭ বছর পূর্ণ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী এবং বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নতি ও অগ্রগতির এই ধারা অব্যাহত থাকলে অতি সহসাই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। সরকার ঘোষিত ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১, দেশকে উন্নত দেশ হিসেবে দেখতে চাওয়ার লক্ষ্যে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আমি এজন্য আনন্দিত ও গর্বিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় শিক্ষামন্ত্রী দেশের আনাচে কানাচে সকলস্তরে যেভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকে দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে গড়ে তুলেছেন, তাতে শিক্ষার হার ও গুণগতমান বাড়বেই। এই শিক্ষিত মানুষেরাই দেশকে গড়ে তুলবে এবং দেশে-বিদেশে সুনাম বয়ে আনবে। শিক্ষার অগ্রগতির জন্য বিচক্ষণতার সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সময়োপযোগী পরিকল্পনা প্রণয়ন তথা শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য -আমি সংশ্লিষ্ট সকল মহল এবং জননেত্রী বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
এখন সকল স্তরের পাবলিক পরীক্ষাগুলো সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে, নকলমুক্তভাবে হচ্ছে। কিন্তু যখন হরতাল-অবরোধ চলেছে, পেট্্েরালবোমা মেরেছে; তখন সবাই শঙ্কিত ছিল শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া নিয়ে, ভবিষ্যত প্রজন্মের অগ্রগতির অন্তরায় নিয়ে। বাংলাদেশ পারে, বঙ্গবন্ধু পেরেছিলেন, আমরাও শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে পারব। এজন্য দেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে, দেশ ও জনমানুষের স্বার্থে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। যাতে কোনো অবস্থাতেই আমাদের শিক্ষা খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। গুণমান সম্পন্ন শিক্ষার জন্য অবশ্যই ভালো, মেধাবী, পরিশ্রমী ও অভিজ্ঞ শিক্ষক দরকার। যিনি শিক্ষাদান ও গবেষণায় জড়িত থেকে শিক্ষার মানটাকে উপরে নিয়ে যাবেন। এখন আমাদেরকে শিক্ষা ও গবেষণায় এমনভাবে নজর দিতে হবে যাতে করে আমাদের মানবসম্পদ আমাদেরকে ছেড়ে না যায়।
আপনার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে মূল্যবান পরামর্শ দিন -এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মোঃ কবির হোসাইন বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের প্রধান উদ্দেশ্য লেখাপড়া করা। এক সময় ছাত্রছাত্রীরা রাজনীতির মাধ্যমে দেশের প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ দিয়েছে, দেশকে গড়ে তুলতে ক্যারিয়ারও বিসর্জন দিয়েছে। এখন দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেয়া এবং নিজেদেরকে সম্মান ও মর্যাদার সাথে টিকিয়ে রাখতে পড়াশুনার বিকল্প নেই। এছাড়া দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মন-মানসিকতা, মানবিক ও নৈতিক গুণাবলী সম্পন্ন হওয়ার মধ্যে জীবনের পরম স্বার্থকতা খুঁজে পাওয়ার মনোভাব তাদের থাকবে। অন্যদেরকে উপলব্ধির মতো মন থাকবে, দেশের মাটি ও মানুষের অনুভূতি হৃদয়াঙ্গম করতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়াশুনা করে তারা সিলেবাসের বাইরেও গোটা বিশ্ব সম্পর্কে জানবে। ছাত্রছাত্রীদের এগিয়ে যেতে হলে, তাদের নজর রাখা উচিৎ সিনসিয়ারিটি ও সততার দিকে। তাদের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করা উচিৎ। যাতে দেশ, দেশের মাটি ও দেশের মানুষের জন্য ভবিষ্যতে ভালো কিছু করতে পারে।
সহজলভ্য ইন্টারনেট, মোবাইলে থ্রিজি এর কারণে বিশ্ব একেবারেই হাতের মুঠোয়, যা’ সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ
মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক

দিন বদলের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, সেই প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণরূপে পূরণ হয়েছে। দিন বদল অবশ্যই হয়েছে; আগে দিন ছিল এনালগ, এখন হয়েছে ডিজিটাল। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল শহর থেকে গ্রামে সবাই পাচ্ছে। ঘরে বসে দেশে-বিদেশে তথ্য বিনিময়সহ। অনলাইনে প্রয়োজনীয় অনেক কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। ইন্টারনেট আর থ্রিজি’র কারণে বিশ্ব একেবারেই হাতের মুঠোয়। এই ইতিবাচক পরিবর্তন ও ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সত্যিই যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হবে। বর্তমানে যেভাবে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ভিত্তিক তৎপরতা জীবনকে প্রভাবিত করছে, এক দশক আগে এটা অনেকের কল্পনায়ও ছিল না। এখন ব্রডব্যান্ড ও ব্যান্ডউইথ এর দামটাকে আরেকটু সহনীয় করতে পারলে এক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে।
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের কার্যক্রমেও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। সরকারি ব্যাংকের আইটি খাত উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রজেক্টে এ ব্যাংকের অন্তর্ভূক্তির ফলে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে যাওয়ার এ ব্যাংকের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন আজ বাস্তবায়নের পথে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে ব্যাংকিং সেক্টরকে ডিজিটালাইজড করার ক্ষেত্রে আন্তরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। আনসার ভিডিপির ৬০ লাখ লোকের দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা নিশ্চিতকরণে এই ব্যাংকটি ভূমিকা রাখছে। এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারছে। আমি এই ব্যাংকের ২১৯টি শাখার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে, যিনি বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোকে গতিশীল ও শক্তিশালী করতে আন্তরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। ২১ বছরেও এই ব্যাংকটির নিজস্ব বিল্ডিং ছিল না। ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী একটি যুগান্তকারী অনুশাসন দিয়েছেন বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর হেড অফিস একই ছাদের নীচে করতে। দিন বদলের সরকার এসেছিল বলেই আমি দিন বদল করার কাজে হাত দিয়েছি, এতে ব্যাংকটিরও ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। সামগ্রিক কর্মকান্ডে এসেছে অভাবনীয় গতি।
শিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। বছরের প্রথম দিনেই বিনামূল্যে সকল পাঠ্যবই পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষাগুলো সময়মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সময়মতো রেজাল্টও বের হচ্ছে। আগে মেয়েরা পড়াশুনায় অনগ্রসর ছিল, এখন উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন প্রণোদনার কারণে মেয়েদের শিক্ষিত করার ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতনতা বেড়েছে এবং মেয়েরাও শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়েছে।
দেশপ্রেমী প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের কষ্ঠার্জিত উপার্জন দেশে পাঠাচ্ছে। বাড়ছে রেমিটেন্স, বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ হচ্ছে সুনিশ্চিত। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে। বাংলাদেশে ফরেন কারেন্সির রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ বিলিয়ন ডলার যা ৮ মাসের আমদানী বিল পরিশোধে সক্ষম। জিডিপি’র আকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বে ৫৮তম অবস্থান নিয়েছে। আজ এ অর্থনীতি তথাকথিত ‘বটমলেস বাস্কেট’ অবস্থায় নেই বাংলাদেশি যারা বিদেশে বিভিন্ন সেক্টরে সাফল্য লাভ করেছেন, কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তাদেরকে দেশের প্রয়োজনে ও জাতির উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারলে উন্নয়নের এই গতিধারা আরো বেগবান হবে।
একসময় বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত ছিল। বলা হতো অনুন্নত দেশ, তারপর বলা হতো উন্নয়নকামী দেশ। নিম্ন বা গরিব দেশ থেকে এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের বড় অবদান রয়েছে। আমরা যদি দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠাতে পারি তাহলে রেমিটেন্স আরো বাড়বে। গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে পারলে শিল্প-কারখানা আরো গড়ে উঠবে, বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে।
সরকারের দিক নির্দেশনার ফলেই পৌরবাসীর জীবনযাত্রা সহজ ও সুন্দর হয়েছে
প্রশান্ত কুমার রায়
সাবেক মেয়র, নেত্রকানা পৌরসভা

৭ম বর্ষে পদার্পণ করেছে দিন বদলের সরকার। এই সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়েই যাত্রা শুরু করেছিল। এরই অংশ হিসেবে নেত্রকোনা পৌরসভায় জনমানুষকে ডিজিটাল সেবা প্রদান করা হচ্ছে। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, কর, ভ্যাট, লাইসেন্স সংক্রান্ত সেবাগুলো কম্পিউটারাইজড হয়েছে। এই ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বা দ্রুততর সেবা প্রদান নিশ্চিত হয়েছে। যেগুলোর জন্যে একসময় দিনের পর দিন মানুষকে অপেক্ষা করতে হয়েছে, ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এখন যেমন কাজে স্বচ্ছতা এসেছে, স্বল্প সময়ে প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছে, সেবা কেন্দ্রে এসে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ পাচ্ছে। সরকারের দিক নির্দেশনার ফলেই জনসাধারণের জীবনযাত্রা সহজ ও সুন্দর হয়েছে।
নেত্রকোনার হাওর অঞ্চল থেকে আগে তিন দিনের সময় নিয়ে জেলা শহরে আসতো মানুষ। এখন প্রত্যন্ত সেসব অঞ্চল থেকে শহরে এসে দিনের কাজ শেষে দিনেই ফিরে যেতে পারছে। এটা সরকারের একটা বড় সফলতা। বর্ষায় এসব অঞ্চলে ট্রলার চলে, লঞ্চ চলে আবার শীত মৌসুমে রাস্তাও তৈরি করে দিয়েছে সরকার। কৃষি নির্ভর এই জেলাটিতে পর্যাপ্ত মিল-কারখানা গড়ে ওঠেনি। তাই অর্থনৈতিক টানাপোড়নের মধ্য দিয়েও এই জেলা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। আগের দিনগুলোর চেয়ে অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। সরকারের নানামুখী সহায়তা এবং উদ্যোগের ফলে এই জেলায় এখন শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কমেছে। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিরা কাজ করে যাচ্ছে। অতি সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে। আমি মনে করি এ উদ্যোগ অত্যন্ত সফল ও সার্থক হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষায় আমাদের এগিয়ে যাবার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
এই জেলা একসময় সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে প্রগতির একটি উর্বর জায়গা ছিল, অর্থনৈতিক সাপোর্ট না থাকার কারণে এই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডগুলো একেবারেই ঝিমিয়ে পরেছে। যেখানে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলা নেই সেখানেই জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে। সরকার যদি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প দিয়ে সহযোগিতা করে তাহলে এ জেলা সমাজ প্রগতির চারণভূমি হবে বলে বিশ্বাস।
বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে বর্তমান সরকার একসঙ্গে সাড়ে ৪ হাজারের ওপর ওয়েব পোর্টাল উদ্বোধন করেছিল। যা’ দিন বদলের সরকারের অন্যতম সাফল্য
ড. তরুণ কান্তি শিকদার
জেলা প্রশাসক ও সরকারের যুগ্ম সচিব, নেত্রকোনা

বর্তমান সরকার প্রথম থেকেই যে নতুন দিক নির্দেশনা নিয়ে দেশ পরিচালনা শুরু করেছিল তা’ হচ্ছে ভিশন ২০২১। যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টার বিশেষ তত্ত্বাবধানে আমরা সরকারি কর্মকর্তাগণ আইসিটিতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রচুর কাজ করছি। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে বর্তমান সরকার একসঙ্গে সাড়ে চার হাজারের ওপর ওয়েব পোর্টাল উদ্বোধন করেছিল। এই ওয়েব পোর্টালগুলো শুধু উদ্বোধনই নয়, এখনও কার্যকর আছে এবং এসব ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে আমরা বিভিন্নভাবে দেশ-বিদেশে সংবাদ আদান-প্রদান করে যাচ্ছি।
ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম আরেকটি দিক হচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন। এই জেলাতেই ৪৬টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম স্থাপন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ৭৬টি স্কুলের শিক্ষকদের ল্যাপটপ প্রদান করা হয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদারকে ল্যাপটপ, মডেম এবং স্ক্যানার সরবরাহ করা হয়েছে পুরাতন রেকর্ডগুলোকে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণ করার জন্যে। তাছাড়া ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে জেলার তথ্য জাতির কাছে তুলে ধরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই ৭ বছরে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতেও সরকারের অর্জন ব্যাপক। গতবছর থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে অনলাইনে ভর্তির কার্যক্রম চালু হয়েছে। এখন পরীক্ষার রেজাল্ট মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে হাতে হাতে চলে যাচ্ছে। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম তখন রেজাল্ট পাওয়াটা খুব কঠিন ছিল। আমি ইন্টারমিডিয়েটের রেজাল্ট পেয়েছিলাম তিন দিন পর। আর এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে যখন রেজাল্ট সমর্পণ করা হয় তার ৫/১০ সেকেন্ড পরে আমরা রেজাল্ট পেয়ে যাই। সরকারের আরেকটি বড় সাফল্য হচ্ছে, বছরের প্রথম দিন বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে কোটি কোটি বই বিতরণ। এই অভাবনীয় উদ্যোগ সফল হয়েছে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনার আলোকেই।
এমডিজির অন্যতম একটি লক্ষ্য ছিল, প্রাথমিকে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করা। আমরা ১০০ ভাগ না হলেও ৯৯ ভাগ পর্যন্ত এনরোলমেন্ট করতে সক্ষম হয়েছি। ড্রপ আউট রোধ করতে পেরেছি। তাছাড়া প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
শিক্ষাকে আরও গতিশীল ও বেগবান করার প্রতিবন্ধকতার ব্যাপারে ড. তরুণ কান্তি শিকদার বলেন, প্রতিবন্ধকতা সবকাজেই কিছু না কিছু থাকে। আমাদের দেশের অসুস্থ রাজনৈতিক ধারাও এক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা। আমরা যদি রাজনৈতিকভাবে সমঝোতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত করতে পারি তাহলে আমার মনে হয় যে, কোনো প্রতিবন্ধকতাই আসলে প্রতিবন্ধকতা নয়। এজন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে প্রথমে দেশ গড়ার শপথে এগিয়ে আসতে হবে বলে আমি মনে করি। কারণ উন্নয়নের যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে সেই ধারাবাহিকতাই বজায় রাখা হচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন আমরা মধ্যম আয়ের দেশের সোপানে পা দিয়েছি। স্বাভাবিক কারণে আগে আমরা যে সমস্ত অনুদান বিভিন্ন দেশ থেকে পেতাম, সেগুলো এখন বন্ধ হয়ে যাবে, অনেকাংশে কমিয়ে দিবে তারা। ফলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে আমাদের নিজেদেরকে আরও অধিকতর স্বাবলম্বী হতে হবে।
এছাড়া টেকসই উন্নয়নের যে সমস্ত ধারণাগুলো আছে সেগুলোকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। আমাদের ভূমির ব্যবহারকে সীমাবদ্ধ করতে হবে। গ্রামে-গঞ্জে যত্রতত্র যেসমস্ত বাড়ি তৈরি হচ্ছে সেগুলোতেও সরকারকে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমি মনে করি। কারণ ক্লাস্টার ভিত্তিক বাড়ি না করলে কৃষি জমির উপযোগিতা নষ্ট হয়ে যাবে। নগরায়নের কারণে সারা বিশ্বে প্রতিবছর ১ভাগ জমি কৃষি কাজ থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। কৃষি জমির পরিমাণ যেভাবে কমে যাচ্ছে এটাকে যতটা সম্ভব প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষাকে আমরা সম্প্রসারণ করতে পেরেছি তবে সম্প্রসারণ করতে যেয়ে শিক্ষার গুণকে অনেক ক্ষেত্রে সংকোচন করে ফেলেছি। গুণগত শিক্ষা চাইলে সর্বপ্রথমে শিক্ষক নিয়োগের দিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ একজন খারাপ শিক্ষক নিয়োগ দিলে তার কুফল কমপক্ষে ৩০ বছর জাতিকে পোহাতে হয়। আমি সবসময় শিক্ষক নিয়োগদানের ক্ষেত্রে গুণটি বিচার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। বিভিন্ন সময়ে নানান ধরনের প্রেসারের কারণে এই কাজটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। যার ফলে গুণগত শিক্ষক নিয়োগ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে আমাদেরকে আরো বেশি কাজ করতে হবে। শিক্ষকদের অনেকে শিক্ষা প্রদানের মূল কাজ ছেড়ে কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছেন। এমতাবস্থায় শিক্ষকের যে চাহিদা আছে তা’ আমাদেরকে বুঝতে হবে, তাকে একটি মানসম্মত আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে। যাতে বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার এবং জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু বললেই হবে না যে, আমরা গুণগত শিক্ষা দিব। শিক্ষক না খেয়ে গুণগত শিক্ষা দিতে পারবে না। তাই প্রয়োজনীয় ফ্যাসিলিটিগুলো বৃদ্ধি করাও শিক্ষকদের জন্যে প্রয়োজন। গুণগতমানের শিক্ষার জন্য এ জেলায় স্কুল-কলেজ করা ছাড়াও বেশকিছু কাজ করেছি। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্কুলগুলোতে ভিজিট করে দেখতাম দুর্গম এলাকার অনেক প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষকগণ সময় মতো স্কুলে যান না। এটিকে প্রতিরোধ করার জন্য আমার কর্মকর্তাদের এবং আমি নিজেও স্কুলগুলোতে ভিজিট করি। একবছরে আমি নিজেই প্রায় ১০০ এর ওপরে স্কুল ভিজিট করেছি। শিক্ষকদের স্কুলমুখী করতে নানান ধরনের প্রণোদনা দিয়েছি। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সাথে বসে তাদেরকে যথাসময়ে স্কুলে এসে ছেলেমেয়েদেরকে আন্তরিকভাবে পড়ানোর ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেছি এবং তাতে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। আমি এখানে এসে দেড় বছর আগে প্রাথমিক শিক্ষায় ড্রপ আউট পেয়েছিলাম ১১ ভাগ। বর্তমানে সেটি ৬ ভাগে নেমে এসেছে। এটি আমি মনে করি একটি বড় সাফল্য।
আমরা শিক্ষার্থীদেরকে স্কুলমুখী করতে মোহনগঞ্জে হাওর অঞ্চলে শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় নামে একটি মহাবিদ্যালয় করেছি। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাজ্জাদ হোসেন সাহেবের বাড়ি ঐখানে। তার বিশেষ নির্দেশনায় এবং সহযোগিতায় অতি অল্প সময়ের মধ্যে কলেজটি করতে সক্ষম হয়েছি। এই অর্থবছরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পুরানো কালেক্টরেট ভবনের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করে নেত্রকোনা কালেক্টরেট স্কুল নামে একটি স্কুল চালু করেছি। যেখানে এবার ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। আমরা আশা করি নেত্রকোনা শহরে সরকারি স্কুলগুলোতে যে চাপ সেটি কমিয়ে একটি মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার মূল উদ্দেশ্য কালেক্টরেট স্কুল কিছুটা হলেও পূরণ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও শিক্ষামন্ত্রীর অক্লান্ত পরিশ্রমে শিক্ষাক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অর্জন সম্ভব হয়েছে
অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম
সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বর্তমান সরকার তার শাসনের ৭ বছর পূর্ণ করেছে। বিগত বিএনপি-জামায়াতের সময় শিক্ষাব্যবস্থায় উন্নতি ও অগ্রগতি থমকে গিয়েছিল। অথচ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও শিক্ষামন্ত্রীর অক্লান্ত পরিশ্রমে শিক্ষাক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে শিক্ষার সকল স্তরে ক্লাসরুমগুলোকে ডিজিটাল ও মাল্টিমিডিয়াসমৃদ্ধ করার যে সাহসী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রধানমন্ত্রী এই প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়ে সমাজের বিত্তবানদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম তৈরিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারের নীতিনির্ধারকদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ও দূরদৃষ্টির কারণে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আইটি নির্ভর হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষক খুব সহজেই শিক্ষার্থীদের বুঝাতে পারছেন আর শিক্ষার্থীরাও আনন্দের সাথে আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। ফলে সময়ও কম লাগছে আবার ভালো মানের পাঠদানও নিশ্চিত হচ্ছে। আধুনিক শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার মেধা বিকাশেও সহায়ক হচ্ছে আবার ভূমিকা রাখছে চিন্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে। এখন দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে গবেষণা বরাদ্দ বৃদ্ধিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তখন মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আসার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা ছিল। আমার বাবা বড় ব্যবসায়ী ছিলেন না, কিন্তু লেখাপড়ার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। বাবা-মায়ের আশা ও আগ্রহ আমাকে শিক্ষকতা পেশায় আসতে উৎসাহিত করেছে। বর্তমানে জীবন-যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টেছে। তাই মেধাবী হলেই শিক্ষকতায় আসবে এমনটি ভবা যায় না। তাই শিক্ষকদের সামাজিকভাবে ও আর্থিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে তবেই মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী হবে। তবে আশার কথা, বর্তমান সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দ্বিগুণ করায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুণগতমান সম্পন্ন শিক্ষক পাওয়া এখন আর কঠিন হবেনা বলেই আমি মনে করি।
টুঙ্গিপাড়ায় একটি আইটি ইউনিভার্সিটি করার ব্যাপারে আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম যেটির নাম দেয়া যেতে পারে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান আইটি ইউনিভার্সিটি। আরেকটি ব্যাপারে আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি -বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান মেডিকেল হসপিটাল স্থাপন। ব্যাঙ্গালোরের স্টাইলে বিশেষায়িত এই হসপিটালটি এমনভাবে করতে হবে যা’ বাংলাদেশের অন্য কোথাও নেই। তাহলে কিছু বিশেষ রোগের চিকিৎসার জন্য সারাদেশ থেকে মানুষ সেখানে যাবে। পদ্মা সেতু আর ফোর লেন কানেক্টিভিটি হয়ে গেলে মানুষ সেখানে খুব সহজেই যেতে পারবে। স্বল্প সময়ে, স্বল্প ব্যয়ে মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সরকারের কাছে আমার প্রত্যাশা হলো, আমরা যে গবেষণা বরাদ্দ চাই সেগুলো দিতে হবে। আমি উপদেষ্টা থাকাকালীন সরকারের কাছে চুয়েটকে সেন্টার অব এক্সসেলেন্স হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রায় সাড়ে চারশ’ কোটি টাকার একটি প্রজেক্ট একনেক-এ জমা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় যদি এই প্রজেক্ট পাস হয়, তা’হলে বাংলাদেশে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
শিক্ষায় উন্নতির সুযোগে নিম্নবিত্ত বা অতি দরিদ্র ঘরের সন্তানরাও যেভাবে জনসম্পদ হয়ে গড়ে উঠতে পারছে এটা সরকারের একটি বড় সাফল্য
অধ্যাপক ড. আবুল খায়ের
ট্রেজারার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

বর্তমান সরকারের সাত বছরে সব সেক্টরেই ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ায় জনগণের প্রবল প্রত্যাশা ছিল মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলসাম এবং মানবতা বিরোধী যুদ্ধ অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে। গণমানুষের কাঙ্খিত প্রত্যাশা অনুযায়ী স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদী শাস্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এছাড়া খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং উদ্বৃত্ত খাদ্য বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। কৃষিক্ষেত্রসহ সকলক্ষেত্রে সরকার সাফল্য অর্জন করেছে। শিক্ষাব্যবস্থা আমূল পরিবর্তন করে নবদিগন্তের সূচনা করা হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন করে অতিতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। যোগাযোগ খাতে স্বপ্নের পদ্মাসেতু নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসী সিদ্ধান্ত সকল বাধা বিপত্তি দূরে ঠেলে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সড়ক যোগাযোগ ফ্লাইওভার নির্মান, মেট্রো রেল লাইন স্থাপনসহ দেশব্যপী গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে চার লেনে উন্নীত করা সাফল্যের সাক্ষর রেখে যাচ্ছে।
গ্রামীণ অর্থনীতিকে মজবুত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা, ভিজিডি, ভিজিএফ, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যাক্ত ভাতা, বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হয়েছে। ভঙ্গুর বিদুৎ ব্যবস্থাকে সচল করে বর্তমান সরকার জনগণকে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। বন্ধ কল-কারখানা পুনরায় চালু করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠি ও সাধারণের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে যথেষ্ঠ সাফল্য অর্জন করেছে। স্বাস্থ্যসেবা জনগনের দোরগোড়ায় নেয়ার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রতি জেলায় ১টি করে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অঙ্গিকার করেছেন। নাশকতাকারীদের কঠোর হস্তে দমন করে দেশ ও জাতিকে স্থিতিশিলতায় নিয়ে এসেছেন। সরকার বাংলাভাই সহ জঙ্গীবাদ নির্মূলে যথেষ্ঠ সাফল্য অর্জন করেছেন। বিএনপি-জামাত এর নাশকতাকে জনগনের সহায়তায় প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে সরকার। সংবিধান রক্ষা করে সাধারন নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহন করে শেখ হাসিনার সরকার সাফল্য লাভ করে। আইনি লড়াইয়ে বার্মা ও ভারতের সাথে সমুদ্র লাভ করে বিজয় অর্জন করে। এছাড়া দীর্ঘদিনের ভারতের সাথের ছিটমহলের সমস্যা সমাধানে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
সরকারের ব্যর্থতা বলতে প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক কার্যক্রমে আস্থায় এনে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে সক্ষম হয়নি। দুর্নীতিকে অনেকটা নিয়ন্ত্রনে এনেছে। কতিপয় অসাধু, আমলা ও হাইব্রিড রাজনৈতিক কর্মীদের কারনে কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জন হয়নি।
বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে
অধ্যাপক আবু বক্কর ছিদ্দিক
সাবেক চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা

৮ম বর্ষে পদার্পণ করছে দিনবদলের সরকার। এই সরকার দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যে সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। ভিশন ২০২১ অর্জনের লক্ষ্যে গৃহীত কর্মকান্ডে সামনের দিকে অনেকদূর এগিয়েছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রয়াস দেশবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় উপহার।
শিক্ষাক্ষেত্রে ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিটি কার্যক্রম এখন অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে দেশ তাতে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন এখন বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। সৃজনশীল পরীক্ষার পদ্ধতি ও দ্রুত পরীক্ষার ফলাফল প্রদান, অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম, পাঠ্যপুস্তক আধুনিকায়ন ও বিনামূল্যে বিতরণ, সেশনজট দূর করা, নারী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান, পাবলিক পরীক্ষা যথাসময়ে শুরু ও শেষ করা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান এসবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
শিক্ষাবান্ধব শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে শিক্ষার্থী। নারী বান্ধব নীতির ফলে বাড়ছে মেয়ে শিক্ষার্থীদের হার। শিক্ষায় জেন্ডার সমতা অর্জিত হয়েছে। জেএসসি পরীক্ষায় ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যা বেড়েছে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় মেয়েদের সংখ্যা ছেলেদের কাছাকাছি। এসবই প্রমাণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক শিক্ষার্থীদের আগ্রহ-উদ্দীপণা বাড়ছে। সরকার প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারেও যথেষ্ট আন্তরিক। ইংরেজি, গণিত এবং বিজ্ঞান বিষয়ের শ্রেণি শিক্ষকরা দূর্বল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা যত্ন নিয়ে থাকে। সর্বস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এসব ইতিবাচক পরিবর্তন করা সরকারের বিরাট অর্জন।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও দেশ যথেষ্ট এগিয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ৯২টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বাড়ছে। ঢাকা বোর্ডে স্কুল এন্ড কলেজ আছে সাড়ে এগারশ’, মাদ্রাসাসহ প্রতিনিয়ত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রতিষ্ঠান আছে সাড়ে ৮ হাজার। কারিগরি শিক্ষা, মাদরাসা শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা ও বিজ্ঞান শিক্ষায় সার্বিক উন্নতি হয়েছে। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।
আমি শিক্ষকতা পেশায় এসেছি এই পেশাকে ভালোবেসে। শিক্ষকতা পেশায় যে আনন্দ আছে, নিজেকে প্রকাশ করার যে সুযোগ আছে তা অন্য কোনো পেশায় নেই। শিক্ষক নিজের চিন্তা-চেতনা ও ধ্যান-ধারণা শেয়ার করার সুযোগ পান। শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা, আন্তরিকতাপূর্ণ সম্মান ও মূল্যায়ন শিক্ষকদের অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত করে। কোন শ্রেণি শিক্ষক বেশি প্রিয় এই বিচার শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই করতে পারেন। স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি, ধারণা, মতামত ও বক্তব্যকে যেভাবে শিক্ষকতা পেশায় এলে তুলে ধরা যায়, অন্য পেশায় সেভাবে সম্ভব নয়। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে আমার পরামর্শ হচ্ছে, শিক্ষক তাঁর আচার-ব্যবহার ও পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে আকৃষ্ট করবেন। শ্রেণিকক্ষে বিষয়বস্তু ভালোভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে জ্ঞান আহরণে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সৃষ্টি করবেন। শিক্ষকরা চেষ্টা করবেন শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা সম্পন্ন করে গড়ে তুলতে। শিক্ষক চেষ্টা করবেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাতে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়, ভাল-মন্দের পার্থক্য তৈরি হয়, মানবিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে, সততার সাথে চলার বোধ জাগ্রত হয়। শিক্ষক ভর্তি বাণিজ্য ও কোচিং বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত হবেন না। শিক্ষক যখন শ্রেণিকক্ষে যাবেন শিক্ষার্থীকে ভালোভাবে শেখাবেন, পরীক্ষার হলে গেলে দক্ষ পরিদর্শক হিসেবে যাবেন, শিক্ষার্থীদের পারফরমেন্স মূল্যায়নে সঠিক বিচার করবেন। কখনো অনৈতিক পথে পা বাড়িয়ে বিতর্কিত হবেন না, সকল শিক্ষার্থীদের প্রতি একইধরনের দৃষ্ঠিভঙ্গি রাখবেন, কোনো প্রকার বৈষম্যমূলক আচরণ করবেন না। ধনীর সন্তানকে বেশি গুরুত্ব দান, গরীবের সন্তানকে অবহেলা, প্রাইভেট পড়লে বেশি নাম্বার দেয়া, নকলের সুযোগ দেয়া কিংবা প্রশ্ন বলে দেয়ার মতো অযৌক্তিক কর্মকান্ড করবেন না। যদি কোনো শিক্ষার্থী শারীরীকভাবে বা আর্থিকভাবে দুর্বল, অমেধাবী বা পড়াশুনায় অমনোযোগী হয়; তাহলে তাকে বিশেষভাবে কেয়ার নিয়ে মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় উপদেশ-নির্দেশনা-শ্রম দিতে হবে। শিক্ষক হচ্ছেন একজন অভিভাবক, জাতির গৌরবোজ্জল সন্তান। তিনি শিক্ষাকার্যক্রমে অনেক আন্তরিক হবেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি অনেক দরদী হবেন। একসময় ছাত্র-শিক্ষকের যে মধূর সম্পর্ক ছিল সেটি যাতে এখনও বজায় থাকে সে বিষয়ে সচেষ্ট হবেন।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ