বিশেষ খবর

সুচিন্তা ও সুস্থ আচরণের মাধ্যমে বিশেষ মানুষ হয়ে সুস্থতা ও শতায়ুলাভ-৪৫

ক্যাম্পাস ডেস্ক বিশেষ নিবন্ধ

॥পর্ব ২॥
সুস্থতা ও রোগ জয়ের প্রথম শর্তঃ মানসিক শক্তি
এ বইয়ের ৬ষ্ঠ অধ্যায়ে রোগ-ব্যাধির মূল কারণ ও প্রকৃত প্রতিকার পর্বের আলোচনায় এ ধারণা স্পষ্ট হয়েছে যে- মানুষের শরীর যত রকমের রোগে আক্রান্ত হয়, সেসব রোগের মূল কারণ মানসিক সংকট বা দুর্বলতা। বাইরের কোনো নেতিবাচক তথ্য, বিষয় বা বস্তু দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর ব্র্রেন তা অবগত হয়ে যদি মনের দ্বারা স্বীকৃতি তথা অনুমোদন করিয়ে নিতে পারে, তাহলেই নেতিবাচক তথ্য বা বিষয়টি রোগরূপে আবির্ভাবের সুযোগলাভ করে। অর্থাৎ মনের স্বীকৃতি ছাড়া দেহকে রোগে আক্রান্তের সুযোগ নেই বললেই চলে। যেমন- আপনি যদি আমাকে ‘শালা’ বলে গাল দেন, আমার ব্রেনে সে গাল রেকর্ড হলেও আমার মন যদি সে তথ্যটিকে নেগেটিভ দৃষ্টিতে গ্রহণ করে, তাহলেই কেবল আমার শরীরে কষ্টের অনুভূতি তৈরি হবে এবং এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে মাথাব্যথা, রক্তচাপ, হৃদ-আক্রান্তসহ নানাকিছুর সম্ভাবনা তৈরি হবে। আর বিষয়টিকে মন যদি নেগেটিভভাবে না নেয়, তাহলে কোনো কষ্টের অনুভূতি তৈরি হবে না। বরং ঐ ব্যক্তির গালটিকে যদি বিভিন্ন যুক্তিতে ইতিবাচকরূপে মন গ্রহণ বা ওহঃবৎঢ়ৎবঃ করতে পারে, তাহলে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির আনন্দের আতিশয্যে এক্ষেত্রসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বেড়ে যাবে। আপনার কর্তৃক ‘শালা’ বলাকে আমার প্রতি গাল হিসেবে গ্রহণ না করে বরং ব্রেনের যুক্তির সাহায্য নিয়ে আমি এরূপ মানসিক অবস্থান তৈরি করতে পারি- আমিতো আপনার শালা নই, আপনি পাগলামিবশত বা ভুলবশত আমাকে শালা বলছেন; আপনার ভুলের বা পাগলামির দায় আপনারই; এ গাল দেয়ায় আমার কোনো ক্ষতি হয়নি, বরং ক্ষতি হয়েছে আপনার; আপনার ব্যক্তিত্ব কমেছে, আপনি ছোট হয়েছেন...।
কেবল উক্ত বিব্রত বা বিরূপ পরিস্থিতিতেই নয়, এমনকি জলোচ্ছ্বাস বা ভূমিকম্পের কবলে পড়লেও আপনি প্রকৃতির সে লীলার বিরুদ্ধে না গিয়ে বরং স্রষ্টার কারিশমার সাথে একাত্ম হয়ে মনে মনে বলতে পারেন- এ ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক বিষয়, এর ওপর আমার হাত নেই। প্রকৃতির এ পরিবর্তন ক্রিয়া আমার জন্য হয়ত অসুবিধাজনক, কিন্তু বৃহত্তর কল্যাণে তথা অন্যদের জন্য তা হয়ত মঙ্গলজনক; স্রষ্টা যা করেন, সবই ভালোর জন্য করেন। অর্থাৎ প্রকৃতি বা মানুষের সৃষ্ট যেকোনো বৈরিতাকে আমরা পজিটিভ বা নেগেটিভ দু’ভাবেই নিতে পারি। এটি গ্লাসে ‘অর্ধেক পানি’ অথবা ‘অর্ধেক খালি’ আছে বলার মতোই।
এরূপ অনুকূল ভাবনা তথা ভালো চিন্তা আপনাকে এমন এক মানসিক ভারসাম্য ও শক্তি যোগাবে, যা দিয়ে আপনি প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবেলায় সক্ষম হবেন। অর্থাৎ আশায় শক্তি আর হতাশায় ভরাডুবি।
প্রিয় পাঠক, আপনি আমার এ মতের সাথে আপাত থাকলেও সত্যি সত্যি ভূমিকম্প বা জলোচ্ছ্বাসের মুখোমুখি হলে সে মুহূর্তে আমার এরূপ কথায় আপনি হয়ত নাও থাকতে পারেন। কিন্তু এরূপ মারাত্মক বিপর্যয়েও ধৈর্যসহকারে বা মাথা ঠান্ডা না রেখে হুড়োহুড়ি বা দৌড়াদৌড়িতে মাথা ফাটানো বা হাত-পা ভাঙা ছাড়া আর কীইবা হতে পারে? ভূমিকম্প বা জলোচ্ছ্বাসের তান্ডবতো আমরা থামাতে পারব না। কিছু বিশেষ মানুষ ছাড়া বেশিরভাগ মানুষই যেকোনো পরিস্থিতিকে পজিটিভ এটিচিউডে নিতে অভ্যস্ত নয়; বরং নেগেটিভ এটিচিউডে নিয়ে থাকে এবং নিজেই নিজের মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়াতে থাকে। এভাবে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক, সামাজিক নানা বৈরিতায় সৃষ্ট মানসিক চাপ, টেনশন, আতঙ্ক, দুশ্চিন্তা, ভয়, রাগ, হতাশা, ঘৃণা, প্রতিহিংসা ইত্যাকার মানসিক অবস্থাই মানুষের বিভিন্ন রোগের মূল কারণ। স্বাস্থ্যজয়ের বিভিন্ন দিক, বিশেষত রোগ প্রতিরোধ ও দমন, গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব ও লালন-পালন, দাম্পত্য সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য -এর সবই মানসিক শক্তি এবং শিক্ষা ও জ্ঞানের বিষয়। এককথায় সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন নির্ভর করে জ্ঞানশক্তি ও প্রাণশক্তি তথা উন্নততর চিন্তার ওপর।
সহজ-সরল সুবুদ্ধি, জ্ঞানশক্তি বা চিন্তাশক্তি দিয়ে বিশ্বজয়ের মতো নিজের মনোদৈহিক রোগবালাই বা অসুস্থতাও জয় করা সম্ভব। এজন্যই জ্ঞানবান বা চিন্তাবিদরা সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা; অর্থাৎ এঁরা বিশেষ মানুষ এবং অন্যের অনুকরণীয় হয়ে থাকেন। জ্ঞানের তথ্য-ভান্ডারের কারণে এঁদের কাছে যা কিছু বোধগম্য ও সহজ, সাধারণের কাছে তা দুর্বোধ্য ও কঠিন। তাই লক্ষ মানুষের মধ্যে মাত্র ২/৪ জন প্রকৃত জ্ঞানশক্তি সম্পন্ন তথা ভারসাম্যপূর্ণ ও জ্যোতির্ময় মানুষ দেখা যায়। আত্মার বিনির্বাণক্ষম এরূপ সুস্থ মানুষের সংখ্যা নির্ভর করে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও আলোকিত জাতির ওপর। এরূপ আত্মশক্তি সম্পন্ন কিছু মানুষের সাথে বিভিন্ন দেশে আমার সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছে। যেমন-
চীনের বেইজিংয়ে তাতং কিয়ান নামের ৮৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে দেখেছি; যার পরিবারের কোনো সদস্যকে হাসপাতালে থাকতে হয়নি কখনো। তাদের তেমন কোনো কঠিন রোগ বা অসুখ হয় না, সামান্য হলেও কেবল অসুখের ধরন বুঝতে ডাক্তারী পরীক্ষা করিয়েছেন এবং রিপোর্ট নিয়েছেন। কিন্তু কোনো ঔষধ সেবন করেননি, এমনকি ঔষধের প্রেসক্রিপশনও নেননি কখনো। পথ্য-খাবার-দাবার, শুশ্রুষা, মেডিটেশন, ইয়োগা, আকুপাংচার, আকুপ্রেশার গ্রহণ এবং যথাযথ চাল-চলনের মাধ্যমে তারা রোগ প্রতিরোধ ও দমন করে থাকেন।
আফগান বংশোদ্ভুত পাতুনী সম্পর্কে জেনেছি আমার স্ত্রীর মাধ্যমে। পাতুনী এবং তার স্বামী থমাস ইংল্যান্ডের সাসেক্স ইউনিভার্সিটিতে আমার স্ত্রীর সাথে একই ব্যাচে উন্নয়ন অর্থনীতিতে মাস্টার্স করেছিল। পরবর্তীতে চাকরির সুবাদে থমাস আমস্টারডামে থাকত এবং তার স্ত্রী থাকত জার্মানী’র হামবুর্গে। ২০০২ সালে আমি হল্যান্ডে বেড়াতে গেলে আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে থমাস নিমন্ত্রণ জানায় তার শহর জার্মানীর হামবুর্গে। শৌর্য-বীর্যের দেশ জার্মানী সফরের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি, তাই রাজি হয়ে গেলাম। সপ্তাহান্ত কাটাতে থমাস প্রতি শুক্রবার অফিসশেষে আমস্টারডাম থেকে হামবুর্গ যেত সেলফ ড্রাইভিংয়ে এবং সোমবার সকালে হামবুর্গ থেকে আমস্টারডাম এসে অফিস করত।
সেরূপ এক শুক্রবার বিকালে তার সাথে পাড়ি জমালাম হামবুর্গ’র উদ্দেশ্যে। গড়ে ১২০ কিঃমিঃ গতিতে চালানো গাড়িতে ৫ ঘন্টার ব্যবধানে আমস্টারডাম থেকে হামবুর্গ পৌঁছে তার বাসায় গিয়ে দেখি টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরিহিত আফগান বংশোদ্ভুত অতি আধুনিকা স্ত্রী পাতুনী এবং ৩ শিশু সন্তান। বড় ছেলে রাফায়েল, বয়স চার বছর; দ্বিতীয় ছেলে গ্যাব্রিয়েল, আড়াই বছর এবং মেয়ে ফেলিসিটা, তিন/চার মাস। অবশ্য আমাদের পরিদর্শনের পরবর্তী বছরে তার আরেক ছেলে মাইকেল’র জন্ম হয়।
মজার ব্যাপার হলো, স্বাভাবিক প্রসবের ঐ ৩ শিশু সন্তানকে নিয়ে পাতুনী একাই থাকত হামবুর্গ’র সে বাসায়। আমাদের দেশের ন্যায় আয়া-বুয়া, আবুল-আব্দুলের স্থান সেখানকার সংস্কৃতিতে নেই; এমনকি পাতুনীকে সাহায্য করার জন্য কোনো স্বজন বা পরিজনও কেউ ছিল না। তিন সন্তানের ২ প্র্যাম ও ১ স্ট্রলার ঠেলে, গাড়ি ড্রাইভ করে পাতুনীকে বাজার-স্কুল থেকে শুরু করে বাচ্চাদের খাওয়ানো-পরানো, ঘুম পাড়ানো সবই করতে হতো একা। পাতুনী ও বাচ্চারা তাদের পরিবারের মধ্যে পুরো সপ্তাহের শেষে শুধু থমাসকেই দেখে, আর কারুর দেখা তেমন মেলে না।
বিয়ের ৫ বছরের মধ্যে সংসার এবং ৪ শিশু সন্তানের এককভাবে সম্পূর্ণ লালন-পালনের এরূপ উদাহরণ আমাদের কথিত কর্মঠ সমাজে খুঁজে পাওয়া ভার। জার্মানী থেকে হল্যান্ড ফেরার পথে গাড়ি ড্রাইভ করতে করতে বহুমুখী জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ড. থমাস ঘর-সংসার-সন্তান ব্যবস্থাপনায় তার চৌকস স্ত্রীর প্রশংসা করে বলে- শুধু পাতুনীকেই নয়, তাদের সমাজে সব ঘরণীকেই এরূপ বিশাল ঝক্কি-ঝামেলার মধ্য দিয়ে সন্তান লালন ও সংসার পালন করতে হয়।
এতো গেল বিদেশ-বিভূঁইয়ের কথা। এবার আসি আমাদের দেশের কথায়। বছরে ৩০ রোজা রাখতে গিয়ে সংযমের পরিবর্তে আমাদের অনেকেই হয়ে ওঠেন অসংযমী, অপব্যয়ী এবং বেপরোয়া বাণিজ্যমুখী। অধিকন্তু রোজার মাসে কাজকর্ম কমিয়ে দিয়ে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎসব ও ভোগ-বিলাসের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং খাদ্যে বিষ ও ভেজাল প্রয়োগের হত্যাসম অপরাধে মেতে ওঠেন অনেকেই। এসবের পাশাপাশি সংযমী বা ব্যতিক্রমী মানুষও আছেন। এমনও বিশেষ মানুষ রয়েছেন, যাঁরা ব্যক্তিগত সততা-সংযম ও ন্যায়নিষ্ঠা লালনের পাশাপাশি সারাবছর ধরে রোজা রাখেন এবং অন্যদের সাথে শেয়ার করেন নিজের ইফতারটুকু। এ স্বল্প পরিসরে স্মরণে আসছে দু’ব্যক্তিত্বের নাম- সুফী মিজানুর রহমান, যিনি পিএইচপি গ্রুপ ও ইউআইটিএস’র চেয়ারম্যান; জনাব মোঃ শফিকুল আজম খান, যিনি শতবর্ষী-কর্মযোগী হয়েও মহেশপুর পৌরসভার চেয়ারম্যানের গুরুদায়িত্ব পালন করছিলেন। সুফী মিজানুর রহমান কোটিপতি হয়েও সারাবছর ধরে রোজা রেখে তথা সংযমী ও বিনয়ী থেকে সমাজ ও দেশসেবা করে যাচ্ছেন অবিরত। পানাহার তথা ভোগবিলাস ত্যাগ করে বছর ধরে রোজা পালন মানসিক শক্তির ব্যাপার নয় কি?
গবেষকরা জানিয়েছেন, ক্যান্সার ও টিউমারের মতো জটিল রোগের জন্য তারা এবার উপোস-নির্ভর একটি চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। এতে প্রচলিত ব্যবস্থায় চিকিৎসার চেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক ভল্টার লঙ্গো জানিয়েছেন, না খেয়ে থাকলে রক্তে কিছু উপাদানের ঘাটতি দেখা দেয়। টিউমার ও ক্যান্সারে আক্রান্ত কোষগুলো ঐসব উপাদান সংগ্রহ করেই বেঁচে থাকে এবং বিস্তারলাভ করে। তাই এ ধরনের রোগের চিকিৎসার সময় না খেয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় উপাদানের অভাবে রোগগ্রস্ত কোষগুলো মরে যায়। দেখা গেছে, এভাবে টিউমার পুরোপুরি সারিয়ে তোলা গেছে, এমনকি কিছু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপির পাশাপাশি না খেয়ে থাকার ব্যাপারটি যথাযথভাবে অনুসরণ করলে ক্যান্সারও সেরে উঠেছে। প্রচন্ড মানসিক শক্তিসম্পন্ন আরও কিছু মানুষের উদাহরণ নিম্নরূপ।
সন্তান প্রসবের ২ ঘন্টার মধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে
দু’ঘন্টা বয়সের নবজাতককে রেখে পরীক্ষা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ীর ধানাটা গ্রামের মানিক উদ্দিনের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন। তিনি সকাল ৭টায় কন্যা সন্তান প্রসব করে সকাল ৯টায় অংশ নেন এইচএসসি পরীক্ষায়। ১৫ এপ্রিল ২০১১ তিনি সরিষাবাড়ী পাইলট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন। এদিন কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম) ফাইনালের বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শাহনাজ পুরো ৩ ঘন্টা পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরেন। শাহনাজ জানান, সন্তান প্রসবের ২ ঘন্টা পর পরীক্ষা দিতে তার কোনো সমস্যাই হয়নি।
পরীক্ষা কেন্দ্রেই সন্তান প্রসব!
প্রসব বেদনা ওঠার পরও ঘরে বসে থাকেনি এইচএসসি পরীক্ষার্থী লাকী। মাত্র ১৮ বছর বয়সী এ তরুণী সন্তান প্রসবের ঝুঁকি ও যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করে সাহস নিয়ে যায় পরীক্ষা কেন্দ্রে; সঙ্গে চিকিৎসক ও সেবিকা। পরীক্ষা শুরুর পর জন্ম দেয় কন্যা সন্তানের। দুর্বার সাহসে সন্তান প্রসব করার পরও ক্ষান্ত হয়নি, পরীক্ষা শেষ করে তবেই বাড়ি ফিরেছে। কাশিয়ানী উপজেলার দূর্বাশুর গ্রামের পরিমল বিশ্বাসের স্ত্রী লাকী বিশ্বাস। কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সে। কলেজের অধ্যক্ষ বলাই চাঁদ দে বলেন, পরীক্ষার কক্ষ থেকে সন্তান প্রসবের জন্য যখন অন্য একটি কক্ষে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন আমরা ভাবতে পারিনি লাকী পরীক্ষা কক্ষে আবার ফিরে আসবে। সন্তান জন্মের আধাঘণ্টার মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে লাকী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল লতিফ জানান- লাকী দেখিয়েছে ইচ্ছা থাকলে শিক্ষার জন্য দারিদ্র্য, পারিবারিক ও সামাজিক বাধা কোনো সমস্যাই না। মানসিক শক্তির জন্য সে সমাজের কাছে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। লাকী বলে- আমার বিশ্বাস ছিল, যে প্রস্তুতি আমি নিয়েছি তাতে একঘণ্টা পর পরীক্ষায় বসলেও ভালো ফল করব। এরপরও ৮৯ নম্বরের উত্তর দিয়েছি। প্রসব বেদনা ওঠার পরও কীভাবে পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে জানতে চাইলে সে বলে- কীভাবে সব বাধা-বিপত্তি জয় করে সামনে এগিয়ে যেতে হয়, তা কৃষক বাবার কাছ থেকে শিখেছি। কষ্ট যতই হোক, যখন আমি আমার সন্তানের মুখ দেখেছি তখন নতুন করে লড়াইয়ের জোর পেয়েছি। -চলবে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ