বিশেষ খবর

ইকবাল মাহমুদ দুদক’র নয়া চেয়ারম্যান

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রচ্ছদ প্রতিবেদন
img

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর চেয়ারম্যান পদে সাবেক সিনিয়র সচিব ইকবাল মাহমুদকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দুর্নীতিবিরোধী এ সংস্থাটির কমিশনার পদে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক জেলা জজ এ এফ এম আমিনুল ইসলাম। ১০ মার্চ এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। ইকবাল মাহমুদ দুদকের সদ্যবিদায়ী চেয়ারম্যান মোঃ বদিউজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সরকারের সাবেক সচিব ইকবাল মাহমুদ বলেন, সরকার আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে তা সুষ্ঠুভাবে পালন করতে চাই। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
ইকবাল মাহমুদের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
জনাব ইকবাল মাহমুদ ১৯৫৫ সালে চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেছেন। তাঁর পিতা মোঃ আবদুল লতিফ একজন আদর্শ স্কুল শিক্ষক ছিলেন। জনাব মাহমুদের স্কুল জীবন কেটেছে সাতক্ষীরায় আশাশুনি হাইস্কুলে। এ স্কুল হতে তিনি ১৯৭২ সালে এসএসসি এবং নটরডেম কলেজ হতে ১৯৭৪ সালে এইচএসসি পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে লোকপ্রশাসনে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮০ সালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ২০০২ সালে নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স অফ পলিসি স্টাডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে তিনি বহু স্থানে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। জনাব মাহমুদের উল্লেখযোগ্য চাকরিক্ষেত্র হচ্ছে উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মন্ত্রি পরিষদের সিনিয়র সহকারী সচিব, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সিভিল এ্যাফেয়ার্স অফিসার, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার, বিসিএস প্রশাসন একাডেমির উপ-পরিচালক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক প্রভৃতি।
২ মে, ১৯৯৯ সালে তিনি গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপ-সচিব এবং ২০০৪ সালের অক্টোবরে তিনি জাইকার উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৫ সালে মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং ২০০৬ সালে অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি পেয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং ২০০৭ সালে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব থাকা অবস্থায় ২০০৮ সালের জুন মাসে পদোন্নতি পেয়ে সচিব হন ইকবাল মাহমুদ।
২০০৯ সালে তিনি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের (বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) সচিব নিযুক্ত হন। এরপর ২০১২ সালে সরকার ‘সিনিয়র সচিব’ নামে নতুন পদ সৃষ্টি করলে আরও সাতজনের সঙ্গে ইকবাল মাহমুদও ওই পদ লাভ করেন। তখন তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। একই বছরের নভেম্বরে তাকে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) বিকল্প নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যান ইকবাল মাহমুদ। অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে তাকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয়।
সরকারের এই সৃজনশীল কর্মকর্তা উল্লেখিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে সরকারের মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, আইসিডিডিআরবি’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য, আইডিসিওএল এর চেয়ারম্যান, আইআইএফসি এর চেয়ারম্যান, টেলিটক এর চেয়ারম্যান, বিটিসিএল এর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানী লিঃ এর চেয়ারম্যান এবং সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশে কৃষি ব্যাংকের বোর্ড সদস্য হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তি জীবনে তিনি ১ পুত্র ও ১ কন্যার জনক। তার সহধর্মিণী ডাঃ খাদিজা বেগম একজন চিকিৎসক, বর্তমানে তিনি আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া ডেভিস এ চাকরি করছেন।
দুদক’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতি সভায় দুদক চেয়ারম্যান
দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের প্রথম দিন তিনি উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি ৩৪ বছরের সরকারি চাকরি জীবনে ২৪টি পদে দায়িত্ব পালন করেছি। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। এখানে কে অফিসার, কে স্টাফ সেটি বড় কথা নয়। বরং কে কমিশনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করছি সেটিই বড় কথা। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, বাংলাদেশের সংবিধানে অফিসার বলতে কোনো শব্দ নাই, সবাই ঊসঢ়ষড়ুবব, আমরা সবাই এক, কিন্তু দায়িত্ব ভিন্ন। আর দায়িত্বই যখন মুখ্য, তাই আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- যার যা দায়িত্ব তা পালন করবেন, কেউ আপনাকে বলে দেবে না যে এ দায়িত্ব আপনার, কেন তা করেন নাই? যদি কেন করেন নাই- এমন প্রশ্ন আসে, তাহলে আপনাকে চলে যেতে হবে। কারণ, নিজের দায়িত্ব নিজেকেই পালন করতে হবে। আপনার দায়িত্ব আপনি সঠিকভাবে পালন করতে পারলে আপনি আস্তে আস্তে অনেক উপরে উঠতে পারবেন। আমি বোঝাতে চাচ্ছি এ প্রতিষ্ঠানে আমরা সবাই এমনভাবে কাজ করব, যাতে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।
আমি যখন আপনাদের দুদক পরিবারের সদস্য ছিলাম না, তখন আমি একটা কথা প্রায়শই শুনেছি আর তা হলো দুদক’র পিয়ন চাপরাশি থেকে শুরু করে অফিসার এমনকি ইট, পাথর, কাঠও নাকি দুর্নীতিগ্রস্ত। আমি এ ব্যাপারে এখনও কিছু জানি না, তবে যা শুনেছি, তা যেন সত্য না হয়। আপনারা এখন থেকেই সাবধান হয়ে যান, আর তা না হলে কেউই রেহাই পাবেন না। অতীতে কি হয়েছে তা আমি শুনতে চাই না। আমি আপনাদের নিয়ে নতুন করে পথ চলতে চাই। আপনাদের সকল কাজের দায়িত্ব নিতে চাই। আর যদি সে দায়িত্ব আমি নিই, তাহলে আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে। আমার একটি সমস্যা আছে, তাই আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন। সমস্যা হচ্ছে এই যে, আমার কাছে পযধহপব মাত্র একটা। সেটা ইু পযধহপব না, জবধষ পযধহপব. আপনি যেটা করবেন ভেবে চিন্তে করবেন। আপনাকে নোটিশ দিতে বলা হলে নোটিশ দিবেন। এর বাইরে আর যেন কিছু না হয়। কথাটি আপনারা গভীরভাবে নেবেন, কারণ আমি যা বলছি তা অবশ্যই করবো।
তিনি বলেন, আমি এখানে চাকরি করতে আসিনি; একটা মিশন নিয়ে এসেছি। আর তা হলো দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার মিশন। যদি আপনারা মনে করেন বা দেখেন যে আমি নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত তাহলে আপনারাও দুর্নীতি করতে পারবেন। আর আমি ও আমার দুই কমিশনার যদি দুর্নীতিগ্রস্ত না হই, তাহলে কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না।
কেউ কেউ এসে বলতে পারেন, গত মাসে কি হয়েছে, ২০ বছর আগে কি ছিল, ওই স্যার এই করতেন, সেই করতেন, এ ছেলেটা খুব খারাপ, ঐ ভদ্র মহিলা বাইরে এই করতেন- এসব কথা আমার কাছে কোনোদিন বলবেন না। মানে আপনার সাথে আমার সম্পর্ক শুধু আজকের; আমি আগামীর দিকে তাকাতে চাই; পেছনে তাকাবার লোক আমি নই। কারণ আমার পেছনে আল্লাহ কোনো চোখ দেন নাই। আমি সামনের দিকে তাকাতে চাই। তাই বলব, আপনার সাথে আমার সম্পর্ক শুধু আজকের। আমি সাংবাদিক ভাইদেরকেও বলেছি, আমি আগে শুরু করবো আমার ঘর থেকে, আমার ঘর ঠিকতো সব ঠিক। আমার ঘর ঠিক নাইতো আমি নাই। আমি না থাকলে আমি আপনাদের কাউকে রাখবো না। নিশ্চয়ই আপনারা আমার সাথে একমত হবেন যে, আমি না থাকলে আপনারাও আমার সাথে চলে যাবেন। আমার ইজ্জত চলে গেলে আপনাদের সবার ইজ্জতও যাবে। তাই ইজ্জতের সাথে কোনো ঈড়সঢ়ৎড়সরংব চলবে না। মনে রাখবেন, কাজের সময় শুধুই কাজ। সময়মত অফিসে আসবেন। কোনো অজুহাত চলবে না; যানজটের কারণে দেরি হবে মনে করলে ভোর ৪টায় বেরিয়ে পড়বেন। পরপর তিন দিন না আসলে কমিশন আইনে চাকরি চলে যাবে। মনে রাখবেন, বেকারের দেশে লোকের অভাব হবে না। এখন থেকে ফ্রি স্টাইলে কাজ করা চলবে না। নিয়মনীতির মধ্যে চলতে হবে। অফিস অফিসই। আপনি যা করবেন বুঝে শুনে করবেন। কারণ আমার সমস্যার কথা মনে রাখবেন একবার- ওটাই শেষবার। দ্বিতীয়বার নেই। আমি যা বলি তা’ করি, বিগত দিনে আমি তা-ই করে এসেছি। তিনি আরো বলেন, এখানে যারা আসে তারা অভিযুক্ত, অপরাধী নয়; প্রমাণের আগে কিভাবে অপরাধী হয়? এ সত্য না মানার কারণে মানুষ নানা হয়রানির শিকার হন। অফিসে আমরা যারা এসেছি, তারা সবাই কাজের লোক, We are servants.. যারা এখানে আসেন তাদেরকে বন্ধুর মত গ্রহণ করবেন। তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করবেন। আসল কথা হলো- একজন আরেকজনকে সম্মান করবে। কারণ সম্মান পেতে হলে সম্মান দিতে হয়।
ক্যাম্পাস প্রতিনিধির কাছে দুদক’র নয়া চেয়ারম্যান
ইকবাল মাহমুদ এর প্রতিক্রিয়া
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে কাজে যোগদানের কিছুক্ষণ পর তিনি মুখোমুখি হন ক্যাম্পাস প্রতিনিধির। বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হয় তাঁর সঙ্গে। এতে দুদক নিয়ে তাঁর মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উঠে আসে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনার নেপথ্যে দুর্নীতি থেকে থাকলে তার অনুসন্ধান নিয়ে দুদকের পরিকল্পনার কথাও জানালেন তিনি। তিনি বলেন, যেখানেই দুর্নীতির গন্ধ পাওয়া যাবে সেখানেই থাকবে দুদক। দুদক এ কোনো দুর্নীতি থাকলে তাও নির্মূল করা হবে।
দুদক’র অতীত মূল্যায়ন করতে গিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের গত তিন বছরের কথা আমি বলতে পারব না। ঐ সময়টা আমি দেশের বাইরে ছিলাম। নিশ্চয় ভালো কাজ হয়েছে। তবে আরো কাজ করার স্কোপ রয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে দুদক’র নতুন চেয়ারম্যান বলেন, ভবিষ্যতেরটা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। তবে আমি তাৎক্ষণিকভাবে বলতে চাই, দুর্নীতি প্রতিরোধই হবে আমার মূল লক্ষ্য। এছাড়া নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সে দিকে খেয়াল রাখা এবং যারা অপরাধ বা দুর্নীতি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে অনেক শক্ত ও কঠিন অবস্থান নেয়া হবে।
তিনি বলেন, কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে আমার মূলমন্ত্র হবে চারটি। প্রথমত, আমি যেটা করব সেটি সবাই জানবে, অর্থাৎ কাজের মধ্যে স্বচ্ছতা। দ্বিতীয়ত, আমার কাজের জবাবদিহি। তৃতীয়ত, আইনের গ-ির মধ্যে থেকে সব কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং চতুর্থত, কমিশনের কাজে সবার নিশ্চিত অংশগ্রহণ, বিশেষ করে গণমাধ্যমের।
কমিশনের কোনো বিষয়ে রাজনৈতিক কোনো প্রভাব, চাপ বা নির্দেশনা থাকলে কেমন ভূমিকা পালন করবেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুদক আইন অনুযায়ী কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়। তাই রাজনীতির কোনো প্রশ্নই এখানে আসার সুযোগ নেই। সব চাপের ঊর্ধ্বে উঠে এই প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে রিজার্ভের অর্থ চুরির মধ্যে কোনো দুর্নীতি আছে কি না, এ বিষয়ে দুদক কি কোনো অনুসন্ধান করবে? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখনো জানি না বাংলাদেশ ব্যাংকে কী হয়েছে, তবে আমরা সংবাদপত্রের মাধ্যমে যতটুকু জানতে পেরেছি, কতগুলো টিম কাজ করছে সেখানে। নিশ্চয় তাদের ফাইন্ডিংস আসবে। সেই ফাইন্ডিংস আমরা ফলো করছি। দুদক’র সংশ্লিষ্ট কমিশনারকে বলেছি, এই বিষয়টি ফলো-আপ করতে। কিভাবে কী হয়েছে উনি এটি দেখবেন, যেহেতু উনি অনুসন্ধান নিয়ে কাজ করেন। দুর্নীতির গন্ধ যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই কমিশন থাকবে। দুর্নীতিগ্রস্ত ও দুর্নীতিপরায়ণদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান তাঁর অবস্থান তুলে ধরে বলেন, যারা দুর্নীতিগ্রস্ত, তাদের প্রতি আমার অবস্থান হবে ভেরি ভেরি হার্ড।
তিনি আরো বলেন, আপনারা জানেন, এই প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটুকু। লোকমুখে নানা কথাই আমি শুনেছি এ নিয়ে। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এই প্রতিষ্ঠানকে জনগণের আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনতে। তিনি আরো বলেন, দুদক হবে দুর্নীতিবাজদের জন্য আতঙ্কের নাম। আর যারা দুর্নীতি করে না, তাদের জন্য দুদক হবে বটবৃক্ষ। দুদককে জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হবে।
সংবাদ কর্মীরা দুর্নীতি প্রতিরোধে কি ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান ক্যাম্পাস প্রতিনিধিকে বলেন, আপনাদের এবং আমাদের উদ্দেশ্যের মধ্যে পার্থক্য নেই, আপনাদের সবাইকে নিয়ে আমরা কাজ করবো। আমরা চাইছি- দুর্র্নীতিমুক্ত এক্কেবারে ঈষবধহ সমাজ। সে মন-মানসিকতা নিয়ে আমি এখানে এসেছি। আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করি।
দুদক’র নয়া কমিশনার আমিনুল ইসলাম
নয়া দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুদক একটি স্বাধীন কমিশন। দুদক এর যে আইন আছে তার মধ্যে থেকে কাজ করার মাধ্যমে দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করবো। তিনি আরো বলেন, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। দুর্নীতি প্রতিরোধে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ, ১ জন চেয়ারম্যান ও ২ জন কমিশনার এবং কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে দেশের দুর্নীতি দমন করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে দুদক এর সাথে দেশবাসীর পূর্ণ সহযোগিতা পেলে আমরা সফল হতে পারব।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ