বিশেষ খবর

চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবায় নিবেদিত বেসরকারি ডেন্টাল ও মেডিকেল কলেজ

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রচ্ছদ প্রতিবেদন
img

মানব সেবার জন্য চিকিৎসা পেশাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়। কারণ মানুষ যখন রোগ-শোকে ভোগে, অসুস্থ ও জ্বরাক্রান্ত হয়, তখন ডাক্তারের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। আবার একজন চিকিৎসক যেমন সামাজিক মর্যাদা ও সম্মান বেশি পান, তেমনি আয়ের সুযোগও তুলনামূলক অনেক বেশি। এরই প্রেক্ষিতে সেবা ও অধিক আয়ের জন্য মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের একটা বড় অংশের প্রধান লক্ষ্য ডাক্তার হওয়া।
একটা সময় বাংলাদেশে শুধু সরকারি মেডিকেল কলেজের অস্তিত্ব ছিল। বিগত একযুগে অনেকগুলো নতুন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ আত্মপ্রকাশ করেছে। তারপরও অনেকে মনে করে থাকেন, মেডিকেল কলেজের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। কারণ এখনও অনেক শিক্ষার্থী একাডেমিক ভালো রেজাল্ট থাকা সত্ত্বেও মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারছে না।
সঙ্গতকারণে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ভর্তি ফি’র বিষয়টি আলোচনায় চলে এসেছে। গত বছর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভর্তি ফি বাবদ ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে ভর্তি ফি’র পরিমাণ কোনো কোনো কলেজে ১৫ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। প্রথম শ্রেণির মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেতে অনেক শিক্ষার্থী গোপনে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। এবারও ওই সব কলেজের এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে ভর্তি ফি নির্ধারণে হস্তক্ষেপ করবে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফলে স্বাধীনভাবে ভর্তি ফি আদায় করতে পারবে বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ নীতিমালা সংশোধনের কাজটি চূড়ান্ত হয়নি। কারণ গত বছরের অভিজ্ঞতা কর্তৃপক্ষকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে।
বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত; স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক স্বীকৃত এবং বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কর্তৃক অনুমোদিত।
দেশের বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি-তথ্য, সুযোগ-সুবিধা এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে ক্যাম্পাস পত্রিকার প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন আহমেদ এবং রাজিব গুপ্ত বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বা চেয়ারম্যান এবং অধ্যক্ষের মুখোমুখি হন; তাঁদের মতামত এবং বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদ মোস্তফার অনুলিখনে তৈরি হয়েছে এ প্রতিবেদন।
নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ দক্ষ চিকিৎসক তৈরির অনন্য প্রতিষ্ঠান
নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ বেসরকারি খাতে গুণগতমানের চিকিৎসা শিক্ষার অনন্য প্রতিষ্ঠান। এটি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এবং বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কর্তৃক স্বীকৃত নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
কলেজটিতে এমবিবিএস প্রোগ্রামের লেকচার, টিউটোরিয়াল, বিভিন্ন বিষয়ের প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের জন্য প্রচুর স্থান এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। নর্দান কলেজের আধুনিক লাইব্রেরিটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, রয়েছে প্রচুরসংখ্যক টেক্সট এবং রেফারেন্স বই। উচ্চ মানসম্পন্ন সর্বশেষ সংস্করণের এ বইগুলো আন্ডার গ্রাজুয়েট এবং পোস্ট গ্রাজুয়েটদের জন্য খুব উপযোগী। রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ মেডিকেল ল্যাব, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা কমনরুম।
লেকচার, ডেমোনেস্ট্রেশন, টিউটোরিয়েল, ওয়ার্ড-ক্লিনিক্স, প্রাকটিকেল ক্লাস, ফিল্ড ভিজিট প্রভৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের ব্যবস্থা রয়েছে। কলেজের নির্ধারিত নিয়ম-নীতি শিক্ষার্থীদের মেনে চলতে হয়। ধূমপানমুক্ত, রাজনীতিমুক্ত পরিবেশ কলেজটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পোশাক-আশাকে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে শালীনতা বজায় রাখতে হয়; ফ্যাশানেবল সাজগোজের অনুমতি নেই। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আইডেন্টিটি কার্ড সাথে রাখতে হয়। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফলই নয়, নর্দান মেডিকেল ভালো ডাক্তার তৈরির সাথে সাথে আলোকিত মানুষ তৈরির জন্যও প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান- প্রফেসর ড. এ ওয়াই এম আবদুল্লাহ এর মুখোমুখি হলে ক্যাম্পাস পত্রিকার প্রতিনিধিকে তিনি বলেন নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রফেসর ড. এ ওয়াই এম আবদুল্লাহ এর অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন আল্লাহর দরবারে হাজার শুকরিয়া যে, নর্দান মেডিকেল কলেজ পরিচালনার সুযোগ তিনি আমাকে দিয়েছেন। মানব সেবা করার স্বপ্ন আমার ছোটবেলা থেকেই ছিল; আল্লাহ আমার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনায় কী ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করতে হয় এমন প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর আবদুল্লাহ বলেন, মেডিকেল কলেজ পরিচালনা খুবই জটিল; আমাদের প্রায় সবারই একটি সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়, তা হলো বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদানের জন্যে অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব। তবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করছেন সবাই। মেডিকেল কলেজের সাথে একটি হসপিটাল থাকা বাঞ্ছনীয় বিধায় মেডিকেল কলেজ পরিচালনা ব্যয়বহুল। সাধারণ হসপিটাল থেকে আয় হলেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হসপিটাল থেকে আয় করা সম্ভব হয় না। তদুপরি আমাদের বড় সীমাবদ্ধতা হলো প্রতিবছর আমরা মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারি। এ সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে এত বড় একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা যেকোনো বিবেচনায় কষ্টসাধ্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিএমডিসি’র চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষক, ক্লাসরুম, ইকুইপমেন্টসহ আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষার্থী বেতন বা হসপিটালের আয় দিয়ে কখনোই তা সম্ভব নয়। তাই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান চালাতে বড় বড় গ্রুপের দরকার; যারা মানুষের কল্যাণে, দেশের উন্নয়নে কিছু করতে চায়, রোগীর সেবা তথা চিকিৎসা দিতে চায়।
আপনার মেডিকেল কলেজের শিক্ষকদের গুণগত মান কেমন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর আবদুল্লাহ বলেন, আমি সত্যিই গর্বিত এজন্য যে, আমাদের যেসব ফ্যাকাল্টি-মেম্বার আছেন, তাঁরা দক্ষ এবং অভিজ্ঞ; তাঁদের পরিচালনায় শিক্ষার্থীরা দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে বের হচ্ছে। আল্লাহর শোকর এদিক থেকে আমরা খুব ভালো অবস্থানে আছি।
যুগোপযোগী শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে একজন চিকিৎসক তৈরি করার পেছনে আপনারা কী কী ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ বলেন, মেডিকেল কলেজে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, আধুনিক টেকনোলজির প্রয়োজন অপরিহার্য; সব রকমের ইকুইপমেন্টের সাপোর্ট আমরা দিতে পারছি না, তবে যতটুকু Requirement তা দিচ্ছি। এ ধরনের প্রকল্পে প্রচুর Investment দরকার। যেহেতু মেডিকেল কলেজগুলো জনগণের কল্যাণে নিবেদিত এক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে এলে তথা আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির শুল্কহার প্রত্যাহারসহ সহজ শর্তে ব্যাংক-ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করলে মেডিকেল কলেজগুলোর আধুনিকায়ন গতিশীল হবে। এতে দেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের শিক্ষায় সুশিক্ষিত হতে পারত। জনকল্যাণে এ বিষয়ের প্রতি সরকারের এখনই দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
বাংলাদেশ ঔষধশিল্পে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে খ্যাতি অর্জন করেছে। কিন্তু আমাদের মেডিকেল কলেজগুলোতে বিদেশি ছাত্ররা এখন তেমন একটা আসে না, এর কারণ কী এমন প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর আবদুল্লাহ বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা মেডিকেল সায়েন্সে অনেক পিছিয়ে আছি, আমাদের হাতে কিছু ভালো ডাক্তার আছে, তবে দেশের চাহিদার ক্ষেত্রে তা খুব অপ্রতুল। ফলশ্রুতিতে আমাদের দেশের রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্যে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ইন্ডিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের হাসপাতালে যাচ্ছে। এতে প্রতিবছর দেশের হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। কেন যায়, এর জবাব হলো এটা একটা Natural flow. এখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর আস্থা বা নির্ভরতা সৃষ্টি হচ্ছে না বলে প্রাণ বাঁচাতে রোগীদের বহির্গমন এবং দেশের সম্পদ বাইরে চলে যাওয়া। এজন্যই মেডিকেল শিক্ষায় গুণগত মানের দিকে সবিশেষ নজর দেয়া দরকার; দেশের মেডিকেল শিক্ষা প্রতিযোগিতামূলক হলে এর কোয়ালিটি উন্নত হবে। কেননা আধুনিক বিশ্বের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার সাথে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার মধ্যে বিরাট Gap রয়েছে। এ Gap পূরণের জন্য যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তাহলে আমরা আরও অনেক পিছিয়ে পড়ব।
এখনই স্বাস্থ্য সেক্টরে একটা Revolution ঘটানো জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, বিদেশি Consultant এবং হাসপাতাল নির্মাণে বিদেশি বিনিয়োগ আসলে তাতে দেশের লাভ ছাড়া ক্ষতির কিছু নেই। তবে এক্ষেত্রে আমাদের পশ্চাদপদতার পেছনে বিশেষ মহলের স্বার্থ কিংবা সংকীর্ণ রাজনীতি রয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। প্রাইভেট সেক্টরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে, কিন্তু সেবা-সেক্টরে আমরা অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছি। এ স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে হবে, আমাদেরকে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। সব জড়তা, স্থবিরতা ভেঙ্গে দিয়ে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের পুরোনো ধ্যান-ধারণা বদলিয়ে নতুন চেতনায় উদ্দীপ্ত হতে হবে। এ চ্যালেঞ্জ ১৬ কোটি মানুষের পক্ষে সরকারকেই নিতে হবে।
ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি মূল্যবান পরামর্শের কথা বলতে গিয়ে প্রফেসর আবদুল্লাহ বলেন, তাদের প্রতি আমার একটিই পরামর্শ আমার মেয়েকে প্রশ্ন করেছিলাম, তুমি কী হতে চাও? জবাবে সে বলেছিল, ডাক্তার হতে চাই। আমি আবার বললাম, তুমি চিন্তা করে বলো। সে পুনরায় বললো আমি ডাক্তার হতে চাই। তখন তাকে আমি বললাম ডাক্তার হতে চাও, কিন্তু সেবকের মানসিকতা তোমার মধ্যে আছে কী? তা ভেবে দেখো। তুমি টাকা আয় করবে, ধনী হবে, জৌলুসময় জীবনযাপন করবে তাহলে এ প্রফেশন তোমার জন্য যথার্থ হবে না। যারা সত্যিকার অর্থে মানুষকে ভালোবাসে, মানুষের সেবা করে, নিজেকে একজন বড় সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তাদেরই এই পেশায় আসা উচিত। আমি আমার মেয়েকে যে উপদেশ দিয়েছি, একই উপদেশ আমার ছাত্র-ছাত্রীদেরও দেব। যে শিক্ষা তোমরা নিতে যাচ্ছ, তা দিয়ে মানুষের সেবা করবে।
মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ
২০০৫ সালে দেশের পঞ্চাশ জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বেসরকারি খাতে রাজধানী ঢাকায় একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। সবুজ বাংলার বুকে সবুজের স্নিগ্ধ ছায়া বুকে ধারণ করে হাসপাতালের নামকরণ করেন গ্রীন লাইফ হাসপাতাল। উদ্যোক্তাগণ মানবসেবার ব্রতে হাসপাতালে কার্যক্রম শুরু করেন। তাঁরা সেখানেই থেমে থাকেননি। ২০০৯ সালে একটি অত্যাধুনিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন; বেসরকারি খাতের স্বাস্থ্যশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সেই প্রতিষ্ঠানটিই আজকের গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ যা বেসরকারি, অলাভজনক এবং স্বঅর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি মানবতার সেবার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। ২০১০ সালে প্রথম ব্যাচে ৫১ জন শিক্ষার্থী ভর্তির মধ্যদিয়ে এর যাত্রা শুরু। শুরু থেকেই কর্তৃপক্ষ এর উন্নয়নে বিশেষ যতœবান হন। ফলে কলেজটি জ্ঞানার্জন ও উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বর্তমানে কলেজটিতে ৩৮৪ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়ছে এবং এ বছরে ১১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবে। বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কিছু আসন সংরক্ষিত রাখা হয়।
এ কলেজে বিভিন্ন কর্মসূচির মূল্যায়ন ও উন্নতকরণ এবং শিক্ষার্থীদেরকে উৎকৃষ্ট চিকিৎসাশিক্ষা দেয়া হয়ে থাকে। কলেজের শিক্ষা-কৌশল হলো পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পর্যাপ্ত জ্ঞান, দক্ষতা এবং ঔষধ ব্যবহারে সতর্কতা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ পেশাদারি গ্রুপ গড়ে তোলা। গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত।
গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজের অবস্থান হলো ৩২ বীরউত্তম কে এম শফিউল্লাহ সড়ক (গ্রীন রোড,), ধানমন্ডি, ঢাকা। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ কলেজের সাথে সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত সহজ। মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালটি বহুতল ভবনে স্থাপিত যাতে প্রায় ৫০০ জন রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। হাসপাতালটি কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। চমৎকার অবকাঠামো সংবলিত ভবনটিতে রোগীদের জন্য বহির্বিভাগ রয়েছে, যেখানে রোগীদের সেবার সুব্যবস্থা আছে। হাসপাতালটিতে গরিব রোগীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য ফ্রি বেডের ব্যবস্থা রয়েছে; যেখানে বেডচার্জ ও অপারেশন চার্জ সম্পূর্ণ ফ্রি।
লক্ষ্য
স্বাস্থ্যশিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ও চৌকস গ্রাজুয়েট তৈরি এবং দেশের জন্য উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন নিবেদিত শিক্ষক গড়ে তোলা।
উদ্দেশ্য
জনগণের সেবার মানসিকতা নিয়ে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তোলা যেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা গভীর তাত্ত্বিক জ্ঞানের সাথে বাস্তব কারিগরি জ্ঞান লাভ করতে পারে।
গভর্নিং বোর্ড
গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির সদস্যগণ হলেন প্রফেসর শাহ্লা খাতুন, চেয়ারম্যান; সদস্য সচিব, প্রফেসর আভা হোসেন (অধ্যক্ষ);
সদস্য
প্রফেসর ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত, প্রফেসর ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, প্রফেসর ডাঃ মোহাম্মদ ইসমাইল খান, প্রফেসর ডাঃ শামন্তলাল সেন, মোহাম্মদ শফিকুল আলম, ডাঃ মোঃ মঈনুল আহসান, প্রফেসর ডাঃ এ এইচ এম শামসুদ্দিন আহম্মেদ, ডাঃ এহসানুল আজিম, প্রফেসর জয়শ্রী রায় এবং সিনিয়র সহকারী সচিব মাহাফুজা আকতার।
একাডেমিক কাউন্সিল
কলেজে সুষ্ঠুভাবে পাঠদান, পাঠগ্রহণ এবং প্রায়োগিক ক্লাস পরিচালনার জন্য নিম্নোক্তরূপ একাডেমিক কাউন্সিল গঠিত হয়। কোয়ালিটি শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কাউন্সিল তাত্ত্বিক এবং প্রায়োগিক ক্লাসগুলোর ওপর বিশেষ নজর রাখে। এতে রয়েছেন চেয়ারপার্সন, কলেজের অধ্যক্ষ উপাধ্যক্ষ এবং বিভাগীয় প্রধানগণ।
সুযোগ-সুবিধা
একটি হাসপাতালে অত্যাধুনিক শিক্ষা প্রদানে সহায়ক যেসব অবকাঠামো প্রয়োজন, তা গ্রীন লাইফ মেডিক্যাল কলেজে বিদ্যমান। কলেজের লেকচার হল সুসজ্জিত, কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এবং সর্বরকম আধুনিক অডিও ভিজ্যুয়াল সুবিধা যেমন মাল্টিমিডিয়া এবং সাউন্ড সিস্টেম সমৃদ্ধ। কলেজের সব টিউটোরিয়াল রুম প্রশস্ত এবং সুসজ্জিত। বিভিন্ন বিভাগের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ল্যাবরেটরি, মিউজিয়াম এবং প্রাকটিক্যাল ক্লাসরুমগুলো পর্যাপ্ত শিক্ষণ ও শিক্ষা উপকরণ সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা হয়েছে।
গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ লাইব্রেরিতে ডিজিটাল সেকশন রয়েছে; যেখানে কম্পিউটার, স্ক্যানার, প্রিন্টার, ইন্টারনেট, ফটোকপিয়ার যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের হাতের কাছে তথ্য-প্রযুক্তির সুযোগ লাভ করে, যাতে তাদের সময় বাঁচে এবং জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়। কলেজ লাইব্রেরি প্রশস্ত পরিসরে একাডেমিক সেকশনের ১৩ লেভেলে-এ অবস্থিত যেখানে পর্যাপ্ত আসবাবপত্রে সজ্জিত পড়ালেখার জন্য এটি একটি উপযুক্ত স্থান। লাইব্রেরিতে রয়েছে টেক্সট এবং রেফারেন্স বই, মেডিকেল জার্নাল যা শিক্ষার্থীদের চলতি তথ্যলাভে সহায়ক। কলেজের ১৫ লেভেল-এ রয়েছে বৃহৎ এবং প্রশস্ত ক্যাফেটেরিয়া। ক্যাফেটেরিয়ায় একসাথে ১২০ জন লোকের হ্রাসকৃত মূল্যে নাস্তা, লাঞ্চ এবং শিক্ষার্থী ও জিএসসি’র স্টাফদের খাবার পরিবেশন করা যায়।
ছাত্র এবং ছাত্রীদের জন্য রয়েছে আলাদা কমন রুম। পড়ালেখার প্রচন্ড চাপ কমাতে ছাত্র-ছাত্রীরা কমনরুমে বিনোদনমূলক আনন্দ লাভের সুযোগ নিতে পারে। কমন রুমে দাবা, ক্যারাম ইত্যাদি ইনডোর খেলার ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রিকা রাখা হয় যা থেকে তারা জ্ঞান অর্জন করতে পারে।
গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ শাহ্লা খাতুন বলেন, আমার পূর্ব পুরুষরা শিক্ষিত, শিক্ষা-প্রেমী, সমাজসেবী ছিলেন; তারা অর্থ-বিত্তের পেছনে ছোটেননি। দরিদ্রের সাহায্য-সহায়তা, আর্তের সেবা ছিল তাদের জীবনের লক্ষ্য। শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবী পরিবারে আমার জন্ম। তাই স্বাস্থ্যশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানবিক কর্মকান্ডে জড়িত হওয়ার লক্ষ্যে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে প্রথমে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করি। হাসপাতালের কাজকর্মে যখন বেশ সফল হই, তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিই এবার আমরা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে কাজকর্ম শুরু করে দিতে পারি। আমাদের সব উদ্যোক্তা মেডিকেল কলেজ এবং সংলগ্ন হাসপাতালকে উন্নতমানের আধুনিক শিক্ষা ও সেবাদান প্রতিষ্ঠানের প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। আমার উদ্যোক্তা সহকর্মীগণ, মেডিকেল কলেজের শিক্ষকগণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ এ প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় আমাকে অকুণ্ঠ সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন, যা সুন্দর-সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন আমার পক্ষে সহায়ক হচ্ছে। আমি তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
অন্যান্য মেডিকেল কলেজের তুলনায় গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ডাঃ শাহ্লা খাতুন বলেন, প্রথমে আমরা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করি এবং পরবর্তীতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে আমরা নিজেরা দক্ষ ডাক্তার তৈরি করার চিন্তা করি; যাদের ওপর আস্থা রেখে রোগীর দৈনন্দিন দেখভাল করার দায়িত্ব দেয়া যায়। এতে অন্যরাও হাসপাতাল পরিচালনায় উপকৃত হবেন। সে চিন্তা থেকে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেই। আমাদের উদ্যোক্তাগণ প্রায় সবাই ডাক্তার, পেশার প্রতি একনিষ্ঠ। এজন্য আমরা সবাই এ প্রতিষ্ঠানের সুষম উন্নয়নের ক্ষেত্রে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করে একে আজ এক সম্মানজনক অবস্থানে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছি। আমরা শিক্ষকতা করেছি, প্রাকটিক্যাল কাজ করেছি, দিক নির্দেশনাও দিয়েছি। জাপান, জার্মানী, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ ভ্রমণ করে সেখানকার স্বাস্থ্যশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি, জ্ঞান আহরণ করেছি, অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি। আমরা সেসব জ্ঞান-অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করছি, ছড়িয়ে দিচ্ছি ছাত্র-তরুণদের মাঝে।
প্রফেসর শাহ্লা খাতুন বলেন, আমাদের এখানে শিক্ষক স্বল্পতা তেমন নেই। আমাদের কলেজে প্রতিদিন অধ্যক্ষের তত্ত্বাবধানে শিক্ষকদের বৈঠক বসে সেখানে প্রশাসনিক বিষয় ছাড়াও ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তিনি বলেন, মেডিকেল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ল্যাব, হোস্টেল, ইন্টারনেট সুযোগ, লাইব্রেরির ব্যবস্থা করেছি; আমাদের সাধ্যের মধ্য থেকে এ সুযোগগুলো দিতে পারছি। আমরা চাই তারা চিকিৎসা শিক্ষালাভের পাশাপশি মানবিক গুণাবলি অর্জন করুক। আমি তাদেরকে বলি তোমাদের অভিভাবকগণ এত কষ্ট করে টাকা পয়সা খরচ করে তোমাদেরকে আমাদের এখানে পাঠিয়েছেন, তোমরা তার মর্যাদা রক্ষা করবে।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, কলেজ ভবনের পাশেই আরেকটি ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। ভবনের কাজ সম্পন্ন হলে আমরা মেডিকেল কলেজের সকল কার্যক্রম সেখানে পরিচালনা করব। এছাড়া আমরা পূর্বাচলে ১.৭ একর জমির একটি প্লট বরাদ্দ পেয়েছি। সেখানে বৃহৎ পরিসরে গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে আরেকটি সমস্যা হলো নার্সের অপ্রতুলতা। বাংলাদেশে ডাক্তারের চেয়ে নার্সের সংখ্যা কম। কথাটা অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য। আমরাও আমাদের হাসপাতালে প্রশিক্ষিত নার্সের অভাববোধ করছি। এ সমস্যার উত্তরণে আমরা নার্সিংয়ের ওপর ডিপ্লোমা চালু করেছি ৭-৮ বছর পূর্ব থেকেই। এছাড়াও পোস্ট বেসিক নার্সিং কোর্স গত দু’বছর থেকে চালু রয়েছে; ৬০ জন শিক্ষার্থী এ কোর্সে পড়ালেখা করছে। গত বছর থেকে বিএসসি ইন নার্সিং চালু করেছি; এ কোর্সে ৪০ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে।
প্রফেসর শাহ্লা খাতুন আরও বলেন আমরা আমাদের শিক্ষামান বাড়ানোর জন্য এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করার লক্ষ্যে The China University of Hong Kong এর সাথে এমওইউ স্বাক্ষর করেছি। পারস্পরিক অভিজ্ঞতা শেয়ারের মাধ্যমে প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আহরণ করা গেলে জ্ঞানের পরিপূর্ণতা আসবে; সে জ্ঞান মানুষের জীবনে কল্যাণ বয়ে আনবে। আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে কেউ যদি বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আগ্রহী হন আমরা তাদের সহযোগিতা করব, তাদের উৎসাহিত করব।
তিনি বলেন, আমরা শিক্ষান্নোয়নের ধারা ধরে রাখতে চেষ্টা করছি, একে আরও উন্নততর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের লক্ষ্য। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজগুলো সরকারের কোনো অনুদান পায় না। অনেকে আর্থিক টানাপড়নে থাকে, প্রয়োজনীয় ফান্ডের অভাবে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং দরকারি স্থাপনা নির্মাণ কাজ সময়মত করতে পারে না। তবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সরকারি কলেজের মানেই পড়ালেখা শেখাচ্ছে, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও সেবা খাতে প্রয়োজনীয় ডাক্তার গড়ে তুলছে, নার্সিং শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তুলছে অপরিহার্য দক্ষ নার্স। ড. শাহ্লা খাতুন বলেন, আমরা এ বেসরকারি মেডিকেল কলেজের উদ্যোক্তা; কলেজের উন্নয়নে, এর শিক্ষামানের উন্নতিতে সচেতনভাবে কাজ করছি। আমাদের কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণও কলেজের সার্বিক উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ সাফল্যের নতুন নতুন মাইলফলক স্থাপন করে এগিয়ে চলেছে।
দৃষ্টিনন্দন পরিবেশের ঔজ্জ্বল্যে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের অত্যন্ত আকর্ষণীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ এন্ড হসপিটাল মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ ব্যতিক্রমী শিক্ষাদান পদ্ধতি আর দৃষ্টিনন্দন পরিবেশের ঔজ্জ্বল্যে শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গৌরব অর্জন করেছে। সুপরিচিত জেড এইচ সিকদার ওম্যান’স মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এর অবস্থান।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
- পজিটিভ এটিচিউডে সমস্যা সমাধানে সক্ষম, স্বনির্দেশিত শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে মানবতার সেবায় পারঙ্গম দক্ষ চিকিৎসক তৈরি;
- বর্তমান এবং আগামীর দন্ত চিকিৎসার সমস্যা মোকাবেলায় সক্ষম দক্ষ দন্ত চিকিৎসক তৈরি;
- গবেষণা এবং দেশে বিরাজিত রোগ প্রতিরোধে শিক্ষার্থী এবং ফ্যাকাল্টিকে নিয়োজিত রাখা;
- জনগণের সেবা গ্রহণের ক্ষমতা এবং সাধারণের স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যে কোয়ালিটি অরাল এন্ড ডেন্টাল কেয়ার -এর ব্যবস্থা করা;
- জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সেমিনার, ওয়ার্কশপের আয়োজন, সংগঠিত করা এবং এগুলোতে অংশগ্রহণে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা। পটভূমি
দেশে দন্ত চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে ২০০৭ সালের মাঝামাঝি সময় একটি আন্তর্জাতিক মানের ডেন্টাল কলেজ এন্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। জেড এইচ সিকদার মহিলা মেডিকেল কলেজের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ন্যাশনাল ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর সাবেক চেয়ারম্যান পারভীন হক সিকদার; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব সোস্যাল ওয়েলফেয়ার এন্ড রিসার্চ এর প্রফেসর তাহমিনা আখতার; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এর প্রফেসর নিজামুল হক ভূঁইয়া; প্রফেসর ডাঃ ফারুক এবং ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হুদা এ কলেজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসেন। তাঁরা তাঁদের সর্বোচ্চ মেধা ও গতিশীল উদ্যোগ, উদ্দীপনা নিয়োগ করেন। সর্বশেষ তারা সম্মিলিতভাবে কাজে গতি সৃষ্টি এবং পুরো পদ্ধতি সংগঠিত ও সমন্বিত করেন। ২০০৮ সালে প্রকল্প প্রস্তাব সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। ২০০৯ সালেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং মেডিকেল এডুকেশন, হেল্থ এন্ড ম্যানপাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ডাইরেক্টর এ কলেজের অনুমোদন দেন। অবকাঠামো উন্নয়নে বিরাট অর্জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্রেডিটেশন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি পায় ২০১০ সালের প্রথমাংশে। শুরু থেকেই কয়েকজন তরুণ দন্ত চিকিৎসক ডাঃ সোহাগ, ডাঃ মাহফুজ এবং ডাঃ জিয়াউর রহমান কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। বর্তমানে কলেজটি একদল দক্ষ ফ্যাকাল্টি মেম্বারের সমন্বয়ে পূর্ণোদ্যমে এগিয়ে চলেছে। সুদক্ষ প্রশাসনের আওতায় মেধাবী জাতি গঠনের অভিপ্রায়ে এ কলেজ তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য
মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ কর্তৃপক্ষের ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়া এবং পরিচালনার সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, যার ভিত্তিতে এ কলেজ অলাভজনক, অরাজনৈতিক ও শিক্ষা, সমাজসেবা এবং মানবকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ, যাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে সততা, একাগ্রতা এবং সাফল্যের পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন তাঁরা এ প্রতিষ্ঠানের পেছনে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। কলেজটি শিক্ষার্থীদেরকে কোয়ালিটি এডুকেশন দিয়ে যাচ্ছে যাতে তারা একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম হয়, এটি আলোকিত মানুষের একটি সমাজ গড়তে চায় যারা বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করবে। ছাত্র বেতন অত্যন্ত যৌক্তিক, যা অন্যান্য ডেন্টাল কলেজের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। কিন্তু মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
পরীক্ষার ফলাফল এবং আর্থিক দিক বিবেচনা করে টিউশন ফি ১০০% মওকুফ করে দিতে পারে এ কলেজ। কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিত করার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতিটি বিভাগে বেশ কিছু সংখ্যক পূর্ণকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন, যাদের চমৎকার শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিদেশি ডিগ্রি ও অতীত সাফল্য রয়েছে। বিভিন্ন ক্লাব এবং সোসাইটির মাধ্যমে কলেজটি কারিকুলাম বহির্ভূত শিক্ষা-সহায়ক কর্মসূচি পালন করে। মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ এন্ড হসপিটালে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ আধুনিক লাইব্রেরি, নতুন প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ডিজিটাল ল্যাব; কম্পিউটার ল্যাব, ফ্রি ইন্টারনেট সার্ভিস, মসজিদ, ক্যাফেটেরিয়া, সুসজ্জিত অভ্যর্থনা কক্ষ ইত্যাদি।
এক নজরে মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল
শ্রেণিঃ যৌক্তিক লাভসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান;
প্রতিষ্ঠাকালঃ ২০০৮ সাল;
অবস্থানঃ মণিকা এস্টেট, পশ্চিম ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯, বাংলাদেশ;
ক্যাম্পাসঃ বাংলাদেশের বেসরকারি কলেজসমূহের মধ্যে সবচেয়ে সবুজময় ও প্রশস্ত শিক্ষাঙ্গন; মূল উদ্যোক্তাঃ পারভীন হক সিকদার, চেয়ারপার্সন; লিসা ফাতেমা হক, ভাইস-চেয়ারপার্সন;
বোর্ড অব ডাইরেক্টরসঃ পারভীন হক সিকদার, লিসা ফাতেমা হক, ইঞ্জিনিয়ার সালাহ উদ্দিন খান, প্রফেসর তাহমিনা আখতার, প্রফেসর নিজামুল হক ভূঁইয়া, ডাঃ আসমা আফরোজা, ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হুদা; অধ্যক্ষ, অধ্যাপক ডাঃ আনোয়ার হোসেন; উপাধ্যক্ষ, ডাঃ এস এম সালাহউদ্দিন আল আজাদ সোহাগ;
শিক্ষকঃ ৭২ জন (স্থায়ী এবং অতিথি);
কর্মকর্তা-কর্মচারীঃ ২৫ জন (২০১৩ সাল পর্যন্ত);
যে কোর্স করানো হয়ঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিডিএস;
কারিকুলামঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিন কর্তৃক প্রণীত বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল প্রবর্তিত কারিকুলাম;
শিক্ষাবর্ষঃ বর্ষপঞ্জি অনুসারে ফেব্রুয়ারি থেকে জানুয়ারি;
ক্লাস সময়ঃ সকাল ৮টা থেকে অপরাহ্ন ২-৩০ মিনিট পর্যন্ত;
প্রজেক্টঃ মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ এন্ড হসপিটাল এবং সাউথ কোরিয়ান অষ্টীম ইমপ্ল্যান্ট জয়েন্ট ভেঞ্চার;
শিক্ষাব্যয়ঃ বিডিএস কোর্স সম্পন্নের খরচ আলোচনা সাপেক্ষে কিস্তি প্রদানের মাধ্যমে নির্ধারিত।
নিবন্ধনঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিবন্ধিত;
অনুমোদনঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত এবং বাংলাদেশ মেডিকেল কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত।
ই-মেইলঃ mandydch@yahoo.com
ওয়েবসাইটঃ www.mdch-bd.com
মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ কেমন চলছে জানতে চাইলে প্রফেসর ডাঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, মেন্ডি ডেন্টাল কলেজের যাত্রা শুরু হয় ২০০৮ সালে, একটি দন্ত চিকিৎসার আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকারে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এ প্রতিষ্ঠান তার লক্ষ্য পূরণে সচেষ্ট রয়েছে। অন্যান্য কলেজের তুলনায় আপনার ডেন্টাল কলেজে শিক্ষার মান কেমন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর আনোয়ার হোসেন বলেন, মেন্ডি ডেন্টাল কলেজে শিক্ষকদের মধ্যে এফসিপিএস, এমএস, এমসিপিএস, ডিডিএস, এমমেড আছেন; ইংল্যান্ড থেকে ডিপ্লোমা পাস শিক্ষক আছেন, বাংলাদেশের উচ্চতর ডিপ্লোমা করা শিক্ষক আছেন। আমরা বেছে বেছে কোয়ালিফাইড শিক্ষক নিযুক্ত করেছি। আমাদের যেমন ভালো শিক্ষক আছেন, তাদেরকে শিক্ষার ভালো উপকরণও দেয়া হয়েছে। আমি নিশ্চিত যে আমাদের কলেজের শিক্ষার মান, শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত ভালো।
অন্যান্য বেসরকারি ডেন্টাল কলেজের তুলনায় আপনার কলেজের বিশেষত্ব কী এমন প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর আনোয়ার হোসেন বলেন, It is an international Campus in national area. বাংলাদেশে বিশ্বমানের কলেজ মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ। প্রথমত বিশ্বমানের বলব এজন্য যে, এ কলেজের প্রশস্ত ও পরিচ্ছন্ন অঙ্গন, সাজানো-গোছানো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্বিতীয়টি দেখা যাবে না বাংলাদেশে; এটি আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি। আমাদের প্রত্যেকটি ক্লাসরুম এয়ারকন্ডিশন্ড ওয়েল ইকুইপ্ড। সিটিং এরেঞ্জমেন্ট অনেক ভালো। আমাদের লেকচার গ্যালারি অনেক প্রশস্ত। ক্লাস নিয়মিত হচ্ছে, পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলপ্রকাশ নিয়মিত এবং সময়মতো হচ্ছে। এমন শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের মধ্যে আমরা ছাত্রদেরকে উন্নতমানের শিক্ষাই দিচ্ছি। এসব বিষয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে আমাদের পার্থক্য We are trying to give them best..
আমাদের নিজস্ব আবাসন ব্যবস্থা ও পদ্ধতি বাংলাদেশের যেকোনো কলেজের তুলনায় সুনিয়ন্ত্রিত, কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আবৃত এবং সর্বোচ্চ সুবিধা সংবলিত। তজ্জন্য ফলাফলের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি খুব গুরুত্ব পায়।
মেন্ডি ডেন্টাল কলেজে আধুনিক শিক্ষা ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে জিজ্ঞাসার জবাবে প্রফেসর আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি জাপান ও আমেরিকায় পড়ালেখা করেছি; বাংলাদেশের অনেক কলেজ ও ক্লিনিকের সাথে সংযুক্ত থেকে অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ করেছি। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করেছি এ কলেজে তা প্রয়োগ করেছি। সবমিলিয়ে বলতে পারি আমরা পথে আছি; We are on a good & right track..
মেন্ডি ডেন্টাল কলেজের উপাধ্যক্ষ সালাহউদ্দীন-আল-আজাদ বলেন, মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ দন্ত চিকিৎসা শিক্ষার অনন্য প্রতিষ্ঠান। ২০১০ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি লাভের পর এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে গতিসঞ্চার হয়। মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ শিক্ষা, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে চলেছে। একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক তাঁদের নিরলস চেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কোয়ালিটি এডুকেশন দিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বায়ন প্রতিযোগতিার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে যাতে তারা দাঁড়াতে পারে, সেরকমভাবে তাদেরকে গড়ে তুলছেন। সুদক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এসব শিক্ষকের রয়েছে বিদেশি ডিগ্রি এবং অতীত অভিজ্ঞতা।
সালাহউদ্দীন-আল-আজাদ বলেন, মেন্ডি ডেন্টাল কলেজের ল্যাবে রয়েছে পর্যাপ্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি, যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাকটিক্যাল জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে পারে। রয়েছে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, যেখানে রয়েছে পর্যাপ্ত বই ও জার্নাল। এছাড়া রয়েছে ইন্টারনেট কানেকশন/ওয়াইফাই সংযোগ। সবকিছু মিলিয়ে এ কলেজের রয়েছে শিক্ষার চমৎকার পরিবেশ।
তিনি বলেন, বেসরকারি কলেজসমূহের মধ্যে মেন্ডি ডেন্টাল কলেজে রয়েছে সবুজ ছায়ার মনোরম পরিবেশ। যা শিক্ষার্থীদেরকে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ করে। কলেজের রয়েছে এক্সট্রা একাডেমিক কারিকুলার শিক্ষা-সহায়ক কর্মসূচি পালন করে; সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও খেলাধুলায় শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে মেধা বিকাশের সহজ সুযোগ লাভ করে। পড়ালেখা এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিজেদের নিয়োজিত করার ফলে তারা আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। সম্মানীয় অভিভাবকগণ মেন্ডি ডেন্টাল কলেজের এসব বৈশিষ্ট্যের কথা জানেন বলে তাদের সন্তানদের এখানে ভর্তি করিয়ে নিশ্চিন্ত থাকেন।
তিনি আরও বলেন, মেন্ডি ডেন্টাল কলেজের ছাত্র-বেতন অত্যন্ত যৌক্তিক। মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানগণ এ কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে হয়ে ওঠে আলোকিত মানুষ। মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখতে পারে মেন্ডি ডেন্টাল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা। সাফল্যের চমকে উদ্ভাসিত হোক শিক্ষার্থীদের জীবন, মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ হয়ে উঠুক আরো আকর্ষণীয়, আরো সবুজময় শিক্ষাবান্ধব এটি একান্ত কামনা।
লেখাপড়ার ক্ষেত্রে অনন্য উচ্চতায় সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজ এন্ড হসপিটাল
সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজ; বাংলাদেশের একমাত্র মহিলা ডেন্টাল কলেজ হিসেবে যার রয়েছে একক স্বীকৃতি। কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্যোক্তা হলেন জামিউল হোসেন জামির। দেশের বাস্তব চাহিদাকে তিনি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন বলে সাফেনার মতো একটি প্রতিশ্রুতিশীল নারী স্বাস্থ্যশিক্ষার আদর্শ প্রতিষ্ঠান গড়তে পেরেছেন।
ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে মালিবাগ ডিআইটি রোডে অবস্থিত কলেজটির সুপরিসর নিজস্ব ক্যাম্পাস দন্ত চিকিৎসায় আগ্রহী ছাত্রীদের বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। জামিউল হোসেন জামির যখন পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, সেটি ছিল দেশের প্রথম সহশিক্ষার বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ। ঐ সময় তিনি দেখেছেন অনেক আগ্রহ নিয়ে মেয়েরা পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হতে আসতো, কিন্তু সহশিক্ষার কারণে পরিবার ও সমাজের দিক থেকে অসুবিধা থাকায় বেশকিছু ছাত্রী ভর্তি হতে অনাগ্রহ প্রকাশ করত, উচ্চশিক্ষা লাভের আশা বুকে চেপেই তারা ফিরে যেত। বিষয়টি জামিউল হোসেন জামিরের কাছে বেদনাদায়ক মনে হয়েছে। তখন থেকে তিনি প্রতিজ্ঞা করেন শুধু মেয়েদের জন্য একটি ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করবেন। অভিভাবকদের মধ্যেও অনেকে তাঁকে অনুরোধ করেছেন মেয়েদের জন্য আলাদা একটি ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে। জামিউল হোসেন জামিরের সেই স্বপ্ন বাস্তবরূপ নিয়েছে সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। এখনও পর্যন্ত এটি বাংলাদেশের একমাত্র মহিলা ডেন্টাল কলেজ। চাহিদাভিত্তিক সামাজিক উদ্যোগের এটি একটি অনন্য উদাহরণ। কলেজটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকমন্ডলী, সুপরিসর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্লাসরুম, রিডিং রুম ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসিক ব্যবস্থা নারী শিক্ষার্থীদের আকর্ষণের মূল বিবেচ্য বিষয় বলে স্বীকৃত হয়েছে। লাইব্রেরিতে রয়েছে প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত বই, জার্নাল ও আধুনিক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ। এ ছাড়া রয়েছে বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড ফিজিওলজি ল্যাবরেটরি, ডিসেকশন হল, প্যাথলজি ল্যাব, অর্থোডন্টিক্্স ল্যাব, প্রন্থডনটিকস ল্যাব, মাল্টিমিডিয়া এবং অত্যাধুনিক স্ক্রীনটাচ ডিজিটাল বোর্ড সমৃদ্ধ লেকচার রুম, অডিটরিয়াম, ক্যান্টিন, কমনরুম, প্যাথলজি ডিপার্টমেন্টসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় ডিপার্টমেন্ট।
দক্ষ ডেন্টাল সার্জন তৈরির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজ আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান এবং দন্ত রোগের প্রতিরোধ ও নিরাময়ের জন্য গবেষণা এবং বাংলাদেশে দন্ত চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়নে অধিকতর অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এ প্রত্যাশা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের। ধর্মীয় মূল্যবোধ, বাঙালির সামাজিকতা ও সংস্কৃতির ধারক-বাহক হয়ে সাফেনা স্বাস্থ্যসেবা খাতে নারীশিক্ষার যে দিগন্ত উন্মোচন করেছে তা সুরক্ষিত ও সমৃদ্ধ করবে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মএ বিশ্বাস সচেতন মহলে জেগে উঠেছে। মানব সন্তানের দন্ত সুরক্ষায় আর নারী জাগরণে সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে, বিশ্বময় এর সুকৃতি ছড়িয়ে পড়বে স্বপ্নদ্রষ্টা জামিউল হোসেন জামির তাই প্রত্যাশা করেন।
সাফেনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
- উচ্চশিক্ষিত এবং দক্ষ ডেন্টাল সার্জন তৈরির লক্ষ্যে সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজের ছাত্রীদের আন্তজার্তিক মানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান;
- একটি আধুনিক বিশেষায়িত ডেন্টাল ও জেনারেল হসপিটাল প্রতিষ্ঠা;
- বাংলাদেশে দন্ত চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন;
- দন্ত রোগের প্রতিরোধ ও নিরাময়ের জন্য গবেষণা এবং ছাত্রীদের শিক্ষাদান;
- দক্ষতাসম্পন্ন ডেন্টাল সার্জন গড়ে তোলা;
- সমাজে আধুনিক ওরাল এন্ড ডেন্টাল হেল্্থ সার্ভিস প্রদান;
- মুখের স্বাস্থ্য পরিচর্যা সুপরিচালনার নিমিত্তে জনগণকে সচেতন করে তোলা;
- দেশে ডেন্টাল সার্জনের ব্যাপক চাহিদার প্রেক্ষিতে ত্বরিৎ এই বিপুল চাহিদাপূরণ;
- ওরাল ডেন্টাল সায়েন্স পাঠে মেধাবী ছাত্রীদের ডেন্টাল সায়েন্সে আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো;
- বেসরকারি ডেন্টাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধাবী ছাত্রীদের ডেন্টাল সায়েন্সে পড়তে বিদেশ গমন হ্রাস ও বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়।
ঈর্ষণীয় সাফল্যের ধারায় সাফেনা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত বিডিএস পেশাগত পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় কো-এডুকেশনের ডেন্টাল কলেজগুলোর তুলনায় সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজের ছাত্রীদের রেজাল্ট অনেক ভালো। ১৬টি মেধাস্থান ও ৩০টি অনার্স মার্কসহ ফলাফলের দিক থেকে দেশের শ্রেষ্ঠ ডেন্টাল কলেজের স্থান লাভ করে সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পেশাগত পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ১ম, ২য় স্থানসহ মোট ৮টি মেধাস্থান অর্জন করে।
সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁর অনুভূতির কথা জানতে চাইলে ফাউন্ডার-চেয়ারম্যান জামিউল হোসেন জামির বলেন, সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজ আমার একটি স্বপ্ন। বাংলাদেশের প্রথম প্রাইভেট ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণের জন্য আমাকে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম প্রাইভেট ডেন্টাল কলেজ হিসেবে যখন আমরা পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করি, সেটি ছিল কো-এডুকেশনের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভর্তির সময় কোনো কোনো অভিভাবক বলতেন আপনাদের কলেজটি ভালো, তবে মেয়েদের জন্য আলাদা একটি ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে আরও ভালো হতো। অনেক অভিভাবক দ্বিধা-সংকোচ নিয়ে ছেলেমেয়েদের ভর্তি করাতেন, আবার কিছু অভিভাবক মেয়েকে ভর্তি না করিয়েই চলে যেতেন। দেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি এবং দেশবাসীর চাহিদার প্রেক্ষিতে আমি মেয়েদের জন্য আলাদা একটি ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব অনুভব করি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হই এবং ২০১০ সাল থেকেই এর কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজ প্রতিষ্ঠার সময় আমার মধ্যে অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। যারা ধর্মীয় অনুভূতি এবং সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে মেয়েদেরকে ডেন্টাল শিক্ষা দিতে পারছে না, তাদের সে সুযোগ করে দিতে পেরে আমি নিজেকে অনেক গর্বিত মনে করছি এবং আল্লাহর দরবারে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার গুণগত মান সম্পর্কে এক জিজ্ঞাসার জবাবে জামিউল হোসেন জামির বলেন, গুণগত মান সম্পর্কে আমার বলার কিছু নেই। কথায় আছে বৃক্ষ তোমার নাম কী, ফলে পরিচয়। সরকারি এবং বেসরকারি মেডিক্যাল ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হয়। সরকার নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট মানদন্ডে তাদেরকে নির্বাচিত করা হয়। তাই একটা মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড না হলে প্রাইভেট মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তি হতে পারে না। শুরুতে যে স্ট্যান্ডার্ড সরকার মেইনটেন করেন, সে স্ট্যান্ডার্ডের ছাত্রীরা আমাদের এখানে ভর্তি হয়। আমাদের এখানে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়, যাতে ছাত্রীরা প্রকৃত জ্ঞানার্জন করে ভালো ডাক্তার হিসেবে বের হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণ সাধনে সক্ষম হতে পারে। আমি প্রতিদিন কলেজে অবস্থান করে ছাত্রীদের পড়ালেখার খোঁজখবর নিই, কলেজের পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর নজর রাখি, শিক্ষকদের উৎসাহিত করি। এখানে ছাত্রীদেরকে পড়ালেখার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে সব ব্যবস্থা নেয়া হয়। তাদের পড়ালেখার মান বজায় রাখার চেষ্টা করি।
তিনি আরও বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যেসব পেশাগত পরীক্ষা হয়, সেগুলোতে আমাদের ছাত্রীরা চমৎকার রেজাল্ট করে আসছে। ১ম ব্যাচে ১৭ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। দু’জন অনার্স এবং একজন মেধা তালিকায় স্থান পায় এবং পাসের হার ছিল ৮৫%। সরকারি-বেসরকারি ডেন্টাল কলেজসমূহের মধ্যে রেজাল্টের দিক থেকে সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজ প্রথম স্থান অধিকার করে। এর ধারাবাহিকতায় পরের বছরও মেধা তালিকায় ৫টি স্থান এবং ৮টি অনার্স লাভ করে। পাসের হারের দিক থেকে সেবারও ১ম স্থান অর্জন করে। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পেশাগত পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ৮টি স্থানসহ ২৩টি অনার্স পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থান লাভ করে। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পেশাগত পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ স্থানসহ মোট ১৬টি স্থান ও ৩০টি অনার্স মার্ক প্রাপ্তির মাধ্যমে আমাদের কলেজটি সকল ডেন্টাল কলেজের মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পেশাগত পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ১ম, ২য় স্থানসহ মোট ৮টি মেধাস্থান অর্জন করে সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। আমি আমার ছাত্রীদের নিয়ে গর্বিত। তারা অত্যন্ত সিনসিয়ার, সিরিয়াসলি পড়ালেখা করে। তারা সকাল ৭-৪০ মিনিট থেকে ক্লাস শুরু করে বেলা ৩টা পর্যন্ত ক্লাস করার পরও বিকেলে তারা প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস করতে চলে আসে। কিছু ছাত্রী আছে যারা কলেজ লাইব্রেরিতে রাত ৮টা পর্যন্ত পড়ালেখা করে।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমাদের দেশে একটি প্রচলিত ধারণা আছে হরতাল হলে ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু হরতালের সময়ও আমাদের ছাত্রীরা ক্লাসে অংশ নিতে চলে আসে। শুধুমাত্র সরকারি ছুটি ছাড়া অন্য কোনো উপলক্ষে আমাদের কলেজ বন্ধ থাকে না। তাদের ফলাফলই বুঝিয়ে দেয় আমাদের এখানে শিক্ষার গুণগত মান কত উন্নত।
আপনার প্রতিষ্ঠিত ডেন্টাল কলেজে আধুনিক স্বাস্থ্যশিক্ষা ব্যবস্থা কতটুকু কার্যকর রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যশিক্ষায় অনন্য অবদান সৃষ্টিকারী সফল উদ্যোক্তা জামিউল হোসেন জামির বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী এবং শিক্ষা উপকরণ সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানদন্ডকে অনেক উপরে নিয়ে যেতে পারে। শিক্ষা উপকরণের যদি ঘাটতি থাকে, তাহলে মানেও ঘাটতি দেখা দেবে। আমি মনে করি আমার কলেজে যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা অন্যান্য ডেন্টাল কলেজের তুলনায় অনেক অনেক ভালো। এখানে রয়েছে বিশাল ডেন্টাল আউটডোর, অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী। শিক্ষকদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। তাঁদের জন্য রয়েছে সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি; সেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ান তথা লোকবল এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।
চেয়ারম্যান আরও বলেন আমাদের এখানে ডেন্টাল শিক্ষার পাশাপাশি জেনারেল মেডিসিন, জেনারেল সার্জারির প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণ চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এখানে। সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ আইসিইউ এর ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে ক্রিটিক্যাল রোগীদের সেবা দেয়া হয়। সেজন্য আমি মনে করি যেকোনো ডেন্টাল কলেজের তুলনায় সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার মান, চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক উন্নত।
সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজের কার্যক্রম অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, এ ধরনের কল্যাণকর প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণের কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে কি এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জামিউল হোসেন জামির বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগ এবং সরকারের সহযোগিতায় আরও বড় পরিসরে ডেন্টাল কলেজ স্থাপনের চিন্তা রয়েছে। সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজকে আরও বৃহত্তর পরিসরে নেয়ার সহযোগিতার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছি। ইতোমধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আমাদের জন্য জমি বরাদ্দ দিয়েছেন। সেখানে অনেক বড় পরিসরে কলেজ প্রতিষ্ঠা করে হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজকে ঘিরে স্বপ্ন বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে জামিউল হোসেন জামির বলেন, আমি আগেই বলেছি সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজ আমার একটি স্বপ্ন; সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ২০০৯ সালে এ কলেজের জন্ম এবং হাঁটি হাঁটি পা-পা করে এটি এগিয়ে চলছে। শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরপর ৪ বছর মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে। আমার স্বপ্নকে আমি আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমার স্বপ্ন এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও বড় আকারে আত্মপ্রকাশ করবে। মানুষের দোরগোড়ায় এর সাফল্যকে পৌঁছে দেয়ার জন্য আমি এ প্রতিষ্ঠানের পরিধিকে আরও বাড়াতে চাই। এর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজ ও সাফেনা মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে সরকারের নীতিমালা পরিবর্তন সাপেক্ষে যদি বেসরকারি খাতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেয়া হয়, তাহলে সেখানে সাফেনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা আমাদের আছে। এছাড়া নার্সিং পেশা মানবসেবার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, দক্ষ নার্স গড়ে তোলার জন্য সেখানে একটি নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও আমার রয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সদের একটি অংশকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সেবায় নিযুক্ত করে কল্যাণকামী চিকিৎসাকর্মী গড়ে তোলা হবে। এগুলো প্রতিষ্ঠার একটি কেন্দ্র হবে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলা। এটি সফল হলে সেটিকে মডেল হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরও হাসপাতাল গড়ে তুলব। সেসব হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক, শিক্ষক এবং উৎসাহী ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠিয়ে প্রতিষ্ঠানকে সচল রাখব। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চাই এটিই সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজকে ঘিরে আমার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন।
ভিন্নমুখী দক্ষ ডাক্তার সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ (ইউএমসি) স্বাস্থ্য শিক্ষা অঙ্গনে নতুন অভিযাত্রী। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি তার শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে ২০১৪-২০১৫ সেশনে প্রথম ব্যাচের ছাত্র ভর্তির মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ প্রতিষ্ঠানের অচিন্তনীয় উন্নয়ন ঘটেছে এবং এটি বিদ্যার্জন এবং প্রণোদনার উৎকৃষ্ট কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশাবাদী।
কলেজটি সরকার অনুমোদিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিবন্ধিত এবং বিএমডিসি কর্তৃক অনুমোদিত। ইউএমসি শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করে, যা থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের সক্ষমতা খুঁজে পেতে পারে এবং স্বাস্থ্যপরিচর্যার ক্ষেত্রে পেতে পারে প্রকৃত আহ্বান। ইউএমসি’র লক্ষ্য হলো সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলা যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা পর্যাপ্ত জ্ঞান, দক্ষতা ও সহনক্ষমতা অর্জন করতে পারে; যারা রোগীর দক্ষ পরিচর্যাকারী উদ্ভাবক হিসেবে মেডিকেল গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে; তারা কমিউনিটিতে সম্মানীয় নেতারূপে বিবেচিত হবেন।
ইউএমসি’র ডিপার্টমেন্টসমূহের মধ্যে রয়েছে এনাটমি, ফিজিওলজি, বায়োক্যামেস্ট্রি, কমিউনিটি মেডিসিন। অন্যান্য যেসব ডিপার্টমেন্ট রয়েছে সেগুলো হলো ফরেনসিক মেডিসিন, ফার্মাকোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথোলজি, মেডিসিন, সার্জারি এবং গাইনি ও অব্স।
লাইব্রেরি
কলেজ লাইব্রেরি সুসজ্জিত ও সুপ্রশস্ত স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। লাইব্রেরি শান্ত-নিরিবিলি পরিবেশে রয়েছে; যেখানে সাম্প্রতিক সময়ের টেক্সট বুক, রেফারেন্স বুক, জার্নাল রয়েছে; যেগুলো ছাত্র-শিক্ষকের জ্ঞান পিপাসা মেটাতে পারে। এখানে রয়েছে কম্পিউটার ফ্যাসিলিটি। লাইব্রেরিটি সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
লেকচার হল
ইউএমসি’র লেকচার হল পূর্ণাঙ্গ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, আধুনিক আসবাবপত্র, অডিও-ভিজ্যুয়াল সুবিধা সংবলিত।
মেডিকেল এডুকেশন ইউনিট
ইউএমসি মেডিকেল এডুকেশন ইউনিট শিক্ষা পদ্ধতি সহজ করার লক্ষ্যে ডিজিটালাইজড ইনফরমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে সর্বশেষ তথ্য সরবরাহ করে।
হেলথ ফ্যাসিলিটিজ
ইউএমসি তাদের সকল ছাত্র, তাদের পরিবার/অভিভাবক/আত্মীয় স্বজনের জন্য হ্রাসকৃত মূল্যে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ রেখেছে।
হোস্টেল সুবিধা
ইউএমসি-তে রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল সুবিধা।
হাসপাতালে সুযোগ-সুবিধা
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (সাবেক আয়েশা মেমোরিয়াল হসপিটাল) একটি বিশেষায়িত বিভাগ কেন্দ্রিক জেনারেল হাসপাতাল, যা বিভিন্নমুখী স্বাস্থ্যসেবা দানে নিবেদিত। হাসপাতালে টিম-ভিত্তিক রোগীর মানসম্পন্ন সেবা প্রদান করে। এ হাসপাতালে রোগীগণ ২২টি বিশেষায়িত ডিপার্টমেন্টে সেবা নিতে পারে। ১৯৯৬ সালে এ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকার মহাখালী সংলগ্ন এলাকার কমিউনিটির লোকজনের স্বাস্থ্যপরিচর্যার জন্য। উন্নত সেবা এবং উচ্চমান চিকিৎসার কল্যাণে এ হাসপাতাল অনেক সুখ্যাতি অর্জন করেছে। এখানে এক্সপার্ট শিক্ষক দ্বারা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে।
এক্সট্রা কারিকুলাম একটিভিটিজ
ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মানসিকভাবে সুস্থ এবং উদ্ভাবনী চেতনা সম্পন্ন রাখতে ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, ক্রীড়া এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতাকে উৎসাহিত করা হয়।
ক্যাম্পাসের অবস্থান
ইউএমসি ক্যাম্পাস ৭৪জি/৭৫ পিকক স্কয়ার, মহাখালী, ঢাকা (রাওয়া কনভেনশন সেন্টারের বিপরীতে) অবস্থিত। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে এর অবস্থান এবং চমৎকার সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় এর অবস্থান।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
ইউএমসি’র লক্ষ্য হলো মেডিকেল শিক্ষাঙ্গনে ভিন্নমুখী দক্ষ ডাক্তার সৃষ্টি করা যারা দেশ ও বিদেশের জন্য উন্নত দক্ষ ডাক্তার গড়ে তুলবে। সঠিক শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা স্বচ্ছন্দে তত্ত্বগত ও প্রায়োগিক শিক্ষা অর্জন করতে পারে। দেশে স্বাস্থ্যশিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের গবেষণা পরিচালনা করা। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গড়ঃঃড় হলো এমবিবিএস+হিউম্যানিটি = ডাক্তার। রোগীদের প্রতি সততা, শৃংখলা, সম্মান, আমাদের শক্তি!
গরিব রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবার পথপ্রদর্শক ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ
স্বাস্থ্যসেবা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ‘সোনার হরিণ’ হয়ে উঠেছে। সরকারি হাসপাতালে মানসম্পন্ন যত্নের অভাব, বেসরকারি হাসপাতালের অস্বাভাবিক চিকিৎসা খরচ এ দু’য়ের মাঝে পড়ে গরিব রোগীদের ওঠে নাভিশ্বাস, চিকিৎসা-সেবা সুযোগ ক্রমাগতই তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। এমনি সন্ধিক্ষণে ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের উদ্ভব সবার জন্য চিকিৎসা উপযোগী ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে। ঢাকার মালিবাগ চৌধুরী পাড়ায় ২০ শয্যার এ হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৮ সালে। ট্রাস্টিদের ত্যাগের ফলে হাসপাতালটি সবার জন্য কোয়ালিটি চিকিৎসা-সেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে আজ মগবাজারে ৫০০ বেডের আধুনিক এবং প্রগতিশীল চিকিৎসার বিশাল হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। এটি বিশেষ রোগ সম্পর্কে নির্দেশনা এবং রোগ পরীক্ষা-কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ হাসপাতালটি বাংলাদেশে আর্সেনিক অনুসন্ধান, গবেষণা এবং চিকিৎসাক্ষেত্রে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করে আসছে। ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এ কেন্দ্রেই। এটি ট্রাস্টের মালিকানাধীন একটি বেসরকারি, অলাভজনক এবং স্ব-অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতাল। ট্রাস্টিগণ অবশ্য এ হাসপাতালকে দাতব্য চিকিৎসালয় এবং গরিবের হাসপাতাল বলে মনে করেন না, তাঁরা এটিকে ব্যবস্থাযোগ্য খরচে গ্রাম ও শহরের চিকিৎসার সমন্বিত ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবার মডেল হিসেবে দাবি করেন। হাসপাতালটি গ্রাম ও শহরে কমিউনিটি ভিত্তিক চিকিৎসা-কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। একটি কমিউনিটির ৩ হাজার পরিবারের প্রতি গৃহ থেকে প্রতিমাসে যদি ২০ টাকা প্রদান করা হয়, তাহলে তারা একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীর সেবা লাভ করবে। ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল বাংলাদেশের ৩০টি লোকেশনে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এসব কেন্দ্রে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
প্রয়োজন-ভিত্তিক কমিউনিটি-কেন্দ্রিক দক্ষ ডাক্তার গড়ে তোলা এর লক্ষ্য। ছাত্রদেরকে আপডেটেড জ্ঞান দেয়া হয় যাতে তারা উপযুক্ত, নিবেদিত ও জবাবদিহিমূলক হয়ে স্বাস্থ্যসেবা সেক্টরে নেতৃত্বের ভূমিকায় থেকে কমিউনিটির স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধান করতে পারে, ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে শক্ত পটভূমি গড়তে পারে।
লাইব্রেরি
হাসপাতাল বিল্ডিংয়ে স্থাপিত লাইব্রেরিটি অনেক সমৃদ্ধ, আছে আরামদায়কভাবে বসার ব্যবস্থা। এতে রয়েছে সাধারণ টেক্সট বুক, রেফারেন্স বুক, জার্নাল এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর লিখিত বইয়ের সমাবেশ। এর মাধ্যমে শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা অত্যাধুনিক তথ্য লাভ করতে পারেন। লাইব্রেরিটি ইন্টারনেট সংযোগসহ কম্পিউটার-সমৃদ্ধ। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পড়ার আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। ছাত্ররা কলেজে অথবা বাসায় নিয়ে পড়ার জন্য লাইব্রেরি থেকে বই ধার নিতে পারে। সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা থাকে। বিশেষ ব্যবস্থাধীনে শুক্রবার কিংবা সরকারি ছুটির দিনে লাইব্রেরি খোলা রাখা হয়।
কলেজ ক্যাম্পাস
ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ইতোমধ্যে নির্মিত ১০ তলা ভবনে একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে কলেজে অধ্যয়নরত মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩১৭ জন। এর মধ্যে প্রথম ব্যাচের ২১ জন ছাত্র-ছাত্রী এমবিবিএস পেশাগত ফাইনাল পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে ইন্টার্ণী করছে। এছাড়া ক্লিনিক্যাল শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হয় পার্শ্ববর্তী ৫০০ শয্যার হাসপাতাল কমপ্লেক্সে।
একাডেমিক ফ্যাকাল্টি
কলেজের একাডেমিক ফ্যাকাল্টি খুব সমৃদ্ধ। বর্তমানে প্রফেসর, এসোসিয়েট প্রফেসর, এসিসট্যান্ট প্রফেসর, লেকচারারসহ অন্যরা শিক্ষাদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে জড়িত রয়েছেন। প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ফার্মাকোলজি এবং ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগসমূহে পর্যাপ্ত লোকবল, স্টাফ ও সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি এন্ড অব্স এবং সংযুক্ত ক্লিনিক্যাল ডিসিপ্লিন বিষয়সমূহ ও প্রয়োজনীয় লোকবল এবং সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ করা হয়েছে।
শৃংখলা ও আচরণ
ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কলেজের নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হয়। নিয়ম-নীতির প্রতি অনীহা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হয়। এর শাস্তিস্বরূপ সতর্কীকরণ থেকে শুরু করে তারা বহিষ্কৃতও হতে পারে। শিক্ষার্থীদেরকে ২৬টি নির্দেশ পালন করতে হয়।
অন্যান্য কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, অভিভাবক সভা, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতি ১০ জন ছাত্রের একাডেমিক, ব্যক্তিগত, পারিবারিক অথবা সামাজিক সমস্যা সমাধানের বিষয় দেখাশোনার জন্য একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেয়া হয়। ছাত্ররা খোলাখুলিভাবে মেন্টরের সাথে (দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক) আলাপ করতে পারে এবং প্রয়োজনবোধে তার সাহায্য-সহযোগিতা নিতে পারে। ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজে প্রচলিত পদ্ধতির পড়ালেখার বাইরেও সমস্যা-কেন্দ্রিক শিক্ষাদানের (PBL) ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণতঃ ছাত্র ও শিক্ষকগণ এতদসংক্রান্ত সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। তৃতীয় বর্ষের শুরু থেকে কমিউনিটি-ভিত্তিক শিক্ষাপ্রদান শুরু হয়, শহর কিংবা গ্রামের ৫টি পরিবারের সাথে যুক্ত করে সেসব পরিবারের রোগ চিহ্নিত করা, চিকিৎসা করা, অসুখের কারণ নির্ণয় ইত্যাদি কাজে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়োজিত করা হয়। তাদের কাজ মনিটরিংয়ের জন্য হেল্থ কার্ড ব্যবহার করা হয়। এভাবে ভবিষ্যতের কমিউনিটি হেল্থ লিডার গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
যোগাযোগ
১৯০/১ বড় মগবাজার ওয়ারলেস রেলগেইট, ঢাকা ১২১৭। ফোনঃ ৯৩৫১১৯০-৯১, ০১৭১১১৯৪৫৭৬।
সাফল্যের পথ ধরে সগৌরবে এগিয়ে চলেছে ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজ
ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজের প্রতিষ্ঠা ১৯৯৫ সালে। ইউডিসি দন্ত চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যসেবার একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। এটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কর্তৃক অনুমোদিত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নিবন্ধিত; ইউডিসি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের একটি প্রকল্প। ইউডিসি’র প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ২০০০ সালে গ্রাজুয়েশন লাভ করে। সেই সাফল্যের পথ ধরে এ প্রতিষ্ঠান সগৌরবে এগিয়ে চলেছে উল্লেখযোগ্য ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে।
শিক্ষামানের ব্যাপারে এ প্রতিষ্ঠান আপোশ করে না বলেই এর সাফল্যের ধারা অক্ষুন্ন রয়েছে। ফ্যাকাল্টি মেম্বারগণ পাঠদানসহ অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর আন্তরিক নজর রাখেন। ট্রাস্টি ও গভর্নিং বডির সদস্যগণ কলেজের দৈনন্দিন কার্যাবলি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন চাহিদা সম্পর্কে সচেতন এবং দ্রুত তা মেটাতে সচেষ্ট থাকেন।
গভর্নিং বডি
ডিএমসিআর ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি এবং চেয়ারম্যান মির্জা আলী বেহরুজ ইস্পাহানী এ কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান। এছাড়া গভর্নিং বডিতে ১৫ জন সদস্য রয়েছেন প্রফেসর ডাঃ শহীদ আখতার হোসেন; অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক মাহমুদ; অধ্যাপক ডাঃ মোঃ ইসমাইল খান; সৈয়দ আলী আহসান (পিএস টু সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়); প্রফেসর ডাঃ সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন (নির্বাহী পরিচালক ও ট্রাস্টি, ডিএমসিআর ফাউন্ডেশন); প্রফেসর ডাঃ এম এ মান্নান; ডাঃ আঃ মালেক ভূঁইয়া (ট্রাস্টি, ডিএমসিআর ফাউন্ডেশন); ডাঃ মির্জা আলী হায়দার (ট্রাস্টি, ডিএমসিআর ফাউন্ডেশন); ডাঃ খন্দকার ইফতেখার উদ্দিন আহমদ (ট্রাস্টি, ডিএমসিআর ফাউন্ডেশন); ডাঃ মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান (ট্রাস্টি, ডিএমসিআর ফাউন্ডেশন); ডাঃ আবু আহাম্মদ শহীদুল ইসলাম; ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শামসুল আলম; মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন; অধ্যাপক ডাঃ সুলতানা গুল নাহার (অধ্যক্ষ ও ট্রাস্টি, ডিএমসিআর ফাউন্ডেশন)।
ফ্যাকাল্টি মেম্বার
ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজের শিক্ষকগণ যোগ্য, দক্ষ ও মেধাবী। অধিকাংশ শিক্ষকই বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত; সবাই স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত। তাঁরা শিক্ষার্থীদের শুধু দক্ষ দন্ত চিকিৎসক হিসেবেই গড়ে তুলছেন না, তাদেরকে মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন নাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলছেন। বিভাগগুলোতে প্রফেসর, এসোসিয়েট প্রফেসর, এসিসট্যান্ট প্রফেসর, লেকচারারগণ নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথে শিক্ষাদানে নিবেদিত। প্রতিশ্রুতিশীল এ বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ এন্ড হসপিটাল এরই মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক মহলের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিডিএস কোর্সের ২১তম ব্যাচের ভর্তি চলছে।

ঠিকানাঃ ১২০/এ, সিদ্ধেশ্বরী আউটার সার্কুলার রোড; সেঞ্চুরী আর্কেড, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। ফোনঃ ৯৩৩৭৪১৭, ৮৩৫৫০৭৯, ৮৩৩২৬৩২
সাফল্যের পথ ধরে সগৌরবে এগিয়ে চলেছে ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজ
ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে প্রফেসর ডাঃ সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন বলেন আমি যে পদে অধিষ্ঠিত হয়েছি, এ পদে দায়িত্ব অনেক বড়। এ পদের আওতায় টাকা-পয়সা, প্রশাসন, নিয়োগ, বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদি বিষয়ে প্রচন্ড চাপ থাকে। আমি চেষ্টা করছি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে কাজ করতে, যাতে এ প্রতিষ্ঠানের একাউন্টেবিলিটি থাকে।
ডেন্টাল কলেজ পরিচালনায় কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বলে মনে করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেন এখানে রয়েছে শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী। যেখানে ছাত্র থাকে, সেখানে কিছু সমস্যা থাকাই স্বাভাবিক। তবে সেসব সমস্যা আমরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করি। সমস্যার কারণে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় না।
এ কলেজের শিক্ষকদের গুণগত মান এবং যুগোপযোগী শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমাদের কলেজের শিক্ষকদের গুণগত মান ভালো বলে আমি মনে করি। এটা শুধু আমার ধারণা নয় শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, তারাও এ কথা স্বীকার করবেন। নতুন নিয়োগ প্রাপ্তদের মাঝে যারা ভালো করছে না, তাদেরকে আপটু দ্যা মার্ক তুলে আনার জন্য আমরা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষামান বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষকদেরকে কার্যকর প্রশিক্ষণদানের মাধ্যমে তাদেরকে মেধাবী করে গড়ে ওঠার সুযোগ দেয়া হচ্ছে যাদের আন্তরিক চেষ্টায় ছাত্রদের মধ্যেও মেধা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আপনার ডেন্টাল কলেজে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা কতটুকু কার্যকর বলে মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, দেশের ডেন্টাল কলেজগুলোর মধ্যে আমরা উপরের দিকে আছি এটি নির্দ্বিধায় বলতে পারি। আধুনিক শিক্ষা অনেক ব্যয়বহুল, এক্ষেত্রে আধুনিক টেকনোলজি অপরিহার্য। তবে উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিকভাবে যা করা দরকার, আমরা তা করে যাচ্ছি। আশা করি, আগামীতেও আমাদের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমরা বিশ্বমানের দিকে এগুচ্ছি সুস্থিরভাবে, দৃঢ় প্রত্যয়ে।
বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ পরিচালনায় কী কী সমস্যার সম্মুখীন হন এমন প্রশ্নের জবাবে ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিনিধি, ভাইস-চ্যান্সেলরের একজন প্রতিনিধি, ঢাবি’র শিক্ষকদের একজন প্রতিনিধি বিভিন্নভাবে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিজিট করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ফ্যাকাল্টির ডিন ও গভর্নিং বডির দু’জন মেম্বারের মাধ্যমে আমাদের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়; প্রতি ৩/৪ মাস পর পর গভর্নিং বডির সভা হয়। প্রতিবছর একবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব ইন্সপেকশনের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম পরীক্ষা করে দেখা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা যে ধরনের সহযোগিতা পাওয়া দরকার, আমরা তা পেয়ে আসছি। বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি প্রসঙ্গে ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বিদেশি ছাত্রদের ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ-৭ থাকতে হবে, বাংলাদেশিদের জন্য থাকতে হবে ৮। তবে বাংলাদেশিদের সরকার নির্ধারিত পরীক্ষার মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্কোরে উত্তীর্ণ হতে হবে।
ডেনটিস্ট্রি পড়তে নেপাল ও ভুটান থেকে বেশি শিক্ষার্থী আসে, ভারত থেকে কম আসে, তবে পাকিস্তান ও ইরান থেকেও আসে। যারা এখানে এসে ভর্তির সুযোগ পায় না তারা চীন, জাপান প্রভৃতি দেশে চলে যায়। চীনে জিপিএ-৬ পেলেই পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন এখন অনেক ডেন্টাল কলেজ হয়েছে, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এত শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন; ৩০% বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারলে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারব। এজন্য আমাদের আবেদন থাকবে বিদেশিদের জন্য সরকারি নিয়ম-কানুন সহজীকরণ করা। তাহলে আরও বেশি সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হতে আগ্রহী হবে।
ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ডাঃ আবদুল মালেক ভূঁইয়া বলেন, আমি আগে থেকেই এ কলেজের সাথে যুক্ত। আমি দেখতে পাচ্ছি কলেজ ভালোই চলছে। পাঠদান, প্র্যাকটিকেল শিক্ষা সবই ভালোভাবে চলছে। বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য ডেন্টাল কলেজের তুলনায় এর কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে কী এমন প্রশ্নের জবাবে ডাঃ আবদুল মালেক ভূঁইয়া বলেন, বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা বলতে গেলে আমি বলব আমাদের কলেজের শিক্ষার মান অত্যন্ত ভালো। অন্যান্য প্রাইভেট ডেন্টাল কলেজে যত শিক্ষক আছে, তার চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষক আছে আমাদের কলেজে। সব শিক্ষকই যথেষ্ট অভিজ্ঞ। আমাদের সব শিক্ষক স্থায়ীপদে আছেন। সব টিচারই হাইলী কোয়ালিফাইড। শিক্ষাদানে কোয়ালিটির ব্যাপারে আমরা কোনো কম্প্রোমাইজ করি না।
আপনার কলেজে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা জানতে চাইলে ডাঃ আবদুল মালেক ভূঁইয়া বলেন, আমাদের কলেজের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো। মেয়েদের হোস্টেল কলেজের উপরেই; এক ফ্লোর নেমেই তারা ক্লাসে ঢুকে যায়। ছেলেদের হোস্টেলও খুবই কাছে। আমাদের ডিপার্টমেন্টগুলো ওয়েল-অর্গানাইজ্ড। কলেজের আউটডোরও অনেক বড়; সেখানে অনেক রোগী আসে, তাদেরকে যথেষ্ট সেবা দিয়ে যাচ্ছি আমরা। আমাদের এখানে একটা ওটি আছে, সেখানে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা হয়ে থাকে। আমাদের হসপিটালগুলোতে রোগী ভর্তি হচ্ছে, চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। আমরা খুব কম মূল্যেই রোগীদের চিকিৎসা করে থাকি। এখানে গরিব রোগীদের জন্য ২টি ফ্রি বেড আছে। অপারেশন ব্যয় অনেক সময় আমরা নিজেরাই দিয়ে দিই।
ডেন্টাল শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার জন্য কী কী পরিবর্তন আনা প্রয়োজনবোধ করেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে ডাঃ মালেক ভূঁইয়া বলেন, এখন শিক্ষা পদ্ধতি দিন দিন বদলে যাচ্ছে, কমিউনিটি চিকিৎসা সেবা চালু হয়েছে; শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন কমিউনিটিতে গিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ের সাথে তারা পরিচিত হচ্ছে; মানুষ কিভাবে বসবাস করছে, কিভাবে চিকিৎসা দেয়া যায়, তা তারা বাস্তব অবস্থা থেকেই জেনে নিচ্ছে। প্রবাদ আছে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। তাই দাঁতের রোগ যাতে না হয় সে ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করাও তাঁদের একটি দায়িত্ব। পড়ালেখা এখন আর একান্তভাবে পাঠ্যপুস্তক নির্ভর থাকছে না, অনলাইনে অনেক কিছু জানা সম্ভব হচ্ছে। এখানে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা সুসজ্জিত একটি আধুনিক ল্যাব রয়েছে, যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা অনেক কিছু জানতে পারে। আমাদের লাইব্রেরি খুব সমৃদ্ধ, যা থেকে শিক্ষার্থীরা অনেক কিছু শিখতে পারে। আমরা চেষ্টা করছি সুযোগ-সুবিধাগুলো আরও বাড়ানোর জন্য।
আপনার কলেজে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষালাভের সুযোগ আছে কী? বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়ে থাকলে তাদের জন্য কী সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ডাঃ আবদুল মালেক ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের ডেন্টাল কলেজে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখার খুব আগ্রহ আছে। কিন্তু সরকারিভাবে তাদের ভর্তি পদ্ধতি খুব সহজ না হওয়ায় এবং কোটা সিস্টেম থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকে আসতে পারে না। অবশ্য তারা ভর্তি হতে পারলে এদেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রাও নিয়ে আসতে পারতো। এজন্য বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির নিয়ম-পদ্ধতি কমপ্লিকেটেড না করে এগুলো সহজ করা উচিত। বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এদেশে শিক্ষা গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করা উচিত। আমাদের কলেজে নেপাল, ভুটান, ইরান এসব দেশের শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েক বছর থেকেই আছে।
আন্তর্জাতিক দন্ত চিকিৎসার প্রেক্ষাপটে আমাদের দন্ত চিকিৎসা কতটা মানসম্মত বলে মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে ডাঃ আবদুল মালেক ভূঁইয়া বলেন, যেহেতু বর্তমানে কোর্স কারিকুলাম ওয়ার্ল্ড ওয়াইড একই রকম, সেজন্য আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি অবশ্যই মানসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষকদের হাতের কাছে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তির বিপুল সম্ভার কাজেই মানসম্মত শিক্ষা প্রদান অবশ্যই সম্ভব।
সুদক্ষ চিকিৎসক তৈরির অনন্য প্রতিষ্ঠান সিটি ডেন্টাল কলেজ এবং সিটি মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল
দেশে দন্ত চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সুদক্ষ দন্ত চিকিৎসক সৃষ্টির মহান ব্রত নিয়ে বাংলাদেশে দন্ত চিকিৎসা শিক্ষার অনন্য প্রতিষ্ঠান সিটি ডেন্টাল কলেজ ১৯৯৬ সালের ১৩ মে প্রতিষ্ঠিত হয়। সিটি ডেন্টাল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রকল্প পরিচালক ডাঃ এ এস এম বদরুদ্দোজা। প্রায় ১৫ কোটি জনসংখ্যার দেশে ডেন্টাল সার্জন প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। এজন্য ডেন্টাল সার্জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি। ডেন্টিস্ট্রি স্বাস্থ্যশিক্ষার মধ্যে একটি বিশেষায়িত শিক্ষা। কর্মক্ষেত্রে শুধু চাকরি হিসেবে নয়, ব্যক্তিগত পেশা হিসেবেও এটি আকর্ষণীয় এবং ফলপ্রসূ। ডেন্টিষ্ট্রিকে এজন্য উচ্চ আসন ও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। ডেন্টাল সার্জনগণ সমাজের শ্রদ্ধাভাজন এবং সম্মানজনক সদস্য হিসেবে বিবেচিত হন।
সিটি ডেন্টাল কলেজ ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশে-বিদেশে যথেষ্ট সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে এই কলেজ থেকে পাস করা ডেন্টাল সার্জনগণ অনেকেই উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে দেশে এবং দেশের বাইরে কৃতিত্বের সাথে স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদান রেখে যাচ্ছেন। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হলেন প্রয়াত প্রফেসর ডাঃ আখতার জাহান মির্জা।
ইন্টার্নী ডাক্তার ও শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষাদানের জন্য ফ্রি ডেন্টাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
- দক্ষ ও অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জন তৈরি;
- দন্তরোগের ওপর পর্যাপ্ত গবেষণা;
- স্বল্প ও সহনীয় মূল্যে দন্ত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা জনসাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া।
- চিকিৎসা করার অনুমতি প্রাপ্তিতে সহায়ক বিভিন্ন দেশের (যেমন অস্ট্রেলিয়া, ইউকে, ইউএসএ) জাতীয় পরীক্ষার উপযোগী করে শিক্ষাদান করা।
বৈশিষ্ট্য
সিটি ডেন্টাল কলেজে রয়েছে একসাথে ১০০ জন ছাত্র-ছাত্রী ক্লাস করার উপযোগী ৩টি লেকচার গ্যালারী, টিউটোরিয়াল রুম, ৫০টি ডেন্টাল ইউনিট বিশিষ্ট আধুনিক ডেন্টাল বহির্বিভাগ। পর্যাপ্ত সংখ্যক পাঠ্যপুস্তক, রেফারেন্স পুস্তক, জার্নালসহ রয়েছে সুসজ্জিত আধুনিক লাইব্রেরি ও রিডিং রুম। লাইব্রেরিতে রয়েছে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সুবিধা।
ক্লাস পাঠদানে রয়েছে আধুনিক সব প্রযুক্তি। ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, স্লাইড প্রজেক্টর ইত্যাদি। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে পৃথক হোস্টেলে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা।
যোগাযোগ
১০৮৫/১, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, ঢাকা-১২১৯।
ফোনঃ ৮৩৩১৩০৭-৯
ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৩২৪৪,
ইমেইলঃ cdcdoza@yahoo.com
সিটি মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল
চিকিংসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অনন্য
স্বাস্থ্যশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতিশীল প্রতিষ্ঠান সিটি মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল গাজীপুর জেলার ইটাহাটা, ব্লক-বি, চন্দনা চৌরাস্তায় অবস্থিত। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিবন্ধিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ব্যাচেলর অব মেডিসিন এন্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি (এমবিবিএস) ডিগ্রি প্রদান করছে।
বিএমডিসি অনুমোদিত সিটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষাবর্ষ হলো জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর। এটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত। সিটি মেডিকেলের রয়েছে সুসজ্জিত ৩০০ বেডের হাসপাতাল। এ কলেজে রয়েছে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনোকোলজি এন্ড অবস্টেটিক্স, কার্ডিওলজি সিসিইউসহ, অফথালমোলজি, ইএনটি, ডেন্টাল ইউনিট, এনেসথিসিওলজি, রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং, প্যাথলজি, স্কিন এন্ড ভিডি, পেডিয়াট্রিক্স, ফিজিওথেরাপি আর রয়েছে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ।
কলেজে গঠিত স্টুডেন্টস এডভাইজরি কাউন্সিল ছাত্রদেরকে ব্যক্তিগতভাবে, যৌথভাবে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দিয়ে থাকে। এ কাউন্সিল ছাত্রদেরকে তাদের পড়ালেখা সম্পর্কেও মূল্যবান উপদেশ দিয়ে থাকে।
কলেজে রয়েছে একস্ট্রা একাডেমিক কার্যকলাপ। ছাত্র-ছাত্রীরা বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে তাদের মেধা বিকাশে আত্মনিয়োগ করতে পারে।
কলেজে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে রয়েছে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, যাতে ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট কানেকশন রয়েছে। সকল কর্মদিবসে লাইব্রেরি সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে। কলেজের প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট সুসজ্জিত, শিক্ষকমন্ডলী অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ এবং কোয়ালিটি শিক্ষা প্রসারে নিবেদিত, তাঁরা শিক্ষার মান বজায় রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কলেজের কম্পিউটার ল্যাবটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে স্থাপিত যাতে রয়েছে ১৫টি কম্পিউটার, এর ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সার্ভিস খুব আকর্ষণীয়।
চেয়ারম্যান ডাঃ এএসএম বদরুদ্দোজা, প্রিন্সিপাল প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) মোঃ ইউনুস আলী মন্ডল, ভাইস-প্রিন্সিপাল ডাঃ জেসমিন আখতার এর সুযোগ্য পরিচালনায় সিটি মেডিকেল কলেজ প্রত্যয়দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে। এছাড়া কো-অর্ডিনেটর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) মোঃ মোশাররফ হোসেন শিক্ষাদানের পাশাপাশি কলেজের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ