বিশেষ খবর

বীমা শিল্পের কিংবদন্তী নাসিরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে সততা পুরস্কার-সম্মাননা

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রচ্ছদ প্রতিবেদন
img

আশ্চর্য-অনুকরণীয় তিনি সর্বক্ষেত্রে
সুদীর্ঘ কর্মজীবনের বন্ধুর পথচলায় অসীম সাহস ও অতুলনীয় দূরদর্শীতার সাথে তিনি ক্রমাগত এগিয়ে চলেছেন, উত্তরসূরিদের জন্য নির্মাণ করেছেন স্বচ্ছন্দ চলার পথ। তাঁর নির্মিত পথেই জাতীয় অর্থনীতিতে বীমা শিল্প রেখে চলেছে উল্লেখযোগ্য অবদান। বাংলাদেশের বীমাশিল্পে অনন্য সাধারণ গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত এক জীবন্ত কিংবদন্তি তিনি। কেবল বীমা শিল্পেরই স্বপ্নদ্রষ্টা নন, প্রগতিশীল ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থারও স্বপ্নচারী, একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক, এদেশের শিক্ষা, সাংবাদিকতা ও শিল্প-সাহিত্য-ক্রীড়া অঙ্গন তাঁর অকৃপণ পৃষ্ঠপোষকতায় ধন্য; তিনি গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ফাউন্ডার নাসির এ চৌধুরী।
সাফল্য-যশ আর সুকৃতি দেশে-বিদেশে অসংখ্য স্বীকৃতি
সৌম্যকান্তি, নিরহংকার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বীমাব্যক্তিত্ব নাসির এ চৌধুরীর কাছে এ দেশের বীমাশিল্প অনেকাংশে ঋণী। আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক, ক্যারিয়ারিস্ট বীমা সংগঠক হিসেবে সকলের শ্রদ্ধার পাত্র এ ব্যক্তিত্ব আধুনিক বীমাশিল্পের পথিকৃৎ। এ শিল্পের পুনঃবীমা অঙ্গনে তিনি একজন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুপরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল হুজ হু হিস্ট্রিক্যাল সোসাইটি ২০০৭ সালে তাঁকে হুজ হু ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কনফারেন্সে অংশ নিয়ে একদিকে আধুনিক বীমার ধারণাকে বিকশিত করেছেন সাথে সাথে বাড়িয়ে তুলেছেন দেশের পরিচিতি। বীমাশিল্পে সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে নাসির এ চৌধুরী দু’বার বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ব্যবসায়ী সমাজের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এফবিসিসিআই’র পরিচালক, বাংলাদেশ-জার্মান কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির কার্যকরী সদস্য এবং ডেল্টা-ব্রাক হাউজিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর ফাউন্ডার নাসির এ চৌধুরী বীমাশিল্পে তাঁর কর্মজীবনের ৫৬ বছর পূর্ণ করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অন্যদিকে তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর ৩০ বছর পূর্তিও একটি বিরল ঘটনা। ব্যক্তিত্ব, অধ্যবসায় এবং পেশাগত উৎকর্ষের গুণে তিনি লাভ করেছেন অসাধারণ সাফল্য, যা তাঁকে পরিণত করেছে চৌকস বীমা ব্যক্তিত্বে।
গ্রীন ডেল্টা গ্রীন প্রতিষ্ঠাতা
নাসির এ চৌধুরীর নিজের শ্লোগান খরশব ঃযব পড়ঁহঃৎু বি ধৎব মৎববহ. ৮০ পেরিয়েও এই ঊাবৎমৎববহ কর্মোদ্যমী ও কর্মযোগী মানুষটি অক্লান্তভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে চলেছেন, যা দেশের যুবসমাজের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর ঈর্ষণীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে কর্মে একাগ্রতা, শ্রম ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কর্মপরিচালনা।
আউলিয়া ও জমিদার বংশধর নবাবপুত্র নাসির এ চৌধুরী
পূণ্যভূমি আর অনন্য নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাক্ষেত্র সিলেট শহর থেকে দশ কিলোমিটার দূরে দাউদপুর গ্রামে ১৯৩৪ সালের ১ ডিসেম্বর নাসির এ চৌধুরীর জন্ম। তাঁর পূর্বপুরুষ হজরত শাহ দাউদ কোরাইশী (রাঃ) ছিলেন উপমহাদেশের বিশিষ্ট ইসলাম ধর্ম প্রচারক হজরত শাহ জালাল (রাঃ) এর সহযাত্রী ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম; ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে সিলেট অঞ্চলে এলে হজরত শাহ জালাল (রাঃ) এর নির্দেশে এ অঞ্চলে আস্তানা স্থাপন করেন। তাঁরই নামানুসারে পরবর্তীতে এর নাম হয় দাউদপুর। নাসির এ চৌধুরীর পিতা খান বাহাদুর গউসউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন সেই আউলিয়ার বংশধর। তিনি ছিলেন জনদরদি জমিদার। ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি আসাম লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। সুনামগঞ্জের লক্ষণছড়ির জমিদার ও প্রখ্যাত মরমি কবি হাছন রাজার সাথে তাঁদের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল।
ভাষা সৈনিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী
ছোটবেলা থেকে নাসির এ চৌধুরী ছিলেন মেধাবী এবং যেকোনো ভালো কাজে প্রবল উৎসাহী। তাঁর শিক্ষাজীবনের প্রাথমিক দিনগুলো কাটে গ্রামের এমই স্কুলে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে নাসির এ চৌধুরী ভর্তি হন সিলেট গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে। সেই কিশোর বয়সেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তখন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলছে; তাই ‘লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান’ এ সেøাগানে উচ্চকিত ছিল নাসির চৌধুরীর কিশোর কন্ঠ। দৈনিক আজাদ পত্রিকার পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হতো ছোটদের পাতা ‘মুকুলের মহফিল’ যার পরিচালক ছিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক-সাহিত্যিক মোহাম্মদ মোদাব্বের। ‘বাগবান’ এ ছদ্মনামে তিনি মুকুলের মহফিল পরিচালনা করতেন। প্রখ্যাত রাজনীতিক মাহমুদ আলী সম্পাদিত ‘নও বেলাল’ পত্রিকার ছোটদের পাতা সম্পাদনার দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। সংগঠক হিসেবে পরিচালনা করতেন মুকুল ফৌজ। তাঁর এসব কাজে সার্বিক সহযোগিতা দিতেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু বর্তমান অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত এবং সাবেক শিক্ষা সচিব হেদায়েত আহমদ। স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের ঢেউ সিলেটেও আছড়ে পড়লে বন্ধুদের নিয়ে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যোগ দেন নাসির চৌধুরী।
প্রগতিশীল যুব-রাজনীতিক কিন্তু কর্মজীবনে অরাজনৈতিক
শিশু-কিশোর সংগঠন মুকুল ফৌজ এর কাজ এবং সাহিত্য চর্চার ফাঁকে ফাঁকে নাসির এ চৌধুরী রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পাকিস্তান আন্দোলনই তাঁকে এবং তাঁর অন্যান্য বন্ধুবান্ধবকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত করে। পাকিস্তান আন্দোলনের অন্যতম স্তম্ভ ছাত্র-সমাজ দু’টি ধারায় বিভক্ত ছিল। বামঘেঁষা প্রগতিশীল ধারা এবং রক্ষণশীল ইসলামপন্থী ধারার মধ্যে নাসির চৌধুরী ছিলেন প্রগতিশীল ধারার সদস্য। নাসির চৌধুরী রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার ইতি টানেন ছাত্রজীবনেই। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতা এখনও বহাল রয়েছে। ব্যবসায়িক জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি সমসাময়িক রাজনীতির খোঁজ-খবর রাখেন; ঘনিষ্ঠ মহলে রাজনীতির আলোচনা ও বিশ্লেষণ করেন। তবে পেশাগত জীবনে বা কর্মকান্ডে তাঁকে কোনো রাজনৈতিক দলের লোক বলে মনে হয় না এটি নাসির এ চৌধুরীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর নাসির এ চৌধুরীকে পাঠানো হয় ময়মনসিংহে। সেখানে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ পাস করেন তিনি। এরপর চলে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদার প্রাঙ্গণে। ফজলুল হক হলে থেকে নাসির চৌধুরী সে সময়ের গৌরবময় ইসলামিক ইতিহাস বিভাগ থেকে এম এ পাস করেন।
বিভিন্ন দেশে উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে এবং স্বাধীনতা উত্তর বীমাশিল্প পুনর্গঠনে
বর্ণিল অভিজ্ঞতা ও বিরল সাফল্যে ভরপুর নাসির চৌধুরীর কর্মজীবন। এমএ পাসের পরপরই কর্মজীবন সম্পর্কে ভাবতে শুরু করেন তিনি। খবরের কাগজে পাকিস্তান ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশনে (পিআইসি) শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করেন। নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৫৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পাড়ি জমান পশ্চিম পাকিস্তানের করাচিতে। করাচিতে প্রশিক্ষণ শেষে আরও উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য সুদূর ইংল্যান্ডে যান। ইংল্যান্ডে এক বছরের প্রশিক্ষণ শেষে ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্স্যুরেন্স ও রি-ইন্স্যুরেন্সের ওপর আবারো উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য জার্মানির বিশ্ববিখ্যাত মিউনিখ রি-ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে দু’মাসের জন্য পাঠানো হয় তাঁকে। প্রশিক্ষণ শেষে অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান চাকরির অফার দিলেও তিনি পিআইসিতে থেকে যান। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বীমাশিল্প পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে এ কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন নাসির এ চৌধুরী। ১৯৮৩ সালে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। পেশাগত জীবনের শিক্ষা, অভিজ্ঞতাকে তিনি নতুনভাবে কাজে লাগানোর পথ অন্বেষণ করলেন। এ সময়েই সরকার বেসরকারি খাতে বীমাশিল্প আইন-’৮৫ পাস করে।
দেশে সবার শীর্ষ ও বিশ্বে বিপুল নন্দিত, অসাধারণ সাফল্যের বরমাল্যে সু-শোভিত, সফল বীমা কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা
নাসির চৌধুরী ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি কয়েকজন প্রতিভাবান পেশাজীবীর সমন্বয়ে শুরু করেন গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড। সেই যে শুরু, প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৩০ বছরে গ্রীন ডেল্টা যেন শাখা-প্রশাখায় পল্লবিত হয়েছে, ফলে-ফুলে সুশোভিত হয়ে একটা মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। নাসির এ চৌধুরীর প্রজ্ঞা, নেতৃত্বের ক্ষমতা এবং পরিচালন যোগ্যতার কারণে এ বীমা প্রতিষ্ঠান একুশ শতকের উপযোগী একটি আধুনিক বীমা শিল্পের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। অসাধারণ সাফল্যের বরমাল্য শোভিত এ বীমা প্রতিষ্ঠানের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের আর্থ-বাণিজ্যের বিস্তৃত পরিসরে। প্রতিষ্ঠালগ্নে সম্পদের অপ্রতুলতা ছাড়া আর তেমন বাধার সম্মুখীন হননি। তবে মনে আশাবাদ থাকলেও শংকা ছিল বন্ধু-বান্ধবের টাকা নিয়ে যে কোম্পানী করা, শেষ পর্যন্ত লাভজনকভাবে টিকে থেকে তাদের দেনা শোধ করতে পারবেন কিনা! কিন্তু আত্মবিশ্বাস, মনোবল, দৃঢ়প্রত্যয় তাঁদেরকে মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় বীমাকে আত্মস্থ করেছেন তিনি, বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। তাঁর শিক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতাকে মূল্য দিয়েছেন; বীমাশিল্পের উন্নয়নে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন, লাভ করেছেন আশাতীত সাফল্য। শুভাকাঙ্খী-সুহৃদগণ তাঁকে কিংবদন্তি বীমাবিদ বললেও নিজেকে তিনি বীমাশিল্পের একজন কর্মী সাধারণ মনে করেন।
গধীরসঁস ংবপঁৎরঃু ধঃ সরহরসঁস ঈড়ংঃ এই মূলনীতি গ্রীন ডেল্টার সাফল্যের সূত্র। আজ শুধু দেশে নয়, বহির্বিশ্বের বীমা জগতে গ্রীন ডেল্টা প্রভূত সুনামের অধিকারী। একজন মানুষ তার কর্মক্ষেত্রে যদি ঝরহপবৎব, যড়হবংঃ ্ ফুহধসরপ হয় তাহলে তার সাফল্য অনিবার্য নাসির এ চৌধুরী তার জ্বলন্ত উদাহরণ। জীবন্ত কিংবদন্তী নাসির এ চৌধুরীর সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের পুরোটাই স্মৃতিময়, বীমাময়। বীমা ছাড়া তিনি কিছু ভাবতে পারেন না, দেশের উন্নয়নও নির্ভর করছে বীমাশিল্পের উন্নয়নের ওপর। শুরুতে তাঁকে যারা নিরুৎসাহিত করেছিল, আজ সাফল্যের চূড়ায় বসে তাদের বিরোধিতার স্মৃতি মনে পড়লেও অকল্যাণ কামনা করেননি কখনও।
চিরতরুণ-চিরসবুজ সুদর্শন রাজপুত্তুর
নিজেকে সবসময় তারুণ্যদীপ্ত মনে করেন নাসির এ চৌধুরী। পাশাপাশি তরুণ সমাজকে মনে করেন দেশের ভবিষ্যৎ। তাঁর মতে, বিশ্বায়নের যুগে তরুণ প্রজন্মই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ছাত্র-তরুণরাই থাকবে সামনের কাতারে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সবসময় ঊাবৎমৎববহ মনের ভেতর সবুজের ছায়া অনুভব করেন। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী চিরতরুণ নাসির এ চৌধুরীর জীবনযাপনও অত্যন্ত সহজ-সরল, সাদাসিধে। সবসময় টেনশনমুক্ত থাকেন, হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করেন, ধূমপান করেন না, সকালে শয্যাত্যাগ করেন, রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েন। পরিমিত আহার করেন, মাছ-মাংস কম খান; বেশি খান শাক-সব্জি আর এড়িয়ে চলেন চর্বিযুক্ত খাবার। এর ফলে তাঁকে শারীরিক জটিলতার সম্মুখীন হতে হয় না। অবসর সময়ে পড়াশোনা করেন; পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন, প্রবন্ধ ও গল্পের বই পড়তে ভালোবাসেন। টেলিভিশনেও চোখ রাখেন মাঝেসাঝে। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তারুণ্যের আগ্রহটি এখনও সজীব। পরিমিত ভোজন, হাসি-খুশি সাধারণ জীবন-যাপন নাসির চৌধুরীর আদর্শ।
সবার বন্ধু সবার ভাই দানবীর নাসির ভাই
নাসির চৌধুরী তাঁর যৌবনের উচ্ছল স্বপ্নকে রূপ দিয়েছেন উজ্জ্বল সাফল্যের কারুকার্যময় মোড়কে। নাসির চৌধুরী এমনই এক দানশীল ব্যক্তিত্ব, যাঁর কাছ থেকে কেউ কখনো ফেরেনা খালি হাতে। ঈঝজ এ অদ্বিতীয় তিনি ও তাঁর প্রতিষ্ঠান। তিনি বহু সমাজসেবা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। দেশ-উন্নয়ন ও জাতি জাগরণে নিবেদিত সুদীর্ঘ ৩৫ বছরের ব্যতিক্রমী সামাজিক সংস্থা ক্যাম্পাস সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র এর তিনি ফাউন্ডার ভাইস-চেয়ারম্যান। বুকের ভেতরের বিশাল এক বারান্দার মালিক নাসির চৌধুরী তাঁর নিজ কোম্পানী গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীতে সৃষ্টি করেছেন পিতৃস্নেহের আবহ এবং বন্ধু-গাইড হিসেবে হয়েছেন সর্বজন সমাদৃত ও শ্রদ্ধাভাজন। তিনি একজন উদারমনা ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়িক লাভ-ক্ষতির জগতেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বন্ধুত্বকে জিইয়ে রাখতে জানেন। কোম্পানীর সহকর্মীদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর তাঁর সজাগ দৃষ্টি। কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত জাগ্রত একজন উদ্যোগী পুরুষ, কিন্তু সহকর্মীদের প্রতি ঔদার্যে অতুলনীয়। বীমাজগতে অর্ধশতক সক্রিয়ভাবে কাটিয়েছেন, উদ্যোগ আর উদ্যমে ভাটা পড়াতো দূরের কথা, এখনো জেগে ওঠেন জোয়ারের টানে। যতদিন তিনি বেঁচে থাকবেন, ততদিন দেশ ও দশের মঙ্গলের জন্য কাজ করবেন।
বাল্যবন্ধু সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তাঁর বাল্যবন্ধু নাসির এ চৌধুরী সম্পর্কে বলেন, কর্মজীবনে বীমাশিল্পে নাসির চৌধুরী অসাধারণ সফল মানুষ; জয়তু বাল্যবন্ধু নাসির চৌধুরী!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান বলেন
নাসির এ চৌধুরী চিরকাল প্রগতিশীল ধ্যানধারণার পৃষ্ঠপোষকতা করে এসেছেন। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর মতো সহৃদয় ও সজ্জন কম দেখা যায়। কোনো মালিন্য তাঁকে স্পর্শ করতে পারে বলে মনে হয় না। পেশাগত ক্ষেত্রে তিনি সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত সেখানে তাঁর সততা সুবিদিত। মানুষের দুঃখকষ্টে তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। কারো মধ্যে গুণ দেখতে পেলে তার বিকাশে সহায়তা করেন।
নাসির এ চৌধুরী সম্পর্কে তাঁর চৌকস কন্যা ফারজানা চৌধুরী
সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে আমার গড়ে ওঠার পেছনে বাবার আন্তরিক প্রচেষ্টা আমাকে আজকের অবস্থানে এনে দিয়েছে।
পীর শ্বশুর, স্ত্রী অনন্যা প্রতিভাদীপ্ত পুত্র-কন্যা
নাসির চৌধুরী চট্টগ্রামের কামেল-মোকাম্মেল মাইজভান্ডার শরীফের পীর সৈয়দ আবুল বশরের কন্যা খুরশীদা চৌধুরীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁরা এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক-জননী। ছেলে ওয়াকার এ চৌধুরী নিউ ইয়র্কের অ্যাডেলফাই ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিংয়ে উচ্চশিক্ষা শেষে একাধিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। মেয়ে ফারজানা চৌধুরী অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন এর মনাস ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করে ব্রাক ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও হেড অব এসএমই হিসেবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট। ছেলে-মেয়ে দু’জনই কর্মজীবনে সফল এবং পিতা-মাতার সুনাম-সুখ্যাতির ধারা বহন করে চলেছেন।
বর্ণিল গুণী ও দেশপ্রেমী নাসির
ব্যক্তি নাসির একজন ধার্মিক, বিনয়ী এবং পরোপকারী। একজন প্রকৃত মানুষের সকল গুণই তার মধ্যে বিদ্যমান। তাঁর আরও একটি গুণ হচ্ছে যে তিনি শুধু নিজের প্রতিষ্ঠানের বীমা ব্যবসার কথাই চিন্তা করেন না, দেশের বীমা খাতের সার্বিক উন্নয়ন নিয়েও ভাবেন এই দেশপ্রেমিক।
পেশাগত সততা ও নীতিনিষ্ঠ মানবিক উদারতা
দেশের ক্রান্তিলগ্নে বীমা শিল্পকে দাঁড় করাবার কঠিন দায়িত্ব হাতে নিয়েছিলেন নাসির এ চৌধুরী। এ শিল্পের নীতি ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখেছেন, অন্যায়-অনিয়মের সাথে আপোশ করেননি। সময়ের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পেরেছিলেন বলেই শেষ পর্যন্ত তিনি বীমা শিল্পের জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে অভিহিত হয়েছেন সুধীসমাজে। মানুষ হিসেবে নাসির চৌধুরী অত্যন্ত দয়ালু এবং মানবিক। তাঁর দানের সীমা-পরিসীমা নেই। বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে ঈঝজ কার্যক্রমে তাঁর প্রতিষ্ঠান এখনও পর্যন্ত সবার শীর্ষে। সবার জন্য তাঁর উদার হস্ত প্রসারিত, তাঁর সাথে যারাই আসেন তিনি অল্পসময়ের মধ্যে তাদেরকে আপন করে নেয়ার এক বিরল গুণ লালন করেন।
এ কর্মবীরের ব্যতিক্রমী সমাজ বিপ্লবে ক্যাম্পাস’র সততা পুরস্কার
৮০ বছরের তরুণ ব্যক্তিত্ব তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের সুদীর্ঘসময়ে দেশের বীমা শিল্পসহ বহুক্ষেত্রে যে বিপুল অবদান রেখেছেন, তা বর্ণনা করে শেষ করা যায় না, সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। এ শিল্পে তাঁর নেতৃত্বের ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে, অনাগত কালেও বীমাশিল্প তাঁকে স্মরণ করবে সগৌরবে। নাসির চৌধুরীর মতো মানুষরা দেশ ও সমাজকে শুধু বয়ে নিয়েই যান না, ধাক্কা দিয়েও অনেক দূর এগিয়ে দেন সম্মুখে। সমাজ প্রগতির ধারা বহমান থাকার জন্যই জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ মহান ব্যক্তিত্বের সুস্বাস্থ্য-শান্তি ও দীর্ঘায়ু প্রয়োজন। জনাব নাসিরের অজস্র গুণগ্রাহীর সাথে আমরা ক্যাম্পাস পরিবারও স্রষ্টার কাছে সর্বান্তকরণে তাঁর সুখ-শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি এবং সে সাথে তাঁর সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও মানবিক ব্যতিক্রমী গুণাবলীতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ও শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে অনুকরণীয় ও স্মরণীয়-বরণীয় করতে তাঁকে অসীম ভালোবাসায় সততা পুরস্কার অর্পণ করছি।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ